
রংপুরে বিভাগীয় ইজতেমায় আখেরি মোনাজাতে লাখো মুসল্লীর ঢল
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৩ দিনব্যাপী রংপুর বিভাগীয় তাবলিগ জামাতের ইজতেমা। রংপুর নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমাশু কুকরুল এলাকায় রংপুর বিভাগীয় ইজতেমার শেষ দিনে নামাজে অংশ নেন রংপুর মহানগরী সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লাখো মুসল্লিগণ। এতে অংশ নিতে সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানে মানুষের ঢল নামে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোরে আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শেষ দিনের ইজতেমা। দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লীর নিজাম উদ্দিন মারকাজ থেকে আসা মুরব্বি মাওলানা ওয়াসিম (উর্দু ভাষী)। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও হেদায়েত কামনা করা হয়। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে ইজতেমা ময়দানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের অন্তত ছয়টি দেশের মুসল্লিরা এতে অংশ নেন। মূল মাঠ ছাড়াও আশপাশের খোলা জায়গা, সড়ক ও ফাঁকা স্থানে পাটি, চট, পলিথিন ও পত্রিকা বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন তারা। ইজতেমার শেষ দিনে একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মুসল্লিরা। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। রংপুরের তাবলিগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ইজতেমা সম্পন্ন হওয়ায় আয়োজকরা সন্তুষ্ট। এর আগে ফজরের নামাজের পর হেদায়েতি বয়ানে ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, দাওয়াতের মেহনত হলো নবুওয়াতি মেহনত। খুলুসিয়াত ও আজমতের সঙ্গে দ্বীনের কাজে আত্মনিয়োগ করলে আমলের ফজিলত বহুগুণ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, পরকালের চিরস্থায়ী সফলতার জন্য দুনিয়ায় জীবিত থাকা অবস্থায় ঈমান ও আমলের মেহনত করতে হবে। ঈমানি মেহনত ছাড়া হাশরের ময়দানে কেউ কামিয়াব হতে পারবে না। পরে সকাল ১০টায় স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের উদ্দেশে বিশেষ বয়ান অনুষ্ঠিত হয়। ইজতেমা মাঠে মুসল্লিদের অবস্থানের জায়গায় আগে থেকেই সামিয়ানা, পানির লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ, সাইকেল গ্যারেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়। প্রতিদিন ফজর, জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজের পর দেশ-বিদেশের মুরুব্বিরা বয়ান পেশ করেন। অধিকাংশ বয়ান বাংলা ভাষায় হলেও বিদেশি মুরুব্বিরা দেন আরবি ও ইংরেজি ভাষায়, যা দোভাষীর মাধ্যমে বাংলায় অনুবাদ করে শোনানো হয়। এদিকে, ইজতেমা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন।












