
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, একনেকে অর্থ বরাদ্দ এবং সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। বুধবার (২০ মে) সকালে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম হক্কানী। তিনি বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে তিস্তা অববাহিকা বর্তমানে খরা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন ও সেচ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারাচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বিভিন্ন অবকাঠামো। কর্মসংস্থানের অভাবে তিস্তা পাড়ের মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী শ্রমবাজারে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠবে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। এ সময় মো. নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—তিস্তা বাঁচলে বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।” তিনি আরও জানান, ২০১৫ সাল থেকে “তিস্তা মহাপরিকল্পনা” বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন, জাতীয় বাজেটে পৃথক অর্থ বরাদ্দ, “তিস্তা বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ” গঠন, তিস্তার সম্পদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও “তিস্তা বন্ড” চালু এবং সমন্বিত নদী ও কৃষি সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ। এ সময় বক্তারা বলেন, “তিস্তা কোনো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্ন।” তারা আরও বলেন, “চীন-ভারত-আমেরিকা বুঝি না, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিজস্ব অর্থায়নেই করতে হবে।” সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্যের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। বক্তারা প্রশ্ন রাখেন, “পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন?” এছাড়া আগামী ২১ মে থেকে তিস্তা পাড়ে গণসংযোগ, ঈদুল আজহায় বিশেষ মোনাজাত, ৫ জুন রংপুরে সংহতি সমাবেশ এবং জুনজুড়ে পাঁচ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, মো. আলী, বখতিয়ার হোসেন শিশির, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবীর, আশিকুর রহমান, শেখ রেদওয়ান ও আব্দুর রউফ প্রমুখ।















