সর্বশেষ
সর্বশেষ

রংপুর হরিণটারী সর্দারপাড়া বস-তভি-টা লু-ট-পাটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:

রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানার হরিণটারী সর্দারপাড়া এলাকায় বসতভিটা ও জমি জবরদখল, হামলা, ভাঙচুর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. তরিফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে থানায় অভিযোগ দিয়েও মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ এনে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মো. তরিফুল ইসলাম এর কন্যা বৃষ্টি আক্তার। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, হারাগাছ থানার সারাই হরিণটারী এলাকার অজিহার রহমান, হেলাল মিয়া, দুলাল মিয়া, সুখতারা বেগমসহ কয়েকজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত ৩ জুন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে।

তাঁকে উদ্ধার করতে গেলে তাঁর বাবা আবু তালেব, স্ত্রী মুক্তারা বেগম, গর্ভবতী মেয়ে বৃষ্টি আক্তার ও জামাতা আরিফ মিয়াকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা তরিফুলকে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, তরিফুল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৪ জুন গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর বাবা আবু তালেবকে মারধর করে আহত করা হয়। পরদিন ৫ জুন সকালে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গেলে অভিযুক্তরা বাড়িতে পুনরায় হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায় এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করে।

ভুক্তভোগীর দাবি, হামলাকারীরা প্রায় চার লাখ টাকা নগদ অর্থ, তিন ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং প্রায় সাত লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে। এছাড়া ঘরবাড়ি ভাঙচুরের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করেছে। তিনি বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অভিযুক্তরা এলাকায় জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারছেন না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক কুমার চৌহান বলেন, “ মামলা না নেয়ার অভিযোগটি সত্য নয়, ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের দুটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের দায়ের করা অভিযোগের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Facebook
Twitter
Pinterest
Reddit
Skype
Email
LinkedIn

লিগ্যাল ভয়েস 24 নিউজ আর্কাইভ

[daily_salat_times]