সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: August 26, 2024

বড়বাড়ি বয়েজ উদ্দিন স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাদের পদত্যাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গতকাল রবিবার বড়বাড়ি বয়েজ উদ্দিন স্কুল প্রাঙ্গনে স্কুলের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া ইসলাম এর পদ্যাগের দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২০১৮ ব্যাচের মুরাদ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সানজিদ, হেলা মিয়া, ফেরদৌস মিয়া, শাওন, আরাফান, মেহেদী হাসান, রিয়াজ, রবি প্রমুখ। রিখিত বক্তব্যে তারা বলেন শিক্ষার্থী অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, স্কুলেরে আয় ও ব্যায়ের হিসেব তিনি কখনো প্রকাশ করেন না। হিসাবের বিষয়ে কেউ জানতে চাইলে তিনি আওয়ামী লীগের পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে কমিটির লোকজনদের কোনঠাসা করেন। জাকারিয়া একজন লম্পট প্রকৃতির লোক,সে বিভিন্ন ছাত্রীদের জিম্মি করে অবৈধ সম্পর্ক গড়তেন। এরকম অনেক বার তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার সালিশ হয়েছে। আর কোনো কথা নয় এই লম্পটের পদত্যাগসহ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তারা

Read More »

রংপুরে এক দফা দাবিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিক্ষোভ

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সবত্র আমরা’ শ্লোগানকে মনে ধারণ করে ‘তুমি কে আমি কে আনসার-আনসার’ ‘এক দফা এক দাবি জাতীয় করণ-জাতীয় করণ’ ‘আমরা সবাই একত্রিকরণ, আনসার হোক জাতীয়করণ’ ‘আর নয় চুক্তি, এবার হউক মুক্তি’ শ্লোগানে মূখরিত হয়ে রংপুরে এক দফা দাবিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিক্ষোভ কর্মসূচির পালন করেছে। রবিবার (২৫ আগস্ট) সকালে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী রংপুর বিভাগের সকল আনসারদের উপস্থিতিতে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে ছিলো শ্লোগানে মূখরিত মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, মিছিল নিয়ে রংপুর রেঞ্জ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা অফিস ঘেড়াও পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব চত্বর এসে রাস্তা বন্ধ করে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন । এ সময় আনসার বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠা হয় আনসার বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এই বাহিনী। কিন্তু আমরা তিন বছরের চুক্তিতে কাজ করি। তিন বছর পর ৫-৬ মাস বাসায় বসে থাকতে হয় পরে আবার ডাক পরলে আমাদের কাজে যোগ দিতে হয় পরের তিন বছরের জন্য। আমাদের যা বেতন তাতে এমনিতেই সংসার চলে না তার উপর আবার ৫-৬মাস বসে থাকতে হয়। তাই আমাদের দাবি একটাই আমাদের চাকুরি জাতীয়করণ করতে হবে। দাবি আদায়ের লক্ষে আমরা আমাদের কর্ম বন্ধ রেখে মাঠে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। এ ব্যাপারে আনসার ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর উর্দ্ধতণ কর্মকর্তাগণ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন না। কর্মসূচিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, উজ্জল চন্দ্র, রেজাউল করীম, অনুকুল চন্দ্র, আজিজুল ইসলাম, দৌলত, মাসুদ রানা, রেহানা, আব্দুল কাদেরসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে রংপুর বিভাগের সকল আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাধারন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

সাহেবগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুর সিটিকর্পোরেশনের ৯ নং ওয়ার্ডের সাহেবগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ও পাঠাগারের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের মাঝে এইচ এস সির বই বিতরন অনুষ্ঠিত। শনিবার নগরীর ৯ নং ওয়ার্ডের সাহেবগঞ্জ এলাকায় কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের মাঝে এইচ এস সির বই বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক চার্লস ডারউইন। অনুষ্ঠানে সাহেবগঞ্জ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ ও পাঠাগারের সভাপতি মো শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন মোঃ আব্দুছ ছাওার, অধ্যক্ষ,হারাগাছ সরকারি কলেজ, রংপুর। চেম্বার অব কর্মাস ত্রন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডাইরেক্টর, লায়ন হাসান মাহবুব আখতার লোটন। ফুলবাড়ি সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মোঃ রিপন মিয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের উপদেষ্টা প্রভাষক রুহুল আমিন, মোঃ আব্দুল আজিজ, শিক্ষক আব্দুল মতিন, হারাগাছ সামাজিক উন্নমন সংস্থার সাধারন সম্পাদক মনজুদার রহমান, ব্যাংকার অহিদুল ইসলাম, আকরাম, মনির হোসেন হেনা টাইলস ফ্যাক্টরির পরিচালক সৌরভ হোসেন,পাঠাগারের সহ সভাপতি মনি কাওছার কুঠিয়াল, সাধারন সম্পাদক মামনু উর রশিদ, সহ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন হোসেন,দপ্তর আনোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক আরিফুল,যুগ্ম মহিলা সম্পাদিকা মুশফিকা, সদস্য রিপন, দেলোয়ার, কবির হোসেন, পারভেজ হোসেন সহ এলাকার সুধীজন।

Read More »

রংপুরে বাকবিশিস’র শিক্ষক সমাবেশ ও মানববন্ধন

জালাল উদ্দিন:দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে বাকবিশিস এর উদ্যোগে শিক্ষক সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ছাত্র-ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক ধ্বংসের চক্রান্ত বন্ধ করা, দেশব্যাপী শিক্ষক নির্যাতন, আইন বহির্ভূতভাবে শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে গতকাল রবিবার (২৫ আগস্ট ২০২৪) রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) রংপুর’র আহবানে শিক্ষক সমাবেশ ও মানববন্ধনে রংপুর মহানগর বাকবিশিস সভাপতি অধ্যাপক নবীব হোসেন লাভলু’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা বাকবিশিস সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আব্দুল ওয়াহেদ মিঞা, অধ্যক্ষ শাহ মো. রেজাউল ইসলাম প্রমুখ । বক্তারা বলেন, বিগত সরকার পতনের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অন্যায়ভাবে সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনসহ পদত্যাগে বাধ্য করছে । যা দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী। বিশেষত: প্রতিষ্ঠান প্রধানদের যে বেআইনি ও ন্যাক্কারজনকভাবে লাঞ্ছিত করে জোর পূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে, তা সমগ্র শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক । এহেন নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে শিক্ষাব্যবস্থা আজ ধ্বংসের সম্মুখীন । শুধু তাই নয়, এরকম একটি পরিস্থিতিতে শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে, তেমনি শিক্ষক- শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে বিস্তর ব্যবধান। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।নেতৃবৃন্দ বলেন, দুর্নীতিবাজ শিক্ষককে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করে শাস্তি দিতে হবে। কোন অবস্থাতেই তার মানবাধিকার লংঘন করা যাবে না। তা নাহলে শিক্ষক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।বাকবিশিস কখনো কোন দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নিবে না। মানববন্ধন থেকে অতিদ্রুত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানান।

Read More »

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৪ খৃ: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। আজ রোববার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার দপ্তরের এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রোরি মুঙ্গোভেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এ সহায়তা চান।  নাহিদ ইসলাম বলেন, অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে, সর্বস্তরের জনগণকে আমরা সাথে পেয়েছি। এ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি আমাদের কিছু কমিটমেন্ট তৈরি হয়েছে, আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রেখে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।  তিনি বলেন, অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার, আন্দোলনে আহত-নিহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা দেয়া এবং আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকা-ের সাথে যারা জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিচার নিশ্চিত করা এই তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।  উপদেষ্টা বলেন, ‘পুরো সময়টা জাতিসংঘ এবং হিউম্যান রাইটস সংগঠনগুলো আমাদের সাথে ছিল এজন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তাদেরকে পূর্বেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলাম যে বিগত সরকার চূড়ান্ত ক্রাক ডাউনের দিকে যাবে, পরে সেই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা চাই জাতিসংঘের অধীনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববাসী জানুক আন্দোলনের এই সময়ে বাংলাদেশে কি কি ঘটেছে, আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার প্রতি কতটা নৃশংস ছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।’  রোরি মুঙ্গোভেন অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিশেষ করে তরুণেরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এ ঘটনাটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। সত্য ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তারা সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান রোরি মুঙ্গোভেন।  প্রতিনিধি দলের অপর সদস্য আন্দোলনের সময় সংঘঠিত ঘটনাগুলোর তথ্য প্রমাণ সংরক্ষণ করার জন্য আইন, স্বরাষ্ট্র এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত ভাবে উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন, যাতে ভবিষ্যত তদন্তে এ প্রমাণগুলো কাজে লাগানো যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওটিপি প্লাটফর্মে আগের সরকারের মতো পর্যবেক্ষণের নামে নিয়ন্ত্রণ না করার অনুরোধ করে প্রয়োজনে এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের সরকারের সাথে কাজ করার জন্য প্রেরণ করারও অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।  যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের যুব সমাজের ক্রীড়া প্রতি আগ্রহ রয়েছে। পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকার ক্রীড়াঙ্গনে সর্বস্তরে দুর্নীতি করেছে। আমাদের সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে দুর্নীতি ও রাজনীতি মুক্ত করার কাজ করছে।  তিনি বলেন, দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রেজিস্টার্ড ৮ হাজার ৫০০ টি যুব সংগঠন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।  উপদেষ্টা বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাজরীন ফ্যাশন এবং রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে হতাহতদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। দেশের অর্থনীতি  সচল রাখার অন্যতম হাতিয়ার আমাদের শ্রমিকরা।  কিন্তু আমাদের শ্রমিক ভাইরা তাদের ন্যায্য অধিকার প্রপ্তিতে বঞ্চিত। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। তাদের জীবনমান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন।  উপদেষ্টাদ্বয় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার দপ্তরের প্রতিনিধিদলকে সাক্ষাতের জন্য ধন্যবাদ জানান। 

Read More »

বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নপূরণে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. ইউনূস

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :    ঢাকা, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দেশবাসীকে ছাত্র-জনতার স্বপ্নপূরণে সমস্ত শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র জনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আপনাদের সবাইকে এই শুভ লগ্নে আদের স্বপ্নপূরণে সমস্ত শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়ার পর আজ প্রধান উপদেষ্টা প্রথমবারের মত জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারেতে পালিয়ে গেলে তার সরকারের পতন হয়। মুহাম্মদ ইউনূস তার ভাষণে বলেন, ছাত্র-জনতার স্বপ্ন আমাদের স্বপ্ন। জাতীয় জীবনে তরুণরা একটি মহা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সবাইকে এই সুযোগ ব্যবহার করার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সমগ্র বাংলাদেশ একটি পরিবারের মত উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকার প্রধান দেশ ত্যাগ করার পর আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার থাকবে পুরোপুরি সুরক্ষিত। আমাদের লক্ষ্য একটিই। উদার, গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। ‘আমরা এক পরিবার, আমাদের এক লক্ষ্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো ভেদাভেদ যেন আমাদের স্বপ্নকে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। প্রধান উপদেষ্টা জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার মাত্র দুই সপ্তাহ শেষ হলো। আমরা অনুধাবন করছি যে আমাদের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা অনেক। এ প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। শুধু বলবো আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে। সরকারের সামনে পবর্তসম চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী  শাসন ব্যবস্থা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের জন্য পর্বতসম চ্যালেঞ্জ রেখে গিয়েছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।’ তিনি এসকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশবাসীর প্রতি সহযোগিতা কামনা করেন। অধ্যাপক ইউনূস দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, এখনই সব দাবি পূরণ করার জন্য জোর করা, প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যক্তিবিশেষকে হুমকির মধ্যে ফেলা, মামলা গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা, বিচারের জন্য গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে হামলা করে আগেই একধরনের বিচার করে ফেলার যে প্রবণতা তা থেকে বের হতে হবে। ছাত্র জনতার বিপ্লবের গৌরব ও সম্ভাবনা এসব কাজে ম্লান হয়ে যাবে, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাও ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। দুর্নীতি, লুটপাট ও গণহত্যার বিরুদ্ধে একটি জবাবদিহিতামূলক রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সূচনার অঙ্গীকার করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন,  ‘গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করবো।’ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে সফল পরিণতি দিতে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা খাত এবং তথ্য প্রবাহে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পূর্ণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ড. ইউনূস বলেন,  ‘লুটপাট ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করা ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এই খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা স্থাপন, ব্যবসা বাণিজ্যের সহায়ক পরিবেশ তৈরি এবং জনগণের জীবনযাপন সহজ করতে নিত্য প্রয়াজনীয় দ্রব্যমূল্য ও মুল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার আমরা উদ্যোগ সচল করেছি।’ প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ মেয়াদি সংস্কারের জন্য ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্যক্রমের কথা তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে সরকারের যত কার্যক্রম আছে তা সচল করা হয়েছে। বন্যা পরবর্তী কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য করণীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনরত ব্যক্তিবর্গের প্রতি বিশেষ সহযোগিতার আবেদন করে ড. ইউনূস বলেন, ‘একটা বিশেষ ব্যাপারে আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাচ্ছি। আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিদিন সচিবালয়ে, আমার অফিসের আশেপাশে, শহরের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করা হচ্ছে। গত ১৬ বছরের অনেক দুঃখ- কষ্ট আপনাদের জমা আছে। সেটা আমরা বুঝি। আমাদের যদি কাজ করতে না দেন তাহলে এই দুঃখ ঘোচানোর সকল পথ বন্ধ হয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, আপনাদের কাছে অনুরোধ আমাদের কাজ করতে দিন। আপনাদের যা চাওয়া তা লিখিতভাবে আমাদের দিয়ে যান। আমরা আপনাদের বিপক্ষ দল নই। আইনসংগতভাবে যা কিছু করার আছে আমরা অবশ্যই তা করবো। ড. ইউনূস দেশকে ঘুষ মুক্ত করতে তিনি তার সর্বশক্তি নিয়োগের অঙ্গীকার করে এ বিষয়ে দেশবাসীর সহযোগিতা ও প্রত্যাশা কামনা করেন। তিনি বিদেশগামী শ্রমিক ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শন করা হবে জানিয়ে বলেন, বিদেশে অবস্থানরত সকলের কাছে আমার আবেদন, তারা যেন তাদের উপার্জিত অর্থ অফিসিয়াল চ্যানেলে দেশে পাঠান। দেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে এই অর্থ বিশেষভাবে প্রয়োজন। কী কী ব্যবস্থা নিলে তাদের জন্য অফিসিয়াল চ্যানেলে অর্থ পাঠানো সহজ হবে সে বিষয়ে তাদের পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ জানান। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জাতিসংঘ বর্তমান সরকারের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমরা সকল রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা। আমরা মানবাধিকার আইনসহ সকল আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না এমন নিশ্চয়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে সংঘটিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে বলেন, ‘আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমরা আমাদের পক্ষ থেকে মেয়াদ বৃদ্ধি কোনো  প্রশ্ন তুলবো না। যে ক’দিন আছি সময়টুকু উপদেষ্টামন্ডলীর প্রত্যেকে নিজ নিজ সাধ্য মতো দেশের এই সংকটকালে, সংকট উত্তরণে নিজ নিজ মেধা সাধ্য মতো কাজে লাগাতে চায়।’ নির্বাচন কখন হবে সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘দেশবাসীকে ঠিক করতে হবে আপনারা কখন আমাদের ছেড়ে দেবেন। আমরা ছাত্রদের আহ্বানে এসেছি। তারা আমাদের প্রাথমিক নিয়োগকর্তা। দেশের আপামর জনসাধারণ আমাদের নিয়োগ সমর্থন করেছে। আমরা ক্রমাগতভাবে সবাইকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে যাবো যাতে হঠাৎ করে আমরা কখন যাব এই প্রশ্ন উত্থাপিত না হয়। তারা যখন বলবে আমরা চলে যাবো। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে সুযোগ ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করলাম, আমরা আমাদের মতানৈক্যের কারণে সেটা যেন হাতছাড়া না করে ফেলি এটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। এ সুযোগ এবার হারিয়ে ফেললে আমরা জাতি হিসেবে পরাজিত হয়ে যাব। ড. ইউনূস তার ভাষণে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে জনমুখী ও দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং জবাবদিহীতামূলক কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন গঠনের কথা তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানে বল প্রয়োগ ও হতাহতের যে দুঃসহ ঘটনা ঘটানো হয়েছে তার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধানকে বাংলাদেশে এসে তাদের তদন্ত শুরু করতে আমরা আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তিনি জানান, তদন্তের এই প্রক্রিয়া এ সপ্তাহেই শুরু হবে। তাদের প্রথম দল ইতোমধ্যে এসে গেছে। ড. ইউনূস জানান, ইতোমধ্যে ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে নস্যাৎ করতে যে শত শত মিথ্যা

Read More »