সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: October 15, 2026

রংপুরে রেমন্ড গ্যালারির নতুন শাখার উদ্বোধন

রংপুরে রেমন্ড গ্যালারির নতুন শাখার উদ্বোধন জালাল উদ্দীন, রংপুর / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর : রংপুর নগরীর পায়রা চত্বরে চৌধুরী ম্যানসনে রেমন্ড গ্যালারির নতুন শাখার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাদ মাগরিব পায়রা চত্বরের চৌধুরী ম্যানসনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রেমন্ড গ্যালারি, রংপুর শাখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেমন্ড গ্যালারির ম্যানেজার মো. রমজান আলী ও জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. হাসান আলীস, রংপুর জেলা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: লিটন পারভেজ, রংপুর মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ( ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মো: তানবীর হোসেন আশরাফি, রংপুর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: রমিদুজ্জামান বুলবুল, রংপুর জেলা চেম্বারের প্রতিনিধি আবু বক্কর বারী মিঠু ও ব্যবসায়ী ওমর ফারুকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। রেমন্ড গ্যালারি পোশাক ও ফ্যাব্রিকজাত পণ্যের জন্য পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন শাখার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের মধ্যে পুরুষদের পোশাকের কাপড়, শার্ট, প্যান্ট ও স্যুটের কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের ফ্যাশন পণ্য রয়েছে। নতুন এই শাখার মাধ্যমে রংপুরের ক্রেতারা রেমন্ড গ্যালারির পণ্য আরও সহজে কেনার সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পায়রা চত্বরে শাখাটি চালু হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Read More »

ভোক্তাদের জিম্মি করে কোনো আন্দোলন করা যাবে – বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ আশ্বিন (১৫ অক্টোবর) ২০২৬ খৃ. – ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি মূল্য সহনীয় রাখতে সরকার সবরকম চেষ্টা করছে; ভোক্তাদের জিম্মি করে কোনো দাবি আদায়ের চেষ্টা মেনে নেয়া হবে না। আলোচনার টেবিলেই সমস্যার সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। গতকাল (বুধবার) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এলপিজি গ্যাস অপারেটরদের সাথে মতবিনিময় সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি নিয়ে সংকট চলছে এবং মূল্য ওঠা-নামা করছে, জ্বালানির উৎস খুব সীমিত হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করছি যেন ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য সহনীয় রাখা হয়। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো রকম ধর্মঘট কাম্য নয়। এরকম একটা অবস্থার মধ্যে যদি কেউ ধর্মঘট প্রত্যাহার না করে তাহলে সরকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করার চেষ্টা করলে এ সংক্রান্ত ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট-১৯৫৬’ এর আওতায় আইন প্রয়োগ করা হবে। কথায় কথায় ধর্মঘট করে জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি করা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ যাতে করে কোনরকম অসুবিধার মধ্যে না পড়ে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা হবে। ধর্মঘট পরিহার করে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সমাধান করার আহবান জানান তিনি। ৩০ অক্টোবর আবার অপারেটরদের সাথে বসা হবে বলে জানান তিনি।

Read More »

চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না – স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী

চিকিৎসকদের বদলি-পদায়নে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না – স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ঢাকা, ৩০ আশ্বিন (১৫ অক্টোবর): চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের মেধা, যোগ্যতা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে বদলি ও পদায়ন করা হবে। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না। মন্ত্রী আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ,বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের অটোমেশন পদ্ধতিতে বদলি ও পদায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এসময় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন পদ্ধতিতে ৮৭ জন চিকিৎসককে তাঁদের পছন্দ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন করা হচ্ছে। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত পরিচয়, রাজনৈতিক বিবেচনা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবের সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, অটোমেশন পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকার এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে চায়। এসময় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়ন করা হলেও অতীতে, বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে, এ ক্ষেত্রে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে দলীয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংকটের মুখে পড়েছিল। অতীতে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র সংবাদমাধ্যমেও বারবার উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেঞ্জামিন রিয়াজী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা সোনালী ব্যাংকের

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ গ্যারান্টির আওতায় তিন মাসের ঋণ চুক্তির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসিকে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এর ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে পারবে ন্যাশনাল ব্যাংক। একই সঙ্গে গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। তিন মাস মেয়াদি এ ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ। ইতোমধ্যে ঋণের অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে। ন্যাশনাল ব্যাংক ১৫ অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। ইতোমধ্যে ব্যাংকটি আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। গত ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। গ্রাহকসেবা পুনরায় চালুর আগে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সব শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তারল্য সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তারা এ সহায়তা চান। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য সহায়তার আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিতে ব্যাংকটিকে নির্দেশনা দেয়। ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে গত চার বছরে ব্যাংকটির মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে লোকসান বেড়েছে ৪১ শতাংশ। ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির মোট বকেয়া ঋণের ৫৯ দশমিক ৬৯ শতাংশই ছিল খেলাপি ঋণ। গত মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবার পর সর্বশেষ তারল্য সহায়তা পেলো ব্যাংকটি। বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একটি ন্যাশনাল ব্যাংক। তহবিলে সংকট ও খেলাপি ঋণের উচ্চহারের কারণে এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে তারল্য সহায়তা পেয়েছে ব্যাংকটি। সুত্র. বাসস //

Read More »

প্রাথমিকের শিক্ষক প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়িয়ে আড়াই থেকে তিন বছর করার কথা ভাবছে সরকার। পাশাপাশি, প্রতিটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (পিটিআই) সক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে ৬ গুণ বাড়িয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সাক্ষাৎকারে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি, ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহার, ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির রূপরেখা এবং বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য সরকারের তদারকি নীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষক প্রশিক্ষণের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক ও পিটিআই সক্ষমতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ক্লাসরুমে দায়িত্ব পালনের বর্তমান ধারাকে একটি নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে আনা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে পারদর্শী করতে প্রশিক্ষণের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ক্লাসে ফিরে যাবেন। এরপর নির্ধারিত সিলেবাস বা মডিউল অনুযায়ী বাকি সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে (আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে) তাদের প্রশিক্ষণ মডিউল ও পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এক বছর নির্ধারণ করে একটি নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ব্যাচগুলো এই মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পাবে। প্রথমে শিক্ষকরা পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ শেষ করে ক্লাসরুমে পাঠদানে চলে যাবেন। আর বাকি বাকি ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন মিলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বর্তমানে পিটিআইগুলোর বার্ষিক প্রশিক্ষণের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজারের মতো রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য শুধু পিটিআই নয়, প্রয়োজনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে যুক্ত করে শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে পারদর্শী করে তোলা হবে। একই সাথে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি — কোনো শিক্ষক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ক্লাসরুমে স্থায়ীভাবে পাঠদানে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’ আগামী বছর থেকে সারাদেশে ‘মিড-ডে মিল’ শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি ধরে রাখা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। বাকি উপজেলায় এই কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি— আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও প্রযুক্তির ইকোসিস্টেম শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার প্রকল্প নয়। তিনি বলেন, ‘গুগলসহ বৈশ্বিক বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আমরা ক্লাসরুমের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করছি। এর মূল কানেক্টর হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছানো হবে।’ এছাড়া যেসকল দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেগুলোতে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ব্যান্ডউইথ নিশ্চিতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সারাদেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা প্রসঙ্গে আদালতের রায়ের বিষয়টি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রমের আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষা। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাথে এ বিষয়ে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রায়ের চূড়ান্ত কপি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুল পরিমাণ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে।’ শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষা, গল্প বলার মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট নিরসনে প্রয়োজনে রেসিডেন্সিয়াল বা আবাসিক স্কুলের ব্যবস্থা করা যায় কি-না, তাও সরকারের নীতিগত ভাবনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তথ্য সুত্রে.

Read More »

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে সফলভাবে প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে অনুসৃত বিস্তৃত কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে কার্যকর করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারে থাকার সময় রোহিঙ্গাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসনের ইতিহাস আমাদের রয়েছে।’ নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা আবারও অপরিহার্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বড় একটি ঢল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নথি অনুযায়ী, তৎকালীন বার্মার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তির আওতায় ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আসা প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল।’ এরপর ১৯৯২ সালে আরও প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, মিয়ানমারের সঙ্গে ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সম্পৃক্ততা থাকলে প্রত্যাবাসনে সাফল্য অর্জন সম্ভব। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময়ও বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া সীমান্তের কাছে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং তাদের মানবিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানানো প্রথম সারির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের একজন ছিলেন। শামা ওবায়েদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের আসতে দিন, দেশে প্রবেশ করতে দিন’। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর এবং বিশেষ করে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে এবং শিবিরগুলোতে তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। শিবিরগুলোতে প্রতিবছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে সংকট ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসছে। এতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে বলে তিনি জানান। এ পরিস্থিতিতে সংকটকে অনির্দিষ্টকাল ধরে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থার মধ্যে আটকে না রেখে প্রত্যাবাসন শুরু করাই সরকারের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই।’ জাতিসংঘের আরও জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ শামা বলেন, অতীতের সফল প্রত্যাবাসন উদ্যোগগুলোর সঙ্গে পরবর্তী উদ্যোগগুলোর অন্যতম প্রধান পার্থক্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাত্রা। তার মতে, আগের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াগুলোতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়া কাজ করেনি। এটি ব্যর্থ হয়েছে।’ আগের সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সমঝোতা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় পরিসরে কোনো সংগঠিত প্রত্যাবাসন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। শামা ওবায়েদ বলেন, এ কারণে বর্তমান সরকার জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারকে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, জাতিসংঘ এখন এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হবে।’ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ দেশটির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বলে তিনি জানান। শামা বলেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ এখনো কঠিন। তবে ঢাকা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় চ্যানেলেই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের বহুপক্ষীয় আলোচনায়ও গুরুত্ব দিয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট সমাধানে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন; বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ; পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা; ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি জোরদার করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো। এর একদিন পর, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও শেষ পর্যন্ত সেখানেই নিহিত। নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরও জোরালো ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। চীন, আসিয়ান ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব থাকায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইন। এসব দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক রয়েছে এবং সংকট সমাধানে তারা নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, তুরস্কসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের উপস্থিতির কারণে সংকটটি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করেন শামা। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সমস্যা। রাতারাতি এর সমাধান হবে না।’ প্রত্যাবাসনের যোগ্য রোহিঙ্গাদের যাচাই ও পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বাংলাদেশ বারবার মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে সফল প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা এখনো প্রাসঙ্গিক বলে সরকার মনে করে। তিনি জানান, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি জাতিসংঘের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের চাপ অব্যাহত রাখবে। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘লক্ষ্য কেবল বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে তাদের ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়া নয়। আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যাতে বাস্তবেই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়।’ সুত্র. বাসস

Read More »

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হেল্থ ডেস্ক / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে ‘ন্যাশনাল হেলথ প্রোটেকশন অথরিটি ইন বাংলাদেশ: ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল অ্যাসপেক্টস’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য অধিদপ্তরের তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি বলেও মত দেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক দুর্ভোগে পড়েন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গর্ভকালীন সময়ে মা ও নারীদের যেন কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি বা হেনস্তার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তকরণে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে কম খরচে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্মশালায় স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চ্যালেঞ্জ দূর করতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দেশের প্রতিটি স্তরে পর্যায়ক্রমে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট আয়োজিত এ কর্মশালায় ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য সুত্রে.

Read More »