নিবর্বাচন ডেস্ক / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :
ঢাকা, জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ রেখে ২০২৫ সালের নতুন পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে দ্রুত এনআইডি সংশোধনের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসির এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। চাকরি, শিক্ষা, চিকিৎসা, পাসপোর্ট, ভিসা ও ব্যাংকিংসহ নানা জরুরি সেবায় এনআইডির তথ্যগত ভুলের কারণে যে ভোগান্তি হতো, তা অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনকালীন স্থগিতাদেশের মধ্যেও বিশেষ সুযোগ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২৩ নভেম্বর ২০২৫ থেকে মাঠপর্যায়ে এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসগুলো বর্তমানে কোনো সংশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। তবে নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এনআইডি সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যাবে
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকায় থাকা সাতটি মূল ফিল্ড—নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্মতারিখ, পেশা, ভোটার ঠিকানা ও ছবি—এর ক্ষেত্রে সাধারণভাবে শুধু বানান সংশোধন করা যাবে, পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন নয়। অর্থাৎ নাম পুরোপুরি পরিবর্তনের সুযোগ নেই, তবে বানানগত ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে।
এছাড়া ভোটার তালিকার বাইরের তথ্য যেমন—স্বামী বা স্ত্রীর নাম, বৈবাহিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ধর্ম, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতার ধরন, মোবাইল নম্বর বা অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যাবে। এনআইডি কার্ডে উল্লেখিত ঠিকানার ক্ষেত্রে গ্রাম বা ডাকঘরের নাম সংশোধন করা সম্ভব হলেও ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বিশেষ জরুরি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ জরুরি প্রয়োজনে ভোটার তালিকার সাতটি মূল ফিল্ডের কোনোটি সংশোধনের দরকার হলে, প্রমাণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের অনুমোদনক্রমে তা করা যাবে। এক্ষেত্রে আবেদনকারীকে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
ইসি সূত্র জানায়, জরুরি চিকিৎসা, বিদেশে অধ্যয়ন, প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনসহ অত্যাবশ্যক পরিস্থিতিকে বিশেষ জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
৪৫ দিনের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ
এনআইডি সংশোধন সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো ক্যাটাগরির এনআইডি সংশোধন আবেদন ৪৫ দিনের বেশি অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না। এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (পরিচালনা) জানান, আবেদনগুলো দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতা বন্ধ করতে কমিশনের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরোনো আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফর্ম–২-কে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালের এই নতুন পরিপত্র এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় একটি বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। জরুরি প্রয়োজনে পরিচয় সংক্রান্ত ভুল আর যেন গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে না দেয়—এই লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে নতুন সিদ্ধান্ত।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং নাগরিক সেবায় গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















