জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের মিছিলে পুলিশের হামলার অভিযোগ উঠেছে। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে বেধড়ক লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জোটের নেতারা। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকায় মিছিলটি পৌঁছালে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল, সরকারের পদত্যাগসহ সারাদেশে হরতালে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে জীবন বীমা মোড় হয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় জোট নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আহসানুল আরেফিন তিতু জানান, রোববার সন্ধ্যায় একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বর থেকে জীবন বীমা মোড় হয়ে জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা পৌঁছালে পুলিশ পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে। এ সময় নেতাকর্মীদের সাথে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি হামলা করে।হামলায় সিপিবি নেতা রাতুজ্জামান রাতুল, কাফি সরকার, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মেহেদী হাসান, নাহিদ হাসান খন্দকার, নীরব সরকার সাম্য, আবীর ইয়ামান, ছাত্রফ্রন্ট নেতা রিনা মুর্মূ, বাসদ নেতা আব্দুল কুদ্দুস, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আহসানুল আরেফিনসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়।জোট নেতারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিক্ষুদ্ধ নেতারা অবিলম্বে আওয়ামী লীগ সরকারের দ্রুত পদত্যাগ এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিও জানান।এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজার রহমান জানান, মিছিল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি। হামলার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।এদিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখান করে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিন রোববার সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রংপুর কেন্দ্রীয় সিটি বাস টার্মিনাল, কামারপাড়া ঢাকা কোচ স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাত্রী না থাকাসহ নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঢাকা, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার কোনো বাস চলাচল করছে না। তবে দিনে হাতেগোনা কয়েকটি আন্তঃজেলা বাস চলাচল করেছে। এছাড়া অন্যান্য দিনের মতো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা (রাত ৯টা) পর্যন্ত রংপুর নগরীতে হরতালের সমর্থনে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। সকালের মতো সন্ধ্যাতেও নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে। এর আগের দিন শনিবার রাতে হরতালের সমর্থনে নগরীতে মহানগর জামায়াতে ইসলামী ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল মিছিল করেছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও আজ সকালে মহানগর ছাত্রদল নগরীতে মিছিল করেছে। রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জ থানা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আজিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়াও নাশকতা চেষ্টার অভিযোগে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও কর্মী ফারুক মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।রংপুর জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী বলেন, মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এরপরও শহর ও মহাসড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি।