জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। এসব পশুর বিপরীতে বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১৪ লাখ ১২ হাজারের কিছু বেশি। এতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় বিভাগের আট জেলায় ১৪ লাখ ১২ হাজারের বেশি কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভাগের এক লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন ছোট-বড় খামারির মাধ্যমে ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৯০টি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা ও ভেড়াসহ কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। যা এই বিভাগের মোট চাহিদার চেয়ে প্রায় ৫ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে উট এবং দুম্বা শতাধিকের বেশি রয়েছে। বিভাগের আট জেলার মধ্যে রংপুরে কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭৫২টি। সেখানে প্রস্তত করা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩১২টি। এ জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬১টি। গাইবান্ধা জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৩০৫টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তত করা হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭টি। এ জেলায় চাহিদার চেয়ে ৬৯ হাজার ৯৭২টি কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। ২ লাখ ২২ হাজার ৮৪০টি কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। তবে সেখানে প্রস্তত করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৮৬টি পশু। চাহিদার চেয়ে এ জেলায় ১ লাখ ৭ হাজার ৬৪৬টি কোরবানির পশু বেশি রয়েছে। লীলফামারীতে প্রাণীর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ১৬৬টি পশুর। সেখানে প্রস্তত করা হয়েছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ১৫৭টি। এই জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৫ হাজার ৯৫১টি কেরবানির পশু। লালমনিরহাট জেলায় চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৭টি পশুর। সেখানে প্রস্তত করা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১টি। চাহিদার তুলনায় এ জেলায় ৯০ হাজার ৮৫৪টি বেশি রয়েছে। দিনাজপুরে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৬টি কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৮৫টি পশু প্রস্তত করা হয়েছে। এই জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬৯ হাজার ৮৩৯টি। এছাড়া, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৭৫ হাজার ৩৬১টি কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তত করা হয়েছে ৯০ হাজার ৮৮৬টি। এই জেলায় চাহিদার চেয়ে ১৫ হাজার ৫২৫টি পশু বেশি রয়েছে। আর পঞ্চগড় জেলায় চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত রয়েছে ৯ হাজার ৮৫৬টি পশু। এ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৩০০টির। সেখানে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৫৬টি পশু প্রস্তত করা হয়েছে। এদিকে কোরবানির পশুর বাজারে ভালো দামের আশায় ঈদুল আজহা যত ঘনিয়ে আসছে, ছোট-বড়-মাঝারি খামারিরা তত তৎপর হয়ে উঠছে। শেষ সময়ে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর পরিচর্যা করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। অনেকে আবার খামার থেকে গরু বিক্রি শুরু করেছেন। কেউবা অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে কোরবানির পশু কেনাবেচার পথ বেছে নিয়েছেন। ঈদ মানেই পশু কোরবানির চিন্তা মাথায় রেখে কাজ করতে হয় খামারি, গৃহস্থ ও ক্রেতাদের। কোরবানির জন্য কেউ গরু, ছাগল, ভেড়া আবার কেউ সুযোগ পেলে উট বা দুম্বা কিনে থাকে। তবে এবার গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই সপ্তাহ পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন হাটে পশু কেনাবেচা শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু চোরাচালান ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের দাবি খামারিদের।