সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: June 16, 2023

একজন নন, শত শত মেয়রের সম্মান আল্লাহ আমাদের দান করেছেন: পীর সাহেব চরমোনাই

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : “মেয়র হয়ে সম্মান অর্জন করা বা এর থেকে অর্থ উপার্জন করা; আল্লাহর কসম করে বলছি, এসবের কিঞ্চিৎ উদ্দেশ্যও আমাদের নেই।” একজন নন, শত শত মেয়রের সম্মান আল্লাহ তাদের দান করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেছেন, “শুধু তাই নয়, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের আর্থিকভাবেও দুর্বল রাখেননি। মেয়র হয়ে সম্মান অর্জন করা বা এর থেকে কোনো অর্থ উপার্জন করা; আল্লাহর কসম করে বলছি, এসবের কিঞ্চিৎ উদ্দেশ্যও আমাদের নেই।” শুক্রবার জুমার নামাজের পর বরিশাল নগরীর সদর রোডে সিটি নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিচার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মুফতী রেজাউল করীম বলেন, “বরিশালের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ন্যায্য অধিকারের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারেন আর তাদের খাদেম হিসেবে আমরা পাশে থাকতে পারি, সেজন্য নির্বাচনে এসেছিলাম।” একজন মুফতী ফয়জুল করীম নন, তামাম দুনিয়ার আলেমদের ওপর আঘাত করা হয়েছে মন্তব্য করে রেজাউল করীম আরও বলেন, “বরিশালে যে ইতিহাস বর্তমান সরকার, বর্তমান ইসি, বর্তমান প্রশাসন ঘটিয়ে দেখিয়েছে, তা তামাম দুনিয়ার মধ্যে কলঙ্ক হিসেবে ইতিহাস হয়ে থাকবে।” দলটির প্রধান আরও বলেন, “ফয়জুল করীম এই বরিশালের সন্তান, এই সদর থানাই হলো আমাদের বাড়ি, আমরা পানির স্রোতে ভেসে আসিনি। আজ যারা এ ধরনের আচরণ করেছেন, আপনাদের আমি বলতে চাই, আপনারা ফেরাউনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন; দাজ্জালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আপনারা আবু জাহেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।” ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, “এই রকম নির্দোষ, এই রকম একজন নায়েবে আমিরের ওপর হামলা পরিকল্পিত হত্যা করার জন্যই করা হয়েছে।” সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, “আমার মন বলছে, জালেমরা এই বাংলাদেশের শান্তিকামী মানুষদের ওপর আর জুলুম চালাতে পারবে না।” সিইসির প্রতি ধিক্কার জানিয়ে তিনি আও বলেন, “এই সরকার সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় ও মেরুদণ্ডহীন অন্ধ আনুগত্যের লোকজন বসিয়েছে, তা জানা ছিল। কিন্তু হাবিবুল আউয়ালের মতো একজন বিকারগ্রস্ত লোককেও যে সিইসির মতো দায়িত্বে এনেছে তা ভাবনাতীত। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একজন প্রার্থীর মৃত্যু কামনা করে যে লোক, তাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও সাংবিধানিক দায়িত্বে দেখতে চাই না। অবিলম্বে এই লোককে সিইসির পদ থেকে ছুড়ে ফেলতে হবে।” ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরের সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমাদ কাওছারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য নূরুল হুদা ফয়েজী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ নূরুল করীম, চরমোনাই ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ জিয়াউল করীম, জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়াতুল্লাহ আজাদীসহ বরিশাল জেলা ও নগর নেতারা। এর আগে জুমার নামাজের পর নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সদর রোডে আসতে শুরু করেন। সমাবেশস্থলে সিইসির প্রতীকী কফিন রাখা হয়। পাশাপাশি ওই সড়ক ঘিরে থাকা বিভিন্ন মন্দির ও গির্জার সামনে দলটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা পাহারায় ছিলেন। এ সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়। যদিও কর্মসূচি চলাকালে নগরীর প্রধান সড়ক সদর রোডে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

Read More »

স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : লাকসাম, কুমিল্লা, ১৬ জুন, ২০২৩ ইং, লাকসাম উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই লাকসাম উপজেলাকে ব্যবসা বান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করা হয়েছে। লাকসাম উপজেলায় কোথাও কোন প্রকার চাঁদাবাজি হয় না দাবী করে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদেরও বিনিময়ে সৎভাবে ব্যবসা করতে হবে, জনগণের ভোগান্তি হয় এমন পথ পরিহার করতে হবে। তিনি আজ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যবসায়ীদের সাথে লাকসাম বঙ্গবন্ধু পৌর অডিটোরিয়ামে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, এক সময় খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় ৫৫ টন খাদ্য-ঘাতির দেশে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় এসে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতিতে রুপান্তর করেন। মন্ত্রী লাকসাম মনোহরগঞ্জের গর্বিত সন্তান হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করে বলেন, এ আসনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিগত পাঁচ বছরে এক হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা দীক্ষাসহ মানুষের সামগ্রিক জীবন মান উন্নত হয়। এ সময় মন্ত্রী লাকসাম মনোহরগঞ্জকে দুই মাসের মধ্যে মাদক মুক্ত করার উদ্যোগ ঘোষণা করে বলেন, এতে ওয়ার্ড এর মেম্বার থেকে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়রসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে মাদক নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজের সবাইকে নিয়ে সুন্দর পরিবেশে বসবাস নিশ্চিত করতে হলে মাদকমুক্ত সমাজের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অতীতে যে রকম আমরা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি একইভাবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনের পথেও আমাদের এখন পর্যন্ত অগ্রগতির সন্তোষজনক যদিও করোনা এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের অগ্রগতিকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের জন্য ডেলটা প্ল্যান ২১০০ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ সময় কোন বিদেশী শক্তির কাছে বাংলাদেশ মাথা নোয়াবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচন পদ্ধতি ও আমাদের ভাগ্য আমরাই নির্ধারণ করব। আন্তর্জাতিক কোন প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বাংলাদেশ চলবে না বলেও দাবি করেন তিনি। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার বিরোধী নানা তথ্য ও প্রচারণার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে কোন ষড়যন্ত্রই আমাদের অগ্রযাত্রাকে বিঘ্নিত করতে পারবে না। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাকসাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট ইউনুস ভূইঁয়া, মনোহরগন্জ্ঞ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন, লাকসাম পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক মোঃ আবুল খায়ের, লাকসাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মহব্বত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বে করেন লাকসাম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তাবারক উল্লাহ কায়েস।

Read More »

সুদানের নৃশংস যুদ্ধে রেহাই পাচ্ছে না বেসামরিক নাগরিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : খার্তুম, ১৫জুন, ২০২৩ : সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলি বুধবার সুদানের এল ওবেইদ নগরীতে বোমাবর্ষণ করেছে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেলের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই দেশটিকে দুই মাস ধরে একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সেখানকার বেসামরিক নাগরিকরা। গত ১৫ এপ্রিল থেকে আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং তার প্রতিপক্ষ সাবেক ডেপুটি মোহাম্মদ হামদান দাগলোর নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যেকার এই শহুরে যুদ্ধে রাজধানী খার্তুমের পার্শ্ববর্তী গোটা এলাকা কার্যত: অচেনা হয়ে গেছে। গত মাসের বেসরকারি উপাত্ত সংগ্রহকারি সংস্থা- আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন এন্ড ইভেন্ট ডাটা প্রজেক্টের (এসিএলইডি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, যুদ্ধ দ্রুত প্রদেশগুলিতে, বিশেষ করে দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় কমপক্ষে ১,৮০০ জন নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, নিয়মিত সেনাবাহিনী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, বুধবার প্রথমবারের মতো আরএসএফ বেষ্টিত উত্তর কর্ডোফান রাজ্যের রাজধানী এল ওবেইদে বিমান হামলা চালায়। এদিকে আরেক উত্তেজনায়, দারফুেরর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যের গভর্নরকে হত্যা করা হলে, সেনাবাহিনী আরএসএফকে অভিযুক্ত করে এ হত্যাকে ‘নিষ্ঠুর কাজ’ বলে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মতে, সারা দেশের প্রায় ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে গেছে। বাস্তুহারাদের মধ্যে ১০ লাখের বেশি পালিয়েছে খার্তুম থেকে । জাতিসংঘ সংস্থাটির তথ্য অনুসারে, তাদের মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি প্রতিবেশী দেশগুলিতে আশ্রয় চেয়েছে। খার্তুমের বাসিন্দা আহমেদ ত্বহা এএফপিকে বলেছেন, যারা রয়ে গেছে- তাদের খাবার, পানি ও ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। উভয় পক্ষের স্পষ্ট লঙ্ঘনের মুখে একাধিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরে, মার্কিন ও সৌদি মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলি নিরাপদ মানবিক সাহায্যের করিডোর খোলার জন্য অনুমতি চাইলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। খার্তুমের গোটা এলাকা জুড়েই পানির লাইনে পানি নেই, সপ্তাহে মাত্র কয়েক ঘন্টার জন্য বিদ্যুৎ থাকে এবং যুদ্ধাঞ্চলের বেশিরভাগ হাসপাতাল অচল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মতে, জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি আড়াই কোটি মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় তহবিলের একটি ভগ্নাংশ পেয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থা। বিপজ্জনক পরিস্থিতি ও অন্যান্য বাধা সত্ত্বেও, জাতিসংঘের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ১৮ লাখ মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছেছে, যা এখনও তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্যের একটি ভগ্নাংশ। খার্তুমের বাসিন্দা সোহা আবদুল রহমান বলেন, ‘দুই মাস ধরে আমরা এই যুদ্ধের যন্ত্রণা ভোগ করছি এবং কষ্ট পাচ্ছি।’

Read More »

আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে : প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : জেনেভা/ঢাকা, ১৬ জুন, ২০২৩ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, জনগণ তাদের ভোট দেবে, জনগণ তাদের ভোটের একমাত্র মালিক হিসেবে তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে, আর যে জনগণের ভোট পাবে সে সরকার গঠন করবে। এটা গণতান্ত্রিক ধারা এবং তা অব্যাহত থাকবে।’ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেনেভায় হিলটন হোটেলে সুইজারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এটা ভাল করেই জানে যে তাদের খারাপ কর্মকা-ের জন্য তারা জনগণের কোন ভোট পাবে না এবং সে কারণে তারা এখন নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটার বাহানা খুঁজছে। তিনি বলেন, ‘আসলে তারা (বিএনপি) চোরের ও ভোট কারচুপিকারীদের দল। ভোট ডাকাতি করা ছাড়া তাদের পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না।’ তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তারা দেশের সম্পদ বিক্রি করার পূর্ব শর্ত মেনে নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সুতরাং জনগণ তাদের (বিএনপি) আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না এবং সে কারণেই তারা জনগণের ভোট পায় না। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের জন্য বিএনপির বারবার হুমকি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এতটা দুর্বল নয়। তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর নিয়ে হৈচৈ ছিল, তারা সরকারকে ক্ষমতাচ্যূত করবে, আমরা এম দুর্বল পর্যায়ে নেই যে তারা আমাদের পতন ঘটাবে, আমাদের সাথে জনগণ আছে, আমাদের শক্তি আমাদের জনগণ।’ নির্বাচনকালীন তত্ত্ববাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি, কিন্তু বিএনপি এখনো তত্ত্ববাবধায়ক সরকারের দাবি করছে। বিএনপি কি পাগল নাকি শিশু হয়ে গেল প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবার খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, পাগল বা শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। তিনি আরো বলেন, চোরদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের ও খুনিদের ক্ষমতায় এনে এনে আমরা বাংলাদেশকে অন্যের কাছে মাথা নত হতে দেব না। বিএনপি এখন নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে, নোংরা কৌশল অবলম্বন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা দিবালোকে মানুষ হত্যা করেছে, যারা লুটপাট করেছে, দুর্নীতি করেছে, দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়েছে, এটাই এখন মূল ইস্যু যে তারা দন্ডিত ব্যক্তির নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে কি না।” গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা আমাদের আন্দোলনের ফসল। এ জন্য আমার দলের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন। আর আমি গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।” গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ বদলেছে, আজ দেশ উন্নত হয়েছে, আজ বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছে। “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ যে মর্যাদা পেয়েছে তা নিয়েই এগিয়ে যাবে। “আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ে তুলব।” বাংলাদেশের যেকোনো সংকটে প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। তিনি প্রবাসীদেরকে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স না পাঠিয়ে বৈধ মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের দালালদের সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »