সর্বশেষ
সর্বশেষ

Author: Desk Reporter

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

ইউএনবি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা ও খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। বুধবার (২১ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সে অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সব খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ ও নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী, নির্ধারিত চার শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স, উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্যের লাইসেন্স এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্যের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসা ও খাদ্য স্থাপনার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। পথের ধারের ভ্রাম্যমাণ বা অস্থায়ী খাবারের দোকান, ছোট রেস্তোরাঁ, আমদানিকারক, বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ খাবারের ব্যবসায় জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্রবিধানের তফসিলে খাদ্য ব্যবসাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রচলিত ১৬ ধরনের খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধনই যথেষ্ট হবে। তবে বিশেষ ধরনের বা সুপারফুড নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স নিতে হবে। রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ ও ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। প্যাকেটজাত বা মোড়কজাত খাবার উৎপাদনকারী, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী ও আমদানিকারকদেরও নিবন্ধন করতে হবে। তবে কাঁচা ও তাজা খাবার আমদানির ক্ষেত্রে আলাদা বিধান রয়েছে। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর মতো খাবার বিক্রি করা ব্যক্তিদেরও নতুন নিয়মের আওতায় নিবন্ধন নিতে হবে। এছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার ও কোল্ড স্টোরেজ, ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদন, বিশেষ খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, একাধিক ধাপে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের (ফুড অ্যাডিটিভস) উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও বিপণনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে শিশুদের ফর্মুলা দুধ এবং বয়স্ক বা নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য তৈরি বিশেষ ধরনের খাবারের মতো বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে কাজ করা চার শ্রেণির ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের বিধান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসহ অনুরূপ খাদ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণন। এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত বা সংশোধিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, স্বতাত্ত্বিকভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং নিরাপদ খাদ্য (বিজ্ঞাপন ও দাবি) প্রবিধানমালা, ২০২৫ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি বা রোগের ঝুঁকি হ্রাস-সংক্রান্ত দাবি রয়েছে—এমন খাদ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬-এর তফসিল-১০-এ নির্ধারিত ফি পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রবিধানে বর্ণিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আবেদন করতে হবে। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ফরম ৫.১ অনুযায়ী আবেদন দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও তা ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট খাদ্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। এরপর সেগুলো নবায়ন করতে হবে। প্রবিধানমালা অনুযায়ী, প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য প্রথমবার নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা হবে। সুপারফুড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্স নিতে ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এতে ভোক্তারা পণ্য দেখেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা জানতে পারবেন। এছাড়া নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করে যেকোনো অভিযোগ জানানো যাবে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে লাইসেন্স ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ অনলাইনে আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের উৎপাদন ও বিপণন আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর হবে।

Read More »

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গঠনই বিএনপির আদর্শ – সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : টাঙ্গাইল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো কথা নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার পরিচয় একটাই- আমরা সবাই বাংলাদেশি। বিএনপির আদর্শও হচ্ছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ গঠন করা। আজ টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া পাঞ্জাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে আমরা কোথাও কোনো ছাড় দেব না। দেশকে বুকে ধারণ করে আমরা পথ চলতে চাই। দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ তিনি বলেন, আপনারা আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করছেন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। প্রধানমন্ত্রী আজ দেশের তিনটি বিভাগে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গেছেন। আমরাও এবার দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। গতবারের তুলনায় এবার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরো বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে জনগণের দ্বারা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে, তারা আবারও ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমরা যদি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। দেশের স্বার্থ ও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মাদকমুক্ত টাঙ্গাইল গড়ে তুলব। এই টাঙ্গাইল থেকেই মাদক নির্মূলের কাজ শুরু করতে চাই, যাতে সারা বাংলাদেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হয়। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমার দলের কেউ যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকেও কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমাদের নেতারাও এ বিষয়ে সোচ্চার রয়েছেন। মতবিনিময় সভা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মনিরুজ্জামান মিঞা, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালীবাড়ি, বড় কালীবাড়িসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা পূজার সার্বিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকারসহ পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেউ বিতর্কিত করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : রংপুর, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেটা ভালো চোখে দেখেনি। ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেই গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি সকলের সামনে গণতান্ত্রিক সকল জনগণকে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, দয়া করে আপনারা কেউ ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে বিতর্কিত করবেন না। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই সংসদে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, তুলে ধরার থাকে, আপনারা সেখানে কথা বলুন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। প্রতিটি মানুষ, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকিকে পড়েছিল, তখন এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। সেই মানুষদের ভেতরেও সকল ধর্মের মানুষই ছিল, সকল মত, সকল শ্রেশি-পেশার মানুষ ছিল। তারেক রহমান বলেন, দুই-আড়াই বছর আগে বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এদেশের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে ছেড়েছে। আমরা যদি সেই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দৃশ্য দেখি, তাহলে দেখব সেই দৃশ্যর মধ্যে আমরা এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলন সেখানে হয়েছিল। সকল মানুষকে আমরা দেখেছিলাম দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটি হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে, শান্তিতে আমরা সকলে মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই, বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিতে একসাথে বসবাস করেছি। আগামী হাজার বছরেও যাতে আমরা একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি। আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, তাহলে সকল ধর্ম-মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে এদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়—যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায়, আর যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার সরকার হতে চায়। অর্থাৎ আমরা সকল এলাকা বা সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকল এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে, রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে তার ওপরে বিবেচনা করে আমরা সকল এলাকায় সমবণ্টন করে সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই। অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই। এই পরিবর্তনের জন্য সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ এবং এই জনগণকে আমরা অতীতের মতো বর্তমানেও পাশে দেখতে চাই। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, বিএনপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বক্তব্য দেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাসে করে দুপুর ১২টার দিকে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে আসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান মন্দির কমিটির সদস্যসহ বিএনপি নেতারা। তিনি পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত নেড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপস্থিত লোকজনদের শুভেচ্ছা জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

Read More »

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ড. রাকিব রাজা / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে, ফলে হঠাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করার সক্ষমতা কমে যায়। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ অস্টিওপোরোসিসের কারণে হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের কাছে রোগটির প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে বর্তমানে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে ৪০ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতাল ভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার প্রাদুর্ভাব ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ পাওয়া যায়। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর নারীরা উন্নত দেশগুলোর নারীদের তুলনায় এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী অস্টিওপোরোসিসে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। তাই রোগটির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে আরও গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস এবং এ রোগের জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রথমত, একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠন করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সমন্বিতভাবে দেশের ৬৪টি জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের অভাবে এ রোগের ব্যথা ও দুর্ভোগে না ভোগেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসক সমাজ জনগণকে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নিয়োজিত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমেও দেশব্যাপী এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। দ্বিতীয়ত, প্রতিবছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দেন তিনি। এ উপলক্ষে নিয়মিত অনুষ্ঠান, র‌্যালি ও জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের জন্য আধুনিক রোগ নির্ণয় পদ্ধতি নিয়ে সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব কমে যাওয়া এবং শৈশবে ক্যালসিয়াম গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত পুষ্টিগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসা-অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে পারেন। তিনি হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত বিরতিতে কমিউনিটি ভিত্তিক স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিসের পরিণতি কমাতে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডা. আব্দুস সালাম এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম। প্রসঙ্গত, ‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে এবারের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইনসেপ্টা। হাড়ের ক্ষয়জনিত রোগ অস্টিওপোরোসিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হয়। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে, ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Read More »

পর্যটক ও পূজারীদের নিরাপত্তায় সতর্ক থাকার নির্দেশ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর

কক্সবাজার, ৪ কার্তিক (২০ অক্টোবর) / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : পর্যটক ও পূজারীদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। গতকাল কক্সবাজারের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগের প্রতি এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী। স্থানীয় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিজয়া দশমীতে পর্যটক ও পূজারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সর্বত্র অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হচ্ছে। কক্সবাজারের বিশাল সমুদ্র সৈকতে দেশের সর্ববৃহৎ দেবী দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি ছুটির এ সময়ে পর্যটক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে। মন্ত্রী কক্সবাজার সদরের কালীবাড়ি, সরস্বতীবাড়ি, গোলদীঘির পাড়া, হরিজনপাড়া, বঙ্গপাহাড়, লাবনী পয়েন্ট মোড় এবং খুরুশকুলের রাস মন্দিরসহ প্রধান প্রধান পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখেন। তিনি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পূজারী ও কক্সবাজারবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এছাড়া, স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাথে সমন্বয় রেখে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। পরিদর্শনকালে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না, জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পিআইডি //

Read More »

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি।’ ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার। এই রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্মটা হতেই পারে আমার একটি ধর্ম, আপনার একটি ধর্ম। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি আমাদের সবার। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে। এই দেশের প্রতি আপনার যেমন কর্তব্য আছে, আমারও এই দেশের প্রতি কর্তব্য আছে।’ সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর / রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমাদের সবার দায়িত্ব হচ্ছে, আমরা একে অপরকে দেখে রাখব। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবাই এই দেশের সন্তান, এই দেশের মানুষ, বাংলাদেশি। আমরা প্রত্যেকে মানুষ। এটি হচ্ছে আমাদের সবার আগের পরিচয়। এখানে উপস্থিত আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি।’ মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনও জিজ্ঞেসও করিনি।’ সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছিল, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল, তখনও কিন্তু আন্দোলনকারী একজন পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেনি, ভাই আপনি কি মুসলমান, নাকি আপনি হিন্দু, নাকি আপনি বৌদ্ধ, নাকি আপনি খ্রিস্টান? সবাই সেদিন সোচ্চার ছিলাম মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘চোখটা বন্ধ করলেই আমাদের চোখের সামনে সবগুলো দৃশ্য ভেসে ওঠে। গণঅভ্যুত্থানের সময় হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ?’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি। সেখানে তো হিন্দু মানুষও আছে, মুসলমান মানুষও আছে, বৌদ্ধও আছে, খ্রিস্টানও আছে। সবাই তো সেদিন জান কোরবানি দিয়েছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।’ সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ঢাকের তালে ঢালীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান। সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই দেশটির যদি পরিবর্তন ঘটে, এ দেশের মানুষের যদি পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আপনি যেমন উপকৃত হবেন, আমিও উপকৃত হব।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন যেমন দেখে না কোন ধর্মের মানুষ, যখন মানুষ ভালো থাকে, তখনও মানুষ দেখে না। শুধু দেখে আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।’ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি আনন্দের অনুষ্ঠান। আজকে এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি মিলনমেলা।’ এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও বক্তব্য দেন। সুত্র. ইউএনবি/ পিএমও

Read More »

রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / রংপুর, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পূজামণ্ডপে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দির কমিটির সভাপতি বাবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ রংপুর জেলার সভাপতি রাম জীবন কুন্ড, রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়, মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ। সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সামরিক বিমানে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রউক) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ,বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী রংপুর যাত্রা পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে শত শত নেতা-কর্মী দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। এরপর রংপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা পূজামণ্ডপে আসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত নেড়ে সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। সৈয়দপুর থেকে রংপুর সড়ক পথে দুই ধারে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দিতে দেখা গেছে। রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পূজার সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব। সুত্র. বাসস//

Read More »

রংপুরে প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর অর্ধদিবস হরতালের ডাক

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : গ্রাহক শোষণ ও ভোগান্তির প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ রংপুর নগরীতে সকাল ৬ টা হতে বেলা ১২ টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতাল ডেকেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি। গতকাল ১৯ অক্টোবর ২০২৬ বেলা ১২.৩০ টায় জেলা জজ আদালত চত্বরে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, এবিএম মসিউর রহমান, বিজয় প্রসাদ তপু, মাহফুজ হোসেন, মেহেদী হাসান তরুন, মাহবুব আলম, সানজিদা আক্তার প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, সরকার কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের পরিবর্তে দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি করছে। গ্রাহকদের প্রবল আপত্তি স্বত্তেও নেসকো কর্তৃপক্ষ জবরদস্তিমুলক কায়দায় নগরীর বাসা-বাড়িতে প্রিপেইড মিটার সংযোগ অব্যাহত রেখেছে। এই প্রিপেইড মিটারের ফলে গ্রাহকদের ডিজিটাল মিটারের তুলনায় বর্তমানে দ্বিগুণ-তিনগুন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়কার ৩১ টি প্রকল্প বাতিল করা হলেও দুর্নীতি ও লুটপাটের প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করা হয়নি। তিনি আরো বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম-দূর্নীতি ও লুটপাটের দায় জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে কার্যত আধুনিক প্রযুক্তির প্রিপেইড মিটারের নামে জনগণকে শোষণ করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। তিনি আরো বলেন,আমরা দীর্ঘদিন থেকে গণবিরোধী প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ গ্রাহকদের ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করছি কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা সরকার সেটিকে কর্ণপাত না করে স্বেচ্ছাচারী কায়দায় সকল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এমনি পরিস্থিতিতে গণবিরোধী প্রিপেইড মিটার বাতিল,পূর্বের ডিজিটাল মিটার পুনঃস্থাপন,বিদ্যুৎ খাতে দূর্নীতি ও লুটপাটের শ্বেতপত্র প্রকাশ, বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের তৎপরতা বন্ধের দাবিতে আগামী ৩০ নভেম্বর রংপুর নগরীতে সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করছি। নেতৃবৃন্দ, আগামী ৩০ নভেম্বর হরতাল সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Read More »

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর ধর্মসভা আগমনে নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শন

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর ধর্মসভায় শারদীয় দুর্গাপুজা মন্ডপ পরিদর্শনে আগমন উপলক্ষে রংপুর ধর্মসভায় নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শন করেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন। গতকাল (১৯ অক্টোবর ) সোমবার সকালে রংপুর ধর্মসভায় নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শনকালে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত সফরে রংপুর আসছেন। বাংলাদেশে এই প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রাজধানীর বাহিরে আসছেন। এজন্য আমরা রংপুরবাসী ও নেতাকর্মীরা খুব উজ্জীবিত। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এ্যাড. মাহফুজ উন নবী ডন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি. রংপুর আগমনকে ঘিরে রংপুর সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো নগরী জুরে ফুটপাত দখল মুক্ত, অবৈধ দোকান উচ্ছেদ। রোড ডিভাইডার রংকরণ, রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ধর্মসভা পরিদর্শনের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শারদীয় দূর্গা উৎসব সার্বজনীন। জাতি,ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব আমরা পালন করে থাকি। এই আনন্দ সবার। তিনি আরও বলেন, রংপুর সিটি কর্পোরেশন,জেলা পরিষদ,এলইজিডিকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন রংপুরের উন্নয়নের জন্য। আমরা সবাই মিলে রংপুরকে গড়তে চাই। গতকাল সকালে রংপুর ধর্মসভা প্রাঙ্গনে নিরাপত্তা বেষ্টনী পরিদর্শনকালে তারা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান । এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এসআরবি, রংপুর মেট্রোপুলিটন পুলিশ, জেলা পুলিশ, আনসার ভিডিপি, নৌবাহিনী, পিজিআর, এসএসএফসহ আইন শৃঙ্খরা বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা। এসময় ধর্মসভা মন্দির, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে রংপুর ধর্মসভা কর্তৃপক্ষ বলেছেন, সনাতন হিন্দু সম্প্রদায় প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। সবাই সম্প্রদায় সম্প্রিতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

Read More »

আরপিএমপি পুলিশের অভিযানে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার সহ গ্রেফতার -৫

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : রংপুর, আরপিএমপি তাজহাট থানা পুলিশের অভিযানে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার সহ ৫জন মোটরসাইকেল চোরকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল(১৯ অক্টোবর) সোসবার দুপুরে আরপিএমপি তাজহাট থানার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আরপিএমপি তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায়, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ), আরপিএমপি, রংপুর মহোদয়ের সার্বিক সহায়তায়, মোঃ রফিকুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ, তাজহাট থানা এর তত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ মঞ্জুরুল হক, এএসআই (নিরস্ত্র) মুনমুন হোসাইন, এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ নূর নবী সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ পুলিশি অভিযান পরিচালনা করে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগঞ্জ এবং দিনাজপুর জেলার ঘোরারঘাট থানা এলাকা হইতে আসামীদের গ্রফতার এবং তাদের দেখানো মতো উল্লিখিত মোটর সাইকেলগুলো জব্দতালিকা মূলে জব্দ করা হয়। মামলার বাদী-মোঃ গোলাম রব্বানী (৪০), এনআইডি নং-৮৫১২৭৭৭৯১৪৮৯৩, জন্ম তারিখ-১১/০১/১৯৮৪ ইং, পিতা-মোঃ রুহুল আমিন, মাতা-মোছাঃ লাইলী বেগম, সাং-বাগডহরা, ডাকঘর-সাউদ পাড়া, থানা-গংগাচড়া, জেলা-রংপুর, এ/পি সাং- আলহাজ্বনগর দর্শনা, থানা-তাজহাট, রংপুর মহানগর রংপুর । গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন -১। মোঃ শাহিন মিয়া (৩২), পিতা-নুর মোহাম্মদ টুকু, মাতা-রশেনা বেগম, সাং-মাঝগ্রাম খন্দকারপাড়া, থানা-মিঠাপুকুর, জেলা- রংপুর, ২। মোঃ শিমুল মন্ডল (৩৫), পিতা-মৃত আব্দুল হক মন্ডল, সাং-পার্বতীপুর, ৩। মোঃ মিলন মিয়া (৩৫), পিতা-মৃত মজনু মিয়া, কাজীপাড়া, ৪। মোঃ হাসান মিয়া (২৮), পিতা-মোঃ আবুল হোসেন, সাং-জাহাঙ্গীরাবাদ, ৫। মোঃ রাশেদ প্রধান (৩২), পিতা-এনামুল হক, মাতা-রাশেদা বেগম, সাং-ভগবানপুর, সর্বথানা-পীরগঞ্জ, জেলা-রংপুর। বাদীর চুরি যাওয়া উদ্ধারকৃত মোটর সাইকেল- ১। ০১ টি লাল রংয়ের অঢ়ধপযব ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, চেসিস নং- গউ৬২৪ঐঈ১৭এ২ঋ৩২৮৭৩ ইঞ্জিন নং- ঈ১ঋ৬২২৪৯৭৮, যাহার রেজিস্ট্রেশন নং-বরিশাল-ল-১১-৫২১৭, ২। রেজিঃ বিহীন ১ টি ঐবৎড় ঐঋ-উবষীঁব ১০০ সিসি মোটর সাইকেল, যাহার চেসিস-চঝ১ঐঅজ২৬৮খঔঅ০১৬০৬, ৩। ১ টি নীল রংয়ের রেজিঃ বিহীন পালসার, ১৫০ সিস মোটর সাইকেল, যাহার ইঞ্জিন নং-উঐণঈকঊ৪০৪৩৭, চেসিস নং- গউ২অ১১ঈণ৬কঈঊ৯২৯৫৯ ৪। ১ টি লাল-কালো রংয়ের রেজিঃ বিহীন পালসার ১৫০ সিসি মোটর সাইকেল, যাহার চেসিস নং-গউ২উঐউঐততঝঈঋ৬৭১৫৭, ইঞ্জিন ঋজ-উঐএউঐই৬৩২৩৪, ৫ । ১ টি লাল-কালো রংয়ের রেজিঃ বিহীন পালসার ১৫০ সিসি মোটর সাইকেল, ইঞ্জিন নং-উঐণডঔগ৯৬৭১৭, চেসিস নং গউ২অ১১৬ণঢঔডগ৯০৮১৯ । সুত্র ঃ আরপিএমপি এর তাজহাট থানার এফআইআর নং-১১, জিআর-১৯৪, তারিখ-১৯/১০/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৭৯ পেনাল কোড, ১৮৬০।

Read More »