সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: June 30, 2023

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সার্বিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহ সৌদি যুবরাজের

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : মক্কা, সৌদি আরব, ৩০ জুন, ২০২৩ : সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ বলেছেন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে আগ্রহী সৌদি আরব। পবিত্র হজ পালন উপলক্ষে সৌদি আরব সফররত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মক্কায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সৌদি যুবরাজ এ আগ্রহের কথা জানান। সৌদি সরকারের রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজ্জ পালনের জন্য ১০ দিনের সফরে সৌদি আরব অবস্থান করছেন রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ক্রাউন প্রিন্সের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি বলেন, সৌদি আরবের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় বাংলাদেশ। সৌদি প্রিন্সকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাষ্ট্র প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।’ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আশা করেন, বাংলাদেশের জনগন চায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিক দিয়ে বিশ্ব মুসলিম উম্মা আগামীতে আরো এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসস’কে জানান, শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির পথে আগামীতে আরো এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, তিনি একটি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশ সফর করতে চান, যাতে করে ভবিষ্যতে দু’দেশের উন্নয়ন ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তাকে এবং তার সফরসঙ্গীদের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য সৌদি সরকার ও জনগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

Read More »

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবায় বিশ্বনন্দিত কর্মসূচি কমিউনিটি ক্লিনিক

মাহফুজা জেসমিন ঢাকা, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় এক অনন্য মডেল হিসেবে কমিউনিটি ক্লিনিক আজ বিশ্বনন্দিত। ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাংলাদেশ যখন এক বিপুল জনসংখ্যার চাপে দিশেহারা হয়ে পড়ার কথা, সেই সময়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবার এই মডেলকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আসিফ ইকবাল আজ বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশের সব মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে এই অনন্য কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু করেন, যা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার সুফল সরবরাহে বিপ্লব ঘটিয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনামূল্যে ৩০ প্রকার ওষুধ রোগিদের দেয়া হয়। তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের জমিতে সরকারের টাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় জনগণই এই ক্লিনিক পরিচালনা করেন। এতে করে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা সম্পর্কে এলাকাবাসীর মধ্যে যেমন সচেতনতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সেবার গুণগত মান বজায় রাখতেও তারা ভূমিকা রাখেন। সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশের গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌঁেছ দেয়ার লক্ষে সরকার ২০১৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করেছে। ডা. আসিফ বলেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার এই মডেলটিই আজ বিশ্বব্যাপি সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি ও স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে থাকে। আবার এটি নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৬ মে ২০২৩ মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনের ২২তম এজেন্ডায় প্রথমবারের মতো কমিউনিটি ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এদিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনস্বরূপ জাতিসংঘের ৭০টি সদস্য রাষ্ট্র এই রেজুলেশনটি কো-স্পন্সর করে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে রেজুলেশনটি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেন উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মো. মনোয়ার হোসেন। ‘কমিউনিটি ভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা: সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনের লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি’ শিরোনামের এই ঐতিহাসিক রেজুলেশনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক ভিত্তিক মডেল প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য উদ্ভাবনী নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। এই রেজুলেশনটিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল উদ্ভাবনী উদ্যোগের ব্যাপক স্বীকৃতি দিয়ে এই উদ্যোগকে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করে। জনগণের স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সেবায় সাম্য প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বিশেষ দশটি উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম কমিউনিটি ক্লিনিক। এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিটি মানুষ বিনামূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। যার ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমেছে। স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি শ্রমজীবী নারীদের সন্তানদের জন্য শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপন করায় প্রান্তিক নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পথ সুগম হয়েছে। এমনকি কভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলায় সারাবিশ্ব যখন দিশেহারা তখনও বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্য সেবায় এক অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কভিড-১৯-এর টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করে তুলেছে এই কমিউনিটি ক্লিনিক। ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে ২৭ রকম ওষুধ দেয়া হয়। ডা. আসিফ জানান, সারাদেশে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৫৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ হাজার ২০০টি সেবা দিচ্ছে। অবশিষ্ট ৫৩টি ক্লিনিকে সেবাদানের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরো জানান, সরকার ২০১৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন প্রণয়ন করেছে। যা ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন-২০১৮’ নামে পরিচিত। সরকারের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট’ কমিউনিটি ক্লিনিক পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তত হবে। পরবর্তীতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এই ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

Read More »

সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পাস

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২৬ জুন, ২০২৩ : বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কভিড-১৯) পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক মন্দা সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল গত ১ জুন জাতীয় সংসদে ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন। বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১০ জন সংসদ সদস্য মোট ৫০২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ খাতে ২টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়। ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রওশন আরা মান্নান, পীর ফজলুর রহমান, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। এরপর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৩ পাসের মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন। এর আগে গতকাল ২৫ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২৩ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়। এদিকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ২০ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৫০ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৫.১ শতাংশ। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ২৪ হাজার ৭ শ’ কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ১৮ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৫.২ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ২৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা বা ২৯.০৪ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৯৩ হাজার ৪১ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৮৫ হাজার ১৯১ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২১.০৩ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭৯ হাজার ৯০১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১০.০৫ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১২.০৪ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৮ হাজার ৯২২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০২ শতাংশ। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

Read More »

রসিকে বর্জ্য নিতে গাড়ি যাচ্ছে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: পবিত্র ঈদুল আজহার প্রথম দিনে পশু কোরবানির তিনঘণ্টা পার না হতেই রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) এলাকায় শুরু হয়েছে পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। নগরবাসীর সহযোগিতা মিললে ১২ ঘণ্টার আগেই বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) দুপুর ২টায় মহানগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা, প্যানেল মেয়র মাহাবুবার রহমান মঞ্জু, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ অঞ্চল প্রধান মিজানুর রহমান মিজু, হাসান রাহি ও মাসুদ হাসান সরকারসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনকালে রসিক মেয়র বলেন, সকাল ১১টার পর থেকে নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা গাড়ি নিয়ে ঢুকেছে। তারা বিভিন্ন পয়েন্টে স্তুপ করে রাখা পশুর বর্জ্য সংগ্রহ করছে। সবার সহযোগিতা পেলে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্যমুক্ত রংপুর মহানগরী উপহার দেয়া সম্ভব হবে। সে লক্ষ্য নিয়েই রসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের নির্ধারিত ১১৭টি স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশু জবাইয়ের স্থান পরিষ্কার রাখার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ব্লিচিং পাউডারের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা তিনটি জোনে বিভক্ত হয়ে ৩৩টি ওয়ার্ড থেকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কাজ করছে। মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তিনটি জোনে সিটির কর্মকর্তা, কর্মচারি ও পরিচ্ছনতা কর্মীসহ ১ হাজার ৯৩ জন বর্জ্য অপসারণে কাজ করছে। এতে সিটির ১২০টি ট্রলি ও রিকশাভ্যান, ২৭টি ডাম্প ট্রাক, ৩টি কমপেক্টর ট্রাক, ১টি হুইল লোডার, ৩টি ব্যাকহো লোডার, ২টি স্কিড লোডার, ২টি স্কাবেটর, ও ২টি পানিবাহী গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য থাকবে সেখানেই আমাদের গাড়ি পৌঁছে যাবে। তিনি আরও বলেন, সিটির ৩৩টি ওয়ার্ডকে তিনটি জোনে ভাগ করে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। কোরবানি হওয়া পশু থেকে অনুমানিক ২০০-২৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করে নগরীর নব্দীগঞ্জ সড়কের কলাবাড়ী এলাকায় ডাম্পিং করা হবে। এ সময় তিনি ড্রেনে ও রাস্তার পাশে বর্জ্য না ফেলে রসিকের নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলানোর জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়াও পশুর বর্জ্য অপসারণে নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বর্জ্য অপসারণে ০১৭১৮৫৪৩১৫৭ অথবা ০১৭১৪৫৬৬৩৮৩ (অঞ্চল-১), ০১৭২৩৮০৭৩৪৪ অথবা ০১৭৪৪৭১০০৪৪ (অঞ্চল-২) এবং ০১৭১৪৯২৫৬৪৪ অথবা ০১৭১২০২৬৮৮৫ (অঞ্চল-৩) নম্বরে যোগাযোগ করে নগরবাসী কন্ট্রোল রুমের সহায়তা নিতে পারবেন। এছাড়া যোগাযোগ করতে পারবেন হটলাইট ০১৭৩৩৩৯০১৫০ নম্বরে।

Read More »

ঈদের দিনে সড়কে প্রাণ গেল পিকআপচালকের, আহত ৪

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুর মহানগরীতে বাস ও পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে পিকআপচালক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) সকাল সোয়া ৮টার দিকে নগরীর হাজিরহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পিকআপচালক মিনহাজুল ইসলাম। তার গ্রামে বাড়ি বগুড়ায়, বাবার আজগার আলী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে হানিফ পরিবহনের যাত্রীবাহি বাস সৈয়দপুর থেকে রংপুরের দিকে আসছিল। বাসটি হাজিরহাট এলাকায় আসলে রংপুর থেকে সৈয়দপুরগামী মুরগিবাহি পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাস ও পিকআপের সামনের অংশ দুমরে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই পিকআপচালক মিনহাজ নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত ৪ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। মেট্রোপলিটন হাজিরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব বসুনিয়া এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মর্গে পাঠানো হবে।

Read More »