
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রকল্পের উদ্বোধন দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দাবি ও একনেক সভায় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ১৪ই অক্টোবর শনিবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রংপুরবাসীর পক্ষে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি নুরুল ইসলাম হক্কানী নেতৃত্বে মানববন্ধনে নেতাকর্মীরা বলেন, গত ২ আগস্ট ২০২৩ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লাখো মানুষের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ” তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। যা বিগত সময়ে ভূ-রাজনীতির নানা টানাপোড়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আটকে ছিল।সকল জল্পনাকল্পনার অবসান শেষে, শত প্রতিকূলতার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণা তিস্তা অববাহিকার কোটি মানুষের প্রাণে নতুন স্বপ্ন এবং নতুন আশা সৃষ্টি করেছে।এই ঐতিহাসিক ঘোষণা তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন নেতৃবৃন্দরা। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন,জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় গোটা তিস্তা (ভারত- বাংলাদেশ) অববাহিকার পরিবেশ ওপরিস্থিতি উদ্বেগজনক ।উজানে তিস্তা নদীর ওপর অপরিকল্পিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, বাঁধ নির্মাণ ও খাল কেটে একতরফাপানি প্রত্যাহার করায় পরিস্থিতি হয়েছে বিপদজনক। সিকিমের পাহাড়ের চূড়ার জমাট বরফ বায়ুমন্ডলে উষ্ণতা বৃদ্ধিরকারণে দ্রুত গলে যাচ্ছে। পাহাড়ের প্রকৃতিক হ্রদ সমূহে বাড়ছে জলস্ফীতি। তিস্তা মহাপরিকল্পনার মৌলিকবিষয়টি হবে বর্ষা মৌসুমের পানি,হরকা বন্যার পানি ধরে রেখে পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুসারে তা ব্যবহার করা। তিস্তাপারের লোকজন বলেন, বর্ষাকালেও অনেক সময় তিস্তা শুকিয়ে যায়। তিস্তার বুকে পানি থাকেনা। তিস্তর মূলধারা খনন-খনন ছাড়া বালুর বস্তা বা বালুর বাঁধ দিয়ে পাগলা তিস্তার ভাঙন রোধে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় তিস্তার মূলধারা ড্রেজিং-এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে খনন করা হবে।তিস্তা ব্যারেজের উজানে ১২ কিলোমিটার অংশে জলাধার নির্মাণ, তিস্তার সঙ্গে সংযুক্ত (বর্তমানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন) ও আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদনদী, পুকুর বিলসহ জলাধারগুলোকে তিস্তার সঙ্গে সংযুক্ত করা। তিস্তা ব্যাপক খননের ফলে যে পরিমান মাটি পাওয়া যাবে, তা দিয়ে তিস্তা নদীর দুই ধারে ১৭৪ বর্গ কিলোমিটার কিলোমিটার ভূমি গঠিতহবে।নদীপারের ৫৯৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠবে আধুনিক কৃষি,কৃষি ভিত্তিক কলকারখানা, ইকোপার্ক, ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন, মৎস্যখামার, নবাযত জ্বালানি, স্যাটেলাইট টাউন ও জনবসতি। তিস্তা খননের ফলে ব্রম্মপুত্র দিয়ে যমুনার সঙ্গে সারা বছর একটি নৌ- কানেক্টিভিটি সচল থাকবে।তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থানের বিষ অন্য দেশ থেকে অর্থ গ্রহণে প্রতিবন্ধকতা থাকলে পদ্মা সেতুর মতো নিজের টাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আবেদন জানান। এছাড়াও অভ্যন্তরীণভাবে তিস্তাপারের মানুষ অর্থ সংগ্রহের প্রশ্নে নিজেরাই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। তিস্তা অববাহিকার কোটি মানুষ চাতক প্রতিক্ষায় বসে আছেন প্রাধানমন্ত্রী ঘোষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায়।এবং চলতি অক্টোবর মাসের একনেক বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পের প্রথম ফেজ এর অর্থ বরাদ্দ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বাদশ সংসদনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই প্রকল্প কাজের শুভ উদ্বোধন করবেন। এ কাজটির উদ্বোধন হলে তিস্তা তীরের জনপদের কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রী’র প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবে।













