
রংপুরে সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক উৎস রহমান হত্যা মামলায় ১ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত, এছাড়া অন্যান্য আসামীদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত । (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ) বুধবার রংপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মসিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্যান্য আসামিদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রুবেল ওরফে হেকরমকে মৃত্যুদণ্ড এবং এলিন ও শুভ কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এ মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রধান আসামি চিহ্নিত মাদককারবারি জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদী বেলাল ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ। এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে নিহত সাংবাদিক উৎস রহমানের পরিবার। মামলার বাদী নুর জাহান বেগম বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। মামলার হুকুমদাতা প্রধান আসামী কিভাবে বেকসুর খালাস পায়। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলাল বলেন, মামলার মূল অভিযুক্ত জহিরন আক্তার জুঁই ওরফে গেদিকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে সাংবাদিক উৎস রহমানকে হত্যা করিয়েছে। অথচ আদালত হত্যাকাণ্ডের সেই মাস্টার মাইন্ডকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে। এ রায়ে আমরা আইনজীবীসহ নিহতের পরিবার সংক্ষুব্ধ। এ মামলার বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। এভাবে হত্যার পর মূলহোতা পার পেয়ে গেলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়বে। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রংপুরের একটি স্থানীয় দৈনিক যুগের আলো কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মশিউর রহমান ওরফে উৎস রহমান। এরপর রাতে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে নগরীর ধর্মদাস এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা নুরজাহান বেগম নুরী রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর ৯ মাসের বেশি সময় ধরে মামলাটির বিচারকার্য চলে। এ সময় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।








