
রংপুরে কোরবানী জন্য খামারী শাপলা খাতুনের প্রস্তুত ৭ টি গরু
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: প্রতিবছরের মতো এবারো কোরবানী ঈদ উপলক্ষে গরু প্রস্তুত করেছেন খামারী শাপলা খাতুন। প্রতিবছর ৩-৪ টা গরু কোরবানীর জন্য বিক্রি করলেও এবারে তিনি কোরবানীর জন্য উপযোগি ৭ টি গরু প্রস্তুত রেখেছেন। ঈদের আর কয়েকদিন বাকী। এখনও কোন গরু বিক্রি না হলেও দরকষাকষি চলছে, ব্যাপারী ও সাধারণ মানুষরাই বেশি আসছেন খামারে গরু দেখতে। তবে হাটে নয় নিজ খামার থেকেই গরু বিক্রির কথা জানিয়েছেন তিনি। শাপলা খাতুনের খামারে মোট গরু রয়েছে ১০ টি, এর মধ্যে কোরবানীর উপযোগি নেপালিয়ান ষাড় ২ টি, ফ্রিজিয়ান ১ টি, শংকর ২ টি এবং ২ টি অষ্ট্রেলিয়ান জাতেরসহ মোট ৭ টি গরু। এর মধ্যে দুটি বড় গরু রয়েছে। গরু দুটির একটির নাম সোনালী অপরটি শংকর। প্রত্যেকটি গরু ৪ দাঁতের এবং ৩ বছর বয়সী। যাদের ওজন আনুমানিক ১৪-১৫ মন হবে। গরু দুটি’র মুল্য ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। শাপলা খাতুন নিজেই যত্ম নিয়ে সন্তানের মতোই লালন পালন করে বড় করেছেন বিশালদেহী গরুগুলো। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ডের পর্যটন পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা শাপলা খাতুন। স্বামী মৎস্যচাষী ও যুবলীগ নেতা আজম আকতার ব্যাপারী। শাপলা খাতুন বিয়ের কয়েকবছরের মাথায় তিনি গরু লালন-পালন শুরু করেন। বিয়ের পর অবসর সময়, অপচয় না করে, কিছু একটা করার পরিকল্পনা থেকে গরু পালন শুরু করেন তিনি। ৮ বছর আগে বাবার বাড়ির মায়ের দেয়া একটা গরু দিয়ে তিনি এই খামার শুরু করেন। ধীরে ধীরে এখন খামারে বড় বড় ১০ টি গরু রয়েছে। ইতিমধ্যে বিগত কোরবানীর ঈদে তিনি ১৩ টি গরু প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। এবারেও ৭ টি গরু তিনি প্রস্তুত করেছেন। যার আনুমানিক মুল্য ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। শাপলা খাতুন জানান, বিয়ের পর বেকার না থেকে স্বাবলম্বি হওয়ার চেষ্টা থেকে গরু পালন শুরু করি। বিয়ের আগে বাবার বাসায় গরু লালন-পালন করার অভিজ্ঞতা থেকেই গরু পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শশুরের জমি ও মৎচাষি স্বামীর আগ্রহ থাকায় উৎসাহটা আরো বেড়ে যায়। শাশুড়ি পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করায় গরুর খামারে সময় দেয়া সম্ভব হয়েছে পূর্ণভাবে। শাপলা খাতুন গরুগুলোকে নিজের সন্তানের মতো করেই লালন পালন করেছেন তিনি। খড়, ঘাস, ভুষি, ফিড খাবার, ভাতের মার তাদের খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া কোন রকম মোটাতাজা করন পদ্ধতি ব্যবহার কর হয়নি। তবে গোখাদ্যর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু লালন-পালন করতে অনেক খরচ ও পরিশ্রম করতে হয়। তিনি আরো জানান, গরু লালন-পালন করে সময়টা যেমন কাজের মধ্যেই কেটে যায়, তেমনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়।












