জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রীম কোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় করতঃ অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সহায়ক কর্মচারীগণকে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারী হিসেবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন ভাতা প্রদান’সহ বিদ্যমান জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের ১ম-৬ষ্ঠ গ্রেডের পরবর্তী ৭ম-১২তম গ্রেডভুক্ত করা এবং বিদ্যমান ব্লকপদ বিলুপ্ত করে যুগোপযোগী পদ সৃজনপূর্বক যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ রেখে স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি প্রণয়নের ২ দফা দাবীতে রংপুরে কর্মবিরতি পালন করেছে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন।
সোমবার (০৫ মে) বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন রংপুর জেলা শাখার আয়োজনে কোট চত্বরে সকাল সাড়ে ৯টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সর্বাত্মক শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত কর্মবিরতি পালন করা হয়। কর্মবিরতি চলাকালে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক হয়। বিচার বিভাগ পৃথক হওয়ার পর শুধুমাত্র বিচারকগণের জন্য ৬টি গ্রেড রেখে পৃথক পে-স্কেলসহ নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও সহায়ক কর্মচারীগণকে উক্ত পে-স্কেলের আওতাভুক্ত করা হয়নি।
বিচারকগণের সাথে আদালতের সহায়ক কর্মচারীগণ কাজ করা সত্ত্বেও জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-স্কেলের আলোকে বিচারকগণের বেতন-ভাতাদি প্রদেয় হলেও সহায়ক কর্মচারীগণ জনপ্রশাসনের আলোকে বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। বিচারকগণের অন্য বিচারিক ভাতা, চৌকি ভাতা, ডিসেম্বর মাসে দেওয়ানি আদালতের অবকাশকালীন (ডিসেম্বর মাস) দায়িত্ব ভাতাসহ ফৌজদারি আদালতে দায়িত্ব পালনের জন্য এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ ভাতা প্রদানের বিধান থাকলেও বিচার সহায়ক কর্মচারীগণকে অনুরূপ কোনো ভাতা প্রদান করা হয়না।
এক কথায় বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের পর বিচারকগণের জন্য কিছু সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হলেও সম্পূর্ণরুপে বঞ্চিত করা হয়েছে সহায়ক কর্মচারীগণকে। দীর্ঘ ১৮ বছর বৈষম্যোর জাতাকলে পিষ্ট হয়ে ২০২৪ এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকারের বৈষমাহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো, তাতে করে এসোসিয়েশন আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের অভাবনীয় উদ্যোগকে স্বাগত অনিয়ে সরকার কর্তৃক গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সাথে এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করে দাবী উপস্থাপন করা হয়।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন এসোসিয়েশনের পেশকৃত দাবী যৌক্তিক হিসেবে সহমত পোষণ করলেও অন্তবর্তীকালীন সরকারের নিকট প্রদানকৃত তমিশন কর্তৃক প্রতিবেদনের সুপারিশে অধান আদালতের সহায়ক কর্মচারীগণকে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারী হিসাবে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলের আলোকে বেতন-ভাতানি প্রদানের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব রাখা হয়নি। অধিকন্তু আদালতের কর্মচারীগণের পদোন্নতির সুযোগ যেখানে একবারেই সীমিত, সেখানে এই পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করতে অধস্তন আদালতের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণকে পদায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এরূপ প্রস্তাবনায় অধস্তন আদালতের কর্মচারীগণের পদোন্নতির ক্ষেত্রকে আরো সংকোচিত করবে। অনেক কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়াই আক্ষেপ ও হতাশা নিয়ে একই পদে ৩৮/৪০ বছর চাকুরী করেও পদোন্নতি বঞ্চিত থেকে অবসরে যাচ্ছেন, যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গের একটি বিচার বিভাগ, আর সেখানেই বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারীগণ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও নিষ্পেষিত। এমন পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের সহায়ক কর্মচারীগণের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার উপক্রম।
রংপুর জেলা থেকে আজকের কর্মবিরতির মাধ্যমে সদাশয় সরকারের নিকট এসোসিয়েশনের দুই দফা দাবী বাস্তবায়নে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। অন্যথায় কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষিত যেকোনো কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে রংপুর জেলা কমিটি প্রস্তুত। কর্মবিরতিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন রংপুর জেলা শাখার সভাপতি ওবায়দুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ওয়াহেদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আখিরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, সদস্য মাহফুজার রহমান, রুহুল আমীনসহ প্রমূখ। এ সময় বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের সকল সদস্যসহ কোর্টের সেরেস্তাদার, নাজির, বেঞ্চ সহকারিরা উপস্থিত ছিলেন
















