জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে কমেছে পোলট্রি মুরগি ও ডিমের দাম। পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় কমেছে বেশ কিছু সবজির দাম। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে নতুন করে বাজারে আসা কয়েকটি সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। চাল, ডাল, মাছ ও গরু-খাসির মাংসের দাম রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে যা ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে, বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। খুচরা বাজারে পোলট্রি মুরগির লাল ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা। ছোট আকারের ডিম কোথাও কোথাও ৪২ থেকে ৪৩ টাকা হালিতেও বিক্রি হচ্ছে। সিটি বাজারের এক ডিম বিক্রেতা জানান, গত কয়েকদিনের তুলনায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম। কমেছে বেশ কিছু সবজির দাম সবজির বাজারে টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। কাঁকরোল ৪০-৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০-৭০ টাকা, মূলা ৪০-৫০ টাকা, কাঁচকলার হালি ২০-৩০ টাকা এবং লেবুর হালি ১০-১৫ টাকা। চালকুমড়া ৩০-৪০ টাকা, সজনে ডাঁটা ১৪০-১৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০-৩৫ টাকা, শসা ৩৫-৪০ টাকা, পটল ৩৫-৪০ টাকা, লাউ ৩০-৪০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫-৪০ টাকা এবং পেঁপে ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিকন বেগুন ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন ৭০-৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০-৬০ টাকা এবং কচুরমুখী ৩৫-৪০ টাকা কেজি। নতুন করে বাজারে আসা শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। ধনেপাতার দাম বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকায়। আলুর মধ্যে কার্ডিনাল আলু ২২-২৫ টাকা, সাদা আলু ৩৫-৪০ টাকা, বগুড়ার লাল পাকড়ি আলু ৩৫-৪০ টাকা, শিল আলু ৪৫-৫০ টাকা এবং ঝাউ আলু ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে দেশি আদা ২২০-২৪০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১০০-১২০ টাকা এবং ভারতীয় রসুন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি। সবজি বিক্রেতা রহমান বলেন, বাজারে বর্তমানে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এ কারণে অনেক সবজির দাম কমেছে। ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বেশ কিছু সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে নতুন আসা কয়েকটি সবজির দাম বেশি। সরবরাহ বাড়লে সেগুলোর দামও কমে আসবে। মুরগির বাজারেও কমেছে দাম মুরগির বাজারে ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩১০-৩২০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগি ২৬০-২৭০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ৩৩০-৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫২০-৫৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে পাকিস্তানি হাইব্রিড মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০-২০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এদিকে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাল-ডাল ও নিত্যপণ্যের দাম খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০-২০৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।মসুর ডাল (চিকন) ১৬০-১৮০ টাকা, মাঝারি ১০০-১১০ টাকা, মুগডাল ১৬০-১৭০ টাকা, বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা, খোলা চিনি ১১০-১১৫ টাকা, ছোলাবুট ৯০-১০০ টাকা, প্যাকেট আটা ৫৫-৬০ টাকা, খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৬০-৬৫ টাকা, বিআর-২৯ ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫০-৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৫-৮০ টাকা এবং নাজিরশাইল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।বাজারে সবজি, মুরগি ও ডিমের কিছু পণ্যের দাম কমলেও কয়েকটি নতুন সবজি এবং কিছু নিত্যপণ্যের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় সামগ্রিকভাবে বাজারে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।