সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: May 19, 2026

র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৪ জ্যৈষ্ঠ (১৮ মে) ২০২৬ খৃ. – আগামী দিনে র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসে পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে র‍্যাব ফোর্সেস এর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, র‍্যাবকে একটি জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাহিনী হিসেবে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- র‍্যাব সদস্যদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার সময় আন্তর্জাতিক মানদন্ড রক্ষা করে ন্যূনতম বল প্রয়োগ, মানবাধিকার প্রশিক্ষণ, অপরাধ দমনে এআই (Al) এর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এ লক্ষ্যে অতিশীঘ্রই র‍্যাব ফোর্সেস এর জন্য জঙ্গল সলিমপুরে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা; পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন ও কৌশল বিবেচনায় সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা ও কার্যক্রমকে আরও উন্নতকরণ; জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে জনআস্থা অর্জন; মানবাধিকার, আইনের শাসন ও পেশাগত নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রেখে নিরাপদ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখা; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত র‍্যাব আইন প্রণয়ন। মন্ত্রী আরো বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় সরকারের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তার বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যাবে না। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সুনাম ও গৌরব বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। সারাবিশ্বের নিকট প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে বিবেচনায় র‍্যাবের বিদ্যমান আইন পরিবর্তন ও সংশোধনপূর্বক এটিকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে করে এলিট ফোর্সটির সদস্যদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। একইসঙ্গে র‍্যাবের বিদ্যমান নাম পরিবর্তনের কথাও বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক রাখতে এলিট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে ২০০১ সালের বিএনপি সরকারের মেয়াদে র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, র‍্যাব যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, তখন র‍্যাবকে কেবল সে উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় র‍্যাবকে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। যার ফলে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির। স্বাগত বক্তৃতা করেন র‍্যাবের মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানগণ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণসহ বিভিন্ন সামরিক-অসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে এনইসি

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ খৃ. _ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আজ ৩ লাখ কোটি টাকার একটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন এই এডিপি টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সংস্কারমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এনইসি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের অধীনে প্রথম এনইসি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আখতার উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা অংশ নেন। বৈঠকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রণয়নাধীন একটি কৌশলগত আর্থিক পরিকল্পনা কাঠামোর নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়, যা সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)-এর অধীনে একটি উপদেষ্টা কমিটি প্রস্তুত করছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত এডিপির আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে। এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় বেশি, যা সরকারের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতার উন্নতি নির্দেশ করে। নতুন এডিপিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১ হাজার ২৭৭টি নতুন প্রকল্পের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) ৮০টি প্রকল্প এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ১৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, কর্মসূচিটি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ ও জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগে জোরালো গুরুত্বের প্রতিফলন। এডিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় উন্নত সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ১৫টি খাতের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর একটি বড় অংশ বৈদেশিক অর্থায়ননির্ভর, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থার প্রতিফলন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকা প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে উন্নয়ন ব্যয় আরো কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক হয়। সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপির আকার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় সম্পদ থেকে বরাদ্দ ৪৮.৪৪ শতাংশ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ৫২.৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন এডিপিতে দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, পর্যটন, নীল অর্থনীতি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলেন, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের স্ব-অর্থায়িত প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করলে মোট এডিপির আকার দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ দশমিক ৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৩ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা সরকারি ও নিজস্ব উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার দশমিক ৯০ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে। কর্মসূচিতে ৯৭১টি বিনিয়োগ ও জরিপ প্রকল্পে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯১৪ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা এবং ১০৭টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্পে ২ হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া ‘বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা’ ব্লক বরাদ্দ হিসেবে ৩৮ হাজার ২৭ দশমিক ৪৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তার জন্য আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। নতুন এডিপিতে খাতভিত্তিক বরাদ্দের মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ৯২ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ পেয়েছে। শিক্ষাখাত পেয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ দশমিক ১২ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ; স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ; গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৬১ দশমিক ৭২ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এই পাঁচ খাতই মোট ক্ষেত্রভিত্তিক বরাদ্দের ৬২ শতাংশের বেশি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৭৩৫ দশমিক ১০ কোটি টাকা বা ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩০ হাজার ৭৪১ দশমিক ৩৬ কোটি টাকা বা ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ; স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ২৬ হাজার ৮০৬ দশমিক ২৬ কোটি টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ২০ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯ হাজার ৪৪০ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা বা ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ পেয়েছে ১৪ হাজার ৯৩৮ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৭ হাজার ৪০৩ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৮ হাজার ২২০ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৮ হাজার ২০৬ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন এসডিজি, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ), জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি), সবুজ জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কৌশল (জিসিআরডি) এবং ডেল্টা অ্যাপ্রাইজাল ফ্রেমওয়ার্ক (ডিএএফ)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে। যেসব প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত, পিপিপি উদ্যোগ, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো ও সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন রয়েছে, সেগুলোকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়ার জন্য চিহ্নিত ২৬টি প্রকল্প পরবর্তী অর্থবছরে বহন করা হবে। সুত্র. বাসস

Read More »

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহী সিঙ্গাপুর

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর : ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ খৃ. – বাংলাদেশের পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা প্রদান করতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর। আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সিঙ্গাপুরের অনিবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো এ আগ্রহ প্রকাশ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান আজ এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পুলিশের পেশাগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি, সাইবার সিকিউরিটি, আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে পারস্পরিক তথ্য বিনিময়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনগত সহায়তাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও বহুমুখী। এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক অভিন্ন স্বার্থ, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একই ধরনের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে। সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার মন্ত্রীর সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও বন্ধুপ্রতিম দেশ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ থেকে সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুরে পাঠানো যেতে পারে। হাইকমিশনার আরও জানান, সিঙ্গাপুর উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বছরব্যাপী প্রায় ৩০০টি সভা, সেমিনার, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে থাকে, যেখানে বাংলাদেশও অংশ নিতে পারে। মন্ত্রী পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশের সামগ্রিক পুলিশ সংস্কার প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের নীতিগত সহযোগিতা কামনা করেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্ক্যাম, সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব আধুনিক অপরাধ দমনে এবং সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দু’দেশের মধ্যে নিয়মিত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’ বৈঠকে হাইকমিশনার ডেরেক লো আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ দমনে দুই দেশের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময়ের ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত কঠোর এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অবস্থান করছে। পারস্পরিক আইনি সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরের নিকট ’ ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা’ বিষয়ক চুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সিঙ্গাপুর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সম্মতি পাওয়া গেলে উভয় দেশ দ্রুততম সময়ে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবে, যা অপরাধ দমনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। হাইকমিশনার ডেরেক লো এ সময় বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করেন এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, আবাসন ও যানজট নিরসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগ অনুকূল নীতির পরিপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুরের সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বৃহত্তর অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী সিঙ্গাপুরের অনিবাসী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার মন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। বৈঠকে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি, সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকা ডিরেক্টরেট-এর কান্ট্রি অফিসার টাই ডে আর্ন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ মে, ২০২৬ খৃ. – দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এ হিসেবে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) জিলহজ মাসের ১০ তারিখ হওয়ায় ওইদিন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। সভায় দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান স্পারসো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সভায় উপস্থিত ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, যুগ্মসচিব ছাদেক আহমেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. খোরশেদ আলম খান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান।

Read More »

প্রকৃত উন্নয়ন করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে — ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৪ জ্যৈষ্ঠ (১৮ মে) ২০২৬ খৃ৷ – ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, কাঁদা ছুড়াছুড়ি বা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে উন্নয়ন হয় না, আগের দিনের হিসাব এখানে টানলে হবে না, প্রকৃত উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। সরকারের বরাদ্দকৃত টাকার প্রত্যেক কাজের মধ্যে একাউন্টেবিলিটি বা জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আজ ঢাকার বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী যদি ১০০ মাইল বেগে থাকেন আর আমরা যদি মাইনাস ১০ মাইলে থাকি, তাহলে শুধু আমারই যে ক্ষতি হবে তা না; সামগ্রিকভাবে এখানে যারা উপস্থিত আছেন আপনাদের সবারই ক্ষতি হবে। কারণ প্রতিটা জিনিস প্রতিটা সেক্টরে খুব স্ট্রংলি মনিটরিং হচ্ছে। কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের যেখানে যেখানে স্কোপ আছে, লিগ্যালি এমনকি এর আওতাধীন যেখানে যা উন্নয়ন করা দরকার আপনারা করতে থাকেন—এখানে তো কেউ আপনাদের মানা করছে না। শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডই নয়; তিন পার্বত্য জেলা পরিষদেরও সমান ভূমিকা থাকতে হবে। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প কাজের মধ্যে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবন মান উন্নয়নে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে গার্ডার ব্রিজ, কালভার্ট আর সামাজিক সেবার নামে টনের পর টন হিসাব করে খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা দিলেই মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না। এখন প্রয়োজন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত জীবন মান উন্নয়ন, তাদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলার কাজে উৎসাহিত করার মতো প্রকল্প নেওয়া। পুরাতন রীতিনীতি বাদ দিয়ে মানুষের টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান-এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, যুগ্ম সচিব অতুল সরকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

সরকারের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহ ৩টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। এর জন্য অপেক্ষা ও ধৈর্য ধরতে উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ফারাক্কা চুক্তি, অন্যটি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। আমাদের সরকার গঠনের কেবল তিন মাস হয়েছে। আমাদের সময় দেন। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য টেকনিক্যাল ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিছু বিষয় আছে। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো আমরা করছি। সোমবার (১৮ মে) দুপুরে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একনেকে পদ্মা ব্যারাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্যও হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একটু ধৈর্য ধরুন, অপেক্ষা করুন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আগামী ১১ ডিসেম্বর আমাদের ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। আমরা সেই চুক্তিটা আবারও বাস্তবায়ন করতে চাই। এখন পর্যন্ত যতগুলো ফারাক্কা চুক্তি হয়েছে, তার মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালের চুক্তিটি সবচেয়ে ভালো ও সময়োপযোগী ছিল। আমরা সেই আলোকে এবার চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কথাবার্তা বলছি। এর আগে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার মহৎ উদ্যোগ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান এই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে উঠে আসা আজকের খেলোয়াড়রাই আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা বাবা-মা চায় তার সন্তান ভালো জায়গায় যাক, প্রতিষ্ঠিত হোক। কেউ কেউ চায় তার ছেলে-মেয়েরা পড়ালেখা শেষ করে চিকিৎসক হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক। কিন্তু আমি বলতে চাই আপনি যদি দেখেন আপনার সন্তান পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় আগ্রহ দেখায়, খেলার প্রতি স্পৃহা, স্পিড ও মনোবল আছে, তাহলে তাকে সুযোগ দিন। আমি মনে করবো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পাশাপাশি খেলোয়াড় হয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের এবং এলাকার জন্য তারা অবদান রাখাসহ অনেক সুনাম অর্জন করতে পারবে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন। বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিস রংপুর আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন, পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বিশেষ অতিথি ছিলেন। ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ স্লোগানকে সামনে রেখে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর আঞ্চলিক পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় রংপুর , কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় জেলার বিজয়ী দলসমূহ অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন ইভেন্টের মধ্যে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দাবা, কাবাডি, মার্শাল আর্ট, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতার।

Read More »

রংপুরে পাকা রাস্তা ও ড্রেন না থাকায় পানিবন্দি প্রায় ৫০০ পরিবার

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২২নং ওয়ার্ডের বকুলতলা এলাকায় পাকা রাস্তা ও ড্রেন না থাকায় পানিবন্দি হয়ে পরেছে প্রায় ৫০০ পরিবার। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যায়। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বকুলতলা দারুস সালাম মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ড্রেনেজ ব্যাবস্থা না থাকায় পানি নিস্কাশনের কোন ব্যাবস্থা নেই। চরম দুর্ভোগে পরেছে এলাকাবাসী। পানির কারনে এলাকার শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। এলাকার মুসল্লীদের নোংরা পানি পেরিয়ে মসজিদে যেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী রনি পাটোয়ারী, মজিবর রহমান, কয়েল মিয়া, আইয়ুব আলী জানান, আমরা রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বসবাস করছি , কিন্তু মনে হচ্ছে যেন কোন ইউনিয়নে বসবাস করছি। আমরা দির্ঘদিন থেকে অবহেলিত হয়ে রয়েছি। ইতিপুর্বে এই এলাকায় পাকা রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের জন্য ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাবেক মেয়রের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। তার এসে দেখে যায়, কিন্তু কোন ব্যাবস্থা নেয় নাই। আর কতদিন কষ্ট করবো আমরা। তাই এই এলাকায় পাকা রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের জন্য রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাড. মাহাফুজ উন নবী ডনের সু দিৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করছেন এলাকাবাসী। এ সময আরও বক্তব্য রাখেন এলাকাবাসী জসিম, খোকন, পেয়ারী, আইনুল, নারগিন, রুপালী, সুমি, আমেনা, আলেয়া, মনিরা বেগম, মোজাম্মেল, রবি, প্রমুখ।

Read More »