সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: July 11, 2026

রংপুর জেলা আইডিইবি’র দ্বি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: ইনিস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্র্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) রংপুর জেলা শাখার (২০২৬ থেকে ২০২৮) দ্বি বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত (১১ জুলাই) শনিবার রংপুর গণপূর্ত অফিস চত্বরে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট পদ ২৩টি । ২২ টি পদে কোন প্রতিদ্বন্দী না থাকায় তাদেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচিত করা হয়। শুধু মাত্র ১টি পদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) পদে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী তৌহিদ আহমেদ ও সহকারী নির্বাচন কমিশনার মোঃ আতিকুর রহমান । রংপুর জেলা আইডিইবি’র (২০২৬ থেকে ২০২৮) দ্বি বার্ষিক নির্বাচনে বিজয়ী হন, সভাপতি মোঃ আবু তাহের চৌধুরী, সহ সভাপতি মোঃ আবু আনোয়ার হোসেন, সহ সভাপতি এ এস এম আমিনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফাইজুল ইসলাম , অর্থ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মাইদুল ইসলাম, চাকুরী বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম, গ্রন্থাগার ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবুল বাশার, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক মোঃ সাজেদুল কবির, সাহিত্য সাংকৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ মেজবাউর রহমান, সমাজকল্যান সম্পাদক আলী মোঃ জাহাঙ্গীর , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নেজামুল হক, তথ্য ও গবেশনা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাসুদুল করিম, মহিলা ও পরিবার কল্যান বিষয়ক সম্পাদক মোছাঃ সাদেকা সুলতানা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রশিদুল ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান, সহ জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন, নির্বাহী সদস্য আবু তাহের মোঃ খায়রুল বাশার, নির্বাহী সদস্য মোঃ হাফিজার রহমান, নির্বাহী সদস্য মোঃ হারুন অর রশিদ, নির্বাহী সদস্য মোঃ সালাম হোসেন।

Read More »

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে : জামায়তের আমির

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে। জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লাড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যস্ত ব্যক্ত করে গেলাম। শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই। তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ। সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। রংপুরকে কৃষি রাজধানী গড়ার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বলেছিলাম আমরা নির্বাচিত হলে আল্লাহ তায়ালা সুযোগ দিলে আমরা রংপুর বিভাগকে বানাবো কৃষির রাজধানী। সেই রাজধানীর কথা বর্তমান সরকারও সংসদে বলছে। কিন্তু রাজধানীকে ভিক্ষা দিলে রাজধানী বনবে না, রাজধানীকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা করতে হবে। এখানে এসে শুনতে পেলাম দুঃখের বিষয়- কৃষক কষ্ট করে ঘাম ঝড়িয়ে ফসল ফলায়। এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। এখন হিমাগারে রাখতে গেলে বস্তা প্রতি ৬০০ টাকা তাদেরকে দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়। ন্যায্য দামে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রব্যমূল্য ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যে জনগণ অস্থির। সরকারের হৃদয়ে এগুলা ঢুকে না। জনগণ তো চাঁদাবাজি করে না, তাদের তো অবৈধ অর্থের উৎস নেই, তারা ঘুষ-দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়- তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমনে বুঝবে যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, যারা ঘুষ দুর্নীতিতে ব্যস্ত তারা এটা বুঝবে না। তিনি বলেন, সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে কয়বার। ঘুঘু তুমি ধান খাও বারবার, ধরা পড়বা একবার। আগামীতে এই সুযোগ আর দেবে না জনগণ। তখন ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তির ওপরে ১১ দল একটি সরকার গঠন করবে ইনশাল্লাহ। যেই দেশে চাঁদাবাজ তো দূরের কথা তাদের ছায়াও সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি করার প্রয়োজন কারও হবে না। সম্মানজনকভাবে সবাই বাঁচতে পারবে। এরপরে লোভের বশবর্তী হয়ে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রধানমন্ত্রী হলেও না। তাকেও বিচারের মুখামুখি করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশ আমাদের। আল্লাহ রক্ষাকর্তা। আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো দেশের এক ইঞ্চি জমিতো দূরের কথা একটা বালুর ওপরেও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেবো না। যারা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাদেরকে বলি আপনারা এইভাবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করবেন না। ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন- আমাদের সৈন্য দুই লাখ আড়াই লাখ নয়, এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকটা নারী পুরুষই আমাদের সৈন্য। জুলাইতে এটার প্রমাণ রেখেছে সবাই। রংপুরের বিভাগীয় এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারিজেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

Read More »

বিদেশমুখি স্বাস্থ্যসেবা-রোগীদের আস্থা অর্জনে চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর : ঢামেক, ১১ জুলাই, ২০২৬ খৃ. – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি রোগীদের প্রতি সহমর্মী আচরণ অত্যন্ত জরুরি।’ প্রধানমন্ত্রী আজ দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢামেক মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওপরে একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর আঁকা আলোকচিত্র উপহার দেয়া হয়। চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশ থেকে বহু মানুষ বিদেশে যাচ্ছেন চিকিৎসা করাতে। এর ফলে প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার খরচে। দেশের মানুষের এই চিকিৎসা আমরা কেনো দেশে করাতে পারবো না? আমরা কেনো মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবো না? এটা আইন প্রয়োগ করে হবে না। কেবল চিকিৎসকরাই পারবেন তাদের মানবিক এপ্রোচ আর সঠিক চিকিৎসা দানের মাধ্যমে দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ ফিরিয়ে আনতে। তাই চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান থাকবে রোগীর আস্থা অর্জনে আরও মানবিক হোন। ‘ জনগণ যাতে শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ পায় এ লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হবেন নারী হেলথ কেয়ারার যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।’ তিনি বলেন, ‘একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল দিয়ে গড়ে ওঠে না, বরং পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন প্রতিবেশ ও পরিবেশ, স্বাস্থ্য পরামর্শ, নিরাপদ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং নাগরিক হিসেবে দায়িত্বশীল জীবনাচরণের ওপর শারীরিক সুস্থতার অনেকখানি নির্ভর করে।’ ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ সরকার এই নীতিতে সবার কাছে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা পর্যবেক্ষণ, ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ কিংবা ক্যানসার এমন অনেক বিষয় সম্পর্কে আগেভাগেই স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে শুরুতেই রোগের নিরাময় অনেকাংশেই সহজ হয়ে যায়। তাই পরামর্শ অনুযায়ী সচেতনতা অবলম্বন করলে, নিয়মিত পরীক্ষা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ গোড়াতেই নিরাময় কিংবা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শিক্ষাখাতের পর সরকার দেশের ইতিহাসে এবারই স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে । এ বছর জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের পরিমাণ আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, সরকার বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয় কমিয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনাটোরস, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট এবং ট্যাক্স কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’ সরকার দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ৫শ’ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটি উপজেলায় ১শ’ বেডের হাসপাতাল রয়েছে। জনসংখ্যার তুলনায় এটি অপ্রতুল। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীদের শহরমুখী হতে হয়। এ কারণে সরকার দেশের সবকটি উপজেলায় বর্তমানে বিদ্যমান ৩১ থেকে ৫১ বেডের প্রতিটি হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১০১ বেডে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সকল হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিরতিহীন বিদ্যুৎ সরবরাহের পদক্ষেপ নিয়েছে।’ শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায়ও বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২শ’ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে শিশু চিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক না থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য হবে।’ স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে মেডিক্যাল বর্জ্য অপসারণ বিজ্ঞানসম্মত করার বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন , আমরা সবাই মিলে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিজ্ঞানসম্মত এবং হাসপাতালগুলোকে ক্লিন রাখার চেষ্টা করি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তথা চিকিৎসক, নার্স এবং সকল স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ‘ তিনি বলেন, ‘রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আরো পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট,ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।’ চিকিসকগণই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ চিকিৎসকগণই রোগে শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন। একজন চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহার একজন রোগীর কাছে ঔষধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। সুতরাং একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।’ বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থান প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।’ তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র দেশ বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরী হয়নি, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন মহৎ মানুষ তৈরী হয়েছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুন্ঠাবোধ করেননি।’ পরিশেষে ঐতিহাসিক মেডিক্যাল কলেজের ৮০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক এবং বর্তমান শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তারেক রহমান উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার কথা মন দিয়ে শোনেন। আলোচনায় শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটাই প্রত্যাশা উঠে আসে। ঐতিহ্যের এই গৌরব ধরে রেখে ঢামেককে যেন বিশ্বমানের একটি আধুনিক গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত

Read More »

সারাদেশে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০২৬ ৎৃ. : সারাদেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার প্রায় সারাদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান। তিনি জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন। আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

Read More »

রংপুরে মাদ-ক-দ্র-ব্য নিয়-ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অভি-যানে ১৬ হাজার ট্যাব-লেটসহ ২ ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি আ-টক

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট রংপুরে আনা হয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর আরকে রোড এলাকার আইডিয়াল মোড়ে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নজরদারি শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর একটি চৌকস দল। দীর্ঘ সময় পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পার্সেল থেকে ১৬ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিনিধি সাগরকে আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।ওষুধের আড়ালে অভিনব কৌশলে পরিচালিত এ ধরনের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

Read More »

রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত চার দফা দাবিতে শনিবার রংপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আগামী শনিবার (১১ জুলাই) রংপুর জিলা স্কুল মাঠে বিভাগীয় সমাবেশ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে জোটটি। সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরে এসে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনসমর্থন কামনা করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সরকার গণভোট-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। এতে নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এ দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। সংসদেও প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।মাওলানা আব্দুল হালিম কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলানী হত্যাসহ সাম্প্রতিক সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ ও সাধারণ মানুষের হয়রানি নিরসনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রেস ব্রিফিংয়ে আগামীকালের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে রংপুর বিভাগের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি দলে দলে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। আয়োজকদের দাবি, রংপুর বিভাগের আট জেলায় সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের জন্য মাঠের অবকাঠামো, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, সদস্যসচিব কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, রংপুর জেলা আমির ও রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

Read More »