সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: May 5, 2025

শাপলা চত্বরে গণহত্যার বিচারের দাবিতে রংপুরে ছাত্র শিবিরের মানববন্ধন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ মে) বেলা ১২টায় রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখার আয়োজনে ঘন্টাব্যাপি এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বাংলাদশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি নুরুল হুদা বলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে রাতের আঁধারে অসংখ্য আলেমকে খুন করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে হত্যা সংঘটিত হলেও এখনও বিচারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যার বিচার না হওয়ায় আন্দোলনের নায়ক হাসনাত আব্দুল্লার ওপর যেভাবে আক্রমণ হচ্ছে তা ভয়াবহ ইঙ্গিত দেয়। এ জন্য পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদকারীদের গুলি করে হত্যা, ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে স্বাধীন কমিশন গঠন করার দাবি জানান তিনি। বাংলাদশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর মহানগর শাখার সেক্রেটারি আনিসুর রহমান বলেন, আমরা শাপলা চত্বর ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। ভারতীয় ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী দালালদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশে ফ্যাসিস্টদের কোনো স্থান হবে না। এ সময় আরও বক্তব্য দেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি সোহেল রানা, জেলা সেক্রেটারি হামিদুল ইসলাম, মহানগর প্রচার সম্পাদক আতিকুজ্জামান আতিক, কারমাইকেল কলেজ সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ।

Read More »

রংপুরে কর্মবিরতি পালন করেছে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রীম কোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় করতঃ অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মচারীগণকে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারী হিসেবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন ভাতা প্রদান’সহ বিদ্যমান জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের ১ম-৬ষ্ঠ গ্রেডের পরবর্তী ৭ম-১২তম গ্রেডভুক্ত করা এবং বিদ্যমান ব্লকপদ বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী পদ সৃজনপূর্বক যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ রেখে স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি প্রণয়নের ২ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি পালন করেছে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন। সোমবার (০৫ মে) বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন রংপুর জেলা শাখার আয়োজনে কোট চত্বরে সকাল সাড়ে ৯টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত কর্মবিরতি পালন করা হয়। কর্মবিরতি চলাকালে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর শুধুমাত্র বিচারকগণের জন্য ৬টি গ্রেড রেখে পৃথক পে-স্কেলসহ নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সহায়ক কর্মচারীগণকে উক্ত পে-স্কেলের আওতাভুক্ত করা হয়নি। বিচারকগণের সাথে আদালতের সহায়ক কর্মচারীগণ কাজ করা সত্ত্বেও জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-স্কেলের আলোকে বিচারকগণের বেতন-ভাতাদি প্রদেয় হলেও সহায়ক কর্মচারীগণ জনপ্রশাসনের আলোকে বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। বিচারকগণের অন্য বিচারিক ভাতা, চৌকি ভাতা, ডিসেম্বর মাসে দেওয়ানি আদালতের অবকাশকালীন (ডিসেম্বর মাস) দায়িত্ব ভাতাসহ ফৌজদারি আদালতে দায়িত্ব পালনের জন্য এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও বিচার সহায়ক কর্মচারীগণকে অনুরূপ কোনো ভাতা প্রদান করা হয়না। এক কথায় বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর বিচারকগণের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হলেও সম্পূর্ণরুপে বঞ্চিত করা হয়েছে সহায়ক কর্মচারীগণকে। দীর্ঘ ১৮ বছর বৈষম্যোর জাতাকলে পিষ্ট হয়ে ২০২৪ এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকারের বৈষমাহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো, তাতে করে এসোসিয়েশন আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের অভাবনীয় উদ্যোগকে স্বাগত অনিয়ে সরকার কর্তৃক গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাথে এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করে দাবী উপস্থাপন করা হয়। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এসোসিয়েশনের পেশকৃত দাবী যৌক্তিক হিসেবে সহমত পোষণ করলেও অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিকট প্রদানকৃত তমিশন কর্তৃক প্রতিবেদনের সুপারিশে অধান আদালতের সহায়ক কর্মচারীগণকে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারী হিসাবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন-ভাতানি প্রদানের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি। অধিকন্তু আদালতের কর্মচারীগণের পদোন্নতির সুযোগ যেখানে একবারেই সীমিত, সেখানে এই পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করতে অধস্তন আদালতের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণকে পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এরূপ প্রস্তাবনায় অধস্তন আদালতের কর্মচারীগণের পদোন্নতির ক্ষেত্রকে আরো সংকোচিত করবে। অনেক কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে একই পদে ৩৮/৪০ বছর চাকুরী করেও পদোন্নতি বঞ্চিত থেকে অবসরে যাচ্ছেন, যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গের একটি বিচার বিভাগ, আর সেখানেই বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারীগণ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও নিষ্পেষিত। এমন পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারীগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার উপক্রম। রংপুর জেলা থেকে আজকের কর্মবিরতির মাধ্যমে সদাশয় সরকারের নিকট এসোসিয়েশনের দুই দফা দাবী বাস্তবায়নে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে রংপুর জেলা কমিটি প্রস্তুত। কর্মবিরতিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন রংপুর জেলা শাখার সভাপতি ওবায়দুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আখিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, সদস্য মাহফুজার রহমান, রুহুল আমীনসহ প্রমূখ। এ সময় বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের সকল সদস্যসহ কোর্টের সেরেস্তাদার, নাজির, বেঞ্চ সহকারিরা উপস্থিত ছিলেন

Read More »

রংপুরে সবজি ন্যায্য মূল্যে মিলবে নিরাপদ সবজি, কৃষি বাজার অ্যাপস উদ্বোধন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিরাপদ ফসল উৎপাদন, ন্যায্য মূল্যে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সুস্থ্য জাতি গঠনের লক্ষ্যে রংপুরে কৃষি বাজার মোবাইল অ্যাপসের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এর উদ্বোধন করেন রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সাসটেনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন নাইস প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মোশফেকুল আলম তালুকদার, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টাফ অফিসার ডা. মো. আখতাররুজ্জামান শুভ, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক নাজমুল আলম নাজু, কৃষি বাজার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গাওসুল আজম টুটুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নাইস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সোহেল আহমেদ, নিরাপদ সবজি উৎপাদনকারী কৃষি উদ্যোক্তা আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রশিদ, অরুণ কুমার রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভোক্তাদের কাছে নিরাপদ সবজি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কৃষি বাজার অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে একজন ভোক্তা বাড়িতে বসেই শাক-সবজি অর্ডার করতে পারবেন। সেই সাথে নিরাপদ সবজি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে রংপুর নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে ২৪টি ভ্যানের মাধ্যমে শাক-সবজি বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া চুক্তি ভিত্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরাপদ শাক-সবজি উৎপাদন এবং তা ন্যায্য মূল্যে বিক্রি নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা সকলে নিরাপদ পণ্য সব সময় চাই। কৃষি বাজারের চুক্তিভিত্তিক কৃষকরা নিরাপদ সবজি উৎপাদন করে তা অ্যাপে এবং ভ্যানে করে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে। এতে করে আমাদের নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি নিশ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে কৃষকরাও তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে। আমরা এই মডেল পুরো জেলায় ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাব। কৃষি বাজার লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান গাওসুল আজম টুটুল বলেন, আমাদের চুক্তিভিত্তিক ৫০ জন কৃষক নেতা রয়েছে। তাদের আওতায় ৫০ থেকে দেড়শো কৃষক রয়েছে। কৃষক নেতারা অন্যান্য কৃষকের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদন, প্রশিক্ষণ ও মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে তা বিক্রির ব্যবস্থা করে থাকেন। আমরা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিক্রির যে চেইন রয়েছে, সেটি তৈরি করে দিয়েছি। আগামীতে ভোক্তারা কৃষি বাজার অ্যাপের মাধ্যমে কেনা সবজিতে কতটুকু সার দেওয়া হয়েছে, কিভাবে উৎপাদন হয়েছে তা দেখতে পারবে। আমার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন নাইস প্রকল্প এবং ইএসডিও’র সহায়তায় কৃষি বাজার লিমিটেড আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তা, সবজি বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অন্তত তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন ও আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা মোবাইল ভ্যানে থাকা নিরাপদ সবজি পরিদর্শন করে বিক্রেতা এবং ভোক্তাদের সাথে কথা বলেন। এসময় বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোক্তা সাধারণ কৃষি বাজারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সবজি সরবরাহে পুরো নগরজুড়ে মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমে শাক-সবজি বিক্রির এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

Read More »

তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গণপদযাত্রা আমরা বকসীস ভিক্ষা চাই না: পানির হিস্যা চাই…রংপুরে মির্জা আব্বাস

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: আমরা ভারতের কাছে পানি ছাড়া অন্য কিছু চাই না। আমরা বকসীস চাই না, ভিক্ষা চাই না। আমরা হিসাবের পাওনা চাই। আমাদের হিসেবের পাওনা দিতে হবে। আজকে না হলে কালকে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রোববার (৪ মে) বিকেলে তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গণপদযাত্রার পূর্বে নগরীর শাপলা চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। মির্জা আব্বাস বলেন, পানি কখনও মারনাস্ত্র হতে পারে না। পানি কখনও যুদ্ধের অস্ত্র হতে পারে না। একমাত্র ভারত বিশ্বে দেখিয়ে দিলো, পানি তারা যুদ্ধের ও মারনাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে ভারতের অনেক কিছু আছে। আমাদের কাছে ভারতের অনেক পোর্ট আছে। মংলা পোর্ট আছে, চট্রগ্রামে আছে। আমরা এগুলো হিসেব করবো। হিসেব করার সময় এসেছে। আমাদের তিস্তার পানি দিতে হবে। ফারাক্কার পানি চাই। দিতে হবে। যেখানে যেখানে পানি দরকার সেখানে সেখানে পানি দিতে হবে। শুধুমাত্র সরকারের অপেক্ষায় আছি। কিছুদিন আগে যে সরকার ছিলো, তারা সরকারে থাকার ইচ্ছে থেকে ভারতের সাথে এসব হিসেব করেন নাই। বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা অনেক আগেই পানির ন্যায্য হিস্যা পেতাম। যদি হাসিনার মতো একটা সন্ত্রাস সরকার না আসতো। এই পানি তারা ভারতের কাছে কিছু বলতে পারে নাই। এসময় তিনি আসাদুল হাবীব দুলুকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “দুলু উত্তরবঙ্গের একজন প্রতিবাদী মুখ। একজন কৃতি সন্তান। তাই দুলু তুমি সাবধানে থাকবে। কেননা ভারত কখনও এই ধরণের প্রতিবাদি মুখ সহ্য করতে পারে না। ইতিপূর্বে শুধুমাত্র সুরমা নদীর বাধের জন্য আমাদের ইলিয়াছ আলীকে গুম করা হয়েছে। মির্জা আব্বাস এসময় তিস্তা নদী নিয়ে আন্দোলনের আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং তিস্তা আন্দোলন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই আন্দোলনের সাথে থাকার অঙ্গিকার করেন। গণপদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক ভরসাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে এই গণপদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১ টার পর থেকেই তিস্তা নদী বেষ্টিত বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে লোকজন আসতে শুরু করে। সময় যত বাড়ে লোকজনের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই” শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর এলাকা। সব শ্রেণিপেশার মানুষের যেন জনশ্রোত। এসময় বন্ধ হয়ে যায় সকল সড়কে যানবাহন। নগরীর প্রধান সড়কে তিস্তা বাচাই আন্দোলন গণপদযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষ। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন আয়োজিত এ গণপদযাত্রা রংপুর নগরীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পদযাত্রাটিকে এক গণআন্দোলনে রূপ দেয়। এই গণপদযাত্রায় তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড ও ব্যানার হাতে অংশ নেন নদীপারের মানুষসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এর আগে ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে তিস্তাপারের মানুষজন ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি দু’দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ শ্লোগানে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে পাঁচ জেলার ১১ পয়েন্টে তাঁবু খাটিয়ে একই সময়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাপনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে সবগুলো পয়েন্টে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ব্যতিক্রমধর্মী এই কর্মসূচিতে পাঁচ জেলার লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেন। এরপরেও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন পর্যন্ত বিষয়টি আমলে নেয়নি।

Read More »