
রংপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে জমি, ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে চলতি বন্যা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনে জমি, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ভাঙ্গনে রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ তুলে জিওব্যাগ ফেলার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও করেছেন তিস্তা পাড়ের শতাধিক বাসিন্দা। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে কার্যালয় ঘেরাও করে দ ভাঙ্গনে কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে তিস্তা নদীতে কয়েক দফা ভাঙ্গনে অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী বা জরুরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চর বিনবিনার নুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে টাকা তুলে একটি বাঁধ দিয়েছিলাম। সেই বাঁধ এবছর বন্যায় ভেঙে গেছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানালে তারা আমাদেরকে কয়েকটা বস্তা দেয় শুধু। এলাকায় টাকা তুলে সেই বস্তা ভরে আমরা ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করি। কিন্তু এত অল্প বস্তা দিয়ে এত বড় ভাঙ্গনে রোধ করা যায় না। আমরা চাই পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ করে বাঁধগুলো সংস্কার করে দিক। গঙ্গাচড়া উপজেলার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের পকেট ভরা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। এদিকে তিস্তার ভাঙ্গনে প্রতিদিন মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। সেদিকে তাদের কোনো খেয়াল নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙ্গনে রোধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, বাম তীরে এবং ডান তীরে কোথাও গুরুতর ভাঙ্গনে দেখা দেয়নি। আর যেখানে কিছুটা ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সেখানে জিওব্যাগ ফেলে তা রোধ করা হচ্ছে। বাম তীরের ভাঙ্গনের যে অভিযোগ নিয়ে এসেছে সেটি মূলত নদীর ভেতরের অংশ। সেখানে কিছু মানুষ বসবাস করে। এদিকে, তিস্তা নদীর চর বাগডোগরা, মিনা বাজার বিনবিনা কোলকন্দ এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।












