সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: August 19, 2025

৮৫ জন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করেছে ইসি

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খৃ. – গত ২০০৭ সালে চাকুরিচ্যুত হওয়া ৮৫ জন উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।  প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের সিভিল আপিল নম্বর-৯১/২০২৪ ও সিভিল রিভিউ পিটিশন নং ১২৬-১২৭/২০২৩ এবং ১৪৪ ও ২৩৫/২০২৩ নম্বর মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিম্নবর্ণিত উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের ১৭,০০,০০০০.০১৫.১১.০১৪.১০-৫২৬ সংখ্যক স্মারক এর প্রজ্ঞাপন বাতিল করে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হলো।’ প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘উল্লিখিত উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাগণকে ১৯ আগস্ট সিনিয়র সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, ঢাকা বরাবর সরাসরি বা ই-মেইলে (secretary@ecs.gov.bd) যোগদানপত্র দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হলো। উক্ত তারিখে যোগদান না করলে চাকরিতে যোগদান করতে সম্মত নন মর্মে ধরে নেয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের সিভিল আপিল নম্বর-১১/২০২৪ ও সিভিল রিভিউ পিটিশন নম্বর ১২৬-১২৭/২০২৩ এবং ১৪৪ ও ২৩৫/২০২৩ নম্বর মামলার রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত কর্মকর্তাগণের ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখের অপসারণ আদেশের তারিখ হতে পুনর্বহালের তারিখ পর্যন্ত সময়কাল অসাধারণ ছুটিকাল হিসেবে গণ্য হবে। আদালতের রায় অনুযায়ী তারা সকল বকেয়া বেতন, সুবিধাদি ও জ্যেষ্ঠতা প্রাপ্য হবেন।’ 

Read More »

চলতি সপ্তাহে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে : ইসি সচিব

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :  ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খৃ. – নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা নির্বাচনী রোডম্যাপ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।  আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। আখতার আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে আমরা বলেছিলাম, তা এই সপ্তাহেই ঘোষণা দেবো। ইতোমধ্যে এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন কমিশনে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। কর্মপরিকল্পনা মূলত আন্তঃঅনুবিভাগীয় এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সবকিছু সমন্বয়ের পর আমরা আশা করছি, এ সপ্তাহেই চূড়ান্ত রোডম্যাপ প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা তো পরবর্তী বিষয়। আসল কথা হলো- সংশ্লিষ্ট সবাই যদি নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন। তবে কোনো সমস্যা হবে না। নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসন নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে আমি মনে করি।’ মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় কিভাবে হবে, ফোকাল পার্সন এখান থেকে নির্ধারণ, পরিপত্র ও নির্দেশনা ইস্যু ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখন একটি মিটিং চলছে। আমরা চেষ্টা করছি কোঅর্ডিনেট করে সময়ের আগেই কাজগুলো গুছিয়ে রাখতে।’ সীমানা নির্ধারণ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব বলেন, ‘মোট ৮৩টি আসন নিয়ে আপত্তি এসেছে। এসব আপত্তির শুনানি আগামী ২৪ আগস্ট থেকে শুরু হবে এবং টানা চার দিন চলবে। এরপর বিষয়টি আমরা চূড়ান্ত করব।’ এনআইডি সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সোমবারের মাসিক সমন্বয় সভায় এ সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এনআইডি কারেকশনের জন্য যেসব আবেদন বাতিল হচ্ছে, আবেদনকারীরা আবার তা সংশোধনের জন্য জমা দিচ্ছেন। আমাদের দৃষ্টিতে কোনো তথ্য গ্রহণযোগ্য না হলে তা বাতিল করা হয়, তবে আবেদনকারীর দৃষ্টিতে তা সঠিক হতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং সেই আপিল অনুযায়ী আমরা নিষ্পত্তি করছি।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার আপিল জমা পড়েছে, তবে সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, ডেটা এন্ট্রি প্রক্রিয়া আরও উন্নত হলে এই সংখ্যা আরও হ্রাস পাবে। এরপরও পরিবর্তনের জন্য আবেদন থাকবে, কারণ এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে আমরা সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম হব।’ ফর্ম-২ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘ভোটার নিবন্ধনের জন্য ফরম-২ ব্যবহৃত হয়। এর বেশ কিছু ফর্ম এখনও স্ক্যান করা হয়নি। মূলত ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে কিছু ফর্ম স্ক্যানের বাইরে ছিল। সেগুলো স্ক্যান করে পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করেছি। স্ক্যান সম্পন্ন হলে পোর্টালে আপলোড করা হবে। এতে আমাদের তথ্যভান্ডার আরও সমৃদ্ধ হবে।’ ভোটকেন্দ্র বিষয়ে তিনি বলেন, আজকের মাসিক সমন্বয় সভায় ভোটকেন্দ্র স্থাপনের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হবে না। তবে অতীতের কেন্দ্রগুলি হুবহু রাখা হবে না; যৌক্তিক প্রয়োজন থাকলে সমন্বয় করা যাবে। জাতীয় নির্বাচনে প্রতি ভোটকেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ভোটারের ব্যবস্থা রাখা হয়। উদাহরণস্বরূপ বর্তমানে প্রতি বুথে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫০০। এটিকে ৬০০ করা হলে সহজেই সামঞ্জস্য করা যাবে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধন প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ২২টি দলের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। যাদের আবেদন বাতিল বা বিবেচনাযোগ্য নয় তাদেরকে চিঠি দিয়ে জানানো হচ্ছে। এবার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে, কোন কারণে বা কোন শর্ত পূরণ না করায় তাদের আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কাজগুলো আগেই শেষ করতে, যাতে সবার সুবিধা হয়। শেষ মুহূর্তে হুড়োহুড়ি করে কাজ করতে না হয়। আগে থেকে করলে সমন্বয় ভালো হয়। যেমন ভোটকেন্দ্র নীতিমালা এখন থেকেই পর্যালোচনা করা সম্ভব হচ্ছে। কোনো বিষয়ই চূড়ান্ত নয়; প্রয়োজন হলে পরিবর্তন হতে পারে। তবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে যেটা আগামীকাল করার কথা, তা যদি আজকেই করে রাখা যায়, তাহলে আগামীকাল আরও ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ থাকবে।’

Read More »

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দেশবাসীকে পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ খৃ. – প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দেশবাসীকে পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিবেশের প্রতি সদয় না হলে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃতির প্রতি নির্দয় আচরণ অব্যাহত থাকলে একদিন মাছও আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যেতে পারে। আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবর্গ, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ, মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা ও গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “মাছ আমাদের জন্য প্রকৃতির উপহার। এটি কোনো কারখানায় উৎপাদিত নয়, বরং আল্লাহর দান। অথচ আমরা এত নির্দয় হয়ে পড়েছি যে, একদিন মাছও হয়তো আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যাবে।” তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতিকে আঘাত করলে আগামী প্রজন্মও খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার দিক থেকে বঞ্চিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা নদী শাসনের কথা বলি, কিন্তু নদী পালনের কথা বলি না। আমরা তাকে শাসন করতে চাই এবং শাসনের নামে তার প্রতি যত নির্দয় হওয়া যায়, তা করছি। বর্জ্য তো নদীতে দিচ্ছি। নদী-নালা ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলছি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঢুকিয়ে দিচ্ছি। পানিই যদি না থাকে, মাছ কোথা থেকে আসবে?” বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলসম্পদ মৎস্য উৎপাদনের বিপুল সুযোগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে  অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ নারীসহ লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অনেক সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু মাছের দাম বা মাছটা টাটকা কি-না সেটা দেখি, কিন্তু যারা প্রতিদিন শ্রম দিয়ে মাছ আমাদের কাছে পৌঁছে দেন, তাদের কথা ভুলে যাই। আজকের দিনটা অন্তত তাদের কথা মনে করার দিন।” অধ্যাপক ইউনূস গভীর সমুদ্রের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার উপহার নিয়ে। এটি শুধু বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, বরং একটি নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ। এজন্য আমাদের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।” অবৈধ জাল ব্যবহার ও নির্বিচার মৎস্য আহরণকে তিনি “প্রকৃতির প্রতি নির্মমতা” আখ্যা দেন। অধ্যাপক ইউনূস এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ঠেকানো শুধু সরকারের কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্বও বটে। “আগামী প্রজন্ম যেন এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে,” তিনি যোগ করেন। মৎস্য খাতে সম্ভাবনার পাশাপাশি দুর্ভাবনাও আছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের প্রতিদিন সকালে প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমি আজ প্রকৃতির প্রতি সদয় হব। প্রকৃতির প্রতি সদয় না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ টেকসই হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পরিবেশ বান্ধব চাষাবাদ ও তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে এই শিল্পকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।” অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য নয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এবারের মৎস্য সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে – ” অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি”। মৎস্য সপ্তাহ চলবে এক সপ্তাহব্যাপী। প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি, মাছের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

Read More »

ইসলাম ক্ষমতায় আসলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে- সৈয়দ ফয়জুল করীম

সাইয়্যেদ মোহাম্মদ রবিন / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি অডিটোরিয়ামে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়েখ চরমোনাই প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ইসলাম ক্ষমতায় আসলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে। ইসলামি আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম হুজুর বলেন, আমরা মুসলমান এটা আমাদের গর্বিত আত্মপরিচয়। আমরা সাম্প্রদায়িক না। বরং সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলাম একটি পরীক্ষিত ব্যবস্থা। ইসলাম রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে এমনকি প্রাণ-প্রকৃতিও ন্যায় সংগত আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। তাই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হলে ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নিতেই হবে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজনে টিএসসি অডিটোরিয়ামে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই উপর্যুক্ত মন্তব্য করেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর আরও বলেন, বর্তমানে আত্মপরিচয়ের সংকট চলছে। বিশেষ করে মুসলমানদেরকে তাদের আত্মপরিচয় নিয়ে হীনমণ্য করে দেয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মার্ক্সবাদ, মাওবাদ নিয়ে গর্ব যদি শ্লোগান উঠতে পারে তাহলে আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে শ্লোগান তুলতে দ্বিধা কোথায়? পোশাকের স্বাধীনতার নামে শর্ট পোষাকে গর্ববোধ করা গেলে ইসলাম মান্য করে শালীন পোষাক পরিধান করতে দ্বিধা কেন আসবে। তাই আমাদের প্রধান পরিচয় আমরা মুসলিম। দল-মতের উর্ধে আমাদের মুসলিম পরিচয়কে বড় করে তুলতে হবে। দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দুর্নীতিকে চিহ্নিত করে শায়খে চরমোনাই বলেন, দুর্নীতি করে শিক্ষিতজনেরা। মানে আমাদের দেশে শিক্ষা আছে কিন্তু সেই শিক্ষা আমাদেরকে আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরি করছে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এই শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনীতি আমাদের তরুণ মেধাবীদেরকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে। আবরার ফাহাদকে যারা হত্যা করেছে তারা সবাই মেধাবী কিন্তু অসৎ সঙ্গের কারণে তারা খুনিতে পরিনত হয়েছে। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মু. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম অপু এবং এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব জহিরুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা মুন্তাসির আহমদ। মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, ৪৭ না হলে কোনভাবেই ৭১ এ আমাদের স্বাধীনতা আসতো না। কাশ্মীর ও হায়দারাবাদ আজো স্বাধীনতা পায় নাই। আমরা ৪৭ এর স্বাধীনতায় প্রধান ভুমিকা পালন করেছি। একাত্তরেও মানুষ ইসলামকে ধারণ করেই স্বাধীনতা এনেছে। চব্বিশেও আমরা সামনে থেকে লড়াই করেছি। ফলে তোমার মুসলিম পরিচয়কে বড় করে তুলতে হবে। গৌরবের সাথে মুসলিম পরিচয় ঘোষণা করতে হবে। দুপুর ২টা থেকে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। নবীনদেরকে নানা উপহারে বরণ করে নেন ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিনসহ ঢাবি নেতৃবৃন্দ। আছরের পর থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। জাতীয় সংস্কৃতিক সংগঠন কলবরসহ দেশের শীর্ষ সাংস্কৃতির সংগঠনসমূহ অংশ নেয়। সম্মেলন থেকে আগামী ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্যানেল পরিচিতি তুলে ধরা হয়। ইয়াসিন আরাফাতকে ভিপি, খায়রুল আহসান মারজানকে জিএস এবং সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিনকে এজিএস প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়েখে চরমোনাই।

Read More »

শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে- স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট) ২০২৫ খৃ. – স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, শিশুদের গুঁড়া দুধ খাওয়াতে উদ্বুদ্ধ না করে সমন্বিতভাবে মাতৃদুগ্ধের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। এজন্য সচেতনতা তৈরি করতে হবে। সব ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দোষারোপ করে লাভ নেই। যেখানে ধারণ ক্ষমতা ২ হাজার ৬০০, সেখানে রোগী আসে ৫ হাজার। এক হিসাব অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ ডেলিভারি হয় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এবং ৩৫ শতাংশ গৃহে। কাজেই ধাত্রীদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আজ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৫ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ)। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মাতৃদুগ্ধপানকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলুন’। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, মাতৃদুগ্ধ নিয়ে কাজ এককভাবে সরকার বা স্বাস্থ্য সেক্টরের নয় বরং এনজিও কর্মী থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামেরও। খুতবায় এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। এমনকি মন্দির ও গির্জায় সচেতনতামূলক আলোচনা হতে পারে। এখানে মিডিয়ারও দায়িত্ব আছে। মিডিয়া আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমগুলো উপস্থাপন করে জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে পারে। কর্মশালায় উন্মুক্ত আলোচনায় নবজাতকের যত্নে পিতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, এতে মায়ের কতটা সুবিধা হবে, তা আমার জানা নেই। তবে যদি এই ছুটি দিতে হয়, তাহলে শর্ত থাকতে হবে পিতা কত ঘণ্টা বাচ্চার সেবা করলেন বা মায়ের পাশে থাকলেন, সেটা লিখিতভাবে জানাতে হবে। তা না হলে এটি তেমন কাজে আসবে না। তিনি বলেন, মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শিশু মায়ের দুধ পাবে। কাজেই মায়ের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সরোয়ার বারী বলেন, মেধাসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে চাইলে মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। মাতৃদুগ্ধের হার ৬৫ শতাংশ থেকে ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে। মায়ের দুধ শিশুর জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। কর্মশালায় আরো বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. এস কে রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনিম প্রমুখ।

Read More »

নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে- স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৩ ভাদ্র (১৮ আগস্ট) ২০২৫ খৃ. – স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । উপদেষ্টা আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১২তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে সভায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।  স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পুলিশে ১৫ হাজার ৮৫১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিজিবিতে ৪ হাজার ৪৬৯ জন, আনসারে ৫ হাজার ৫৫১ জন, কারা অধিদপ্তরে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ২০৮ জন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব জনবল নিয়োগ কিছু নবসৃষ্ট পদ এবং কিছু শূন্যপদের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ক্ষেত্রে কনস্টেবল ও উপপরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আনসার ও বিজিবির ক্ষেত্রে সমমানের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে৷  ১৫ আগস্ট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নির্দেশনা ছিলো যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা৷ সম্প্রতি বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৮জন কর্মকর্তার সাময়িক বরখাস্ত সম্পর্কে তিনি বলেন, বিনা অনুমতিতে কর্মস্থল থেকে ৬০ দিন বা তার বেশি সময় অনুপস্থিত থাকা desertion এর অপরাধ। সে অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া যা অব্যাহত থাকবে। হয়রানিমূলক মামলা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, আমরা চাই সাধারণ জনগণ বা নির্দোষ জনগণ যেনো কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়। তবে যে দোষী সে কোনো অবস্থায় ছাড় পাবে না। উপদেষ্টা আরো বলেন, নির্দোষ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হলে আপনারা তা মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদেরকে জানান। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টা এ সময় সত্য ঘটনা প্রকাশের জন্য মিডিয়াকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।  ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

Read More »