জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বলেছেন, রংপুর কোতোয়ালির ওসি সাহেব মামলা যদি ২৪ ঘন্টার মধ্যে এন্ট্রি না হয় তাহলে থানা ঘেরাও সহ অন্যান্য কর্মসূচি নেব। আইন আইনের গতিতে চলবে আপনারা তদন্ত করে দেখবেন ভিডিও ফুটেজে কারা কারা এই হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে গ্রেফতার করবেন। আমরা চাইনা আমরাও ভায়োলেন্স করি। এ সময় তিনি নিউটনের তৃতীয় সূত্র উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেক ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে। দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্য জাতীয় পার্টি প্রস্তুত রয়েছে বলে ও জানান তিনি। সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সেনা প্রধান লেঃ জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের সেনপাড়াস্থ পৈত্রিক বাসভবন “দি স্কাইভিউ “ এ অবস্থানরত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে এনসিপি কর্তৃক হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এবং চিহৃিত সন্ত্রাসীদের আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল (৩১ মে) শনিবার বিকালে জাতীয় পার্টির সেন্ট্রাল রোডের জেলা কার্যালয় থেকে জাতীয় পার্টি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর জাহাজ কোম্পানীর মোড়, প্রেসক্লাব, পায়রা চত্বর, সুপার মার্কেট হয়ে টাউন হল প্রদক্ষিণ করে নগরীর পায়রা চত্ত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। সমাবেশে মোস্তফা বলেন, দুঃখের বিষয় যে এই ঘটনায় রংপুরের মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রশাসনের নিলিপ্ততার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। সারা বাংলাদেশের মতো রংপুরে ও প্রশাসন একদম কোন কাজ করছে না। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। দলদাসে লিপ্ত হয়ে যে পার্থক্য করছেন সেটা রংপুরের মানুষ অনুধাবন করছে। এ সময় এনসিপিকে ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন,এনসিপি যদি চায় ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামবে তাহলে জাতীয় পার্টি প্রস্তুত আছে। জাতীয় পার্টি কোন সন্ত্রাসী সংগঠন নয়, একটি সাধারণ মানুষের দল। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সেটাই আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন। ভাংচুর, লুণ্ঠন, চাঁদাবাজ, দখল বাজির মধ্যে কখনোই জাতীয় পার্টি ছিল না। এখনো নাই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। জাতীয় পার্টির আজকে ৫৪ বছর হাওয়ায়, কোন ব্যবসায়ী বলতে পারবে না কেউ দশ টাকা চাঁদা চেয়েছে। জাতীয় পার্টির নিজের যতটুকু সমর্থ্য আছে, সেটা নিয়েই জাতীয় পার্টির ঝান্ডা এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, এখন মব ভায়রেন্সের যুগ, এই মত ভাইরাস জাতীয় পার্টি প্রস্তুত রয়েছে। ১৬ জুলাই একমাত্র জাতীয় পার্টি লাঠি সোঠা নিয়ে একমাত্র জাতীয় পার্টি শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিল এবং আবু সাঈদের বাড়িতে প্রথম জিএম কাদেরসহ আমরা গিয়েছি। সেই এনসিপি আজকে জাতীয় পার্টির বিপক্ষে লাগছে। আমরা চাই প্রশাসন সরে দাঁড়াক। জাতীয় পার্টির শক্তি আছে কিনা রংপুরে জানান দিতে চাই। এসময় বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টি ও সহযোগী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: লোকমান হোসেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর সহ-সভাপতি মো: হাসানুজ্জামান নাজিম, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: জাহেদুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি রংপুর সদর উপজেলার আহবায়ক মাসুদ নবী মুন্না, জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আরিফ আলী, সাবেক ছাত্র নেতা ইয়াসির আরাফাত আসিফ, আরিফুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজ রংপুর মহানগর সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জসিম, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি রংপুর মহানগর আহবায়ক ফারুক মন্ডল, জাতীয় শ্রমিক পার্টি রংপুর মহানগর রাজু আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মজাহারুল ইসলাম মন্টু, জাতীয় যুব সংহতি রংপুর মহানগর আহবায়ক গোলাম মোস্তফা হিরা, সদস্য সচিব ইউসুফ আহম্মেদ, শ্রমিক নেতা, শ্যামল বাবু, তসলিম উদ্দিন প্রধান, মাসুদ রানা মিলন ও এনামুল কবীর সমাজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।