সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: April 3, 2025

৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ তদন্তের জন্য ডাটা এন্ট্রি চলছে : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা

  সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেছেন, ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ তদন্তের জন্য ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে। তিনি বলেন,  ‘এপর্যন্ত ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে ৪০ হাজার ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেছে। ৫০ হাজার ডাটা এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এখন সেগুলো যাছাই-বাছাই করছে।’ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক- ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৫ আগষ্ট দিবাগত মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ১৬ আগস্টের ভোর রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে পরিচালিত নৌ গেরিলা অপারেশন ‘জ্যাকপটের’ ডেপুটি কমান্ডার। দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ও নৌ বন্দরগুলো থেকে পাকিস্তানি সেনাদের বিতাড়িত করে মুক্তাঞ্চল করার এই যুদ্ধ অপারেশন জ্যাকপট। ওই সময় অপারেশন জ্যাকপটের খবর দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করার কারণে সেদিন রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধারা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য দ্বিগুণ উৎসাহ-উদ্দীপনায় যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল। অপারেশন জ্যাকপট ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন। এটি ছিল একটি আত্নঘাতি অপারেশন। এই অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানি অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্যকারী অনেক বিদেশী জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব সারাবিশ্বে পরিচিতি পায়।  মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস’র সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। কথা বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, যুদ্ধে যাবার স্বপ্ন, বিজয় অর্জন নিয়ে। শুনেছেন মেজর জিয়ার কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। বলেছেন, সেই স্বপ্ন এবং বর্তমানের বাস্তবতা দেখলে কষ্ট পাই। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ফেরিওয়ালাদের রাজনৈতিক বাণিজ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি সহ সামগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় রাজনীতির রঙে রঙ্গীন করা হয়েছে। এখনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। দারিদ্র, নারী অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মতো মৌলিক বিষয় নিয়ে সংগ্রাম করতে হয়।    মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাসস প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছি বিবেকের তাড়নায়। সেদিন ২২ বছরের এই যুবক যুদ্ধে গিয়েছিল পাকিস্তানি শাসকের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে। স্বপ্ন ছিল স্বাধিকারের। স্বপ্ন ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার। বাঙালির সামাজিক মর্যাদার। কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলাম না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসাবে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এসএসসি পাশের পর বাড়ী থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম কাজের সন্ধানে অচিন এলাকা খুলনায়।  মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে তো সেই সময়ের প্রেক্ষাপট এখন উপস্থাপন করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। সেটা একটা উত্তাল গণ আন্দোলনের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা স্বাধীকারের চেতনা। পাকিস্তানীদের বাঙালি বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা পুঞ্জীভুত ক্ষোভ ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ৭০এর নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। তখন মনে করেছিলাম পাকিস্তান রাষ্ট্র শাসনের অধিকার পাবে বাঙালি। কিন্তু নানা তালবাহানায় এই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব না দিয়ে পুর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে শোষণের শঙ্কা জাগিয়ে তুললো পশ্চিম পাকিস্তানিরা।  ফারুক ই আজম বলেন, ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাশ করার পর বুঝলাম কলেজে পড়া হবেনা। ওই বছরের আগস্ট মাসে পরিবারের অগোচরে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাত্র ৫০ টাকা সম্বল করে  খুলনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে বাড়ি ছাড়লাম। তখন খুলনায় আমাদের বাড়ির কয়েকজন চাকরি ও ব্যবসা করতেন। ধারণা করেছিলাম, তাদের কাছে গেলে চাকরি পাব। সেখানে পৌছে খুলনায় ইস্টার্ণ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট নামের একটা জলপরিবহন কোম্পানিতে সুপারভাইজার এর চাকরি পেলাম। সেখানেই ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত চাকরি করেছি। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ হাজার হাজার জনতার সঙ্গে আমিও খুলনার হাদিস পার্কে গেলাম। আলোচনা হচ্ছিল, ঢাকার রেসকোর্স থেকে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা শোনা ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নেই আমাদের। যেহেতু ৭ মার্চের ভাষণ তাৎক্ষণিক শুনতে পাইনি, তাই বিভিন্ন আলোচনার ঢালপালা গজাচ্ছিল।  কেউ বলেছে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, কেউ বললো করেনি। পরদিন সকালে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত ভাষণটি শুনতে পাই। এর কয়েকদিন পর আজম খান কলেজের পাশে পাকিস্তানীদের নির্মমতা  দেখতে পাই। গুলি করে হত্যা করা ৭/৮ জনের লাশ দেখতে পেলাম।  ফারুক ই আজম বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সকাল দশটা থেকে তিন ঘন্টার জন্য কারফিউ শিথিল হলে আমরা তিন বন্ধু কাঞ্চন, মোহাম্মদ হেনে ও আমি মুন্সিপাড়া ইসলাম সাহেবের বাড়ির দিকে গেলাম। সেখানে খান জাহান আলী রোডের একটি গলির মুখে ৭/৮ টি লাশ দেখতে পেলাম। বিকেলে মৌলভী পাড়ার গলিতে ঢুকলাম। সেখানে চামড়ায় বাধানো ট্রানজিস্টারে ক্ষিণ কন্ঠে শুনতে পেলাম স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চট্টগ্রাম থেকে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি, …বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য, বিডিআর,পুলিশ দখলদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। সর্বত্র তাদের  সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। আমি বিশ্বের সব দেশ ও সরকারকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সাহায্যে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’  ফারুক ই আজম বলেন, প্রায় দুই শতাধিক লোক আমরা জড়ো হয়ে নীরব নিস্তব্ধতায় একজন বাঙালি সেনা মেজরের মুখে বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতার ঘোষণা শুনলাম এবং যুদ্ধে যাবার আহ্বান শুনে আমাদের মধ্যে বীরত্বের শিহরণ হয়ে গেল। আমার ওই সময় অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চট্টগ্রামে আমার জন্মানোর সার্থকতায় গর্ববোধ করলাম। এই চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা। ওই মুহুূর্তে শপথ নিলাম, যে করেই হোক চট্টগ্রাম যাব এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেব। কারফিউ চলছে। ব্যাচেলর বাসা থেকে স্থানীয় তাহের সাহেবের বাসায় তিন বন্ধু উঠলাম। কারফিউ শিথিল হলে অফিসে যাই। তখন থেকেই চট্টগ্রাম ফেরার সুযোগ খুজঁতে থাকি। একদিন জাহাজে চড়লাম এবং চট্টগ্রাম ফিরে আসলাম। তিনি বলেন, ৭১ সালের মে মাসের ৫ তারিখে ২৮ জনের একটি দল রামগড় হয়ে ভারতে যাবার জন্য বাড়ি ছাড়লাম এবং ভারতের সাবরুম হয়ে হরিণা ক্যাম্পে পৌছঁলাম। ওখানে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াকে দেখার খুব ইচ্ছে হলো। শুনলাম তিনি আগরতলা গেছেন। বিকেলে আমাদের নৌ যুদ্ধের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। সেখানে দেখা হয় ক্যাপ্টেন রফিকের সাথে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কমান্ডার জি, মার্টিসের নেতৃত্বে ১ জুন থেকে ভাগিরথি নদীতে জাহাজ বিধ্বংসী মাইন, নোঙ্গরের শিকল কাটা, পানির নিচে বিস্ফোরকের প্রশিক্ষণ আমাদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং করানো হলো। ফারুক ই আজম বলেন, আগস্ট মাসের এক তারিখে পলাশি রেস্ট হাউস কাম জাদুঘরের সামনে আমাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। প্রশিক্ষণের প্রধান কমান্ডার সামান্তা আমাদের মধ্য থেকে পূর্ব পাকিস্তানের সব নদী ও সমুদ্র বন্দরের জন্য কমান্ডো দল বাছাই করেন। আমি চট্টগ্রামের জন্য বাছাই করা ৬০ জনের দলের অন্তর্ভুক্ত হলাম। দলের অধিনায়ক মনোনীত হলেন আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী। তিনি ফ্রান্স থেকে পালিয়ে আসা নাবিকদের একজন ছিলেন। তার ডেপুটি কমান্ডার হলেন শাহ আলম নামে চট্টগ্রাম মেডিকেলের একজন ছাত্র। চট্টগ্রামের দলকে ২০ জন করে তিন ভাগে ভাগ করা হলো। বিভক্ত বিশজনের একটি দলে শাহ আলম অধিনায়ক এবং তাঁর ডেপুটির দায়িত্ব পাই আমি। এভাবে মংলা, খুলনা, চাঁদপুর সহ দেশের নদী ও সমুদ্র বন্দরের জন্য নৌ কমান্ডো দল ঠিক করা হয়। তিনি বলেন, ১১

Read More »

তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৩ এপ্রিল, ২০২৫ খৃ. প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই কেবল টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।’ আজ বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কী-নোট স্পিকার ছিলেন।  এই প্রজন্মের তরুণরা পৃথিবীর যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রজন্ম অভিহিত করে অধ্যাপক ইউনূস তাদেরকে শুরুতে বা ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা চালু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘তুমি একবারে রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। তাই ছোট পরিসরে শুরু করে পরিবর্তনের সূচনা কর।’ তরুণদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘শুরুতে বড় পরিসরে ব্যবসা চালু করা ভুল পথ।’ তিনি সকলের জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তরুণদের সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আহবান জানান। ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

Read More »

ট্রেনের ছাদে ও বাফারে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ – রেলপথ মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ২০ চৈত্র (৩ এপ্রিল): দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ‘ট্রেনের ছাদে ও বাফারে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ ও আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা এমনকি প্রাণহানি ঘটতে পারে। সম্মানিত যাত্রী সাধারণকে ট্রেনের ছাদে ও বাফারে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেলসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিম্নোক্ত বার্তাটি তাৎখনিক প্রচারের জন্য।

Read More »

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে — উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে — উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ঢাকা, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোঃ মাহফুজ আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ে মানবাধিকার সংগঠন মায়ের ডাক-এর উদ্যোগে গুমের শিকার মানুষের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এ কথা বলেন।  পতিত সরকারের শেখ হাসিনার সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, তিনি গুম-খুন করে তার বাবা-মায়ের হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে মানুষ যখন ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করছিলেন, তখনই সবচেয়ে বেশি গুম করা হয়েছিল। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস করা। মাহফুজ আলম বলেন, সরকার ইতোমধ্যে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী গুমের সঙ্গে জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান।  বিগত সরকারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা বলেন, যারা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতা করেছেন, তাদের সন্ত্রাসী ও জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে গুম করা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের আতঙ্কগ্রস্ত করা হয়েছে। গুমের কাজে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবহার করা হয়েছিল।  উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা এখনো ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে এদেশে আর রাজনৈতিকভাবে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিলেই আবার দেশে গুম-খুনের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তাদের এই সুযোগ দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনা মানুষের যেসব মানবাধিকার কেড়ে নিয়েছিলেন, সেসব হারানো মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। উপদেষ্টা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।  মতবিনিময় সভায় গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন এবং গুম হওয়া স্বজনদের সন্ধান চান। তথ্য সুত্রে.

Read More »

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ নামে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০২৫ খৃ. – বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ নামে অভিহিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিব সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হবেন। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব সরকারের সিনিয়র সচিবের সমমর্যাদা ও সুবিধাদি ভোগ করবেন। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একজন সচিব এবং অন্যনা কর্মকর্তা ও কর্মচরীগণের সমন্বয়ে গঠিত হবে। খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ যথাযথরূপে পালনের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক এবং এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তসমূহ সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগ এর পৃথকীকরণকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন এই অধ্যাদেশের বিধানাবলি প্রাধান্য পাবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি সচিবালয় থাকবে এবং তা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নামে অভিহিত হবে। এই সচিবালয়ের কার্যাবলী বিষয়ে বলা হয়েছে, দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা প্রদান করার নিমিত্ত অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল সাচিবিক দায়িত্ব পালন, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন সাপেক্ষে রাজস্ব আদালতসমূহ ব্যতীত হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রাণাধীন দেশের সকল অধস্তন দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, এখতিয়ার, ক্ষমতা ও গঠন নির্ধারণ, হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ন্ত্রাণাধীন সকল আদালত বা ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ ও চাকুরির শর্তাবলী নির্ধারণ করবে এই সচিবালয়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়, অধস্তন আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বাজেট ব্যবস্থাপনা, অধস্তন আদালত এবং বিচারকগণের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ, অধস্তন আদালতের বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করবে এই সচিবালয়। বিচার বিভাগের এই স্বতন্ত্র সচিবালয় বিচার সেবার মানোন্নয়ন ও বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা, অন্যান্য দেশের বিচার বিভাগীয় সংস্থা, সাংবিধানিক আদালত এবং বিচার বিভাগ ও মানবাধিকার সম্পৃক্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে সম্মতি স্মারক সম্পাদন ও সহযোগিতা প্রদান করবে। প্রাসঙ্গিক কোন আইনের অধীনে অর্পিত যে কোন দায়িত্ব পালন করবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্য পদ্ধতি বিষয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সরকারের যে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা অফিসের সঙ্গে অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে। কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সাথে কোনো বিষয়ে যোগাযোগের প্রয়োজনবোধ করলে সরাসরি সচিবের সাথে বা তার দায়িত্ব পালনরত অপর কোনো কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবে। প্রধান বিচারপতি বিধি বা স্থায়ী আদেশ দ্বারা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার ব্যবস্থা করতে পারবেন। বিচার প্রশাসন সংক্রান্ত কমিটি বিষয়ে খসড়ায় বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগীয় নীতি নির্ধারণ, কর্মকৌশল উদ্ভাবন এবং দেশের বিচার প্রশাসনকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতির সমন্বয়ে নির্দিষ্ট মেয়াদ উল্লেখপূর্বক বিচার প্রশাসন সংক্রান্ত এক বা একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবেন। কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য কমিটির সভাপতি হবেন। কমিটি তার নিজস্ব কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে। কমিটি তার কর্মকান্ড সম্পর্কে সময়ে সময়ে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করবে। সচিবালয়সহ দেশের বিচার প্রশাসনের সকল প্রশাসনিক ব্যয় সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে সরকার কর্তৃক বাৎসরিক বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে ব্যয় করার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা আবশ্যক হবে না। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় অনুমোদনে প্রধান বিচারপতি চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হবেন। তবে প্রধান বিচারপতি আদেশ দ্বারা আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব বা অন্যান্য কর্মকর্তাগণের নিকট হস্তান্তর করতে পারব

Read More »