জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে নিখোঁজের ৮ দিন পর রুবেল নামে দশম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার সহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটিন গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে আরপিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন রংপুর মেট্রোপুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন। তিনি জানান, পারিবারিক সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়েই নিহতের ভগ্নিপতি আপেল ও তাঁর বন্ধু মটর সাইকেল মেকানিক্স সোহাগ এঘটনা ঘটায়। রংপুর মহানগরের মাহিগঞ্জ থানাধীন ছোট কল্যানী এলাকায় মোঃ বেলাল হোসেন ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ রুবেল মিয়া (১৫) গত ২ জুন ২০২৪ ইং তারিখ রাত্রী অনুমান ০৯.৩০ ঘটিকার “বড় দরগা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে” কম্পিউটার ক্লাসের জন্য বাড়ি থেকে যাওয়ার পর আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। শিশু ভিকটিম রুবেলের পিতা ও পরিবারের অন্যান্যরা কবেলকে বিভিন্ন আয়গায় খুঁজা খুঁজি করে না পেয়ে ৩ জুন ২০২৪ ইং তারিখ মাহিগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করে (জিডি নং-১২৩, তারিখ-০৩/০৬/২০২৪)। ইতোমধ্যে ৩ জুন ২০২৪ ইং তারিখ দুপুর ১৪.২৬ ঘটিকায় ভিকটিম রুবেলের ব্যবহৃত নম্বর থেকে তার পিতা-মোঃ বেল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোন নাম্বারে একটি কল আসে এবং বলে যে, ১৫,০০০,০০/-(পনের লক্ষ) টাকা দিলে তার ছেলেকে তারা ছেড়ে দেবে। এই সংবাদ পেয়ে আমরা কল সূত্র ধরে অনুসস্থান কার্যক্রম শুরু করে এবং এক পর্যায়ে বিভিন্ন তথা উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা বুঝতে পারি এটি শুধুমাত্র মুক্তিপনের জন্য অপহরণের ঘটনা হয়তো নয় এর পর ভিকটিমের পিতাকে ‘নয়মিত মামলা করার অনুরোধ করলে তিনি গত ৬ জুন ২০২৪ ইং তারিখ অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবীর এজাহার দিলে আমরা মামলা গ্রহণ করি মাহিগঞ্জ থানার মামলা নং-১, তারিখ-০৬/০৬/২০২৪, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/৮/৩০ তৎসহ ৫০৬ পেনালা কোড)। মামলা গ্রহনের পর উৎপল কুমার রায়, বিপি-৮৫১৩১৫৯৪৮৫, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) এর নেতৃত্বে মোঃ আল ইমরান হোসেন, বিপি-৮৮১৭১৯৫২৪৭, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পরশুরাম জোন) ও সুব্রত ব্যানার্জী, বিপি-৬৭৯১০৬০৪১৪, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মাহিগঞ্জ জোন) ও অনন্তকারী কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি তদন্ত তদারক ও সহায়ক টিম গঠন করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তদন্ত তদারক ও সহায়কটিম প্রতিদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তিসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে গত ১০ জুন ২০২৪ ইং তারিখ সময়-১৫.৫৫ ঘটিকার সময় ০১ সোহাগ চন্দ্র মোহন্ত (২৪), পিতা- সাগর চন্দ্র মহন্ত, সাং-ছোট কল্যানী মোদকপাড়া, থানা-মাহিগঞ্জ, রংপুর আটক করে এবং ২। মোঃ হাসান আলী আপেল (৩০), পিতা-মৃত ইয়াছিন আলী, সাং-মহিন্দ্র মধ্যপাড়া, থানা-মাহিগঞ্জ, রংপুরকে গত ১০/০৬/২০২৪খ্রি, ঘটিকার সময়-১৬.২০ ঘটিকায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামীদ্বয় ভিকটিম রুবেলকে অপহরণ খুনের কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তাদের দেখানো মতে মাহিগঞ্জ থানাধীন ০১ নং কল্যানী ইউনিয়ন ছোট কল্যানী মোসকপাড়া খোকন চন্দ্র মহন্ত এর ধানক্ষেত থেকে ভিকটিম রুবেলের অর্ধগলিত মৃত দেহ এবং হত্যার কাজো ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে। আসামীদ্বয়ের জবানবন্দী মোতাবেক আসামী (১) মোঃ হাসান আলীগে আপেল ভিকটিমের আপন বোন জামাই এবং আসামী (২) সোহাগ চন্দ্র মোহন্ত তার পরিচিত অনেকটা বন্ধুর মত। আসামী মোঃ হাসান আলী আপেল ঘরজামাই হিসাবে শশুর বাড়িতেই থাকে। সে মাঝে বিদেশ গিয়ে ফেরত আসে এবং সেখানে সে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এদিকে ভিকটিম তাকে নিজের বাড়িতে সহ্য করেনা এবং বাড়ি থেকে বের করে দিতে বলে। অন্য দিকে আসামী সোহাগ চন্দ্র মোহস্ত ভিকটিমের কাছে ০৫ (পাঁচ) হাজার টাকা পেত সেই টাকার জন্য বেশ কিছুদিন আগে বড়দরগা হাটে ভিকটিমের মোটরসাইকেল আটক করে এবং সে কারণে ভিকটিমের পিতা আসামীকে সবার সামনে চড় থাপ্পর মারে। আসামী ০২ জন পরস্পর ঘনিষ্ট বন্ধুর মত। এই কারণে দুই বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে অপহরণ করে এবং সেই রাতেই অনুমান ১৫.৩০ ঘটিকার দিকেদ মাহিগঞ্জ থানাধীন ০১ নং কল্যানী ইউনিয়ন ছোট কল্যানী মোদকপাড়া খোকন চন্দ্র মহস্ত এর ধানক্ষেত) হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতের মধ্যে কাদা পানিতে ফেলে দেয়। ভিকটিমের হত্যার কাজে আসামী সোহাগ চন্দ্র মোহন্তর বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া দ্য ব্যবহার করে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যার পর আসামী মোঃ হাসান আলীগে আপেল হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা পরিস্কার করে বাড়িতে চলে যায় এবং তার বিছানার নিচে রেখে দেয়। এর ২/৩দিন পর আসামীদ্বয় পরামর্শ করে ভিকটিমের মোবাইল নম্বরে ব্যবহৃত সেট বড়দারগা বাজারস্থ সাগর মোটরসাইকেল সার্ভিসিং সেন্টার এর পিছনে নয়া নদীতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।