জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এর নির্দেশনা অনুসারে “রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ে অনতিবিলম্বে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে” নীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় সাবেক, বর্তমান ও আগামীর সম্ভাব্য নারী জন প্রতিনিধি তথা অন্যান্য নারীনেত্রীদের সমন্বয়ে গঠিত অপরাজিতা নেটওয়ার্ক এর আয়োজনে গতকাল ১৭ জুন ১১ টায় রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এর নির্দেশনা অনুসারে রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ে অনতিবিলম্বে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে” , এই দাবীকে সামনে রেখে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে রংপুর সদর উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি সুলতানা আকতারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন গংগাচড়া উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি ক্ষান্তরানী, মিঠাপুকুর উপজেলা অপরাজিতা নেটওয়ার্কের সভাপতি মারুফা আকতার মিতু, রংপুর স্বর্ণনারী এসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুশ্রি শাহা, রংপুর উইমেন চেম্বার নেত্রী ইরা হক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এই মানববন্ধনে রংপুর জেলার সদর, গংগাচড়া ও মিঠাপুকুর উপজেলা থেকে আগত মোট ৬০ জন নারীনেত্রী, যাঁদের সবাই নিজেদের পরিচয় দেন অপরাজিতা হিসাবে, উক্ত শ্লোগানসহ অন্যান প্রাসঙ্গিক দাবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন এবং প্লাকার্ড নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, অপরাজিতাদের উদ্যোগে একই দাবীতে দেশের আরো ১৫টি জেলায় আজ একই ধরনের মানববন্ধন আয়োজিত হচ্ছে একযোগে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ অনুচ্ছেদ ৯০ (খ) তে বলা ছিল যে রাজনৈতিক দলগুলির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব ২০২০ সালের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। ইতোমধ্যে উল্লিখিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোসহ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলই এই শর্ত পূরণে সক্ষম হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে অপরাজিতা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন্ শীর্ষক একটি প্রকল্পের সহায়তায় গঠিত অপরাজিতা নেটওয়ার্ক -ভুক্ত নারীনেত্রীরা উক্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য নতুন একটি সময়সীমা যেন বেঁধে দেওয়া হয়, এবং সে অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলির সকল স্তরে অনতিবিলম্বে ন্যূনতম ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলে যেন যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে, এ দাবী জানিয়ে আসছেন।
এই দাবী নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে তারা কখনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আবার কখনও সংসদ সদস্যদের সাথে সংলাপ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মানববন্ধন। এই মানববন্ধনে অপরাজিতাদের দাবীগুলো ছিলো নি¤œরূপ, রংপুর জেলার প্রধান প্রধান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মূল কমিটিতে নারীদের অবস্থান এখনও অনেক দুর্বল আমরা অতি সত্বর গুরুত্বপূর্ণ পদে – বিশেষ করে সভাপতি, সাধারন সম্পাদক বা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হিসাবে – নারীদের দেখতে চাই। বাংলাদেশে নারীরা প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের মত উচ্চাসনে আসীন হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। তথাপি রাজনীতির অঙ্গনে তাদেরকে প্রায়ই শুনতে হয় যে, তাদের রাজনৈতিক যোগ্যতা কম ফলে মূল কমিটিতে আসতে সময় লাগবে। এই গতানুগতিক অজুহাতের বিপরীতে আমরা চাই সকল স্তরে নারীদেরকে রাজনৈতিক দলগুলিতে ন্যূনতম ৩৩% হারে সম্পৃক্ত করার সক্রিয় উদ্যোগ, এবং আমাদের দাবী হচ্ছে জাতীয় ও ¯’ানীয় সরকার নির্বাচনে নারীদের ৩৩% মনোনয়ন দেওয়ার শর্তও যুক্ত করা।
নারী প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরো সাহসী হতে হবে। আমরা মূলত শুধু সংরক্ষিত আসনে আর নির্বাচন করতে চাই না, বরং সাধারন আসনেও অনেক বেশি হারে নির্বাচন করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি এক্ষেত্রে নারীরা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) নতুন করে সংশোধনের জন্য একটি বিল ইতোমধ্যে সংসদেও চলতি অধিবেশনে উত্থাপিত হয়েছে, এবং তা বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিবেচনাধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব সংশোধনী বিবেচনাধীন রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দল নিবন্ধনে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো। আইন প্রণেতাদের কাছে আমাদের দাবী, এই নতুন সময়সীমার মধ্যে যেন সকল দল উক্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে, এ ব্যাপাওে আরো সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধ্যকতা প্রণয়ন করা হোক। রাজনৈতিক দলের কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সম্মেলনের আয়োজন করা।
আগামী জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন সম্মেলনে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে নারীর অন্তর্ভূক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা বিশ^াস করি আগামী সময়সীমার আগেই সকল রাজনৈতিক দলের সকল কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) নারীদেরকে অন্তর্ভূক্তির ফলে প্রকৃতভাবে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হবে।
















