
রংপুরে দুই দিনব্যাপী পরিবেশ সম্মেলন শুরু: তিস্তা-শ্যামা সুন্দরী খাল রক্ষায় যুবসমাজের জোরালো আহ্বান
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: উত্তরাঞ্চলের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা এবং তিস্তা-শ্যামা সুন্দরী খালসহ রংপুর বিভাগের নদ-নদী ও প্রকৃতি রক্ষায় তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করতে রংপুরে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পরিবেশ সম্মেলন। “পরিবেশ জীব গ্রীন ভয়েস” আয়োজিত এই সম্মেলন আজ (২ এপ্রিল) রংপুর টাউন হলে শুরু হয়ে চলবে আগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত। আয়োজকরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, খরা, বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে রংপুর বিভাগ বর্তমানে বহুমাত্রিক পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। নদীভিত্তিক বাস্তুতন্ত্র ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থাকা সত্ত্বেও মানবসৃষ্ট চাপ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই অঞ্চলের পরিবেশ ও জীবিকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সম্মেলনে গ্রীন ভয়েসের ৪০টি ইউনিটের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংগঠন, সুধীজন ও গণমাধ্যমসহ প্রায় ৬০০ জন অংশগ্রহণ করছেন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক সংগঠনটি বর্তমানে দেশব্যাপী ১৫০টিরও বেশি ইউনিটের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন । বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিস্তা রক্ষা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, রিভারাইন পিপল-এর পরিচালক অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শাশ্বত ভট্টাচার্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রংপুর জেলার আহ্বায়ক এডভোকেট শামীমা আখতার শিরিন, রশিদুস সুলতান বাবলু,সদস্য সচিব,বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলন(বাপা) রংপুর জেলা,আলমগীর কবির প্রধান সম্বনয়ক গ্রীন ভয়েস,হুমায়ন কবির সুমন, আরিফুর রহমানসহ অন্যান্যরা। বক্তারা বলেন, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদকেন্দ্রিক নদীভাঙন, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন, খরা ও পানির সংকট রংপুর বিভাগের মানুষের জীবন-জীবিকাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে খাল দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সম্মেলনে বক্তারা তিস্তার ন্যায্য পানি বণ্টন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, নদী ও খাল দখলমুক্ত করা, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা চালু, এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা, বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার, পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিতকরণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজ পরিবেশ রক্ষায় আরও সচেতন হবে এবং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।












