সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: August 6, 2025

মেহেন্দিগঞ্জ দড়িচর খাজুরিয়া গ্রামে আক্তার হোসেনের বসত ঘরে দিন দুপুরে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া গ্রামের আক্তার হোসেনের বসত বাড়িতে গিয়ে দিন দুপুরে সন্ত্রাসী হামলা চালায় এলাকার একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। গতকাল বেলা ১১ঃ৩০ মিনিটের সময় মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া গ্রামের আক্তার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে পূর্ব শত্রুতার যের ধরে এলাকার চিহ্নিত আ’লীগ নেতা জাকির হোসেনের ছেলে মাজহারুল ইসলাম টুকু,বজলু আকন, ফজলুর রহমান সহ ১০-১৫ সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালায়।হামলায় আক্তার হোসেনের ঘরে থাকা তার স্ত্রী, ছেলে, মেয়েরা আহত হন এবং তার বসত ঘর ভাঙচুর চালায়।এলাকার এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীর ভয়ে আক্তার হোসেনের ছেলে মেয়ে ও স্ত্রী স্থানীয় চিকিৎসা নিয়ে ঘরে থাকেন।তারা মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অথবা শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে পারেনি।এমনকি ভুক্তভোগী আক্তারের পরিবার সন্ত্রাসীদের ভয়ে এখন পর্যন্ত মেহেন্দিগঞ্জ থানায় ও অভিযোগ জানাতে পারেনি। গ্রামের একটি কথা আছে “মাছে কোচ লড়ায়” তেমনি আক্তার হোসেনের ঘরে হামলা চালিয়ে তার পরিবারের বিরুদ্ধে আবার মিথ্যা মামলা করার জন্য মেহেন্দিগঞ্জ থানায় গিয়ে অভিযোগ দেয়।আক্তার হোসেনের বাড়িতে থাকা স্ত্রী,ছেলে মেয়ে দেরকে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছে প্রতিনিয়ত। দিন দুপুরে বসতবাড়িতে উক্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা যায়। এমন মধ্যযুগীয় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঐ এলাকার জনগণ।তাদের দাবি হলো এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনাহোক। আক্তার হোসেনের পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,বিভিন্ন সময় মাজহারুল ইসলাম টুকুর নেতৃত্বে তাদের উপরে হামলা করা হয়। আক্তার হোসেনের পরিবার এখন অসহায়ত্ব বোধ করতেছেন। আক্তার হোসেন পরিবার বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি,বরিশাল পুলিশ সুপার ও মেহেন্দিগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ এর কাছে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন যাতে তাদের জীবনের এবং সম্পদের আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি না করতে পারে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। উক্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ব্যাপারে অভিযুক্তদের ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করেনি তাই তাদের কোন বক্তব্য দেওয়া গেল না। মেহেন্দিগঞ্জ অফিসার ইনচার্জ কে ফোন করলে তিনি বলেন ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Read More »

৩৬ জুলাই’ ২৪ গনঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: ৩৬ জুলাই’ ২৪ গনঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহিদ আবু সাঈদসহ সকল শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় রংপুর আইজীবী সমিতির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৫ আগষ্ট) সকালে রংপুর আইনজীবী সমিতির ১ নং বার ভবনের ২য় তলা হলরুমে আয়োজিত উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. শাহেদ কামাল ইবনে খতিব’র সভাপতিত্বে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য এড. আফতাব উদ্দিন। উক্ত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি এড. মোঃ আবু তাহের আলী নিউটন, সহ সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আহবায়ক কমিটির সদস্য এড. এ.কে.এম হারুন উর রশিদ, সহ সাধারণ সম্পাদক এড. আলহাজ্ব মিসেস সুফিয়া খাতুন (মুকুল), মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এড. মোঃ আব্দুল হাদী বেলাল, জেলা জজ আদালতের পিপি ও মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য এড. মোঃ একরামুল হক, আইনজীবী সমিতির সদস্য এড. মোঃ তারেকুজ্জামান, (অতিঃ পিপি, অতিঃ মহানগর দায়রা জজ আদালত), আইনজীবী সমিতির লাইব্রেরী বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এড. মোঃ আবু সায়েম সরকার (তুলিপ), জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী এড. মোঃ রেজওয়ান আহমেদ, সদস্য এড. মোঃ রায়হানুজ্জামান (রায়হান) প্রমুখ। রংপুর আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ও দোয়া পরিচালনা করেন সংগঠনের ধর্ম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এড. মোঃ কাউসার আহমেদ (অতিঃ জিপি)।অনুষ্ঠানটি আলোচনা সভার মাধ্যমে শুরু হয়ে দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় ৩৬ জুলাই’ ২৪ গণঅভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদসহ সকল শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করা হয়।

Read More »

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে নির্বাচন : প্রধান উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৫ খৃ. – ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করেন”। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবার আমাদের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা। নির্বাচন অনুষ্ঠান। আজ এই মহান দিবসে আপনাদের সামনে এ বক্তব্য রাখার পর থেকেই আমরা আমাদের সর্বশেষ এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা এবার একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব। সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি বলেন,“ আপনারা সকলেই দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে এ দেশের সকল নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা প্রদান করবো”। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন যেন আনন্দ-উৎসবের দিক থেকে, শান্তি-শৃঙ্খলার দিক থেকে, ভোটার উপস্থিতির দিক থেকে, সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার দিক থেকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে সেজন্য সকল আয়োজন সম্পন্ন করতে আগামীকাল থেকে আমরা সকলেই মানসিক প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করব। প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস তাঁর ভাষণে বলেন,“নির্বাচনে ভোটারদের সম্পর্কে দু-একটা কথা বলতে চাই। এবার আমরা প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেয়ার আয়োজন নিশ্চিত করতে চাই”। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ বিধস্ত বাংলাদেশ যে আবার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে তার বড় কারণ হলো আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদান। নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। নারী ভোটাররা যেন দেশের সর্বত্র নির্দ্বিধায় আনন্দ-উৎসাহ সহকারে ভোট দিতে পারে এটা নিশ্চিত করতে চাই। এবার যেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ঢল নামে আমরা সেই লক্ষ্যে সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেবার কারণে গত ১৫ বছর ধরে নাগরিকবৃন্দ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে আমরা আমাদের বকেয়া আনন্দসহ মহা আনন্দে ভোট দিতে চাই। এবারের নির্বাচনে জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে যাবে এরকম ভোটাররা নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে, তাদের এই দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য। এর মধ্যে নতুন নারী ভোটার থাকবে, নতুন পুরুষ ভোটার থাকবে। এর মধ্যে এমন ভোটার থাকবে যারা ১৫ বছর আগে থেকেই ভোট দিতে পারতো। কিন্তু জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি। এর মধ্যে আসবে যারা ১০ বছর আগে, ৫ বছর আগে ভোট দিতে পারত কিন্তু পারেনি। আর আসবে ভাগ্যবান ও ভাগ্যবতীর দল যারা এই প্রথমবার ভোটার হওয়ার যোগ্যতা লাভ করলো এবং সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেয়ার সুযোগও পেয়ে গেল। নির্বাচনের দিনকে আমরা ঈদের উৎসবের মতো করতে চাই উল্লেখ করে সরকার প্রধান আরও বলেন,এবারের ভোটের আনন্দ থাকবে সবার মধ্যে। আপনারা সবাই বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। নাগরিক অধিকার প্রয়োগের মহা আনন্দ পরবর্তী বংশধরদের কাছে তুলে ধরার জন্য। এখন থেকে প্রতিদিন আলাপ করুন, আপনার এলাকায় ভোটদান ব্যবস্থা কেমন হলে সুন্দর হয়, কেমন হলে আনন্দমুখর হয়, সেটা আগে থেকে ঠিক করার জন্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজের ভিত্তি রচনা হবে এবারের নির্বাচনে। তার জন্য প্রস্তুতি নিন।

Read More »

জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করলেন প্রধান উপদেষ্টা

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৫ আগস্ট, ২০২৫ খৃ. – প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মঞ্চে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জুলাই ঘোষণাপত্র হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো- ১। যেহেতু উপনিবেশ বিরোধী লড়াইয়ের সুদীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় এই ভূখণ্ডের মানুষ দীর্ঘ ২৩ বছর পাকিস্তানের স্বৈরশাসকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং নির্বিচার গণহত্যার বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল; এবং ২। যেহেতু, বাংলাদেশের আপামর জনগণ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ভূখণ্ডে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বিবৃত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে; এবং ৩। যেহেতু স্বাধীন বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন পদ্ধতি, এর কাঠামোগত দুর্বলতা ও অপপ্রয়োগের ফলে স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল এবং গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করেছিল; এবং ৪। যেহেতু স্বাধীনতা-পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার মূলমন্ত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে বাকশালের নামে সাংবিধানিকভাবে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করে এবং মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, যার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে একদলীয় বাকশাল পদ্ধতির পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তনের পথ সুগম হয়, এবং ৫। যেহেতু আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ইং সনে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এবং ৬। যেহেতু দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১ -এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়; এবং ৭। যেহেতু গত দীর্ঘ ষোল বছরের ফ্যাসিবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অতি উগ্র বাসনা চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে সংবিধানের অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক পরিবর্তন করা হয় এবং যার ফলে একদলীয় একচ্ছত্র ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়; এবং ৮। যেহেতু শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসন, গুম-খুন, আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ এবং একদলীয় স্বার্থে সংবিধান সংশোধন ও পরিবর্তন বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ধ্বংস করে; এবং ৯। যেহেতু, হাসিনা সরকারের আমলে তারই নেতৃত্বে একটি চরম গণবিরোধী, একনায়কতান্ত্রিক, ও মানবাধিকার হরণকারী শক্তি বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী, মাফিয়া এবং ব্যর্থ রাষ্ট্রের রূপ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে; এবং ১০। যেহেতু, তথাকথিত উন্নয়নের নামে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নেতৃত্বে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাংক লুট, অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে বিগত পতিত দুর্নীতিবাজ আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ ও এর অমিত অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং এর পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য ও জলবায়ুকে বিপন্ন করে; এবং ১১। যেহেতু শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণ গত প্রায় ষোল বছর যাবৎ নিরন্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে জেল-জুলুম, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়; এবং ১২। যেহেতু বাংলাদেশে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায় প্রভুত্ব, শোষণ ও খবরদারিত্বের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে বহিঃশক্তির তাঁবেদার আওয়ামী লীগ সরকার নিষ্ঠুর শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করে; এবং ১৩। যেহেতু অবৈধভাবে ক্ষমতা অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার তিনটি প্রহসনের নির্বাচনে (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এদেশের মানুষকে ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত করে; এবং ১৪। যেহেতু, আওয়ামী লীগ আমলে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং সরকারি চাকুরিতে একচেটিয়া দলীয় নিয়োগ ও কোটাভিত্তিক বৈষম্যের কারণে ছাত্র, চাকুরি প্রত্যাশী ও নাগরিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম হয়; এবং ১৫। যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ওপর চরম নিপীড়নের ফলে দীর্ঘদিন ধরে জনরোষের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ সকল বৈধ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই চালিয়ে যায়; এবং ১৬। যেহেতু, সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিলোপ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ব্যাপক দমন-পীড়ন, বর্বর অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, যার ফলে সারা দেশে দল-মত নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণবিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়; এবং ১৭। যেহেতু ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে অদম্য ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দল, ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী, শ্রমিক সংগঠনসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ যোগদান করে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বাহিনী রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে, অগণিত মানুষ পঙ্গুত্ব ও অন্ধত্ব বরণ করে এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যগণ জনগণের গণতান্ত্রিক লড়াইকে সমর্থন প্রদান করে; এবং ১৮। যেহেতু, অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে জনগণ অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে,  পরবর্তী সময়ে ৫  আগস্ট ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ পরিচালনা করে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনরত সকল রাজনৈতিক দল,  ছাত্র-জনতা তথা সর্বস্তরের সকল শ্রেণি, পেশার আপামর জনসাধারণের তীব্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়; এবং ১৯। যেহেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবেলায় গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ব্যক্ত জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রত্যয় ও প্রয়োগ রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকে যুক্তিসংগত, বৈধ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত; এবং ২০। যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়; এবং ২১। যেহেতু, বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের ফ্যাসিবাদবিরোধী তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণের অভিপ্রায় প্রকাশিত হয়; এবং ২২। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ সুশাসন ও সুষ্ঠু নির্বাচন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের শাসন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিদ্যমান সংবিধান ও সকল রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধনের অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; এবং ২৩। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ষোল বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সকল ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে; এবং ২৪। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে। এবং ২৫। সেহেতু, বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসংগত সময়ে আয়োজিতব্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে

Read More »