সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: October 2, 2026

সুস্থ ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: চিফ হুইপ

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য। খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের বিকাশ ঘটায়। সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই। আজ শুক্রবার ঢাকার মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে মোহাম্মদপুর তায়কোয়ানডো ক্লাব ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশন আয়োজিত ‘ক্লাব কাপ ওপেন তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা খেলাধুলায় অত্যন্ত প্রতিভাবান। ক্রীড়াক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে তরুণদের আরও উৎসাহিত ও সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে ওঠে। তিনি বলেন, তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রসার জরুরি। এ ধরনের আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চিফ হুইপ অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের সাফল্য কামনা করেন এবং এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান শায়রুল কবির খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আনিসুর রহমান এমপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

লায়ন্স ক্লাব অব রংপুুরের অক্টোবর সেবা পক্ষের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা রিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : রংপুর, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫ এ২ বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘অক্টোবর সেবা পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে লায়ন্স ক্লাব অব রংপুর পরিচালিত ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিকে রংপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সুবিধা বঞ্চিত অসুস্থ রোগিদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান ও ফ্রি ঔষধ বিতরণ করা হয়। গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় নগরীর জিএলারায় রোডস্থ লায়ন্স ক্লাব অব রংপুর প্রাঙ্গণ ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের প্রেসিডেন্ট লায়ন মঞ্জিল মুরাদ লাভলু, এমজেএফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কনভেনশন কো চেয়ারম্যান, রিজিওনাল চেয়ারপার্সন হেডকোয়াটার ও লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বোডির চেয়ারম্যন লায়ন মোঃ এনামুল হক সোহেল, এমজেএফ, অক্টোবর সেবাপক্ষ ২০২৬ এর চেয়ারম্যান ও নর্থ বেঙ্গল কো অডিনেটর একেএম বানিউল আদম বাবু, এমজেএফ, লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের আইপিপি লায়ন নাসরিন হক ববি, এমজেএফ, লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের সেক্রেটারী এ্যাড. আহসানুল হাবিব মিলন এমজেএফ, জয়েনসেক্রেটারী লায়ন আলহাজ্ব আব্দুল হালিম বুলু, ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিকের চেয়াম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর নাসিম উদ্দিন, ক্লাব পরিচালক মোঃ শাহীন পারভেজ এমজেএফ, ক্লাব পরিচালক মোঃ মাহামুদ এলাহী বিপ্লব, ক্লাব পরিচালক মোছাঃ জেবুন্নেছা জেবিন, লিও এভাইজার ডাঃ জেরিন, ক্লাব পরিচালক লায়ন মোজাম্মেল হক কিন্তু, পরিচালক ড.সঞ্জিত কুমার দুরন্ত, ক্লাব পরিচালক মোঃ আনোয়ারুল হক, ক্লাব পরিচালক লায়ন জাকারিয়া ইসলাম, ক্লাব পরিচালক লায়ন মোঃ অনিন্দ আউয়াল, জলঢাকা লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সুমাইয়া সার্থক, সহ লিও সদস্যবৃন্দ । এ সময় অসুস্থ রোগিদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন রংপুর মেডিকেল অফিসার মোছাঃ সাবিহা রহমান। এছাড়া অক্টোবর সেবাপক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে লায়ন্স ক্লাব অব রংপুরের উদ্যোগে ১৫ দিন ব্যাপী বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে।

Read More »

ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতার সুযোগ পাবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দেশে কোনো ‘অপশক্তি’কে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন শেষে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারবে না।’ এছাড়া দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক মোকাবিলায় পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসারের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। নতুন আনসার সদর দপ্তর সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর পাওয়ার বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ দশমিক ৪২৮ একর বা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। খিলগাঁওয়ে বিদ্যমান আনসার সদর দপ্তরে জায়গার সংকট এবং যাতায়াত-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে বরাদ্দ পাওয়া জায়গায় আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার রয়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল কাজ করছে। তিনি বলেন, নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় বাহিনী। কেন্দ্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরে ডরমিটরি, ব্যারাকসহ অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও বিভিন্ন জাতীয় সংকটের সময় আনসার বাহিনীর অবদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি তাদের আর্থিক ও অন্যান্য দাবিগুলো ধীরে ধীরে পূরণের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় না; যথাযথ বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ফৌজদারি মামলাও করা হবে। ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ব্যবস্থার উন্নয়নে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন কাজের জন্য একসঙ্গে পুরো সড়ক খনন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর পরিবর্তে ধাপে ধাপে কাজ শেষ করে দ্রুত সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে বলা হয়েছে, যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুত্র. ইউএনবি

Read More »

উৎপাদনশীলতা দিবসে দক্ষতা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির সমন্বয় আহ্বান জানিয়ে দিবস উৎযাপন

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : রংপর, ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’—এই প্রতিপাদ্যে রংপুরে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। সভায় সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকার বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাদের ক্ষুদ্রঋণসহ নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উদ্যোক্তা ও যুবসমাজকে সরকারি প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ড্রাইভিংসহ নানা ধরনের কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। এসব সুযোগ খুঁজে বের করে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স ও কর প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। এতে সাময়িক কিছু অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদে করের অর্থের মাধ্যমে জনগণই বিভিন্নভাবে উপকৃত হয়। সরকার বিভিন্ন খাতেও ভর্তুকি দিয়ে থাকে। উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাতকরণে মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও একটি মেলার আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোক্তারা উৎপাদন, পণ্য বাজারজাতকরণ, ঋণপ্রাপ্তি ও অন্যান্য সমস্যা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্টরা এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার হাত মিলিয়ে দেশে অরাজকতার চেষ্টা চালাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ফেনী, ১ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের অনুসারী ও একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ জনগণের কল্যাণে সরকারের কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে আবারও হাত মিলিয়েছে এবং দেশে অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের মাঝে সম্মাননা প্রদান শেষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘গুপ্ত রাজনীতি’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের রাজনীতির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এর সাথে জড়িত, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই; বরং তারা কেবল ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতেই লিপ্ত। তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের কর্মসূচিগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে আজ আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা গুপ্ত রাজনীতি করে, যারা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার রাজনীতি চর্চা করে এবং যাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কোনো কর্মসূচি নেই, কেবল ক্ষমতা যাওয়ার জন্যই রাজনীতি করে, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেই প্রভাবিত করবে না, বরং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলোও ব্যাহত হবে। উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আজ আমি মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা এবং দুঃস্থ মানুষদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছি। দেশে যদি অরাজকতা দেখা দেয়, তবে কি এই কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করা সম্ভব হবে?’ তারেক রহমান বলেন, জনগণ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন চাওয়ায় সরকার ধীরে ধীরে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য নারীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়া, আর কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজের মতো কৃষি উপকরণের সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সামাজিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে এই মানুষগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে এবং যখন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সমৃদ্ধ হবে, তখন বাংলাদেশও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।’ প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি কৃষক ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন- যারা এই ধরনের ডাক দিচ্ছেন, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান কিংবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সম্প্রসারণের মতো কোনো জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি রয়েছে? তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে তারা কোন ধরনের রাজনীতি চর্চা করেন? জনগণের কল্যাণে তাদের কর্মসূচি কোথায়?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সম্মাননা প্রদান, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কল-কারখানা পুনরায় চালু করা। তিনি বলেন, আপনারা যদি এসব কর্মসূচি না দেখে থাকেন, তাহলে যারা দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সরকারের মধ্যকার সংযোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই আমরা দেখলাম, এই গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলল, ‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কোনো আপত্তি থাকবে কেন? তারা তো বরাবরই তো একসঙ্গে ছিল।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, এই দুই পক্ষ ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সর্বশেষ সাম্প্রতিক নির্বাচনেও একসঙ্গে কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘এজন্যই তো তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়।’ গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চলা নিপীড়ন, কারাবাস ও ‘গায়েবি মামলা’র কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের বিরুদ্ধে জনগণই রাজপথে নেমে এসেছিল। তিনি বলেন, বিগত সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট জনগণ তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল। সুত্র. বাসস।

Read More »