সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: October 14, 2026

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা করেছে সরকার – আইনমন্ত্রী

ঢাকা, প্রবাসীদের বিভিন্ন আইনি সমস্যা দ্রুত সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। মন্ত্রী আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শরণার্থী ও অভিবাসন আন্দোলন বিষয়ক গবেষণা ইউনিটের (RMMRU) ৩০ বছরপূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর পর অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়ান। এসব বিরোধের মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকে। এতে প্রবাসীদের অর্থ ও সময় ব্যয় হয় এবং তাঁরা ভোগান্তির শিকার হন। এ সমস্যা সমাধানে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এসব আদালতে প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে RMMRU-কে সরকারের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশে কোনো আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এজন্য একটি হটলাইনও রয়েছে। প্রবাসীদের প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় প্রতিকার পেতে RMMRU-কে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করার আহ্বান জানান তিনি। অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তৈরি পোশাক, কৃষি, পাট ও পাটজাত পণ্য কিংবা চা রপ্তানির পাশাপাশি বিদেশে শ্রম রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানও বাড়ছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও মজুরি বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি দুবাই সফরে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম ও দুর্ভোগের চিত্র তাঁর নজরে এসেছে। অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং কর্মস্থলে যাতায়াতেও উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হয়। অথচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের শ্রমের মূল্য অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় কম। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। অভিবাসন খাতে অসাধু নিয়োগ ও রিক্রুটিং ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করছে। এসব নথির সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বাতিল কিংবা ভিসা নবায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। RMMRU-এর তিন দশকের ভূমিকার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার দূরদর্শিতা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার শুরুতেই দেখিয়েছে। গত ৩০ বছরে অভিবাসন ও শ্রমিককল্যাণ সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে। মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় RMMRU যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করবে, সেগুলোর সাথে সরকার থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা, নীতিগত অবস্থান এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতার কারণে সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর সাথে সরকার কাজ করতে আগ্রহী। RMMRU-এর উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত Reto Renggli।

Read More »

বাউবি ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইটেকনোলজি-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত

ঢাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন এই সমঝোতা স্মারককে দেশের বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সূচনা বলে অভিহিত করেন। মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) একটি আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যার আধুনিক ল্যাবরেটরি ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)’র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ করে দেবে। বিজ্ঞান কেবল তাত্ত্বিক পড়াশোনা বা জার্নাল পাবলিকেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বায়োটেকনোলজির সঠিক ও ব্যবহারিক প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন ওষুধ, জৈব সার (Bio-fertilizer), জলবায়ু-সহনশীল ফসল এবং মৎস্য খাতের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটিয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, এই চুক্তির আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বায়োটেকনোলজিতে ডিপ্লোমা, এমএসসি, এমফিল এবং পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করবে। সহযোগিতার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে-যৌথ কারিকুলাম ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন, জিনোমিক্স, বায়োইনফরমেটিক্স ও মলিকুলার বায়োলজি বিষয়ে যৌথ গবেষণা, পরীক্ষাগার ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং মেধাস্বত্ব (IPR) ও গোপনীয়তা রক্ষা সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। অনুষ্ঠানে এনআইবি-র পক্ষে মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সগীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টি এম আহমেদ হোসেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী ও ড.সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী, বাউবি’র স্কুল অফ সাইন্স এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আবদুল মজিদ মন্ডল-সহ উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Read More »