
একজন নন, শত শত মেয়রের সম্মান আল্লাহ আমাদের দান করেছেন: পীর সাহেব চরমোনাই
স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : “মেয়র হয়ে সম্মান অর্জন করা বা এর থেকে অর্থ উপার্জন করা; আল্লাহর কসম করে বলছি, এসবের কিঞ্চিৎ উদ্দেশ্যও আমাদের নেই।” একজন নন, শত শত মেয়রের সম্মান আল্লাহ তাদের দান করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, “শুধু তাই নয়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের আর্থিকভাবেও দুর্বল রাখেননি। মেয়র হয়ে সম্মান অর্জন করা বা এর থেকে কোনো অর্থ উপার্জন করা; আল্লাহর কসম করে বলছি, এসবের কিঞ্চিৎ উদ্দেশ্যও আমাদের নেই।” শুক্রবার জুমার নামাজের পর বরিশাল নগরীর সদর রোডে সিটি নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিচার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতী রেজাউল করীম বলেন, “বরিশালের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ন্যায্য অধিকারের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন আর তাদের খাদেম হিসেবে আমরা পাশে থাকতে পারি, সেজন্য নির্বাচনে এসেছিলাম।” একজন মুফতী ফয়জুল করীম নন, তামাম দুনিয়ার আলেমদের ওপর আঘাত করা হয়েছে মন্তব্য করে রেজাউল করীম আরও বলেন, “বরিশালে যে ইতিহাস বর্তমান সরকার, বর্তমান ইসি, বর্তমান প্রশাসন ঘটিয়ে দেখিয়েছে, তা তামাম দুনিয়ার মধ্যে কলঙ্ক হিসেবে ইতিহাস হয়ে থাকবে।” দলটির প্রধান আরও বলেন, “ফয়জুল করীম এই বরিশালের সন্তান, এই সদর থানাই হলো আমাদের বাড়ি, আমরা পানির স্রোতে ভেসে আসিনি। আজ যারা এ ধরনের আচরণ করেছেন, আপনাদের আমি বলতে চাই, আপনারা ফেরাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন; দাজ্জালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আপনারা আবু জাহেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।” ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “এই রকম নির্দোষ, এই রকম একজন নায়েবে আমিরের ওপর হামলা পরিকল্পিত হত্যা করার জন্যই করা হয়েছে।” সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, “আমার মন বলছে, জালেমরা এই বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষদের ওপর আর জুলুম চালাতে পারবে না।” সিইসির প্রতি ধিক্কার জানিয়ে তিনি আও বলেন, “এই সরকার সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় ও মেরুদণ্ডহীন অন্ধ আনুগত্যের লোকজন বসিয়েছে, তা জানা ছিল। কিন্তু হাবিবুল আউয়ালের মতো একজন বিকারগ্রস্ত লোককেও যে সিইসির মতো দায়িত্বে এনেছে তা ভাবনাতীত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একজন প্রার্থীর মৃত্যু কামনা করে যে লোক, তাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও সাংবিধানিক দায়িত্বে দেখতে চাই না। অবিলম্বে এই লোককে সিইসির পদ থেকে ছুড়ে ফেলতে হবে।” ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমাদ কাওছারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল হুদা ফয়েজী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ নূরুল করীম, চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ জিয়াউল করীম, জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ আজাদীসহ বরিশাল জেলা ও নগর নেতারা। এর আগে জুমার নামাজের পর নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সদর রোডে আসতে শুরু করেন। সমাবেশস্থলে সিইসির প্রতীকী কফিন রাখা হয়। পাশাপাশি ওই সড়ক ঘিরে থাকা বিভিন্ন মন্দির ও গির্জার সামনে দলটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা পাহারায় ছিলেন। এ সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়। যদিও কর্মসূচি চলাকালে নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোডে যান চলাচল বন্ধ ছিল।











