সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: February 1, 2025

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ওপর ড. জাহিদের গুরুত্বারোপ

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খৃ. – বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ একতরফাভাবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে তার উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দিতে পারে না। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (ইউএন-সিডিপি) ২০২১ সালে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সুপারিশ করেছিল। এই সুপারিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরণ কার্যকর না করলেও, এটিকে মূলত বাধ্যতামূলক বলেই মনে করা হয়। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সিডিপি’র সুপারিশ অনুসরণ করে।’ জাহিদ হোসেন সম্প্রতি তার বাসভবনে জাতীয় সংবাদ সংস্থার সাথে এক সাক্ষাৎকারে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) অবস্থান থেকে দেশের উত্তরণের বিষয়ে এভাবেই তার মতামত তুলে ধরেন। ড. জাহিদ বলেন, উত্তরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়া বেশ কয়েকটি দেশকে উত্তরণ হওয়ার আগে বর্ধিত প্রস্তুতিমূলক সময় দেয়া হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, তাদের চিহ্নিত যে কোনো উদ্বেগ বা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে অতিরিক্ত সময় দেয়া হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই দুই বছরের বর্ধিত সময় পেয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আপত্তির জবাবে ড. জাহিদ স্পষ্ট করে বলেন, একবার কোনও দেশ উত্তরণ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলে, সমস্ত উদ্বেগের যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সেই দেশের ওপরই বর্তায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন ২০২৬ সালে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্বেগগুলো সমাধান করা ও একটি সহজ উত্তরণ নিশ্চিত করা দেশটির জন্য অপরিহার্য। বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ এ ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গিগুলো তুলে ধরেছেন- যা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ রয়েছে, সে ব্যাপারে একটি সার্বিক ধারণা পাওয়া যায়। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে ড. জাহিদ বলেন, ‘এখন আমি মনে করি তথ্য ও পরিসংখ্যানগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের এই উত্তরণ পিছিয়ে দেয়ার সুযোগ সীমিত। মাথাপিছু আয়, মানব উন্নয়ন ও দুর্বলতা সূচকের পরিসংখ্যাণকে সীমার নীচে নামিয়ে আনার সুযোগও কম।’ তিনটি মানদণ্ড পূরণ করে উত্তরণের জন্য সুপারিশকৃত দেশ হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম দেশ- উল্লেখ করে ড. জাহিদ বলেন, ‘আমাদের মেনে নিতে হবে যে, আমরা উত্তরণ হব এবং আমাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।’ আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সর্বশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে মন্ত্রীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, নিম্নোক্ত দেশগুলো থেকে উত্তরণ পর্যায়ের দেশগুলোর জন্য স্বল্পোন্নত বাণিজ্য সুবিধা আরও তিন বছরের জন্য অব্যাহত রাখা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখবে এবং নিম্নোক্ত দেশগুলোর জন্য তিন বছরের অতিরিক্ত সময়সীমা প্রদান করবে। কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো আরও কয়েকটি দেশও উত্তরণ পর্যায়ের পরেও বাংলাদেশের জন্য স্বল্পোন্নত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখবে। অনেকেই বাংলাদেশকে ইতোমধ্যেই যে ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ পড়ার আশঙ্কা করছেন- সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. জাহিদ বলেন, যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে আর কোন কিছুই আমাদের এই ফাঁদ থেকে বের করে আনতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের তিনটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে- বিশেষ করে রপ্তানিতে বৈচিত্র, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন। আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ রয়েছে। যা হল- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক নীতি।’ এই পরিস্থিতিতে চীনে ব্যবসা পরিচালনাকারী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসা স্থানান্তরের জন্য বিকল্প স্থান খুঁজছে … যেমন ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন। ড. জাহিদ বলেন, অনেকেই বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশ সম্পর্কে কথা বলছেন … তবে ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা, দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর প্রস্তুতি, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ প্রত্যাবাসন ইত্যাদির মতো বিনিয়োগ পরিবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘যদি আমরা সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হতে পারি, তাহলে এফডিআইতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটতে পারি ও এর ফলে বিপুল সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হবে।’ ড. জাহিদ বলেন, বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বিষয়ে সরকারের সক্রিয় অবস্থান একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ। এতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার পরিবর্তে জরুরিভাবে পাঁচটি সুসজ্জিত অঞ্চল তৈরির দিকে মনোনিবেশ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘এই কৌশলগত পদক্ষেপের লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং একটি ‘প্লাগ-এন্ড-প্লে’ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্কার করা।’ ড. জাহিদ বলেন, ব্যবসায়িক নিয়মকানুন সহজীকরণ এবং এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর (এসইজেড) প্রস্তুতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে, বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধির আশা করতে পারে। ড. জাহিদ বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলোর বাস্তবতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের অবস্থা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের অসামঞ্জস্যপূর্ণ সরবরাহ ব্যবসায়িক আস্থা হ্রাসের দুটি প্রধান কারণ। এছাড়াও বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই প্রধান অর্থনীতিবিদ এলএনজি সরবরাহ সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ক্রয়মূল্যের নিচে এলএনজি বিক্রি করে সরকার টেকসই সরবরাহ বজায় রাখতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। নতুন মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) সম্পর্কে ড. জাহিদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতি ও কর্মসূচি কীভাবে পরিচালনা করবে, সে সম্পর্কে কিছু ভবিষ্যত নির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই বছরের জুনে অর্থ-বছরের বাজেট প্রকাশের মাধ্যমে সকলেই জানতে পারবেন যে, অর্থনৈতিক নীতি ও ব্যবস্থাপনা কোন পথে এগিয়ে যাবে এবং তারপরে আকাশের মেঘ কেটে যাবে। সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি অন্যান্য সংস্কার কর্মসূচির তুলনায় কম গুরুত্ব পাচ্ছে কী না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার অবশ্যই উপলব্ধি করছে যে, তাদের অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু দৃঢ় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও, তারা প্রায়শই সেগুলোকে কর্মে রূপান্তর করতে পারেন না। কারণ উদ্যোগগুলো প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেই আসে।

Read More »

রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনার কবলে ৬টি গাড়ি, আহত ২৫

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে একে ৬টি পরিবহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে প্রাণহানির কোনো ঘটনা না ঘটলে অন্তত ২৫ আহত হয়েছেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মিঠাপুকুরের রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে গড়ের মাথা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত পরিবহনগুলোর মধ্যে দুটি যাত্রীবাহী বাসসহ ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান রয়েছে। গাড়িগুলো ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বড়দরগাহ হাইওয়ে পুলিশ।এদিকে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এসব পরিবহন রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের মিঠাপুকুর গড়ের মাথা মোড়ে কুয়াশার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় চতুর্মুখী এ মোড়ে দুটি বাস, একটি ট্রাক ও পিকআপ এবং কাভার্ডভ্যান একে অপরকে ধাক্কা দেয়। এতে কয়েকটি পরিবহনের সামনের গ্লাস ভেঙে গেছে এবং কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় ২০-২৫ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পরিবহনগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত পরিবহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। খুব বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। আহত কয়েকজন যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন বালু ও মাটিবাহী ট্রাক চলাচল করে থাকে। ঘটনাস্থলে মাটি পড়ে সড়কটি ঘন কুয়াশায় পিচ্ছিল হয়েছিল। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কমে আসায় হয়তো চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একে একে ধাক্কা দেয়। ঘটনার পর পুলিশ উদ্ধার কাজ শুরু করে।

Read More »

রংপুরে আবাসন খাতে রাজস্ব ক্ষতি প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে সংবাদ সম্মেলন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে আবাসন ব্যবসায়ীরা প্রতরানার মাধ্যমে জমি মালিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে সরকারের রাজস্বখাতে কয়েকবছরে প্রায় ১ হাজার শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এরকম প্রতারনার শিকার কয়েকজন ভুমি মালিকগণ গতকালণ ( ১লা ফেব্রুয়ারী) শনিবার নগরীর প্রেসক্লাব এলাকায় স্থানীয় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকের পক্ষে কারমাইকেল কলেজের সাবেক ভিপি ও ছাত্র নেতা মাহমুদ হাসান খোকন। সাংবাদিকদেন বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের আইনজীবী রইস উদ্দিন বাদশা, রংপুর বার এসোসিয়েন এর সাবকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র মাহাতা, হুমায়ুন রশীদ, মাহফুজ হোসেন জুয়েল, রাতুজ্জামান রাতুল প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে ক্ষমিগ্রস্ত ভূমি মালিক কারমাইকেল কলেজের ছাত্র সংসদ (কাকসু) সাবেক ভিপি ছাত্রনেতা মাহমুদ হাসান খোকন। সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, রংপুর সহ সারাদেশে আবাসন ব্যাসায়ীদের প্রতিষ্ঠানের বেশীরভাগের সরকারের নিবন্ধন নেই। রংপুরে প্রায় ৫০টি আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, নীয়ম অনুযায়ী ‘বিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও উহার ব্যব¯’াপনাসহ অন্যান্য অঅনুসাঙ্গিক বিষয়ে বিধান প্রনয়নকল্পে প্রনীত আইন’ এর আওতায় রেজিষ্ট্রেশন কতৃপক্ষের নিকট নিবন্ধিত হতে হবে। কিš‘ নিবন্ধন না করেই রংপুরে ৫০টি অধিক রিয়েল এস্টেট( আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান) প্রায় শতাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। এখনো প্রায় দেড়শতাধিত ভবন নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেøলনে অভিযোগ করা হয়। এসব অনিবন্ধিত নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বহুতল ভবন নির্মানের চুক্তিপত্র করে প্রতারনার শিকার হয়েছেন এ পর্যন্ত রংপুরের ১৫জন ভুমি মালিক। যে সব নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে সে সব ফ্লাট রেজিষ্ট্রেন করার সময় প্রকৃত মূল্য গোপন করে নামাত্র মূল্য দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট সাব রেজিষ্ট্রারদের যোগশাজশে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা বিপুল পরিমান সরকারি রাজস্ব, ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে সরকারের ক্ষতি করছে। এ ছাড়াও অনেক নির্মাণর প্রতিষ্ঠানের চুক্তিপত্র করার পরেও ভুমি মালিকরা বাসাবাড়ী ছেড়ে অন্যত্র দুই-তিন বছর ধরে অপক্ষো করলেও তারা নির্মাণ কাজ শুরু না করে তাদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্র¯’ করছেন। শুধুমাত্র রাজস্ব খাতেই ক্ষতি পরিমান প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দাঁড়াবে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, রংপুরে মমতা কোম্পানিজ লিমিটেড নামে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের মালিক মাহবুবার রহমান এভাবে রংপুরে একাধিক প্রতারনা করেছেন বলে বলা হয়। তাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করলে গত বছর তারা নিবন্ধন করেছেন। কিš‘ প্রায় ১৫ বছর ধরে তাদের নিবন্ধন ছিল না। মমতা কোম্পানী লিমিটেড এর মালিক মাহবুবার রহমান স্বীকার করেছেন, তাদেও প্রতিষ্ঠানের বয়স প্রায় ১৫ বছর হয়েছে। তারা গত বছর নিবন্ধন করেছেন। এতদিন কেন নিবন্ধন করা হয়নি এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান। রংপুর ডেভলাবার এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোয়াজ্জম হোসেন লাভলুর সাথে কয়েকদফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Read More »

রংপুর ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুর ডায়াবেটিক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (১লা ফেব্রুয়ারী) শনিবার নগরীর রাধাবল্লভে অবস্থিত সমিতি ভবনে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানে কার্যনির্বাহী সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় সমিতির সিনিয়র সহ-সভাৃপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মঞ্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এর আগে সমিতির প্রাক্তন সভাপতি রংপুর জেলা প্রশাসক খন্দকার আতিয়ার রহমান, আজীবন সদস্য প্রফেসর ডা: ইয়াসমিন আরা হক চন্দনা, প্রবীণ আইনজীবী দীপক কুমার সাহা এবং সমিতির আজীবন সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ি সফিকুল ইসলাম সন্টুর মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন ১ মিনিট নিরবতা পালন সহ বিশেষ মোনাজাত করা হয় মোনাজাত পরিচালনা করেন রংপুর মডেল মসজিদের পেশ ঈমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক বাবু সভায় বলেন সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন হয়েছে শতশত যুবক প্রাণ দিয়েছে হাজার হাজার বিভিন্ন বয়সের মানুষ আহত হয়েছে। অতপর ৫আগষ্ট দেশের সর্বত্র পালাবদল হলেও রংপুর ডায়াবেটিক সমিতির ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। আজও রংপুর ডায়াবেটিক সমিতি বৈষম্যের শিকার । তিনি বলেন সরকারি অর্থায়নে সারা দেশেই ডায়াবেটিক সমিতি এবং হাসপাতাল নির্মান হলেও শুধু মাত্র আমলাতান্ত্রীক জটিলতায় এবং তাদের কুট চালে এই সমিতির ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি । ফলে সমাজের বিত্তশালী দানশীন ব্যাক্তি এবং সমিতির নির্বাহী কার্য পরিষদ সদস্যদের আর্থিক অনুদানে ৬তলা হাসপাতাল ভবন নির্মানের কাজ ধীরে ধীরে এগুচ্ছে । বর্তমানে আরো টাকার প্রয়োজন । টাকার অভাবে হাসপাতালটির কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছেনা । এব্যাপারে সরকার সহ সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি । এরপর আয় ব্যয়ের খতিয়ান উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ সামসাদ বেগম । এসময় সমিতির সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আজীবন সদস্য প্রফেসর নুরুন নবী চৌধুরী নির্বাহী সদস্য প্রফেসর ডা: আব্দুর রউফ, নির্বাহী সদস্য সাহিদা পারভীন তৃসা,আজীবন সদস্য পার্থবোস, আজীবন সদস্য প্রফেসর ডা: লাইক আহমেদ খান,আজীবন সদস্য ডা: সমর্পীতা বোস তানিয়া, আজীবন সদস্য মোছাদ্দেকুর রহমান,আজীবন সদস্য এবরারুর হক, আজীবন সদস্য আবুল কালাম আজাদ মিঠু, আজীবন সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা এবং আজীবন সদস্য শামীম খান রাজু । এর আগে সমিতির কাজের অগ্রগতি আগামি কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন সাবেক বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তা প্রবাসী ফরহাদ হোসেন রাবু । বার্ষিক সাধারন সভায় সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: জাহাঙ্গীর সদস্য প্রফেসর ডা: নোয়াজেশ ফরিদ পাশা, মঞ্জুর আহমেদ আজাদ সহ কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আজীবন সদস্য সাংবাদিকসহ দু‘শতাধিক ব্যাক্তি উপস্থিত ছিলেন ।

Read More »

জুলাই অভ্যুত্থান এবারের বইমেলায় নতুন তাৎপর্য নিয়ে এসেছে : প্রধান উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খৃ. – প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বিকেলে অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ এর উদ্বোধন করেছেন। এ উপলক্ষে ঢাকায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত বিজয় নিয়ে এসেছে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ইস্পাত কঠোর প্রতিজ্ঞা। তাই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত অভ্যুত্থান এবারের বইমেলায় নতুন তাৎপর্য নিয়ে আমাদের সামনে এসেছে। তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জাতির ঘাড়ে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চেপে থাকা স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটেছে। আমাদের সাহসী তরুণদের এই অভূতপূর্ব আত্মত্যাগ বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। জুলাইয়ে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানে যে সকল দুঃসাহসী ছাত্র-জনতা-শ্রমিক প্রাণ দিয়েছেন এবং নির্মমভাবে আহত হয়েছেন তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। এবারের অমর একুশে বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং তার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণ।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বরাবরই একুশে মানে জেগে উঠা। একুশে মানে আত্মপরিচয়ের সাথে মুখোমুখি হওয়া। একুশে মানে অবিরাম সংগ্রাম। নিজের পরিধিকে আরও অনেক বাড়িয়ে নেয়া। এবারের একুশের প্রেক্ষিত আমাদেরকে নতুন দিগন্তে প্রতিস্থাপন করেছে।’ অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, একুশ আমাদের মূল সত্তার পরিচয়। একুশ আমাদের ঐক্যের দৃঢ় বন্ধন। এই বন্ধন ছোট-বড়, যৌক্তিক-অযৌক্তিক, ক্ষণস্থায়ী-দীর্ঘস্থায়ী সকল দূরত্বের ঊর্ধ্বে। এজন্য সকল প্রকার জাতীয় উৎসবে, সংকটে, দুর্যোগে আমরা শহীদ মিনারে ছুটে যাই। সেখানে আমরা স্বস্তি পাই। শান্তি পাই। সমাধান পাই। সাময়িকভাবে অদৃশ্য ঐক্যকে আবার খুঁজে পাই। একুশ আমাদের মানসকে এভাবে তৈরি করে দিয়েছে। একুশ আমাদের পথ দেখায়। একুশ আমাদের জাগিয়ে তোলে। মাত্র ছয় মাস আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতিকে এক ঐতিহাসিক গভীরতায় ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘ যার কারণে আমরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং মানবিক দিক থেকে বিধ্বস্ত এক দেশকে দ্রুততম গতিতে আবার অভীষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে নিজেদের তৈরি করার জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহস খুঁজে পেয়েছি।’ তিনি বলেন, একুশের টান বয়সের ঊর্ধ্বে। প্রজন্মের ঊর্ধ্বে। একুশের টান প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিস্তৃত হয়েছে শুধু তাই নয়, এই টান গভীরতর হয়েছে। আমাদেরকে দুঃসাহসী করেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। দুঃস্বপ্নের বাংলাদেশকে ছাত্র-জনতা নতুন বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে। আমাদের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরী রাস্তার দেয়ালে দেয়ালে তাদের স্বপ্নগুলো, তাদের আকাঙ্ক্ষাগুলো, তাদের দাবিগুলো অবিশ্বাস্য দৃঢ়তায় এঁকে দিয়েছে। আমাদের রাস্তার দেয়াল এখন ঐতিহাসিক দলিলে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। এগুলোর স্থান এখন আমাদের বুকের মধ্যে এবং জাদুঘরে হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারের বুকের রক্তে যে অঙ্গীকার মাখা ছিল তাতে ছিল জুলাই অভ্যুত্থানকে নিশ্চিত করার মহা বিস্ফোরক শক্তি। অর্ধ শতাব্দী পর এই মহাবিস্ফোরণ গণঅভ্যুত্থান দেশকে পাল্টে দিয়েছে। এই বিস্ফোরণ আমাদের মধ্যে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় গ্রোথিত করে দিয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের প্রতিজনের সত্ত্বায় এই প্রত্যয় গভীরভাবে গ্রোথিত। অমর একুশের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এই প্রত্যয়ে শপথ নিতে এসেছি। বইমেলা আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ক্রমেই এর গুণগত ও আয়োজনগত বিবর্তন হতেই থাকবে। বইমেলায় হাজির করার জন্য লেখক-লেখিকারা সারা বছর প্রস্তুতি নিতে থাকেন যথাসময়ে নিজ নিজ বই সমাপ্ত করার জন্য। প্রকাশকরা অনেক আয়োজন করেন নিজেদের বইগুলো যথাসময়ে হাজির করার জন্য, গুণগত প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করার জন্য এবং আগ্রহ বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর বিষয়ভিত্তিক ‘সেরা লেখক’ স্বীকৃতির আয়োজন করলে লেখকরা এই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য, এবং সেরা লেখকরা সেরা প্রকাশক পাওয়ার জন্য অনেক সহায়ক হবে। অমর একুশের বইমেলার পরিসর আরও বৃহত্তর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যদি একুশের ভাষা আন্দোলনকে আরও গভীরতর প্রেক্ষিতে স্বাধিকার আন্দোলন হিসেবেও দেখি তাহলে অমর একুশের গণ্ডি বৃহত্তর হয়ে দাঁড়ায়। তখন আমরা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের তাদের সৃজনশীলতার জন্য স্বীকৃতি দিতে পারি, নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য স্বীকৃতি দিতে পারি। শহর ও গ্রামের নারী-পুরুষকে কৃষি, শিল্প, সাংস্কৃতিক জগৎ, বিজ্ঞান, বাণিজ্য শিক্ষায় ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যারা নির্দিষ্ট বছরে জাতির জন্য অবদান রেখেছেন তাদের স্বীকৃতি দিতে পারি, তাদের জন্য আনুষ্ঠানিক আয়োজন করে দিতে পারি।’ তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের, প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের জন্য স্বীকৃতি দিতে পারি। সারা পৃথিবী জুড়ে নানা কাজে বাংলাদেশিরা কৃতিত্ব দেখাচ্ছে। আমরা একুশের দিনে তাদের সবাইকে স্মরণ করতে চাই। তারা সবাই একুশের দিনে নিজের দেশকে স্মরণ করে অনুষ্ঠান করে। তারা আমাদের পরিবারের অংশ হিসেবে তাদের সন্তান-সন্ততির কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী  বইমেলা চলবে। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা এবং সরকারি ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

Read More »