সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: June 18, 2023

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার বাড়িয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

সিনিয়র রিপোর্টার / লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৩ : মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে বাজারে অর্থের জোগান আরও কমাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে নীতি সুদহার আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। কমানো হয়েছে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা। ঋণ সুদহারের সীমা তুলে দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য ‘সঙ্কোচনমুখী ও আঁটসাঁট’ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন মুদ্রানীতিতে ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চসীমা ৯ শতাংশের বাধা তুলে দিয়ে ‘রেফারেন্স রেট’ অনুযায়ী, সুদ হার নির্ধারণের নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। ‘স্মার্ট-সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ’ নামের এই পদ্ধতিতে ছয় মাসের ট্রেজারি বিলের গড় হার ধরে ঠিক হবে রেফারেন্স। এর সঙ্গে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ যোগ করে এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৫ শতাংশ সুদ যোগ করে ঋণ দিতে পারবে। কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাত ও ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ সামাল দিতে আরও ১ শতাংশ যোগ করতে পারবে সুদ হারে। আর এক দিন মেয়াদী রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) সুদ হার ৬ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। রিভার্স রেপো হার (জুলাই থেকে এসডিএফ নামে পরিচিতি হবে) আগের ৪ দশমিক ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। রেপো ও রিভার্স রেপোর এই নতুন হার ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত জানুয়ারির মুদ্রানীতিতে রেপোর সুদ হার ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আর রিভার্স রেপো হার আগের ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছিল। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১ম ষান্মাসিক এর জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর-২০২৩) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে নতুন মুদ্রানীতি তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাবিবুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, এবারের মুদ্রানীতি ‘কন্ট্রাকশনারি ও টাইট’ ভঙ্গির। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এমন সিন্ধান্ত নিতে হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গননা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব ‘দুই পদ্ধতিতেই’ করবে। অর্থাৎ, আগে যে পদ্ধতিতে করা হত, সেভাবেও করা হবে। আবার বিপিএম৬ পদ্ধতিতেও করা হবে। তবে আমরা বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের তথ্য হিসাব করলেও তা প্রকাশ করব না। সরকারের বাজেট বাস্তবায়নকে সহায়তার মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি সময়ে বাজারে কি পরিমাণ অর্থের প্রবাহ থাকবে, তা নির্ধারণ করা হয় মুদ্রানীতির মাধ্যমে। তাতে নীতি সুদহারকে নিয়ন্ত্রণ করে বাজেটে ঠিক করা মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখতে আর্থিক পরিবেশের কৌশল ঠিক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে বিভিন্ন নীতি সুদ হার। ব্যাংকগুলো যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার করে, তখন তার সুদহার ঠিক হয় রেপোর মাধ্যমে। আর রিভার্স রেপোর মাধ্যমে বাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে যে সুদ হারে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ দেয়, তাকে বলে ব্যাংক রেট। রেপো রেট বৃদ্ধি করায় ব্যাংকগুলোর অর্থ নেওয়ার খরচ বাড়বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৩ শতাংশ, গত মুদ্রানীতিতে যা ছিল ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০.৯ শতাংশ, গতবার ধরা হয়েছিল ১৪.১ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬.৯ শতাংশ, গতবার যা ধরা হয়েছিল ১৬.৯ শতাংশ। মুদ্রানীতির যে প্রক্ষেপণ চলতি জুন মাস শেষে অভ্যন্তরীণভাবে ধরেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, তার কতটা অর্জন হয়েছে, সে তথ্যও জানানো হয় মুদ্রানীতির অনুষ্ঠানে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ ধরা হলেও, মে মাস শেষে অর্জন হয়েছে ৪৩.৩ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৪.১ শতাংশ, হয়েছে ১১.১ শতাংশ। সব মিলিয়ে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৮.৫ শতাংশ, আর গত মে পর্যন্ত হয়েছে ১৬.৭ শতাংশ। জাতীয় বাজেটে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে ধরে রাখার পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে সরকার। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছের, এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবুল বশরসহ গবেষণা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

বাংলাদেশ কখনো বাইরের হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না : প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ১৮ জুন, ২০২৩ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তার অফিসে আয়োজিত বিশেষ দরবার (সমাবেশ) অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা কারো হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন জাতি। আমরা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ অর্জন করেছি।’ বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয়’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গুরুত্বপূর্ণদের সাথে বন্ধুত্ব করতে কাজ করছে। দেশের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন তা করছে। তিনি বলেন, অনেক বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ বারবার প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু সফলতার সাথে সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ এখনও অনেক বাধা এবং ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। কারণ একটি দেশ যখন দ্রুত অগ্রগতি করে, তখন অনেকেই তা সহ্য করতে পারে না। তারা বিভিন্ন ঝামেলা শুরু করে।’ একটি স্বাধীন ও বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দেশের সকল মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো (বাধা-বিপত্তি) নিয়ে বিচলিত হওয়র কিছু নেই।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মজিবুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে এসএসএফ এবং এর কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মেজর জেনারেল মোঃ মজিবুর রহমান সংকলিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭৫টি বাণী সম্বলিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর উক্তি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ১৯৮৬ সালের ১৫ জুন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী (পিএসএফ) গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নামে নামকরণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি যেখানেই থাকুন না কেন এবং ভিআইপি, রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান বা সরকার কর্তৃক ভিআইপি হিসাবে ঘোষিত যে কোনও ব্যক্তিসহ উভয় ভিআইপিকেই ‘শারীরিক নিরাপত্তা’ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই বাহিনী গঠন করা হয়। সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর এটির প্রাথমিক কাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ভিআইপিদের সুরক্ষা দেয়া। আধুনিক প্রযুক্তির কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর অপব্যবহার রোধে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজর দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের উন্নয়নের পথ খুলে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে- যাতে এই প্রযুক্তি দেশের মানুষের ক্ষতি করতে না পারে। প্রযুক্তি অনেক আশঙ্কা তৈরি করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ধরণেরও পরিবর্তন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য এসএসএফ সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সঠিক নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনা, পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে এসএসএফ দিনে দিনে উন্নতি করতে থাকবে। এসএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসে শেখ হাসিনা বাহিনীর শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও পেশাদারিত্বের দিক থেকে একটি আদর্শ নিরাপত্তা বাহিনীতে পরিণত হবে বলে আশা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময়, সমুদ্র সীমানা নিয়ে বিরোধ মিমাংসা এবং পদ্মা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি একই দিনে ১০০টি সেতু ও ১০০ সড়ক উদ্বোধনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সফল্য তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, তারা বিশ্বব্যাংক উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। কারণ এ ব্যাপারে তাঁর সরকারের কোন দুর্বলতা ছিল না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ সক্ষমতা দেখিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবার কাছে সম্মান পাচ্ছে।

Read More »

//ভূমি মন্ত্রণালয়ের সার্ভেয়ার নিয়োগ পরীক্ষায় ৮৩জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ//

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : (ঢাকা, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩) ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগে ২৮১ জন সার্ভেয়ার (গ্রেড ১৪) পদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে ৮৩ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। আজ সার্ভেয়ার নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখ ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগে ২৮১ জন সার্ভেয়ার (গ্রেড ১৪) পদের জন্য (শূন্য পদে) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। ২ জুন ২০২৩ অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় ১৪১৪ জন চাকরি প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন এবং ২২০ জন উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের গত ৮ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত – ৪দিন ব্যাপী মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি জালিয়াতি, অন্যান্য অসদুপায় ও অনুত্তীর্ণ হবার কারণে বাদ পড়েন ৬৭ জন। সংশ্লিষ্ট গ্রেডের পদে জেলা কোটা তথা জেলাওয়ারী পদ বিতরণের শতকরা হারের বাধ্যবাধকতা থাকায় ৫০টি জেলার পদে এক জেলার জন্য প্রযোজ্য পদে অন্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ প্রদান করা সম্ভব না হওয়ায় বাকি ৭০টি পদ ফাঁকা থাকে। উল্লেখ্য, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ভূমি মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদ পূরণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা নিষ্পত্তি করে এই সার্ভেয়ার পদে নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। শীঘ্রই ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (প্রাক্তন তহশিলদার) পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পদোন্নতির শর্ত পূরণ করে এবং শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে ব্যবস্থাপনা বিভাগের সার্ভেয়ার পদ থেকে ১০ম গ্রেডের কানুনগো পদে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। সার্ভেয়ার সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫-এর ১৪তম গ্রেডভুক্ত, বেতনস্কেল ১০,২০০-২৪,৬৮০ এই সার্ভেয়ার পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যাপারে বলা হয়েছিল – ‘কোনো স্বীকৃত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন সার্ভে ইন্সটিটিউট হইতে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সার্ভেয়িং) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ’। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছিল, ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, রাজশাহী, জয়পুরহাট, পাবনা, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ – এই ৫০টি জেলার প্রার্থীগণ এই সার্ভেয়ার পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, কানুনগো পদে নিয়োগের ব্যাপারে মামলার নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে উক্ত পদে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া এখনই সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছাড়াও সেটেলমেন্ট বিভাগেও সার্ভেয়ার পদ আছে। তারা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন সেটেলমেন্ট অফিসে কাজ করেন। এছাড়াও, আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দপ্তরের নিয়োগের জন্য মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এতে নিরীক্ষক (রাজস্ব) পদে ১৪১ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৭৭ জন এবং অফিস সহায়ক পদে ৬১জন চাকরী প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের পরবর্তীতে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে।

Read More »

বাবা মানে বটবৃক্ষের ছায়া। বাবা মানে পরম নির্ভরতা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ‘ছেলে আমার বড় হবে, মাকে বলত সে কথা … বাবা কতদিন কতদিন দেখি না তোমায়/ কেউ বলে না তোমার মতো, কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়’ ব্যান্ডশিল্পী জেমসের গাওয়া ‘বাবা’ শিরোনামের এই গানের প্রতিটি অন্তরাতেই ফুটে উঠেছে বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের তীব্রতা। সত্যিই তো বাবার সঙ্গে সন্তানের ‘এ তো রক্তের সাথে রক্তের টান, স্বার্থের অনেক ঊর্ধ্বে।’ সন্তানের জীবনে বাবা মানে বটবৃক্ষের ছায়া। বাবা মানে পরম নির্ভরতা। শাস্ত্রে বলা হয়, ‘পিতাই ধর্ম, পিতাই স্বর্গ, পিতাই পরম তপস্যা।’ সন্তানের প্রতি পিতা বা বাবার ভালোবাসা চিরকালের। বাবার হাত ধরেই সন্তানের প্রথম হাঁটতে শেখা, হাত ধরে বাইরের জগৎটাকে চিনতে পারা। সন্তানের কাছে বাবা বন্ধুর মতো। বাবাই সন্তানের জীবনের প্রথম পথপ্রদর্শক। সন্তানের প্রতি বাবার যেমন রয়েছে আত্মিক টান, একইভাবে বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসার টানটিও চিরন্তন। তবে যুগের পরিবর্তনে প্রকাশ ভঙ্গিতে এসেছে পরিবর্তন। মা দিবসের মতো এখন পৃথিবীর মানুষ বছরের একটি দিন বাবার জন্য রেখে দিতে চায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শতকের প্রথম দশক থেকেই শুরু হয় বাবা দিবসের প্রচলন। দিবসটি আমাদের দেশে নতুন হলেও এখন অপরিচিত নয়। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে ‘বাবা দিবস’ পালন করা হয়। সে হিসেবে বিশ্ব বাবা দিবস আজ। এ দিবসের প্রচলন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই। যতদূর জানা যায়, বাবা দিবস ঘোষণার বিষয়টি প্রথম ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সনোরা স্মার্ট ডোড নামে এক তরুণীর মাথায় আসে। ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিতৃ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণার বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। এদিনে বাবাকে ফুল ও নানাবিধ উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় সন্তানরা। অনেক দেশে কার্ডও উপহার দেওয়া হয়। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান। বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকও বিশেষ অপশন চালু করেছে। বাবা কী? বাবা কেমন? ‘বাবা’ চরিত্র বিশ্লেষণ করার আসলে কোনো প্যারামিটার নেই। সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসা অসীম। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। তিনি সন্তান হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। জন্ম দিলে জন্মদাতা হওয়া যায়, কিন্তু বাবা হয়ে উঠতে হয়। ভীষণ দায়িত্ব-কর্তব্যের গল্প লুকিয়ে আছে বাবা শব্দটায়। যিনি শত সংকটেও বটগাছ হয়ে ছায়া দিয়ে যান তাঁর সন্তানদের। অর্থনৈতিক, সামাজিক সব দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তানের শারীরিক, মানসিক দুই ধরনের বেড়ে ওঠার জন্য বাবা তার সবকিছু উজাড় করে দেন। অনেক বাবা নিজে আধ পেট খেয়েও সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেন। সন্তানকে সুস্থ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বাবা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। বাবার আদর্শ, মূল্যবোধ, চিন্তা-চেতনা সন্তানের ওপর দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বাবার হাত ধরেই বাইরের জগতে সন্তানের চলতে শেখা। সন্তানের মঙ্গলার্থেই একজন বাবার সারাটা জীবন ব্যয় হয়। আর এসব দায়িত্ব পালনের বিনিময় কিন্তু শুধুই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সন্তান বড় হয়ে বাবার দায়িত্ব নেবে– এমন ধারণা খুব কম বাবাই করেন। তবে এটা আশা করেন, তাঁর সন্তান যোগ্যতায় আর সাফল্যে বাবাকে ছাপিয়ে যাবে। দেশজোড়া তার নাম হবে। সন্তানের নামের সঙ্গে উজ্জ্বল হবে পিতৃত্বের উত্তরাধিকার। ফলো করুন- আজ বিশ্বের সব বাবার প্রতি ভালোবাসা জানাবেন সন্তানরা। বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রতিদিনের। তবে আজ বিশেষ দিবস। মুখ ফুটে ভালোবাসি বলার দিন। আজ বাবাকে নিয়ে কেক কাটা হবে, ফুল, নতুন জামা ও প্রিয় বই উপহার দেওয়া হবে বাবাকে। আর যারা নিজেরাও বাবা হয়েছেন, তাঁরা ফিরে যাবেন শৈশবে। পুরোনো স্মৃতি থেকে নতুন করে আবিষ্কার করবেন বাবাকে। অনেকে প্রয়াত বাবার কথা ভেবে নীরবে চোখ মুছবেন। নিজের প্রিয় সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে কষ্ট ভোলার চেষ্টা করবেন কেউ কেউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের ওয়ালগুলো ভরে যাবে প্রিয় বাবার ছবিতে। বর্ণাঢ্য আয়োজন বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপনে রেডিও-টেলিভিশন বাবা দিবসের অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এ দিবসটি উপলক্ষে ফ্যাশন হাউস ‘বিশ্বরঙ’ তাদের সব পণ্যে বিশেষ ছাড় ঘোষণা করেছে। এই দেশি ফ্যাশন ঘরে চলছে ৩০ শতাংশ ছাড়। বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে এই সুবিধা মিলবে প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পেজ, অনলাইন ও যে কোনো বিক্রয়কেন্দ্রে। বাবা দিবস উপলক্ষে এ প্রতিষ্ঠানটির পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট ইত্যাদিতে তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন গ্রাফিক্যাল জ্যামিতিক ফর্মের মোটিফ। এ ছাড়া বেশ কিছু আয়োজন থাকছে রাজধানীর বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট ও ফ্যাশন হাউসে। ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান রেস্টুরেন্টে বাবা দিবস উপলক্ষে ৫০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিশেষ এই ডিনারের আয়োজন থাকছে এখানে। গুলশানের ‘সি হাউস মিলানো বাংলাদেশ’ নামে ইতালিয়ান রেস্টুরেন্টটি বাবা দিবস উপলক্ষে কেকের ওপর দিচ্ছে ১৫ শতাংশ ছাড়। ফ্যাশন হাউস কে ক্র্যাফট বাবার জন্য বিভিন্ন ধরনের উপহার এনেছে। মগ, ফটোফ্রেম, ওয়ালেট ও দেয়ালে সাজানোর সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে এখানে। এ ছাড়া বাবার সঙ্গে প্রিয় মুহূর্তের ছবি ও গল্প শেয়ার করে উপহার পাওয়ার সুযোগও থাকছে। পাঁচতারকা হোটেল র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন বাবা দিবস উপলক্ষে আজ ৪০ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে বুফে ব্রেকফাস্ট ও ডিনারে। লা মেরিডিয়েন ঢাকা বাবা দিবসের বিশেষ কেকের ওপর ৫০ শতাংশ এবং ডিনারে থাকছে ৫০ শতাংশ ছাড়। আর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল বাবার জন্য বিনামূল্যে বুফে ডিনারের ব্যবস্থা রেখেছে। সন্তান বাবাকে নিয়ে এলে কেবল একজনের জন্য মূল্য পরিশোধ করলেই হবে।

Read More »

সাংবাদিক নাদিম হত্যার মূলপরিকল্পনাকারী বাবু চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : নারী কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর পরিকল্পনায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে হত্যা করা হয়। শনিবার (১৭ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান বাবু জানায়, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাংবাদিক নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাংবাদিক নাদিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে র‌্যাব। শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১৩ এর সহযোগিতায় সাংবাদিক নাদিমকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু, মনির ও জাকিরকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনী, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর এবং আলোচিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে র‍্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। গত ১৪ জুন সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ উপজেলার পার্টহাটি এলাকায় কতিপয় সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হন এবং একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাংবাদিক ও পথচারীরা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাতেই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ভিকটিম নাদিমের অবস্থার অবনতি হলে ১৫ জুন বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ঐ দিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাদিম মৃত্যুবরণ করেন। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী বাদী হয়ে মাহমুদুল আলম বাবুকে প্রধান অভিযুক্ত করে বকশীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয় এবং সাংবাদিক নাদিমের ওপর হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও, সাংবাদিক সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানায়। র‍্যাব উক্ত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১৭ জুন র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল স্থানীয় র‍্যাবের সহযোগীতায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মৃত সাহেদুল হকের ছেলে মাহমুদুল আলম বাবু (৫০), তার সহযোগী মফিজল হকের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান মনির (মনিরুল), জালাল উদ্দিনের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৩১), জমি শেখের ছেলে মো. রেজাউল করিম (২৬)কে বকশীগঞ্জ, জামালপুরদেরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর পরিকল্পনাতেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। সাংবাদিক নাদিম সাম্প্রতিক সময়ে বাবুর অপকর্ম নিয়ে অনলাইন পোর্টালে কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক নাদিমকে বিভিন্নভাবে হুমকিসহ তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল মামলাটি খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের বিষয়টি নিয়ে ভিকটিম নাদিম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ায় বাবু আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক নাদিমকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৪ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভিকটিম নাদিম বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জ বাজারের পাটহাটি এলাকায় বাবু তার সন্ত্রাসীদের নিয়ে নির্জন স্থানে ওঁৎ পেতে থাকে। ভিকটিম নাদিম তার সহকর্মীসহ মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বাবুর সন্ত্রাসীরা তাকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে পিছন থেকে দৌড় দিয়ে বাবুর আরও কয়েকজন লোক এসে তাকে মারতে মারতে পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ঐ সময় প্রধান অভিযুক্ত বাবু ঘটনাস্থলের নিকটে থেকে পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেন। ভিকটিম নাদিমের সহকর্মী তাকে বাঁচাতে গেলে বাবুর সন্ত্রাসীরা তাকেও মারধর করে। একপর্যায়ে ভিকটিম নাদিমের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বাবু ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তী দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাংবাদিক নাদিম মৃত্যুবরণ করেন। গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল আলম বাবু সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও ভিকটিম নাদিমের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার পর থেকে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেপ্তার এড়াতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে তার এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় র‍্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে জামালপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল, মনির এবং জাকির মাহমুদুল হাসান বাবুর সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সহযোগী। গ্রেপ্তারকৃত রেজাউল দৌড়ে গিয়ে নিহত নাদিমকে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলেই বাবুর নির্দেশে তারা নাদিমকে বেদমপ্রহার করতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে জামালপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে ইউপির চেয়ারম্যান মাহমুদুলকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নামল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। নিহত সাংবাদিক নাদিম বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের জামালপুর ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ছিলেন।

Read More »

সাংবাদিক কি বধযোগ্য প্রাণী

// দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া // দেশে সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ শিকার হলেন গোলাম রব্বানী নাদিম। তিন হাসপাতাল ঘুরে শেষ পর্যন্ত আর দম রাখতে পারেননি; চিরতরে ছেড়ে দিয়েছেন। একের পর এক হত্যা, হামলা, হুমকির মুখে স্থানীয় সাংবাদিকদের বাকিরা কতদিন দম রাখতে পারেন– এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। নাদিম অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি এবং একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। থাকতেন বকশীগঞ্জেই। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বকশীগঞ্জের সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় তাঁকে ১০-১২ জন মিলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে যায়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল, পরে জামালপুর জেলা হাসপাতাল; সবশেষে বিভাগীয় সদর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। (সমকাল অনলাইন, ১৫ জুন ২০২৩)। প্রায় সব সংবাদমাধ্যম বলছে, গোলাম রব্বানি নাদিম নিহত হয়েছেন ‘সন্ত্রাসীদের হামলায়’। কারা এই সন্ত্রাসী? কথায় আছে– ছিঁচকে সন্ত্রাসীরা ‘ট্রিপল পি’ এড়িয়ে চলে। সেই তিন হলো পুলিশ, প্রেস, প্রসিকিউটর– আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও আইনজীবী। কিন্তু এই সন্ত্রাসীরা সেই আপ্তবাক্যকে পরোয়া করেনি। রীতিমতো প্রকাশ্য রাস্তায় একজন সাংবাদিককে পথ আটকে হত্যা করে চলে গেছে। কারণ নাদিমের হত্যাকারীরা ছিঁচকে সন্ত্রাসী তো নয়ই, এমনকি ‘ধ্রুপদি’ সন্ত্রাসী নয়। সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ সংগঠনের সদস্য। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও খুঁটির জোর তাদের আর্থসামাজিক প্রভাব বাড়িয়েছে; ‘জনপ্রতিনিধি’ বানিয়েছে এবং নির্বিচার সন্ত্রাসের লাইসেন্স দিয়েছে। যেমন হামলা ও হত্যার মূল হোতা হিসেবে বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের যে চেয়ারম্যানের নাম এসেছে, সেই মাহমুদুল আলম বাবু ইউনিয়ন আওমী লীগেরও সভাপতি। তিনি কী ধরনের ভোটে চেয়ারম্যান হয়েছেন, তা এখন স্পষ্ট। প্রত্যক্ষদর্শী ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করে সমকাল জানাচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের সময় চেয়ারম্যান বাবু ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সবকিছু তদারক করেন। তাঁর ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাতের নেতৃত্বে হামলায় জড়িত আরও যে আটজনের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ, তাঁদের মধ্যে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও তাঁতী লীগের একাধিক নেতাও রয়েছেন। (সমকাল, ১৬ জুন ২০২৩)। জবরদস্ত দলীয় ঐকমত্যের ব্যাপার। প্রায় সব সংবাদমাধ্যম বলছে– সন্ত্রাসীরা নাদিমকে কুপিয়ে, মেরে, রক্তাক্ত করে ‘পালিয়ে’ গেছে। খবর পড়তে গিয়ে মনে হয়, পালিয়ে যাওয়ার চিত্রকল্প যেন নিজেই নিজেকে দেওয়া সান্ত্বনা-শব্দ মাত্র। পালিয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে, অতর্কিতে হামলা চালিয়ে চলে যাওয়া। নাদিম হত্যাকাণ্ডে কী ঘটেছে? হামলাকারীরা বীরদর্পে তাঁকে আটকিয়ে মেরে যথাসাধ্য রক্তাক্ত করে যখন দেখেছে অচেতন হয়ে পড়েছে, তখন মৃত ভেবে ফেলে রেখে গেছে। পালিয়ে যাওয়ার কাপুরুষতা তারা দেখায়নি। ক্ষমতার দাপটেই যে তারা এটা করেছে, সেটা বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই। অপকর্ম, নারী নির্যাতন, দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় নাদিমসহ কয়েকজনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন বাবু চেয়ারম্যান। পরে ওই সাংবাদিকদের নামে ডিজিটাল আইনে মামলা করেন তিনি। সেই মামলা বুধবারই ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনালে খারিজ হয়ে যায়। সম্ভবত, বৈদেশিক চাপ না থাকলে ওই মামলা গৃহীত হতো। এ থেকে বোঝা যায়, ডিএসএ আসলে কাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল। মামলা দিয়ে শায়েস্তা করতে না পেরেই হামলা ও হত্যাকাণ্ড। গোলাম রব্বানী নাদিম শুধু বাবু চেয়ারম্যান নন; স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরও নেতাকর্মী গোলাম রব্বানি নাদিমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন রিফাতের ভাষ্য অনুযায়ী, বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহীনা বেগম এবং সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুলও নাদিমের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। কারণ ওই দুইজনের পরিবারের সদস্যরা স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন মর্মে নাদিম চলতি বছর সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। এর পর থেকেই তিনি নানা রকম হুমকি পাচ্ছিলেন। গত এপ্রিল মাসেও স্থানীয় যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সাংবাদিক নাদিমকে মারধর করেছিল। ওই ঘটনায় বকশীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের শামীম খন্দকার ও শেখ ফরিদ এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য স্বপন মণ্ডলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তিনি। বস্তুত ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে; তাদের হামলা, মামলায় কীভাবে স্থানীয় সাংবাদিকতা ক্রমশ কঠিন হয় উঠেছে; এর ‘টেক্সটবুক এক্সাম্পল’ হতে পারে নাদিম হত্যাকাণ্ড। এরা বিচ্ছিন্নভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে– এমন নয়। এসব করে আশকারা ও পার পায় বলেই অপরাধের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়ছে। কে না জানে– ছাগল নড়ে খুঁটির জোরে! সাংবাদিকতা কঠিন হয়ে উঠেছে, হামলার প্রতিকার বা হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার কারণেও। নাদিমকে দিয়েই উদাহরণ দেওয়া সম্ভব। গত এপ্রিলে তাঁর ওপর যুবলীগ কর্মীদের হামলার পর থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও শেষ পর্যন্ত ‘মিটমাট’ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এপ্রিলের হামলার ঘটনার যদি আইনি প্রতিকার পাওয়া যেত, তাহলে হত্যাকারীরা এতটা বেপরোয়া না-ও হতে পারত। নাদিম হয়তো স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে প্রাণে বেঁচে থাকতে পারতেন। পুলিশ যে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর অপরাধ দেখেও না দেখার ভান করবে বা ধরি মাছ না ছুঁই পানি ব্যবস্থা নেবে– সেটা জানা কথাই। কিন্তু ওই ঘটনা আইন-আদালতের বাইরে মিটমাট করতে ভূমিকা রেখেছিল স্থানীয় সাংবাদিকদেরই একটি অংশ। নাদিমকে মিটমাট করতে বাধ্য করেছিল যে সাংবাদিকরা, তারা কারা? যে কোনো জনপদে গেলেই তাদের জ্ঞাতি ভাইদের দেখা পাওয়া যাবে। তারা সাংবাদিকতার নামে ক্ষমতাসীনদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বাঁচে। তারা চাঁদাবাজি করে, দুর্নীতির ভাগ নেয়। একাধিক প্রেস ক্লাব খুলে বসে থাকে। সাংবাদিকতা বাদ দিয়ে আর সবকিছু করে। তারা স্থানীয় নেতা, চেয়ারম্যান, এমপি বা মন্ত্রী, ইউএনও বা ডিসির ‘পারিষদ’ হয়ে ঘোরে। কেউ সাংবাদিকতা করতে চাইলে, সেটা ওই নেতা বা জননেতার বিপক্ষে গেলে দেখা যায়– ‘বাবু যত বলে পারিষদ-দলে বলে তার শতগুণ’। বিভিন্ন জনপদে গড়ে ওটা রাজনীতিক-আমলা-পারিষদ চক্রের আঁতাতের বাইরে গিয়ে যাঁরা সাংবাদিকতা করতে চেয়েছেন, তাঁরা হামলা-মামলা এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর সমকালের ফরিদপুর ব্যুরোপ্রধান গৌতম দাস এবং ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের সমকাল প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলও সাহসী সাংবাদিকতা করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট’ বলছে, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশে ৩২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। সেই তালিকায় অবশ্য সর্বশেষ নিহত গোলাম রব্বানি নাদিম এবং চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছুরিকাঘাতে নিহত সাংবাদিক আশিকুল ইসলাম আশিকের নাম নেই। এদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ৩ মাসে দেশে ৫৬ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি, মামলা ও পেশাগত কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে সন্ত্রাসীরা এতটা বেপরোয়া হতে পারত না। // রিপোর্টার্স সানস ফ্রন্টিয়ার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালে সাংবাদিকতার স্বাধীনতাবিষয়ক সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৩। তার আগের বছর থেকে এক ধাপ পিছিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন অবস্থানে। সূচকমতে, বাংলাদেশসহ যে ৩১টি দেশে সাংবাদিকতায় ‘খুবই গুরুতর পরিস্থিতি’ বিরাজ করছে তার মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তানের মতো দেশও। সাংবাদিক তো বধযোগ্য প্রাণী। ভালো তো, ভালো না? শেখ রোকন: লেখক ও গবেষক; সহযোগী সম্পাদক, সমকাল

Read More »

সাংবাদিক নাদিম হত্যায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: জামালপুরে সাংবাদিক নাদিম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুসহ জড়িত খুনিদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছে রংপুরের সাংবাদিক নেতারা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ ওসি ও পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার (১৭ জুন) সকাল সোয়া ১১টায় রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন সমাবেশ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়। প্রেসক্লাব রংপুরের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দশটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। প্রেসক্লাব রংপুরের সভাপতি মাহবুব রহমান হাবুর সভাপতিত্বে ও ঢাকা পোস্টের নিজস্ব প্রতিবেদক ফরহাদুজ্জামান ফারুকের সঞ্চালনায় মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক সংবাদের রংপুর প্রতিনিধি লিয়াকত আলী বাদল, দৈনিক মায়াবাজারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সুশান্ত ভৌমিক, এনটিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার একেএম মঈনুল হক, চ্যানেল আই এর সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মেরিনা লাভলী, প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাপ্পী, মাহিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবলু নাগ, রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ বায়েজীদ আহমেদ, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ সভাপতি আবুল হোসেন বাবলু, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশেন রংপুরের সহ সভাপতি আসাদুজ্জামান আফজাল, টেলিভিশন ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন-টিসিএ রংপুরের সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সুমন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইভান চৌধুরী। এছাড়াাও সংহতি প্রকাশ করে আরো বক্তব্য দেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মন্ডল, নারীনেত্রী ও সংগঠক মঞ্জুশ্রী সাহা প্রমুখ। মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম রাজু, জাগো নিউজ২৪.কমের জিতু কবীর, রংপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান হিরু, টিসিএ রংপুরের সভাপতি শাহ্ নেওয়াজ জনি, বাংলানিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কমের রংপুর ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট আমিনুল ইসলাম জুয়েল, তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির রংপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান টিটু, দৈনিক যুগের আলোর স্টাফ রিপোর্টার রবিউল ইসলাম দুখু প্রমুখ।

Read More »

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয় করণের দাবীতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: ”মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয় করনের দাবীতে” গতকাল শনিবার রংপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় সুমী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি এবং রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান প্রামানিক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতি রংপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, মহানগর সভাপতি আয়েশা সিদ্দিকা, সাধারন সম্পাদক শাহ্ মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, রংপুর অঞ্চল মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের সিংহ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী দ্বারা । অথচ তারা যুগ যুগ ধরে বঞ্চনার শিকার। শিক্ষকরা ১ হাজার টাকা বাড়ী ভাড়া, ২৫ ভাগ উৎসব বোনাস, ৫’শ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকে। এ ছাড়া শিক্ষকগন অবসর ভাতা পাওয়ার জন্য ৫/৬ বছর ঘুরে তারপর সে সব হাতে পান। কখনও মৃত্যুর পর তার পোষ্যগন সেসব পেয়ে থাকেন। অবিলম্বে শিক্ষকগনের অবসর ভাতা অল্প সময়ে পাওয়ার জন্যও তারা দাবী জানান। অথচ একই কারিকুলামে সরকারী শিক্ষকরা অনেক বেশী সুবিধা পেয়ে থাকেন। এই বৈষম্য দুর করে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ দেশের ”মাধ্যমিক শিক্ষা অবিলম্বে জাতীয় করনের দাবী জনান।

Read More »

রংপুরে নারীদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব’র দাবিতে অপরাজিতা নেটওয়ার্কের মানববন্ধন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর নির্দেশনা অনুসারে “রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ে অনতিবিলম্বে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে” নীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় সাবেক, বর্তমান ও আগামীর সম্ভাব্য নারী জন প্রতিনিধি তথা অন্যান্য নারীনেত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত অপরাজিতা নেটওয়ার্ক এর আয়োজনে গতকাল ১৭ জুন ১১ টায় রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর নির্দেশনা অনুসারে রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ে অনতিবিলম্বে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে” , এই দাবীকে সামনে রেখে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে রংপুর সদর উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি সুলতানা আকতারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গংগাচড়া উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি ক্ষান্তরানী, মিঠাপুকুর উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি মারুফা আকতার মিতু, রংপুর স্বর্ণনারী এসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুশ্রি শাহা, রংপুর উইমেন চেম্বার নেত্রী ইরা হক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এই মানববন্ধনে রংপুর জেলার সদর, গংগাচড়া ও মিঠাপুকুর উপজেলা থেকে আগত মোট ৬০ জন নারীনেত্রী, যাঁদের সবাই নিজেদের পরিচয় দেন অপরাজিতা হিসাবে, উক্ত শ্লোগানসহ অন্যান প্রাসঙ্গিক দাবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্লাকার্ড নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, অপরাজিতাদের উদ্যোগে একই দাবীতে দেশের আরো ১৫টি জেলায় আজ একই ধরনের মানববন্ধন আয়োজিত হচ্ছে একযোগে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুচ্ছেদ ৯০ (খ) তে বলা ছিল যে রাজনৈতিক দলগুলির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব ২০২০ সালের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে উল্লিখিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই এই শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন্ শীর্ষক একটি প্রকল্পের সহায়তায় গঠিত অপরাজিতা নেটওয়ার্ক -ভুক্ত নারীনেত্রীরা উক্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য নতুন একটি সময়সীমা যেন বেঁধে দেওয়া হয়, এবং সে অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলির সকল স্তরে অনতিবিলম্বে ন্যূনতম ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে যেন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে, এ দাবী জানিয়ে আসছেন। এই দাবী নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে তারা কখনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আবার কখনও সংসদ সদস্যদের সাথে সংলাপ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মানববন্ধন। এই মানববন্ধনে অপরাজিতাদের দাবীগুলো ছিলো নি¤œরূপ, রংপুর জেলার প্রধান প্রধান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মূল কমিটিতে নারীদের অবস্থান এখনও অনেক দুর্বল আমরা অতি সত্বর গুরুত্বপূর্ণ পদে – বিশেষ করে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক বা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হিসাবে – নারীদের দেখতে চাই। বাংলাদেশে নারীরা প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের মত উচ্চাসনে আসীন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। তথাপি রাজনীতির অঙ্গনে তাদেরকে প্রায়ই শুনতে হয় যে, তাদের রাজনৈতিক যোগ্যতা কম ফলে মূল কমিটিতে আসতে সময় লাগবে। এই গতানুগতিক অজুহাতের বিপরীতে আমরা চাই সকল স্তরে নারীদেরকে রাজনৈতিক দলগুলিতে ন্যূনতম ৩৩% হারে সম্পৃক্ত করার সক্রিয় উদ্যোগ, এবং আমাদের দাবী হচ্ছে জাতীয় ও ¯’ানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের ৩৩% মনোনয়ন দেওয়ার শর্তও যুক্ত করা। নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরো সাহসী হতে হবে। আমরা মূলত শুধু সংরক্ষিত আসনে আর নির্বাচন করতে চাই না, বরং সাধারন আসনেও অনেক বেশি হারে নির্বাচন করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি এক্ষেত্রে নারীরা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) নতুন করে সংশোধনের জন্য একটি বিল ইতোমধ্যে সংসদেও চলতি অধিবেশনে উত্থাপিত হয়েছে, এবং তা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব সংশোধনী বিবেচনাধীন রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দল নিবন্ধনে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো। আইন প্রণেতাদের কাছে আমাদের দাবী, এই নতুন সময়সীমার মধ্যে যেন সকল দল উক্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে, এ ব্যাপাওে আরো সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধ্যকতা প্রণয়ন করা হোক। রাজনৈতিক দলের কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সম্মেলনের আয়োজন করা। আগামী জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন সম্মেলনে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারীর অন্তর্ভূক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা বিশ^াস করি আগামী সময়সীমার আগেই সকল রাজনৈতিক দলের সকল কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) নারীদেরকে অন্তর্ভূক্তির ফলে প্রকৃতভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হবে।

Read More »

বাংলাদেশের হাসপাতালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশার দায় কার ?

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের ও হাসপাতালগুলোর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল, বিএমডিসি। কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে বিএমডিসি সেটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। সংগঠনটির ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এহতেশামুল হক চৌধুরী বলছেন সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। “অভিযোগ আসলে অফিস থেকে আমাকে জানানো হতো। আমার জানা মতে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি,” বলছিলেন অধ্যাপক চৌধুরী। কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে বিএমডিসি। অধ্যাপক চৌধুরী বলছিলেন, “বিএমডিসি কারো বিরুদ্ধে জেল, জরিমানার শাস্তি দিতে পারে না। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে তার লাইসেন্স বাতিল করতে পারে।” লাইসেন্স বাতিল করা হলে ঐ চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবেন না। বাংলাদেশের অধিকাংশ হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা রকম অনিয়ম হওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেননি অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী। তবে তিনি বলছিলেন, বিএমডিসি চাইলেই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে না। “কোনো শিক্ষক, চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কেবল তখনই বিএমডিসি তার বা তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু কোনো অভিযোগ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার এখতিয়ার আইন অনুযায়ী বিএমডিসি’র নেই।” তবে বিএমডিসি যেন নিজে থেকে কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতালের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক চৌধুরী। ‘অধিকাংশ হাসপাতাল এভাবেই চলে’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ জারি করলেও ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একটা বড় অংশের ক্ষেত্রেই এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে থাকে – এমনটাই মনে করেন বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করা চিকিৎসকদের অনেকে। ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন শাকিল আলম (পরিবর্তিত নাম)। তিনি বলছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সেন্ট্রাল হাসপাতালের যেসব অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে, এমন অনিয়ম বাংলাদেশের হাসপাতালের ক্ষেত্রে ‘স্বাভাবিক ঘটনা।’ “সেন্ট্রাল হাসপাতালের আইসিইউর মান বিচার করা হয়েছে একটি আদর্শ আইসিইউর ভিত্তিতে। ঢাকার বেশিরভাগ হাসপাতালের আইসিইউতেই কিন্তু সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নেই। অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল এভাবেই চলছে বছরের পর বছর ধরে।” বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলে তার নাম নিয়ে রোগী ভর্তি করাটা অনৈতিক হলেও অনেক হাসপাতালে এভাবেই কাজ হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। “অধিকাংশ হাসপাতালেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করে থাকেন। চিকিৎসা পরিচালনা কিন্তু অপেক্ষাকৃত জুনিয়র ডাক্তাররাই করেন।” “আর গাইনি বিভাগে এটি আরও স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ সন্তান প্রসবের কাজে মিডওয়াইফদেরই সবচেয়ে বেশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকে, কাজটা তারাই করে থাকেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকেন।” এই চিকিৎসকের মতে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেখানে প্রতি দুই হাজার মানুষের জন্য একজন নার্স ও প্রতি ১৮৪৭ জনের জন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন, সেখানে হাসপাতালগুলোতে এভাবে কাজ চলাটাই আসলে স্বাভাবিক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিধিনিষেধ : সেন্ট্রাল হাসপাতাল ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার পাশাপাশি হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল বলছে। কয়েকজন কর্মকর্তা শুক্রবার সেন্ট্রাল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় সেন্ট্রাল হাসপাতালের ওপর জারি করা বিধিনিষেধের বিষয়ে জানান তারা। বিধিনিষেধের একটি হলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত সেন্ট্রাল হাসপাতালে কোনো অপারেশন করা যাবে না। আইসিইউ ও জরুরি সেবার মান ‘সন্তোষজনক’ না হওয়ায় এই নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল। নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ওপর। অধিদপ্তরের ‘’লিখিত অনুমোদন ছাড়া’ ঐ বিশেষজ্ঞ সেন্ট্রাল হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ সেবা দিতে পারবেন না বলে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া এই ঘটনায় রোগীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের কাগজপত্র বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলে পাঠানো, রোগীর চিকিৎসার সব খরচ বহন করা, ভুক্তভোগীর পরিবার ক্ষতিপূরণ দাবি করলে আইনি সহায়তা দেয়ার নির্দেশনাও দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। চলমান…..

Read More »