সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: December 29, 2024

সরকার আগামী বিজয় দিবসের আগে মানবতাবিরোধী সব অপরাধের বিচার সম্পন্ন করবে: আসিফ নজরুল

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :   ঢাকা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আগামী বিজয় দিবসের আগে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মানবতাবিরোধী সব অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে এবং এর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকার  বদ্ধপরিকর।  তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের সব বিচার সম্পন্ন করে আমরা আগামী বিজয় দিবস পালন করব।’ আইন উপদেষ্টা আজ ঢাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ২০২৪-এর দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ কথা বলেন।  আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি জুলাই বিদ্রোহের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ কাজ না করায় আমাদের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’ তিনি বলেন,  ‘কোনো প্রসিকিউটর ছিল না, আমাদের নতুন প্রসিকিউটর নিয়োগ করতে হয়েছে এবং সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পুরো সিস্টেমটি পুনর্গঠন করতে হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে দিনরাত কাজ করছি। আমাদের পুরো টিম সর্বোচ্চ ভালো কিছু করতে পুরোদমে কাজ করছে। আমি আশা করি আমরা আগামী বছরের মধ্যে বিচার বিভাগীয় প্রধান সমস্যাগুলোর সমাধান এবং বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।’ তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামলে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যা, জুলাইয়ে হত্যা এবং জোরপূর্বক গুমের মতো মানবতাবিরোধী অন্তত চারটি বড় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিরপরাধ (তৎকালীন বিডিআর) জওয়ানদের কারাগার থেকে মুক্ত করতে কোনো বাধা নেই।’ সাইবার নিরাপত্তা আইনে সংস্কার আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুরো আইন বাতিল করা ভালো সিদ্ধান্ত হবে না। কেননা  ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘটিত ডিজিটাল অপরাধ বিষয়ে সারা বিশ্ব জানে এবং স্বীকার করে।’ তিনি আরও বলে, ‘এছাড়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে হ্যাকিং, ডিজিটাল জালিয়াতি বা অর্থ পাচারের মতো ডিজিটাল অপরাধগুলো মোকাবেলা করার জন্য আমাদের কিছু আইন-কানুন দরকার। তবে আইনের কিছু ধারায় সংস্কার আবশ্যক।’  সরকারের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান ছাড়া আমাদের কিছুই নেই। জনগণের কাছে আমাদের অনুরোধ, ভালোবাসা দিয়ে আমাদের কাজের সমালোচনা করুন। আমরা সকল ইতিবাচক সমালোচনা মেনে নিতে প্রস্তুত।’ ড, আসিফ নজরুল বলেন, ‘এমন একটা  পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল যখন পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এই কারণেই আমরা এমন কঠিন সময় পার করছি। এই দেশে এর আগে কেউ এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।’   অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিচারিক প্রক্রিয়ার মান বজায় রাখতে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যাতে কেউ বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আঙুল তুলতে না পারে। যারা গণমানুষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে অপরাধ করেছে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে বিচার করা হবে।’ প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি শীর্ষ অপরাধীদের  ওপর। প্রধান লক্ষ্য অপরাধের মূল হোতাদের  বিচারের সম্মুখীন করা। প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা আমাদের পক্ষে কঠিন।’ মো. মনির হায়দারের সঞ্চালনায় অধিবেশনে বক্তৃতা করেন- বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ,  গুমের শিকার দিদারুল ভূঁইয়া, মায়ের ডাক’র আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহিদ আহসান।

Read More »

২০২৪ বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস

ডেস্ক রিপোর্ট / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, বাংলাদেশের ইতিহাসের অমর স্তম্ভ। দেশ ও জনগণের এই বিজয়ের বছরটি এক নতুন অভিযাত্রা। গৌরবোজ্জ্বল এই বছরটি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। বিশ্বের নৃশংস এক স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে। ছাত্র-জনতার অদম্য লড়াই আর হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে দেশ হায়নার গ্রাস থেকে মুক্ত হয়েছে। ২০২৪ বাংলাদেশকে বিশ্বের বর্ষসেরা দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। নবীন প্রজন্ম এক দানবের মুঠো থেকে দেশকে ছিনিয়ে এনেছে। ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ লড়াই ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সমকালীন বিশ্বের বিরল এক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচার ও আধিপত্যবাদী আগ্রাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। জনতার এই অভ্যুত্থান গোটা বিশ্বকে অবাক করেছে। এই অভ্যুত্থান বাংলাদেশকে স্বাধীন, সার্বভৌম অস্তিত্ব নিয়ে অনাগতকাল টিকে থাকার প্রেরণা জোগাবে। অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির এই দীক্ষা এদেশের জনগণের রক্তের মধ্যে সঞ্চালিত হয়েছে। যে কোনো বৈরীতার মোকাবিলায় এই শক্তির জাগরণ ঘটবে। নানা সম্প্রদায়, মত ও ধর্ম-বর্ণের সম্মিলিত শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ নতুন সমৃদ্ধির অভিযাত্রায় এগিয়ে যাবে। ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট সেই ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ, যা কখনো হারিয়ে যাবে না। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে যাবে, কিন্তু ২০২৪ শতাব্দীর পর শতাব্দীর আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গৌরবের স্মারক হয়ে থাকবে। সংখ্যা চিহ্নিত ২০২৪ সাল শেষ হবে না, আমরা কখনো ২০২৪-কে বিদায় জানাব না। এই বছরটি শেষহীন জুলাইয়ের মতো আমাদের স্মৃতি ও কর্মের মধ্যে উদ্ভাসিত হবে। ১৯৭১ সালের পরে ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একটি ঘটনাবহুল বছর। হত্য, জুলুম, অত্যাচার আর সীমাহীন লুন্ঠনে দেশ এক ভয়াবহ অন্ধকার গহ্বরে ঢুকে পড়েছিল। দেশ বেহাত হয়ে গিয়েছিল। ১৫ বছর ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে সর্বস্তরের মানুষ গুম, হত্যা, নির্যাতন, লাখ লাখ মিথ্যা মামলা, বিনা বিচারে নৃশংস হত্যায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। ২০২৪-এ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জনগণ ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের লড়াইয়ে নামে। ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে ইতিহাসের পাতায় হাজারো শহিদ আর হাজার হাজার আহত ছাত্র-জনতার রক্তভেজা রাজপথে বিজয়ের পতাকা তুলে ধরে। স্বৈরাচারের সশস্ত্র অনুগত বাহিনী ও দলীয় গুণ্ডা ও সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় নিরস্ত্র জনতার প্রতিরোধে পৃথিবীর নিকৃষ্ট, নৃশংস স্বৈরাচারের পতন ঘটে। গণহত্যাকারী স্বৈরাচার হাসিনা প্রাণ বাঁচাতে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। তার মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবের স্বৈরাচারী শাসন দেশকে চরম বিপর্যস্ত করে, হাজার হাজার মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়। লাখ লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেয়। লুন্ঠন করে দেশকে একটি তলাবিহীন ঝুঁড়িতে পরিণত করে। শেখ হাসিনা তার পিতার একই পথ অনুসরণ করে বিনাভোটে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে একটানা ১৫ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে রাখে। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটে। বছরের ঐতিহাসিক ঘটনা: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল বছর। এই বছরটি ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং স্বৈরাচারের পতনের বছর হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ১৫ বছরের স্বৈরাচার হটানোর এটি ছিল চূড়ান্ত পর্ব। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ধাপে ধাপে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার উৎখাতের একদফার আন্দোলনে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ৫ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের জারি করা পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়। জুলাইয়ে মাঝামাঝি থেকে এই আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। ১৬ জুলাই রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহিদ হওয়ার পর সরকারি বেসরকারি সকল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ধারাবাহিক এই আন্দোলন ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের একদফা দাবিতে পরিণত হয়। এই আন্দোলনে তৎকালীন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকার ভয়াবহ দমন নিপীড়ন শুরু করলে এটি অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। এই গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পলায়ন করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ এ সময় সাংবিধানিক সংকটে পড়ে এবং এর তিন দিন পরে নোবেল বিজয়ী, বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে গঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদ। বছরের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা হাসিনার তল্পিবাহক আদালতে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সাজা: ২০২৪-এর শুরুতে ১ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সরকার নিয়ন্ত্রিত আদালতে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। ৭ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার তাবেদার নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ৭ জানুয়ারি দেশেবিরোধী দলবিহীন একতরফাভাবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সাধারণ নির্বাচন ছিল দেশ ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা। ২০২৪-এর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ভুয়া নির্বাচন শেখ হাসিনার পতনের জন্য পটভূমি তৈরি করে। দেশের জনগণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্য গড়ে ওঠে। পাঠ্যবই বিতর্ক ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে ‘বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে আলোচনায় আসেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আসিফ মাহতাব উৎস। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরবর্তীতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় আসিফ মাহতাবকে। ওই সেমিনারে তিনি অভিযোগ করেন, ‘সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ে ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করা হচ্ছে।’ এ সময় তিনি সপ্তম শ্রেণির ওই বইয়ের ‘মানুষে মানুষে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা’ অধ্যায়ের শরিফার গল্প অংশের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণীত ও মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটি গঠনের ১৩ দিনের মাথায় কমিটি বাতিল করা হয়। এরপর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে ওই কমিটি বাতিলের পর এনসিটিবি কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাতিলের কোনো কারণ উল্লেখ বা ব্যাখ্যা করা হয়নি। বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ড এ বছরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের র ঘটনা ঘটে ২৯ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা শহরের বেইলি রোডের গ্রিন কোজি নামক বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৬ জন মৃত্যুবরণ করেন। ভবনটিতে একাধিক রেস্তোরাঁ ও দোকান ছিল, যার মধ্যে কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁ, স্যামসাংয়ের শো-রুম, গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার, ইল্লিয়িন, খানা’স ও পিৎজা ইন উল্লেখযোগ্য। পুরো ভবনের প্রতিটি তলায় রেস্তোরা থাকায় ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখা ছিল, যার ফলে দ্রুত আগুন ছড়িয়েছে।    জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান আবু সাঈদ ছিলেন ২০২৪ সালে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের একজন কর্মী।  আবু সাঈদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক হিসাবে এই আন্দোলনে যোগদান করেন। তিনি রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রংপুর অঞ্চলে কোটা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এই আন্দোলনে ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ শহিদ হন। এর পরেই দেশব্যাপী ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪-এর ২০ জুলাই শেখ হাসিনা সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সারাদেশে কারফিউ জারি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে ২২ জুলাই রাতে কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ২৭ জুলাই এলাকা ভাগ করে ‘ব্লক রেইড’ শুরু করে। সারাদেশে ৬ হাজারের বেশি গ্রেফতার করা হয়। ৫৫০ অধিক মামলা দায়ের করা হয়। ৩ আগস্ট সরকার পতনের একদফায়

Read More »

রংপুররে জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে প্রি-মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে মহানগর নাগরিক কমিটির মানববন্ধন-সমাবেশ

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: জনস্বার্থকে উপেক্ষা করে হয়রানীমূলক প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে আজ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ শনিবার সকাল ১১ টায় নগরীর কলেজ রোড সংলগ্ন নেসকো ভবনের সামনে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ আমিন উদ্দিন বিএসসি, এবিএম মসিউর রহমান, নুরে আজম দীপু,মেহেদী হাসান তরু,রেদোয়ান ফেরদৌস, এডঃ নরেশ চন্দ্র সরকার, সমাজকর্মী স্বপন চন্দ্র রায়, কবি ও লেখক আহমেদ মওদুদ,শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সংগঠক সবুজ রায়,নিপীড়ন বিরোধী নারীমঞ্চের সংগঠক সুলতানা আক্তার,সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন বাবু,রংপুর কনজুমারস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃ আমিরুল ইসলাম রাজু প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন,বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় নেসকো কর্তৃপক্ষ প্রি-পেইড মিটার স্থাপন অব্যাহত রেখেছে। প্রি-মিটার পদ্ধতিতে গ্রাহকদের আগাম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে হবে। যতক্ষণ প্রি-পেইড কার্ডে টাকা থাকবে ততক্ষণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে। যা সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। এই প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের নতুন করে হয়রানী ও দূর্ভোগ সৃষ্টি করবে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে দফায় দফায় বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিলো। রেন্টাল-কুইক রেন্টালের নামে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে। সারাদেশে সকল মানুষকে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার আওতায় নিয়ে আসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। অথচ সেটির পরিবর্তে একের পর এক গনবিরোধী সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। গণশুনানি ব্যতীত নেসকো কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে না। ডিমান্ড চার্জ ও সার্ভিস চার্জের নামে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। এসব বন্ধ করতে হবে।বিদ্যুৎ খাতের বিগত সময়ের অনিয়ম দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। বক্তারা,অবিলম্বে গণবিরোধী প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধে বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টার কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারী দেন।

Read More »

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর মহানগর শাখার সম্মেলন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর মহানগর শাখার আয়োজনে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর টাউন হলে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর মহানগর শাখার প্রধান উপদেষ্টা উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ও সহকারী পরিচালক রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সহকারী পরিচালক রংপুর দিনাজপুর অঞ্চল মনিরুজ্জামান জুয়েল প্রমুখ। সম্মেলনে মাহফুজুল হক সেলিমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি শরিফুল ইসলাম সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Read More »

আওয়ামীলীগের পাচার করা অর্থের নথিপত্র নষ্ট করতেই সচিবালয়ে আগুন:রিজভী

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: পতিত আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও পাচার করা অর্থের নথিপত্র নষ্ট করতেই সচিবালয়ে আগুন লাগিয়েছে প্রেতাত্তারা এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সচিবালয়ে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কঠিন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ। শেখ হাসিনা সরকারের একজন মূখ্য সচিব অনেক টাকা পাচার করেছেন। সচিবালয়ে যেসব ফাইল পুরো গেছে তার মধ্যে মূখ্য সচিবের ফাইলটিও ছিল। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের আটপুনিয়া গ্রামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে পরাজিত স্বৈরাচারের অনেক দোসররা রয়েছেন। তারা কিন্তু আমলাতন্ত্র, পুলিশসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন জায়গায় এখনো রয়েছেন। সর্বক্ষেত্রে তো পরিবর্তন হয়নি এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা ঘাপটি মেরে আছেন। তারা কোথায় কি নাশকতা, কোথায় কি চক্রান্ত করছেন, তার কোনো ঠিক নেই। এসব ষড়যন্ত্র ঠেকাতে ও দেশকে স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে জীবন দিতে হচ্ছে নয়নের মতো ছেলেদের। দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে আবু সাঈদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। পরে জীবন দিয়েছে নয়ন। সেও রংপুরের ছেলে। শুধু একটি শোক জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। বিএনপির শীর্ষ এ নেতা বলেন, স্বৈরাচার সরকার মানুষের টাকা যেভাবে আত্মসাৎ করেছে তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তাদের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের ঘটনা সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এটা তো একটিমাত্র ঘটনা। আরও এমন অনেক ঘটনা আছে সেগুলো চাপা দেওয়ার জন্য নয়তলা ভবনে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যদিয়ে বিগত সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও দুর্নীতির অনেক অজানা তথ্য পুড়ি গেছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থপাচারের ঘটনা যাতে আলোর মুখ দেখতে না পারে সেই কারণে এই চক্রান্ত। রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে স্থায়ী রুপ দিতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৗমত্ব রক্ষায় সামনে অনেক কাজ করতে হবে। তা না দেশ টিকবে না। দেশের মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা পাবে না। গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশ ও রাষ্ট্রনায়করা স্বৈরাচারের পতন ও নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রত্যেকের প্রতি তারা সংহতি জানিয়েছেন। কিন্তু একটি দেশ সংহতি জানাতে দ্বিধা করছে সে দেশটি হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তারা শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনার জন্য, টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন বয়ান তৈরি করছে যাতে শেখ হাসিনার অপকর্মগুলোকে ঢাকতে চায়। সচিবালয়ে আগুন নিভাতে গিয়ে নিহত ফায়ার ফাইটার সোয়ানুর জামান নয়নের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বর্তমান অন্তর্র্বতী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারানো অসহায় নিঃস্ব নয়নের মা-বাবা-বোনের দায়িত্ব সরকারকে নিয়ে হবে। এসময় নয়নের মাস্টার্সপড়ুয়া বড় বোন সীমা আকতারকে আগামী এক মাসের মধ্যে চাকরি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান রিজভী। এর আগে সকালে মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নের আট পুনিয়া গ্রামে নিহত ফায়ার ফাইটার নয়নের বাড়িতে যান তিনি। পরে তার কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

Read More »