সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: April 19, 2026

বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে আইএএমএফ

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খৃ. – আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মেয়াদকালে দেশটিকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বসন্তকালীন সভার সাইডলাইনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইএমএফের দুটি বৈঠকে এ কথা জানানো হয়। বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রথম বৈঠকটি সকালে আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এবং তার দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বৈঠকটি বিকেলে আইএমএফ-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক ও তার দলের সঙ্গে হয়। উভয় বৈঠকই ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অর্থমন্ত্রী বর্তমান সরকারের শাসনব্যবস্থা এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো তুলে ধরেন। আলোচনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সংস্কারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে। অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও কিছু বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে উভয় পক্ষ স্বীকার করেছে। অর্থমন্ত্রী জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে দুই পক্ষই একমত হয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং জানিয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে’- এমন খবর সম্পূর্ণ অসত্য। সুত্র. বাসস//

Read More »

মাদকাসক্তি মোকাবিলা এবং চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

ঢাকা, দেশে বাড়তে থাকা মাদকাসক্তি মোকাবিলা এবং চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য করতে সরকার একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতে সাতটি সরকারি পুনর্বাসন হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন ২০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ, প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ উদ্যোগটি ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রসহ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়নের চলমান প্রচেষ্টারও পরিপূরক। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে সরকারি সংবাদ সংস্থা’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডিএনসির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ গোলাম আজম বলেন, ‘পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর নকশা চূড়ান্ত হলেই দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে অর্থ ছাড় হলে আগামী অর্থবছরেই নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।’ সাতটি বিভাগেই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্পের ব্যয় সম্পর্কে তিনি জানান, এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। তিনি বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণে প্রায় ১৪৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে কাজ সম্পন্নের জন্য যথেষ্ট নয়।’ এ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে ৪২০ কোটি টাকার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। আজম বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর প্রাথমিক নকশা সম্পন্ন করে তা গণপূর্ত অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে, যেখানে কাঠামোগত নকশার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ২০০ শয্যার হাসপাতাল ধাপে ধাপে কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রোগীকে সেবা দিতে পারবে। প্রকল্পে প্রায় ১৪০ জন চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হবে।’ চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এতে ওষুধের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা থাকবে, যা মাদকাসক্তিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হিসেবে দেখার প্রতিফলন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পরিকল্পনা-২) আলীমুন রাজীব বাসসকে বলেন, ‘রাজশাহী শহরে ইতোমধ্যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং বাকি ছয়টি বিভাগীয় শহরে উপযুক্ত জায়গা খোঁজা হচ্ছে।’ তিনি জানান, রাজশাহীতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি প্লট নির্বাচন করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৪৪ কোটি টাকা। ঢাকাকে এ প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে, কারণ রাজধানীর জন্য আলাদা একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে ৬ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যাতে সমন্বয় ও সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশে বর্তমানে ৪০২টি অনুমোদিত বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্র কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন দেশে মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থাপিত এক জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮২ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ) এক বা একাধিক মাদক ব্যবহার করেন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা পান, ফলে ৮৭ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে থেকে যান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলায় ৫,২৮০ জনের ওপর পরিচালিত এ গবেষণায় পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মাদক ছাড়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু অধিকাংশই মানসম্মত চিকিৎসা, কাউন্সেলিং এবং সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার অভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে—৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে মাদক গ্রহণ শুরু করেন। বিভাগ ভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী (২২ লাখ ৮৭ হাজার), এরপর চট্টগ্রাম (১৮ লাখ ৭৯ হাজার) ও রংপুর (১০ লাখ ৮০ হাজার), আর বরিশালে সবচেয়ে কম (৪ লাখ ৪ হাজার)। গাঁজা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক, যার ব্যবহারকারী প্রায় ৬১ লাখ। এরপর রয়েছে মেথামফেটামিন (ইয়াবা) প্রায় ২৩ লাখ এবং অ্যালকোহল প্রায় ২০ লাখ। এছাড়া কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ, ঘুমের ওষুধ ও হেরোইনও ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করেন, যা তাদের এইচআইভি ও হেপাটাইটিসের ঝুঁকিতে ফেলে। গবেষকরা জানান, শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহার বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বেকারত্ব, সহপাঠীর প্রভাব, আর্থিক অস্থিরতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং মানসিক চাপ মাদকাসক্তির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, মাদক সহজেই পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরবরাহ ও চাহিদা উভয় দিক নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং তরুণদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারা বলেন, সামাজিক কলঙ্ক ও সম্মানহানির ভয়ে অনেক পরিবারই চিকিৎসা নিতে এগিয়ে আসে না। সুত্র. বাসস//

Read More »

উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খৃ. – প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। যদিও কাজটি এক মাস বা এক বছরে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, তবুও সরকার ধাপে ধাপে এটি অর্জনের পথে রয়েছে।’ আজ শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল চিকিৎসক ও কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসা পেশার গুরুত্ব যে কোনো পেশার চেয়ে বেশি এবং বর্তমান সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকগণ রোগে-শোকে কাতর মানুষের পরম বন্ধু এবং বিপদের প্রকৃত সঙ্গী। একজন চিকিৎসকের উপদেশ ও আন্তরিক ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’ বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে আগে আমরা জনগণের কাছে স্বাস্থ্যনীতির রূপরেখা তুলে ধরেছিলাম। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ বা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা যদি রোগের শুরুতেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে পারি তাহলে রোগের বিস্তার মোকাবিলা সম্ভব। আমাদের এই নীতি বাস্তবায়নে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত সচেতনতা সৃষ্টি করার পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে প্রণীত ‘যৌথ ঘোষণা’ বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ যেমন শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক, হৃদরোগ ইত্যাদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে উপজেলা পর্যায়েই গুরুত্বসহকারে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং নিয়মিত করা প্রয়োজন। জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করার ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরী জরুরি।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে ইউ-এইচ-এফ-পি-ও অর্থাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।’ মানসম্মত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কর্মযজ্ঞে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সদস্যগণ প্রথম সারির যোদ্ধা। হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট’ এর একটি অপরটির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।’ তিনি বলেন, একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মস্থলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার কাজটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হয়। কারণ, হেলথ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট এবং হেলথ কেয়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ম্যানেজমেন্ট এই দুটি বিষয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং সমউন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্য সেবায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না। দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ‘ ‘আজকের স্বাস্থ্যসেবা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ আমেরিকার বিখ্যাত পুষ্টিবিদ প্রয়াত ‘জ্যাক লালেন’ এর উক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ কারণেই যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এনএইচএস’এর জেনারেল প্র্যাকটিশনার-জিপি’র আদলে প্রতিটি উপজেলা এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করার চিন্তা রয়েছে। ‘ ‘এই স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে সারাদেশে ১ লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই হেলথ কেয়ারারদের ৮০ শতাংশই হবেন নারী। হেলথ কেয়ারারগণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে জনগণকে প্রাথমিক হেলথ কেয়ার দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন’- উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের স্বার্থে যে কোনো মূল্যে আমাদেরকে মা ও শিশু’র পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পরিপূর্ণ মাতৃত্বকালীন সেবা, নিরাপদ সন্তান প্রসব, নবজাতক এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবার নিরাপদ স্থানে পরিণত করতে হবে।’ সারাদেশে শিশুদেরকে ‘হামে’র টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত দুই সরকারের ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ ক্ষমাহীন অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। ‘ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার সারাদেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য আমি সকল চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই। যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন সেই সকল পিতামাতা এবং স্বজনদের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকার শিগগিরই একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যতথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে। এতে যে কোনো নাগরিক প্রয়োজনে দেশের যে কোনো হাসপাতালে সহজেই চিকিৎসা সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে একটি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে কোনো নাগরিক চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।’ চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের আবাসন, নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং জীবন মান উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি সম্পর্কেও সরকার ওয়াকিবহাল। এ ব্যাপারেও সরকার সাধ্যমতো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বদ্ধ পরিকর। ‘ সবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘এই সম্মেলনের মাধ্যমে আমি একটি বার্তা দিতে চাই, সেটি হলো প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজ নিজ এলাকায় একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। আপনাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকার কর্মস্থলকে একটি মডেল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে পরিণত করবেন, আপনাদের কাছে এই প্রত্যাশা।’ মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, সার্বিক কার্যক্রম অবহিত হওয়াসহ সরকারের নির্দেশনা তাদের কাছে দেওয়ার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবারই প্রথম বৈঠক করেন। উপজেলা পর্যায়ের ৬ জন চিকিৎসক ডা. শোভন কুমার বশাখ, ডা. মনজুর আল মোর্শেদ চৌধুরী, ডা. মজিবুর রহমান, ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী, ডা. সুমন কান্তি সাহা এবং ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিমকে কর্মদক্ষতার জন্য ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী| স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Read More »

২০ এপ্রিল সোমবার থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৫ বৈশাখ (১৮ এপ্রিল) ২০২৬ খৃ. – বাংলাদেশের আকাশে আজ কোথাও ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল ১৯ এপ্রিল রবিবার শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে। আজ রাজধানীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসনের প্রশাসক মোঃ শাহীন হোসেন, প্রধান তথ্য অফিসার ইয়াকুব আলী, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মোহাম্মদ ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ খোরশেদ আলম খান, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ওয়ারেছ আনসারী, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদ্‌রাসা বরিশালের অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার উপাধ্যক্ষ আবদুল গাফফার প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Read More »