জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে বিদ্যমান সার নীতিমালা বহাল রাখা সহ ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) রংপুর জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। গতকাল রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় রংপুর নরগীর কলেজ রোডস্থ কার্যালয়ে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) রংপুর জেলা ইউনিটের সভাপতি মোঃ আব্দুস সালামের সভাপতিত্ব সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহাফুজার রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সার পরিবহন খরচ, ব্যাংক চার্জ, কর্মচারীর বেতনসহ নানা বাড়তি ব্যয়ের কারণে ডিলাররা চরম লোকসানে পড়েছেন। সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করতে গিয়ে তাদের ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। বর্তমানে ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য টনপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও বাজারে কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। এ অবস্থায় কমিশন ও পরিবহন খরচ সমন্বয় না করলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া ডিলারদের পক্ষে সম্ভব হবে না। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় সারের দাম বেশি হওয়ায় ক্রয়-বিক্রয়ে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সার আনতে পরিবহন সংকট ও বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো ব্যাহত হতে পারে। পাঁচ দফা দাবি সমূহঃ ১। ডিলারদের পরিবহন খরচ ও কমিশন বৃদ্ধি করতে হবে। জ্বালানী তেলের দাম কয়েক দফা বৃদ্ধি পাওয়ার পরও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি হয়নি, তা ছাড়া ব্যাংক সুদ, গুদাম ভাড়া, কর্মচারী ব্যায়, লোড-আনলোডসহ আনুষঙ্গিক যাবতীয় খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পরও বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধি হয়নি। পরিবহন খরচ ও বিক্রয় কমিশন বৃদ্ধি করা হোক। ২। বিদ্যমান সার ডিলারদের ডিলারশীপ বহাল রাখতে হবে। একই পরিবারে যদি বাবা-ছেলে, আমী-স্ত্রী, ভাই-ভাই যদি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান থাকে এবং সরকারের চাহিদা মাফিক প্রয়োজনীয় দলিল দস্তাবেজ উপস্থাপন/সরবরাহ করতে সক্ষম হয়, তবে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নিয়ম মোতাবেক ডিলারশীপ বহাল রাখতে হবে। যদি তা না করা হয় তাহলে ৩০ বছর ধরে তারা যে ব্যবসা করছে তাদের সরকারের কাছে কোটি কোটি টাকা ঋণ রয়েছে। ৩। বিসিআইসি ডিলার ১৯৯৫-৯৬ইং সাল হইতে নিয়োগ প্রাপ্ত। সরকারী নিয়ম নীতি মেনে সুনামের সাথে ৩০ বছর যাবৎ ব্যবসা পরিচালনা করছে। বিসিআইসি ডিলার ১০০% ইউরিয়া সার উত্তোলন করে। ইউরিয়া সারের সরকারী মূল্য ১৩৫০ টাকা থাকলেও বর্তমানে ১২৯০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে বোঝা যায় ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি পায় নাই। পক্ষান্তরে নন-ইউরিয়া সারের দাম উর্দ্ধোমুখী বলা হচ্ছে, এই খানে বিএডিসি ডিলার ১৮২ জন ও বিসিআইসি ১০৬ জন। তবে কেন দাম বৃদ্ধির কথা উঠছে, কারন ভেবে দেখার ভার আপনাদের জানালাম। ৪। সরকার কর্তৃক ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সার বিক্রয় করা হয়। এধরনের সারের উপর কোন ভাবেই উৎস কর নির্ধারণ করা যাবে না এবং পূর্বেও ছিলো না। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যথায় সারের বাজার অস্থিতিশীল হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সারের মূল্য বৃদ্ধির আশংকা রয়েছে। ৫। আমদানিকারকদের বরাদ্দকৃত সার আমদানিকারকরা বিভিন্ন স্থান হতে সরবরাহ করে। যেমন- নোয়াপাড়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নগরবাড়ী ঘাট হইতে। বরাদ্দকৃত সার ডিলার পর্যায়ে পৌঁছাতে পরিবহন করতে গিয়ে পরিবহন সমস্যা, প্রাকৃতিক সমস্যা, শ্রমিক সমস্যা সহ বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর কারণে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ করতে বিঘ্ন ঘটে। সেই কারণে নিজ নিজ জেলা পর্যায়ে আমদানিকারকদের সার পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।