সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: August 24, 2026

বাসার ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াই রংপুরে ৪ সদস্যকে হত্যা – আটক -২

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাসার ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় একই পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। খুনের ঘটনায় সিদ্ধার্ত দাস (২৩) ও মুগ্ধ দাস (১৯) নামের ২ যুবককে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্বর্ণের অলংকার সহ চুরি যাওয়া কিছু মালামাল উদ্ধারও করেছে পুলিশ। রোববার (২৩ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ। আজ রোববার ভোররাতে রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকার কামু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্ত দাস আটক করা হয়েছে । সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আটককৃত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্ত দাস ওই এলাকার বাসিন্দা। তারা দুজনেই মাদক সেবী। পাশের পরিত্যক্ত এক বিল্ডিংয়ের ছাদে মাদক সেবন করত। বৃহস্পতিবার (২০) দিনগত গভীর রাতে দেবু নামের প্রতিবেশী বিল্ডিং এর ছাদ দিয়ে জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), স্যারের বাসার ছাদের উপরে তারা জান এবং সেখানে সিদ্ধার্ত দাস ও মুগ্ধ দাস ইয়াবার সেবন করেন। এ সময় গণপতি স্যার শব্দ পেয়ে বাসার ছাদের উপরে গেলে ইয়াবার সেবন করা অবস্থায় তাদের দেখতে পান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের চলে যেতে বললে মাদক সেবীরা তাদের পরিচয় গোপন রাখাতে বলেন। স্যারের কথায় তারা আস্থা রাখতে না পেরে স্যারের ঘাড়ে থাকা গামছা পেঁচিয়ে স্যারকে শ্বাসরোধ করে সেখানে হত্যা করেন। পরে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), বাসার সিড়ি বিয়ে ছাদে ওঠার সময় মাদক সেবীরা সিরিতেই তাকে হত্যা করে। এরপরে মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) মায়ের পিছে পিছে ছাদে উঠতে ধরলে তাকেও হত্যা খুনিরা । রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আয়ুস চক্রবর্তী প্রীয়ম (১২) ঘটনাটি টের নিজের জীবন বাঁচাতে খাটের নিচে লুকালেও সেখানে তাকে হত্যা করে খুনিরা। এভাবে পর্যায়ক্রমে দুই মাদক সেবী চারজনকে হত্যা করে বলে জানান রংপুর পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ। তিনি আরো জানান, খুনিরা খুন করার পর গণপতি স্যারের বাসায় অবস্থান করেন। বাথরুমে গোসল করেন, গোসল শেষে সেখানে খেজুরও খান তারা। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মুসল্লিগণ জুমার নামাজ পড়তে গেলে এলাকায় লোকজন কম হওয়ায় খুনিরা বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে রংপুর কোতোয়ালি মেট্রো থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে যার নং ৪৩। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সিদ্ধার্ত দাস ও মুগ্ধ দাস একই এলাকার বাসিন্দা এবং তারা আত্মীয়। মুগ্ধ দাস একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য খুনিরা স্বর্ণের জিনিসগুলো বেছে নিয়ে অন্যান্য জিনিসপত্রগুলো এলোমেলো করে রাখে। মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্ত দাস এরা গণপতি স্যারকে স্যার বলতেন এবং তার স্ত্রীকে কাকি বলে ডাকতেন, স্যারের মেয়ের সাথে তাদের কখনো তেমন কোন সম্পর্ক ছিলনা। ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম কে তারা বিভিন্ন সময় ডাকাডাকি করতো এবং খেলাধুলা করত তারা একই এলাকার। গণপতি স্যারের বাসার সকল মোবাইল ফোনগুলো হুইলের পানিতে বালতিতে ভিজিয়ে রেখেছেন যাতে করে খুনিদের আঙ্গুলের ছাপ যেন কোনভাবে সনাক্ত করা না যায়। খুনের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানান, আমরা এখন পর্যন্ত দুজনকেই শনাক্ত করতে পেরেছি আরো কেউ জড়িত আছে কিনা সেটি অধিকতড় তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে। এদিকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাঠানো হয়েছে বলে জানান রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানা অফিসার ইনচার্জ । উল্লেখ্য, শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া মন্দিরসংলগ্ন একটি দুইতলা বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, সন্তানসহ ৪ জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Read More »

নতুন কুড়ি কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিলো রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: নতুন কুড়ি স্পোর্টস সিজন-১-এর রংপুর অঞ্চলের পক্ষে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে পদকপ্রাপ্ত কৃতি খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিয়েছে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে উত্তম সিও বাজারস্থ বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে নতুন কুড়ি স্পোর্টস সিজন-১-এর বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও বক্তব্য দেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। তিনি বলেন, “রংপুরের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল ও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভালো মানের ও কৃতি খেলোয়াড় গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে যা যা করার প্রয়োজন, ইনশাআল্লাহ তা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “সন্তানদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও মনোযোগী হতে হবে। খেলাধুলা শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে। খেলাধুলার মাধ্যমে দেশ ও জাতির জন্য সুনাম অর্জন করা সম্ভব। তাই প্রিয় অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান—আপনাদের সন্তানদের মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে রাখতে কঠোরভাবে সতর্ক থাকতে হবে।” অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এবং রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) আব্দুল মোত্তালেব সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রংপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য আবু জাফর সিদ্দিকী এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিউল আলম। অনুষ্ঠানে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন-আরপিইউজের সভাপতি আলহাজ্ব সালেকুজ্জামান সালেক, দপ্তর সম্পাদক হারুন উর রশিদ সোহেল, জেলা যুবদলের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ, সহসাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রানা, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম, মহানগর বিএনপির নেতা জাকির হোসেন পলাশ, মহানগর যুবদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন মিন্টু, মহানগর ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা জামাল উদ্দীন ফয়জী, সাংবাদিক আজিজ আল জামান রুহিত এবং মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউল ইসলাম সবুজ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে পদকপ্রাপ্ত কৃতি খেলোয়াড়দের হাতে ফুল ও ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। খেলোয়াড়দের সাফল্যের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য তাদের উৎসাহিত করা হয়।

Read More »

রংপুর মহানগর মহিলা দলের নেত্রী আরজানা বেগমের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রংপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ২২ নং ওয়ার্ডের পূর্ব বাবুখা মাস্টারপাড়া এলাকায় কুসমবাগ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষ বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রংপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জননেত্রী মোছা, আরজানা বেগম । এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্ন সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছি।কারণ গাছ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুসমবাগ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক খন্দকার তাহরিমা, রংপুর মহানগর মহিলা দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোবেদা বেগম, সহপ্রচার সম্পাদক রেহেনা রহমান, ২২ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি এমিলি খাতুন, ,৪ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি জুই, ২১ নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি আলিফ লায়লা, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় নেত্রীরা বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Read More »

রংপুর জেলা প্রশাসক হলরুমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় সভা অনুষ্ঠিত

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: আন্ত প্রজন্ম ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নারী আন্দোলন শক্তিশালী করি স্লোগান কে ধারণ করে ২৪,৮,২০২৬ সোমবার সকাল ১১টায় রংপুর জেলা প্রশাসক হলরুমে অনুষ্ঠিত কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি নিরসন ও প্রতিরোধে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ক এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান,অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রুমানা জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোকসানা বেগম তন্ময়,অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সিড সারথী রানী সাহা, প্রকল্প সমন্বয়কারী মেহহনাজ রহমান,সমন্বয়কারী ব্রাস্ট অ্যাডভোকেট মোনালিসা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যুগ্ন সম্পাদক সীমা মোসলেম, জুয়েনা ফেরদৌস, ও বিভিন্ন মাদ্রাসা এবং স্কুলের শিক্ষক বৃন্দ। উল্লেখ্য ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি রোধে একটি ঐতিহাসিক ১১ দফা নীতিমালা বা নির্দেশনা জারি করে, এই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান পাঁচ সদস্যের একটি অভিযোগ কমিটি গঠন এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (রিট পিটেশন নাম্বার ৫৯১৬২০০৮) সুনির্দিষ্ট আইন না থাকা পর্যন্ত এই নির্দেশনা দেশে আইন হিসেবে গণ্য হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য নারী হতে হবে বাইরে থেকে দুইজন অভিজ্ঞ সদস্য রাখার সুপারিশ রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি অফিস কারখানা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি সক্রিয় রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে দৃশ্যমান স্থানে নীতিমালা প্রকাশ করা, সাংবিধানিক ও আইনের বিধান প্রচার করা নারীদের জন্য অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ও নারীর মর্যাদা রক্ষা করে সচেতনতা বৃদ্ধি ও হাইকোর্টের নির্দেশনার গঠন কঠোর বাস্তবায়ন করা।

Read More »

রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের হ-ত্যা-কাণ্ডের সুষ্ঠু বিচা-রর তিন দিনের আল্টিমেটাম

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রংপুর নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রংপুর জিলা স্কুলের সামনে এসে শেষ হয়। পরে স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুন্নবী ডলার, সাবেক শিক্ষক শাফিয়ার রহমানসহ সাবেক শিক্ষার্থী ও অন্যান্যরা। বক্তারা বলেন, সাবেক শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, **তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

Read More »

কুরআন মজীদ ও সহীহ হাদীসের আলোকে হজ্ব ও উমরার গুরুত্ব

হজ্ব ও উমরার গুরুত্ব / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ইসলাম ও মুসলমানদের ফরজ ইবাদত হজ্ব পালন সম্পুর্ণ করা । ঈমান, নামায, যাকাত ও রোযার পরই হজ্বের অবস্থান। হজ্ব মূলত কায়িক ও আর্থিক উভয়ের সমন্বিত একটি ইবাদত। তাই উভয় দিক থেকে সামর্থ্যবান মুসলিমের উপর হজ্ব পালন করা ফরয। অর্থাৎ হজ্ব আদায়ে সক্ষম এমন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচাপাতি ও আসবাবপত্রের অতিরিক্ত হজ্বে যাওয়া-আসার ব্যয় এবং হজ্ব আদায়কালীন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহে সক্ষম এমন সামর্থ্যবান ব্যক্তির উপর হজ্ব আদায় করা ফরয। হজ্ব প্রত্যেক মুসলমানের উপর সারা জীবনে একবারই ফরয হয়। একবার ফরয হজ্ব আদায়ের পর পরবর্তী হজ্বগুলো নফল হিসেবে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন- يا أيها الناس! إن الله كتب عليكم الحج، فحجوا، فقال رجل : أكل عام يا رسول الله؟ فكست حتى قالها ثلاثا، ثم قال : لو قلت نعم لوجبت ولما استطعتم. হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর হজ্ব ফরয করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ্ব করো। এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! প্রতি বছর কি হজ্ব করতে হবে? তিনি চুপ রইলেন এবং লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করল। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তা (প্রতি বছর হজ্ব করা) ফরয হয়ে যেতো, কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হতো না।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৩৭ (৪১২); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১০৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৭০৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২৫০৮; সুনানে নাসায়ী ৫/১১০; শরহে মুশকিলুল আছার, হাদীস : ১৪৭২; সুনানে দারাকুতনী ২/২৮১ ইবনে আববাস রা. হতে বর্ণিত অনুরূপ হাদীসে আরো বলা হয়েছে, হজ্ব (ফরয) হল একবার, এরপরে যে অতিরিক্ত আদায় করবে তা নফল হিসেবে গণ্য।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০৪; সুনানে দারিমী, হাদীস : ১৭৮৮; সুনানে নাসায়ী ৫/১১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭২১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৮৮৬; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস : ৩২০৯ হজ্ব যেহেতু একবারই ফরয তাই যার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে সে যদি মৃত্যুর আগে যে কোনো বছর হজ্ব আদায় করে, তবে তার ফরয আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু হজ্ব বিধানের মৌলিক তাৎপর্য, তার যথার্থ দাবি ও আসল হুকুম হচ্ছে হজ্ব ফরয হওয়ার সাথে সাথে আদায় করা। বিনা ওজরে বিলম্ব না করা। কারণ বিনা ওজরে বিলম্ব করাও গুনাহ। আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল ফরয হজ্ব আদায়ের প্রতি এমনভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন যে, কেউ যদি এই হজ্বকে অস্বীকার করে বা এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা প্রদর্শন করে তবে সে আল্লাহর জিম্মা থেকে মুক্ত ও হতভাগ্যরূপে বিবেচিত হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا، ومن كفر فان الله غنى عن العلمين. (তরজমা) মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ গৃহের হজ্ব করা ফরয। আর কেউ যদি অস্বীকার করে তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।-সূরা আলে ইমরান (৩) : ৯৭ তাছাড়া যে কোনো ধরনের বিপদ-আপদ, অসুখ-বিসুখের সম্মুখীন হওয়া বা মৃত্যুর ডাক এসে যাওয়া তো অস্বাভাবিক নয়। তাই হজ্ব ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করলে পরে সামর্থ্য হারিয়ে ফেললে বা মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তাআলার নিকট অপরাধী হিসেবেই তাকে হাজির হতে হবে। এজন্যই হাদীস শরীফে হজ্ব ফরয হওয়ামাত্র আদায় করার তাগিদ ও হুকুম দেওয়া হয়েছে। ইবনে আববাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- من أراد الحج فليتعجل، فإنه قد يمرض المريض وتضل الضالة وتعرض الحاجة. যে ব্যক্তি হজ্ব করার ইচ্ছে করে, সে যেন তাড়াতাড়ি তা আদায় করে নেয়। কারণ যে কোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে বা বাহনের ব্যবস্থাও না থাকতে পারে অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮৩৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৮৮৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭৩২; সুনানে দারিমী, হাদীস : ১৭৮৪; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৬৮৭; তবারানী, হাদীস : ৭৩৮ অন্য বর্ণনায় ইরশাদ হয়েছে, ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- تعجلوا إلى الحج، يعني الفريضة، فإن أحدكم لا يدري ما يعرض له. ফরয হজ্ব আদায়ে তোমরা বিলম্ব করো না। কারণ তোমাদের কারো জানা নেই তোমাদের পরবর্তী জীবনে কী ঘটবে।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৮৬৭; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৪/৩৪০ উপরন্তু একটি হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তাআলা যে স্বচ্ছল সামর্থ্যবান ব্যক্তি সত্ত্বর হজ্ব আদায় করে না তাকে হতভাগা ও বঞ্চিত আখ্যায়িত করেছেন। আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- يقول الله عز وجل : إن عبدا صححت له جسمه، ووسعت عليه في المعيشة تمضي عليه خمسة أعوام لا يفد إلى لمحروم. আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আমার বান্দার শরীরকে সুস্থ রাখলাম, তার রিযিক ও আয়-উপার্জনে প্রশস্ততা দান করলাম। পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যদি সে আমার গৃহের হজ্বের উদ্দেশ্যে আগমন না করে তবে সে হতভাগ্য, বঞ্চিত।-সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৬৯৫; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস : ১০৩১; তবারানী, হাদীস : ৪৯০; সুনানে কুবরা বায়হাকী ৫/২৬২; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৫২৫৯ শুধু তাই নয়, একসময় বায়তুল্লাহ উঠিয়ে নেয়া হলে মানুষ হজ্ব করতে পারবে না এই আশঙ্কার কারণেও আল্লাহর রাসূল উম্মতকে তাড়াতাড়ি হজ্ব করার হুকুম করেছেন। ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- استمتعوا بهذا البيت فقد هدم مرتين ويرفع في الثالثة. তোমরা হজ্ব ও উমরার মাধ্যমে এই (বায়তুল্লাহ) গৃহের উপকার গ্রহণ কর। কেননা তা ইতিপূর্বে দু’বার ধ্বংস হয়েছে। তৃতীয়বারের পর উঠিয়ে নেওয়া হবে।-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২৫০৬; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৬৭১৮; মুসনাদে বাযযার, হাদীস : ১০৭২; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস : ১৬৫২ হজ্ব করার শক্তি-সামর্থ্য ও অর্থ-বিত্ত থাকার পরও যে ব্যক্তি হজ্ব করে না তার সম্পর্কে হাদীস শরীফে কঠোর হুমকি প্রদান করা হয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলেন- من أطاق الحج فلم يحج فسواء عليه مات يهوديا أو نصرانيا. যে ব্যক্তি হজ্ব করার সামর্থ্য রাখে, তবুও হজ্ব করে না সে ইহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করল কি খৃস্টান হয়ে তার কোনো পরোয়া আল্লাহর নেই।-তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৫৭৮ তিনি আরো বলেন, আমার ইচ্ছে হয় কিছু লোককে বিভিন্ন শহরাঞ্চল ও লোকালয়ে পাঠিয়ে দিই, তারা সেখানে দেখবে, কারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করছে না। তারা তাদের উপর কর আরোপ করবে। তারা মুসলমান নয়, তারা মুসলমান নয়।-প্রাগুক্ত যারা হজ্ব-উমরা না করে সন্ন্যাসী হওয়ার চেষ্টা করে ইসলাম তা কখনো অনুমোদন করে না। ইবনে আববাস রা. হতে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- لا صرورة في الإسلام. ইসলামে বৈরাগ্য নেই। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হজ্বের ক্ষেত্রে কোনো বৈরাগ্য নেই।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৩১১৩, ৩১১৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৭২৯; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৬৮৬; তবারানী,

Read More »