সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: February 13, 2025

আবু সাঈদকে প্রাণঘাতী ধাতব গুলি ব্যবহার করে হত্যা করা হয়েছে : জাতিসংঘ প্রতিবেদন

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খৃ. – জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী ধাতব গুলিতে শহিদ এবং সে ইচ্ছাকৃত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সঠিক ময়না তদন্ত না হওয়া সত্ত্বেও নথিপত্র অনুযায়ী ক্ষত এবং সম্পর্কিত ভিডিও ফুটেজ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে যে আবু সাঈদকে কমপক্ষে দু’টি প্রাণঘাতী ধাতব গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু সাঈদ পুলিশের ইচ্ছাকৃত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।  মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার (ওএইচসিএইচআর) এর কার্যালয় গতকাল বুধবার ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভের সাথে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতন’ শীর্ষক একটি তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তেইশ বছর বয়সী আবু সাঈদ পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন। সাঈদ তার পরিবারের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি শুরু থেকেই কোটা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। গত বছরের ১৬ জুলাই, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে হাজার হাজার স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী জড়ো হওয়ার ফলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওএইচসিএইচআর-কে দেওয়া পুলিশের নিজস্ব প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা করলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সমর্থক ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পুলিশ ‘শিক্ষার্থী ও জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য টিয়ার গ্যাস শেল ও ফাঁকা গুলি বর্ষণ শুরু করে।’ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ বিশেষভাবে আবু সাঈদের বিষয়ে আরো বলেছে, তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘মাথায় আঘাত লাগা এবং গুলিবিদ্ধ’ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য ও ঘটনার ধারাবাহিক শিকার ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিওর ভিত্তিতে, ওএইচসিএইচআর এর এই বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, তার হত্যাকাণ্ডে পুলিশ সরাসরি সম্পৃক্ত ও দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছাত্রলীগ সমর্থকদের সহযোগিতায় পুলিশ লাঠি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আবু সাঈদও মারধরের শিকার হন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও শটগান থেকে প্রাণঘাতি ধাতব গুলি ছুঁড়ে। গুলি বর্ষণে বেশ কয়েকজন ছাত্র আহত হয়, যার মধ্যে একজন বিক্ষোভকারী আংশিকভাবে অন্ধ হয়ে যায়।  পুলিশ যখন জনতার ওপর গুলি চালাতে শুরু করে তখন আবু সাঈদ তার হাত ওপরে তুলে ধরেন। ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য থেকে জানা যায় যে এক হাতে বাঁশের খুঁটি ধরে থাকা অবস্থায় তিনি প্রায় ১৪-১৫ মিটার দূরে অবস্থানরত পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য কোনো হুমকি হয়ে দাঁড়াননি। ওএইচসিএইচআর-এর সাথে সাক্ষাৎকার দেয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যখন তিনি পুলিশকে চিৎকার করে বলেন, ‘আমাকে গুলি করো’, তখন দুই পুলিশ অফিসার তাকে প্রাণঘাতি ধাতব গুলি ভর্তি শটগান দিয়ে সরাসরি তার দেহ লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি করে।   ওএইচসিএইচআর ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি পরীক্ষা করেছে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের সত্যতা নিশ্চিত করতে ও হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটেছে তা অনুধাবন করতে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে।  একজন প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবু সাঈদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে একজন চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, গুলি আবু সাঈদের ফুসফুসে প্রবেশ করার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়েছিল। ওএইচসিএইচআর-এর ফরেনসিক চিকিৎসক আবু সাঈদের বিষয়ে প্রাপ্ত মেডিকেল রেকর্ড পরীক্ষা করে দেখেন যে আন্তর্জাতিক ফরেনসিক মান অনুসারে যথাযথ ময়না তদন্ত করা হয়নি। ‘চিকিৎসক মৃতদেহের ছবিসহ মেডিকেল প্রমাণ পরীক্ষা করে শটগানের ক্ষত পেয়েছেন। তার বুকের ডানদিকে কমপক্ষে চলি¬শটি ধাতব গুলি এবং বাম দিকে পঞ্চাশটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। যার মধ্যে হৃদপিণ্ড, ফুসফুস ও পেটের চারপাশের অংশ রয়েছে।’ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আঘাতের ধরন ও বিস্তার অনুযায়ী আবু সাঈদকে প্রায় ১৪ মিটার দূর থেকে প্রাণঘাতী ধাতব গুলি ভর্তি শটগান দিয়ে কমপক্ষে দুইবার গুলি করা হয়েছিল।’  ভিডিও ফুটেজের ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আবু সাঈদকে গুলি করার ফলে তার ঘাড়, বুক ও বাহু থেকে দৃশ্যমান রক্তপাত হচ্ছিল। তারপরে হাইপোভোলেমিয়া ও মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্লেষণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আবু সাঈদের মাথা মাটিতে পড়ে আঘাত পাওয়ার মতো মাথায় এমন কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি যা তার মৃত্যুর বিকল্প কারণ হতে পারে।  

Read More »

দুবাইয়ে ডব্লিউজিএসের ইন্টারেক্টিভ প্লেনারি অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খৃ. – প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিট (ডব্লিউজিএস)-এর ইন্টারেক্টিভ প্লেনারি অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় এ কথা বলা হয়েছে।  সেশনটি পরিচালনা করেন সিএনএন’র বেকি অ্যান্ডারসন। ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে অংশ নিতে বুধবার রাতে অধ্যাপক ইউনূস দুবাই পৌঁছেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ বেলহৌল আল ফালাসি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দুবাইয়ে স্বাগত জানান।

Read More »

পবিত্র শবে-বরাত আগামীকাল

মুফতী জামিলুর রহমান / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :   ঢাকা, আগামীকাল শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে-বরাত পালিত হবে।  হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে-বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত। পবিত্র শবে-বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামী শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুুটি থাকবে। বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা পবিত্র শবে-বরাত উপলক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।   তিনি বলেন, এই সৌভাগ্যময় রজনী মানব জাতির জন্য বয়ে আনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের অশেষ রহমত ও বরকত। এ রাতে আল্লাহপাক ক্ষমা প্রদান ও প্রার্থনা পূরণের অনুপম মহিমা প্রদর্শন করেন। পবিত্র এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই মহিমাময় রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, বরকত, নাজাত ও মাগফিরাত।’ পবিত্র শবেবরাতের মাহাত্ম্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানব কল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’ এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।  আজ বৃস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। পবিত্র শবে-বরাত, ১৪৪৬ হিজরি উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও হামদ নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।  ইফা আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে ওয়াজ করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।  রাত ৭টা ১০ মিনিটে লাইলাতুল বারাআতের ফজিলত ও তাৎপর্য বিষয়ে ওয়াজ করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান।  রাত ৮টা ৫০ মিনিটে লাইলাতুল বারাআতের ফজিলত ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর ও  তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. খলিলুর রহমান মাদানি।  রাত সাড়ে ৯টায় পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের শিক্ষা ও করণীয় সম্পর্কে ওয়াজ করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর ও চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি। রাত সোয়া ২টায় (দিবাগত রাত) নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান এবং ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী।  বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

Read More »

আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য পুলিশ, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সকল অংশীদার- পুলিশ, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের প্রতি সে লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার অফিসের (ওএইচসিএইচআর) একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি, অন্তর্বর্তী সরকারে কর্মরত সকলের সাথে এবং অন্যান্য লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির সাথে, বাংলাদেশকে এমন একটি দেশে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে দেশের সকল মানুষ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারবে।’ প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই ও আগস্টে বাংলাদেশে হাসিনা শাসনের অবসানের ঘটনাবলীর পুঙ্খানুপুঙ্খ- স্বাধীন তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার জাতিসংঘের এ সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচার খাতে হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলের রেখে যাওয়া ‘কাঠামোগত ত্রুটি’ রয়ে গেছে। বাংলাদেশের এমন একটি সমাজে রূপান্তরের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূণর্, যেখানে সকল মানুষ নিরাপত্তা ও মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারবে।’ তিনি এই প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরে কর্মরত সকলকে ন্যায়বিচার, আইন ও বাংলাদেশের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান, যাতে তারা আইন ভঙ্গকারী এবং নাগরিকদের মানবিক ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনকারী তাদের সহকর্মী ও অন্যদের জবাবদিহি করতে পারেন।

Read More »

আওয়ামী লীগ দেশে ‘আইয়ামে জাহেলিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেছিল : প্রধান উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ‘আইয়ামে জাহেলিয়া (অন্ধকার যুগ)’ প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার গোপন বন্দিশালা ও টর্চার সেল হিসেবে পরিচিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ইউনূস এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আইয়ামে জাহেলিয়া বলে একটা কথা আছে না, গত সরকার সেই আইয়ামে জাহেলিয়া প্রতিষ্ঠা করে গেছে সর্বক্ষেত্রে। এটা (গোপন বন্দিশালা) তার একটি নমুনা।’ আজ বুধবার অধ্যাপক ইউনূস উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য, ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের নিয়ে রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। বন্দিশালা ঘুরে দেখে অধ্যাপক ইউনূস সাংবাদিকদের বলেন, ‘বীভৎস দৃশ্য। নৃশংস জিনিস হয়েছে এখানে।’ তিনি বলেন, ‘যতটাই শুনি মনে হয়, অবিশ্বাস্য, এটা কি আমাদেরই জগৎ, আমাদের সমাজ? যাঁরা নিগৃহীত হয়েছেন, তাঁরাও আমাদের সমাজেই আছেন। তাঁদের মুখ থেকে শুনলাম। কী হয়েছে, কোনো ব্যাখ্যা নেই।’ অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের বিনা কারণে, বিনা দোষে উঠিয়ে আনা হতো। সন্ত্রাসী বা জঙ্গি বলে এখানে ঢুকিয়ে রাখা হতো।’ তিনি বলেন, ‘এই রকম টর্চার সেল সারা দেশে আছে। ধারণা ছিল, এখানে কয়েকটা আছে। এখন শুনছি বিভিন্ন ভার্সনে দেশজুড়ে আছে। কেউ বলছে ৭০০ কেউ বলছে ৮০০, সংখ্যাও নিরূপণ করা যায়নি।’ বন্দিশালাগুলো খুঁজে বের করার জন্য গুম সংক্রান্ত তদন্ত কশিনকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘দেশের যে চূড়ান্ত অবনতি হয়েছিল সর্বক্ষেত্রে, এই বন্দিশালা তার একটি প্রতিচ্ছবি। এটা প্রমাণ করে মানুষের সামান্যতম মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।’ বন্দিশালাগুলো স্বৈরাচারী শাসনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে জাতির কাছে বড় ডকুমেন্ট হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘একজন বলছিলেন, যে খুপড়ির মধ্যে তাদেরকে রাখা হয়েছে, গ্রামে মুরগির খাঁচাও এর চেয়ে বড় হয়। তাদেরকে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে। মানুষ হিসেবে সামান্যতম মানবিক অধিকার থেকেও তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’ সমাজকে এসব থেকে বের করে না আনা গেলে সমাজ টিকবে না বলে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্যাতনের এই যে করুণ দৃশ্য, যারা করেছে তারা আমাদের সন্তান, আমাদের ভাই, আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজন। এই সমাজকে যদি এর থেকে বের করে নিয়ে আসতে না পারি, তাহলে নতুন সমাজ গড়া সম্ভব হবে না’। গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ন্যায়বিচার যেন পায়, সেটা এখন প্রধান্য দিতে হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ ও নতুন পরিবেশ গড়তে চাই। সরকার সে লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিশন করেছে। যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করবে।’

Read More »