সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: December 20, 2025

ওসমান হাদি চিরদিন বাংলাদেশের মানুষের বুকের ভেতর থাকবে: প্রধান উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খৃ. – শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিদায় নয়, বরং তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতেই মানুষ আজ একত্র হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘প্রিয় ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের ভেতরে আছো। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তুমি সব বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে। এটা কেউ সরাতে পারবে না।’ আজ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজের জানাজায় শরিক হয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘লাখ লাখ মানুষ আজ এখানে হাজির হয়েছেন। ঢেউয়ের মতো লোক আসছে। সারা বাংলাদেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সবাই তাকিয়ে আছে হাদির কথা শোনার জন্য। বিদেশে যারা বাংলাদেশি আছেন, তাঁরাও হাদির কথা জানতে চান।’ হাদির স্বপ্ন পূরণ করতেই এই সমবেত হওয়া—উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আজ আমরা প্রিয় হাদির বিদায় দিতে আসিনি। আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি। তুমি যা বলে গেছো, সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি। সেই ওয়াদা করার জন্যই আমরা একত্র হয়েছি। এই ওয়াদা শুধু বর্তমান প্রজন্মের নয়, পুরুষানুক্রমে বাংলাদেশের সব মানুষ—যেখানে যে অবস্থানেই থাকুক—এই দায়িত্ব বহন করবে।’ হাদির মানবপ্রেম, মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসব গুণের জন্যই সবাই আজ তাঁর প্রশংসা করছে। তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা মনেপ্রাণে গ্রহণ করছি। এটা যেন আমাদের মনে সবসময় জাগ্রত থাকে, আমরা যেন সেটা অনুসরণ করতে পারি।’ বক্তব্যে বারবার হাদির দেওয়া ‘মন্ত্র’-জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার প্রথম পংক্তি ‘বল বীর, উন্নত মম শির!’ এর কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘তুমি আমাদের এমন এক মন্ত্র কানে দিয়ে গেছো, যা বাংলাদেশের কেউ কোনোদিন ভুলতে পারবে না। এই মন্ত্র চিরদিন আমাদের কানে বাজতে থাকবে। বাংলাদেশের বড় মন্ত্র হয়ে তোমার এই মন্ত্র আমাদের জাতির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।’ তিনি বলেন, “তোমার মন্ত্র ছিল—‘বল বীর, উন্নত মম শির!’। এই উন্নত মম শিরের মন্ত্র বাংলাদেশের সন্তানরা জন্মলগ্ন থেকে যত দিন বেঁচে থাকবে, নিজের কাছে বলবে—বল বীর, উন্নত মম শির!। আমাদের শির কখনো নত হবে না।” প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যে মন্ত্র তুমি দিয়ে গেছো, দুনিয়ার সব কাজে আমরা সেটা প্রমাণ করব। আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো, কারও কাছে মাথানত করব না। যে মন্ত্র তুমি দিয়ে গেছো, আমরা সেটা পূরণ করে যাব।’ নির্বাচন ও রাজনীতির ক্ষেত্রেও হাদির রেখে যাওয়া শিক্ষার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘প্রিয় হাদি, তুমি নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলে এবং সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে কিভাবে নির্বাচন করতে হয়, তারও একটা প্রক্রিয়া আমাদের জানিয়ে গেছো। কিভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হয়, কিভাবে মানুষের কাছে যেতে হয়, কিভাবে মানুষকে কষ্ট না দিয়ে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে হয়, কিভাবে মানুষের সঙ্গে বিনীতভাবে আচরণ করতে হয়—সবকিছুই তুমি শিক্ষা দিয়ে গেছো।’ এই শিক্ষাকে রাজনৈতিক জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এই শিক্ষা গ্রহণ করেছি। আমরা এই শিক্ষা চালু করতে চাই। আমাদের রাজনৈতিক জীবনে এটাকে নিয়ে আসতে চাই, যাতে হাদি আমাদের জীবনে স্পষ্টভাবে জাগ্রত থাকে।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাদি তুমি হারিয়ে যাবে না, এই জাতি তোমাকে ভুলতে পারবে না। যুগের পর যুগ ধরে তুমি এই জাতির সঙ্গে থাকবে, তোমার মন্ত্র বারবার তোমাকে মনে করিয়ে দেবে। বক্তব্যের শেষে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আজ হাদিকে আল্লাহর হাতে আমানত রেখে গেলাম। আমরা সবসময় তাঁর কথা স্মরণে রেখে জাতির অগ্রগতির পথে চলতে থাকব।’

Read More »

রংপুরে বিপ্লবী ছাত্রজনতার উদ্যোগে শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

জালাল উদ্দীন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করে যাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে রংপুরের সর্বস্তরের বিপ্লবী ছাত্র জনতার অংশগ্রহণে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে এই বিপ্লবী নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুলিশ লাইনস মোড়, কাচারী বাজার প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ ওসমান হাদী (ডিসির মোড়) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় পুরো বিক্ষোভ মিছিল জুড়ে ‘আমি কে তুমি কে, হাদী হাদী’, ‘আমরা আছি থাকবো, যুগে যুগে লড়বো’, ‘গোলামি না আজাদী? আজাদী আজাদী’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ রংপুরের হাজারো বিপ্লবী ছাত্র-জনতা। বিক্ষোভ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন— শহীদ ওসমান হাদী ছিলেন নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর। কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তিনি ছিলেন এক অনমনীয় সংগ্রামী। তাঁর লড়াই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। বক্তারা আরও বলেন— জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শহীদ ওসমান হাদীর বলিষ্ঠ কণ্ঠ আমাদের নতুন করে এক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। জুলাইয়ের এই বিপ্লবী হাদীর মাথায় পরিকল্পিতভাবে যারা গুলি করেছে তারা শুধু হাদীর মাথায় নয়—জুলাইকেও গুলি করেছে। তাঁর অবদান ভুলে গেলে জাতি অপার ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই এই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বলতে চাই, শুধু শ্রদ্ধা নয়, শপথ—ওসমান হাদীর আদর্শেই এগিয়ে যাবে মুক্তির নতুন প্রজন্ম। বক্তারা অবিলম্বে ওসমান হাদীর খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃশ্যমান বিচারের দাবি জানান।

Read More »

চন্দনপাট ও সদ্যপুরষ্কুণী ইউনিয়নে ধানের শীষের গণসংযোগ   রংপুর সদর উপজেলাবাসীর দুঃখ দুর্দশা লাগব করা হবে, উন্নয়ন করা হবে : সামু

জালাল উদ্দীন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর সদর-৩ বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেছেন, রংপুরবাসী এখন জেগেছে। রংপুরবাসীর ভোট নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ নেই। আগামীতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষের পক্ষে  থাকবে ভোট দিবে। এ সময় তিনি স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে  সরকার গঠন করলে  রংপুর সদর উপজেলাবাসীর দুঃখ দুর্দশা লাভ করা হবে।  রংপুর সদর উপজেলার  অবহেলা বঞ্চনা দূর করে উন্নয়ন করা হবে। উপজেলা পরিষদ স্থানান্তর করা হবে। ফায়ার সার্ভিস  স্থাপন করা হবে। সরকারি স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র  স্থাপন করা হবে। কোন রাস্তাঘাট কাঁচা থাকবে না, ভাঙ্গাচুরা থাকবে না।  স্কুল কলেজ মসজিদ মন্দির সকল স্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। তিনি সদর উপজেলা বাসীরর উদ্দেশ্যে বলেন, এবার সুযোগ এসেছে পরিবর্তনের। সেই সুযোগ আপনার হাতছাড়া করবেন না। ধানের শিশুকে ভোট দিন। নির্বাচিত করুন। ইনশাল্লাহ উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করা হবে।  গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর সদর উপজেলাধীন চন্দনপাট ইউনিয়নের যাদবপুর এলাকায় উঠান বৈঠক ও সদ্যপুস্কুরনী ইউনিয়নের  পালিচড়া পশ্চিম কেশবপুর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, রংপুরবাসী দীর্ঘদিন শোষণ শাসনের শিকার হয়েছে। কোন উন্নয়ন হয়নি, শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি, গ্যাস আসেনি। বেকার যুবক-যুবতীদের  কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। একটি দল শুধু রংপুরের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তারা  ভোটের সময় অতিথি পাখি হিসেবে এসে ভোট নিয়ে গেলেও রংপুরবাসীর আর কোন খবর রাখেনি। কোন উন্নয়ন করেনি। এবার সময় এসেছে পরিবর্তনের। রংপুরবাসী জেগেছে। আশা করি তারা  আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ কে বিজয়ী করবে।  এসময় উপস্থিত ছিলেন,  রংপুর সদর-৩ আসন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক সুলতান আলম বুলবুল,  স্পেন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম জাকির, মহানগর বিএনপির সদস্য মকবুল হোসেন, রেজাউল ইসলাম লাবলু, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জামিল খান, শাহিনুল ইসলাম শাহীন,ইঞ্জিনিয়ার আশিকুর রহমান তুহিন, মহসিন আলী,  মহানগর বিএনপির সদস্য  শামসুদ্দোহা, জেলা বিএনপির সদস্য হারুন উর রশিদ হারুন, মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব ফিরোজ হোসেন পিন্টু, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব দিল মেরাজুল দুলু, সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম মিঠু, মহানগর ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ নুর হক শাহ, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহবায়ক তাজুল ইসলাম হারুন চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আল ইমরান সুজন, যুগ্ম আহবায়ক ফজলে রাব্বি বাবু, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান শ্রাবণ,মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শফিউল ইসলাম সবুজ, যুগ্ম আহবায়ক জুনায়েদ হোসেন অনীক, ২২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান মিলন, মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন মিন্টু,১৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি জাকির হোসেন পলাশ, ২৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি মমিনুল ইসলাম মমিন, ২৬ নং ওয়ার্ড সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক এসএম আসিফুল ইসলাম, ৩২ নং ওয়ার্ড সভাপতি শহিদুল ইসলাম সাকু,মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক  হারুন উর রশিদ সোহেল সহ মহানগর এবং  সদর উপজেলা  বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর তিনি পালিচড়াহাটে ধানের শীষের পক্ষে কুশল বিনিময় করেন। তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র গঠন ও মেরামতের  ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় সদ্যপুরস্কনি ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন,থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান শ্রাবণ  সহ ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোগীবালা পাড়ায় বিএনপি নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর রাতে তিনি সদর উপজেলা লাহিরহাটে  বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। পরে তিনি  ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চক ইসবপুর নয়ারহাট ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরহাট এলাকায় গণসংযোগ করেন। 

Read More »

জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সুযোগ রেখে পরিপত্র জারি

নিবর্বাচন ডেস্ক / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ রেখে ২০২৫ সালের নতুন পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে দ্রুত এনআইডি সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসির এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্ট, ভিসা ও ব্যাংকিংসহ নানা জরুরি সেবায় এনআইডির তথ্যগত ভুলের কারণে যে ভোগান্তি হতো, তা অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন স্থগিতাদেশের মধ্যেও বিশেষ সুযোগ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ থেকে মাঠপর্যায়ে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসগুলো বর্তমানে কোনো সংশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তবে নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এনআইডি সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যাবে পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় থাকা সাতটি মূল ফিল্ড—নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্মতারিখ, পেশা, ভোটার ঠিকানা ও ছবি—এর ক্ষেত্রে সাধারণভাবে শুধু বানান সংশোধন করা যাবে, পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন নয়। অর্থাৎ নাম পুরোপুরি পরিবর্তনের সুযোগ নেই, তবে বানানগত ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে। এছাড়া ভোটার তালিকার বাইরের তথ্য যেমন—স্বামী বা স্ত্রীর নাম, বৈবাহিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধর্ম, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতার ধরন, মোবাইল নম্বর বা অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে। এনআইডি কার্ডে উল্লেখিত ঠিকানার ক্ষেত্রে গ্রাম বা ডাকঘরের নাম সংশোধন করা সম্ভব হলেও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। বিশেষ জরুরি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে ভোটার তালিকার সাতটি মূল ফিল্ডের কোনোটি সংশোধনের দরকার হলে, প্রমাণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের অনুমোদনক্রমে তা করা যাবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। ইসি সূত্র জানায়, জরুরি চিকিৎসা, বিদেশে অধ্যয়ন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনসহ অত্যাবশ্যক পরিস্থিতিকে বিশেষ জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো ক্যাটাগরির এনআইডি সংশোধন আবেদন ৪৫ দিনের বেশি অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না। এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) জানান, আবেদনগুলো দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা বন্ধ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফর্ম–২-কে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের এই নতুন পরিপত্র এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় একটি বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। জরুরি প্রয়োজনে পরিচয় সংক্রান্ত ভুল আর যেন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে না দেয়—এই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে নতুন সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং নাগরিক সেবায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Read More »