সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: October 21, 2026

রংপুরে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত

জালাল উদ্দীন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রংপুর নগরীর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানের সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামু। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মু. মাহবুবুর রশীদ, পিপিএম-সেবা। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব কমিটির সদস্য অরূপ দত্ত ও সিতু মোহন্ত, গুপ্তপাড়া দুর্গামন্দিরের সভাপতি সুব্রত সরকার মুকুল, রংপুর ধর্মসভার সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার এবং রংপুর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক নুরন্নবী চৌধুরী মিলনসহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে বিজয়া দশমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীকে ঘিরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ ফুটে ওঠে।

Read More »

সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-জাপান, টোকিওতে বৈঠকে বসছেন দুই প্রধানমন্ত্রী : পররাষ্ট্র সচিব

ইবি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। চার দিনের আসন্ন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অন্যদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে সমন্বয়ও বাড়বে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতির মিল রয়েছে। এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে অথবা নতুন কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানাতে পারে। সূত্রটি আরও বলে, চ্যালেঞ্জিং সময়েও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং এ বাজার থেকে সরে যায়নি। কয়েকটি কোম্পানি সফরকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, সফরের সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। সফরের সময় এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব। সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম এবং চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে জাপান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি। গত এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি-সংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা তা সমাধান করা সম্ভব নয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনলাইনে ওই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার এ সফরের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও সিয়াম আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বাড়বে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই নেতা বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সিয়াম। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। সিয়াম বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলছে। এ সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব। বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার জন্য আসন্ন সফরকে সময়োপযোগী সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের চিবা প্রিফেকচারের কাৎসুরা শহরে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লো সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার। সুত্র. ইউএনবি/

Read More »

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

ইউএনবি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা ও খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সে অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী, নির্ধারিত চার শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। পথের ধারের ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ, আমদানিকারক, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ খাবারের ব্যবসায় জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্রবিধানের তফসিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। তবে বিশেষ ধরনের বা সুপারফুড নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী ও আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন করতে হবে। তবে কাঁচা ও তাজা খাবার আমদানির ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রয়েছে। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবার বিক্রি করা ব্যক্তিদেরও নতুন নিয়মের আওতায় নিবন্ধন নিতে হবে। এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের (ফুড অ্যাডিটিভস) উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের খাবারের মতো বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করা চার শ্রেণির ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণন। এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি হ্রাস-সংক্রান্ত দাবি রয়েছে—এমন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফসিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এরপর সেগুলো নবায়ন করতে হবে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন। এছাড়া নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে যেকোনো অভিযোগ জানানো যাবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে লাইসেন্স ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর হবে।

Read More »

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গঠনই বিএনপির আদর্শ – সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : টাঙ্গাইল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো কথা নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পরিচয় একটাই- আমরা সবাই বাংলাদেশি। বিএনপির আদর্শও হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ গঠন করা। আজ টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা কোথাও কোনো ছাড় দেব না। দেশকে বুকে ধারণ করে আমরা পথ চলতে চাই। দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ তিনি বলেন, আপনারা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করছেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রী আজ দেশের তিনটি বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন। আমরাও এবার দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গতবারের তুলনায় এবার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরো বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে জনগণের দ্বারা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তারা আবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমরা যদি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মাদকমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তুলব। এই টাঙ্গাইল থেকেই মাদক নির্মূলের কাজ শুরু করতে চাই, যাতে সারা বাংলাদেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমার দলের কেউ যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকেও কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের নেতারাও এ বিষয়ে সোচ্চার রয়েছেন। মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালীবাড়ি, বড় কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »