সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: September 21, 2024

তামিমকে টপকে শীর্ষে মুশফিকুর রহিম

স্পোর্টস ডেস্ক / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : চেন্নাই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন মুশফিকুর রহিম। এই রেকর্ড গড়ার পথে ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালকে টপকে গেছেন মুশফিক। চেন্নাইয়ে চলমান ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ রান সংগ্রহ করেন। তার আগে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের মালিক হন মুশফিক। ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে মুশফিকের রান ছিল ৪৬৩ ম্যাচে ১৫,১৮৪। ৩৮৭ ম্যাচে ১৫,১৯২ রান নিয়ে শীর্ষে ছিলেন তামিম। গতকাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৮ রানে আউট হয়ে তামিমকে স্পর্শ করেন মুশফিক। আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১তম ওভারের পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে তামিমকে টপকে যান তিনি। এই ইনিংসে ১টি করে চার-ছক্কায় ১৩ রানে আউট হন মুশফিক। ফলে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে মুশির রান এখন ৪৬৪ ম্যাচে ১৫,২০৫। ক্যারিয়ারে ৯১ টেস্টে ৫৯১৩, ২৭১ ওয়ানডেতে ৭৭৯২ এবং ১০২ টি-টোয়েন্টিতে ১৫০০ রান করেছেন মুশফিক। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ৩৮৭ ম্যাচে ১৫,১৯২ রান নিয়ে তালিকার দ্বিতীয়স্থানে নেমে গেছেন তামিম। এই তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছেন সাকিব আল হাসান। ৪৪৬ ম্যাচে ১৪,৭০১ রান করেছেন তিনি। ৪২০ ম্যাচে ১০,৬৯৪ রান নিয়ে চতুর্থস্থানে আছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশের পক্ষে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে অন্তত ১০ হাজার রান করেছেন মুশফিক-তামিম-সাকিব ও মাহমুদুল্লাহ। ১০ হাজারের নীচে সবার উপরে আছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস। এখন পর্যন্ত ২২৪ ম্যাচে ৭১৮৩ রান করেছেন তিনি।

Read More »

নেপাল ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে :জ্বালানি উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : নেপাল থেকে ভারতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পানিবিদ্যুৎ আমদানি করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এ বিষয়ে শিগগিরই নেপাল ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) নেপালের জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ তথ্য জানান।   বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততায় সন্তোষ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। নেপাল এবং নেপালি জনগণের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বাণিজ্য, জ্বালানি, সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।   এ সময় উপদেষ্টা জানান, বিদ্যুৎ আমদানি ও রফতানির চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই নেপাল সফর করবে।   নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দিনটি ২০১৫ সালে একটি গণতান্ত্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধানের ঐতিহাসিক ঘোষণার জন্য স্মরণীয়। তিনি বলেন, ‘এই দিনটি আমাদের দেশপ্রেম, গণতন্ত্র এবং বৈচিত্রের নেপালি চেতনার কথা মনে করিয়ে দেয় এবং নেপালি জনগণের রাজনৈতিক সমস্যা এবং মতপার্থক্য তারা নিজেরাই সমাধান করার ক্ষমতার সাক্ষ্য দেয়।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যখন একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, তখন নেপাল অন্তর্বর্তী সরকার ও জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব ধরনের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানে সংহতি প্রকাশ করছে। ভারতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি শিগগিরই শেষ হবে বলেও দূত উল্লেখ করেন। তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধার জন্য সংযোগ বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে সংহতি ও সহযোগিতার রূপান্তরকারী শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। উল্লেখ্য, জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার ৬ বছর পর বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারত সম্প্রতি ভারত হয়ে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে।

Read More »

বিচার বিভাগে যে কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ খৃ : বিচার বিভাগে যে কোনো প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সারাদেশের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দেয়া অভিভাষণে তিনি আজ এ কথা বলেন।  প্রধান বিচারপতি অভিভাষণে বিচার বিভাগের জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। ১৭ পৃষ্ঠায় দেয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন বিষয় ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।  ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।  প্রধান বিচারপতি শ্রদ্ধার সাথে ২০২৪ সালের গণবিপ্লবে আত্মদানকারী শহিদদের স্মরণ করেন, যাঁরা জাতিকে এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন।  তিনি বলেন, যতদিন বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে ততদিন শহিদ আবু সাঈদ, মীর মাহবুবুর রহমান মুগ্ধ, বাবার কোলে নিহত ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপ, ওয়াসিম আকরামসহ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদকে এদেশের মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী অসংখ্য অকুতোভয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন তিনি।  প্রধান বিচারপতি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের পথ পরিক্রমা পর্যবেক্ষণ করলে দেখতে পাব বাংলার ইতিহাস মূলত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ইতিহাস। বাংলার মানুষের লালিত শাশ^ত ন্যায়বোধের চেতনা বিভিন্ন সময়ে শাসন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিরতিহীন নানা সংগ্রামে অনুরণিত হয়েছে; যার চূড়ান্ত পরিণতিতে লাখো প্রাণের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আসে কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার এক যুগ-সন্ধিক্ষণে আমাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। আমি বিশ^াস করি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন্য যে কঠিন বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব ছাত্র-জনতার এই বিপ্লবের কারণে আমার উপর অর্পিত হয়েছে, সেই দায়িত্ব সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ আপনারা।’ তিনি বলেন,‘বিগত বছরগুলোতে বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ন্যায় বিচারের মূল্যবোধকে বিনষ্ট ও বিকৃত করা হয়েছে। শঠতা, বঞ্চনা, নিপীড়ন ও নির্যাতনের হাতিয়ার হিসাবে বিচার বিভাগকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হচ্ছে মানুষের আস্থা ও বিশ^াস। তাই নতুন এই বাংলাদেশে আমরা এমন একটি বিচার বিভাগ গড়তে চাই যেটি বিচার এবং সততা ও অধিকারবোধ এর নিশ্চয়তার একটি নিরাপদ দূর্গে পরিণত হবে।’  প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন বিচার বিভাগের ছন্দপতন হয়েছিল, কী কী বিষয় এর জন্য দায়ী। এই পথে কী কী প্রতিবন্ধকতা আছে, সেগুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। তারপর আমাদের কাছে কী কী জনসম্পদ ও অবকাঠামোগত সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে তা নতুন করে মূল্যায়ন করতে হবে এবং এই জাতীয় দুর্বিপাক থেকে উত্তরণপূর্বক একটি জনমুখী আইন ব্যবস্থা ও বিচার কাঠামো বির্নিমাণে করণীয় সম্পর্কে একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে হবে।  প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই যে, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান সমস্যা হচ্ছে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ কার্যকররূপে পৃথক না হওয়া। এর কুফল আমরা সবাই ভোগ করেছিলাম গত দেড় দশক ধরে। এছাড়াও আছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব, মামলা অনুপাতে বিচারকের নিদারুণ স্বল্পতা, বার ও বেঞ্চের মধ্যে সহযোগিতার মনোভাবের ঘাটতি, আদালতগুলোর অবকাঠামোগত সংকট, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য নীতিমালা না থাকা, উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ, স্থায়ীকরণ ও উন্নীতকরণের ক্ষেত্রে কোন আইন না থাকা ও প্রথাগত জ্যেষ্ঠতার নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ইত্যাদি বিষয়গুলো ; যা আমাদের বার বার পিছিয়ে দিয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক বিচারব্যবস্থার কাজ হলো নিরপেক্ষভাবে, স্বল্প সময় ও খরচে বিরোধের মীমাংসা নিশ্চিত করে জনগণ, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেয়া। এ জন্য বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ ও আইনসভা থেকে পৃথক ও স্বাধীন করা সবচেয়ে জরুরি। কেননা শাসকের আইন নয়,বরং আইনের শাসন নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের মূল দায়িত্ব। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগ যেন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিচার বিভাগে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। এই সংস্কারের উদ্দেশ্য হবে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে তা দ্রুত দূর করে একটি স্বাধীন, শক্তিশালী, আধুনিক, দক্ষ ও প্রগতিশীল বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন একান্ত আবশ্যক। বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৬ক অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতের বিচারকগণ বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন মর্মে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিচারকদের প্রকৃত স্বাধীনতা ততদিন পর্যন্ত নিশ্চিত হবে না; যতদিন না বিচার বিভাগে দীর্ঘ দিন ধরে বিরাজমান দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ এখতিয়ার সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করে জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি হবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রথম ধাপ। তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা থাকবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদেও বুনিয়াদে সংবিধানের কোনো সংশোধন না করেই শুধুমাত্র রুলস অফ বিজনেস এবং বিচারকদের নিয়োগ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, বরখাস্তকরণ, শৃঙ্খলা বিধান ইত্যাদি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি প্রণীত যে সকল বিধিমালা প্রচলিত রয়েছে সেগুলোতে প্রদত্ত ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ’ এর সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে সেখানে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এর সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করলেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় তথা বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পথে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, জেলা আদালতসমূহের বাজেট বরাদ্দের বিষয়টিও তখন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় হতেই নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় এর ন্যায় বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, শীঘ্রই তা আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবো। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা এবং আইন উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধান বিচারপতি। বর্তমান সময়ই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের শ্রেষ্ঠ সময় বলে গুরুত্বারোপ করেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পর বিচার বিভাগে গুণগত পরিবর্তন আনয়নে অন্যতম কাজ হবে বিচারকগণের যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করা। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে কর্মরত বিচারকদের মধ্য থেকে সৎ, দক্ষ, স্বাধীন মনোভাব ও নেতৃত্বদানের গুণাবলী সম্পন্ন উপযুক্ত বিচারকদের নিয়ে প্যানেল বা ফিট লিস্ট তৈরি করে সে প্যানেল থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান, যেমন-জেলা জজ, দায়রা জজ, সিজেএম, সিএমএম পদে নিয়োগ প্রদানের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে বিচারকগণের পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো ঘোষিত নীতিমালা নেই। ফলে পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক সময়ই বিচারকগণ বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়ে একটি যথোপযুক্ত নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন করা হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রেই রাজনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হিসেবে পালন করেছে। এটি ন্যায় বিচারের ধারণার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।  প্রধান বিচারপতি বলেন, স্বাধীন বিচার

Read More »

বিচার বিভাগকে হয়রানি সংস্কৃতি বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে : আইন উপদেষ্টা  

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :   ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খৃ : অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সারাদেশের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দেয়া অভিভাষণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি আজ এ কথা বলেন। আইন উপদেষ্টা বলেন, আমরা প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা ঢালাও মামলা ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করা এবং মানুষের জীবন জীবিকাকে নিশ্চিহ্ন করা থেকে বেরুতে চাই। বিচার বিভাগ ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে বিচার বিভাগ থেকে অনেক অবিচার হয়েছে। মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়ে অসংখ্য মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। বিচার বিভাগ থেকে যেন আর কোনো অবিচার না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের উদ্দেশ্যে ড.আসিফ নজরুল বলেন, বিচারপতিদের কাছে মানুষ বিচার চাইতে আসে। তারা বিব্রতবোধ করেন। কেন বিব্রতবোধ করেন আপনি? বিব্রতবোধ করবেন যখন আপনার ভাই-বোন বিচার চাইতে আসে। বিচারপ্রার্থী মানুষ কোথাও বিচার না পেয়ে আপনার কাছে এসেছে। আপনি কীভাবে বিব্রতবোধ করেন? বিচার করা বিচারপতিদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। আবেদন প্রয়োজনে শুনে রিজেক্ট করে দেন। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের এক মামলার প্রসঙ্গ টেনে আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আর্জি গ্রহণ করতে বিব্রতবোধ করেছিলেন বিচারপতি। কেন করেছিলেন। এটা দায়িত্ব না? এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব না? আপনি শুনে রিজেক্ট করে দেন। সমস্যা নেই। আপনি শুনবেনই না, এটা তো হতে পারে না। আদালতে বিচার প্রার্থী যাতে হামলার শিকার না হন সে আহ্বান জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, মামলা হওয়া মানেই অপরাধী নয়। কোন আসামি বা বিচারপ্রার্থীর উপরে যেন কোন হামলার ঘটনা না ঘটে। এরূপ পরিস্থিতি এড়াতে বিচারকগন বার নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিতে পারেন। ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের বিচার বিভাগ অনেক বড় বড় কাজ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন উদাহরণও তুলে ধরেন। আইন উপদেষ্টা বলেন, নিম্ন আদালতে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে গেলে অনেকগুলো পরীক্ষা দিয়ে তাকে সে নিয়োগ পেতে হয়। উচ্চ আদালতেও বিচারক নিয়োগে সেই প্রক্রিয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বিভিন্ন বৈষম্য নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই উপমহাদেশে কোন ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারি সরকারকে উৎখাতে এতো মানুষের প্রাণ দিতে হয়নি। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। অসংখ্য মানুষ মারাত্মক আহত হয়েছেন। দৃষ্টিহীন ও পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়েছে অনেককে। আইন উপদেষ্টা বলেন, শ্রীলঙ্কায় স্বৈরাচারী  সরকারকে হঠাতে মাত্র নয়জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বাংলাদেশেও এর আগে নয় বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারকে হঠাতে ২৬ জনকে প্রাণ দিতে হয়েছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিষ্ট সরকারকে হঠাতে হাজারো মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা আরো মানুষ হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলো। আইন উপদেষ্টা বলেন, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। আহতদের কাছে তাদের ওপর পরিচালিত নির্মমতার বক্তব্য শুনে হতবাক হয়েছেন আইন উপদেষ্টা। আন্দোলন চলাকালীন আহতরা যেন কোন চিকিৎসা নিতে না পারে সে বিষয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছিল তখন। আইন উপদেষ্টা বলেন, গায়েবি মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি এই অন্তর্বর্তী সরকার সমর্থন করে না। ঢালাওভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করার সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। এক্ষেত্রে বিচারকদের দেখতে হবে অযথা নাগরিকরা যেন হয়রানি না হয়। অন্তর্বর্তী সরকার মেধা, যোগ্যতা ও সততাকে মূল্যায়ন করে উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি নিয়োগ তার বড় প্রমাণ। ছাত্র-জনতার আন্দলোনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিচারকদের পক্ষ থেকে বক্তৃতা রাখেন নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ মন্ডল ও খুলনার জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন। তারা দেশব্যাপী নিম্ন আদালতে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সংস্কারের পরামর্শও তুলে ধরেন। অভিভাষণ অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম রব্বানী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা ও সারাদেশ থেকে আসা দুই হাজার বিচারক উপস্থিত ছিলেন। প্রধান বিচারপতি অভিভাষণে বিচার বিভাগের জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন।  ১৭ পৃষ্ঠায় দেয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন বিষয় ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।   

Read More »