সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: October 5, 2023

সংসদীয় কূটনীতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে- স্পীকার

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৩ খৃ. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ -ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সংসদীয় কূটনীতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তিনি আজ সিলেটের গ্রান্ড হোটেল এন্ড রিসোর্টে ‘একাদশ বাংলাদেশ ভারত ফ্রেন্ডশীপ ডায়ালগ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ভারতীয় লোকসভার সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শ্রী ভিনসেণ্ট পাল, স্বপন দাসগুপ্ত ও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বক্তৃতা প্রদান করেন। বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এএসএম শামছুল আরেফিন সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সৈয়দ মুনতাসীর মামুন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দু-দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের অমীমাংসিত বিষয় ছাপিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন সারাবিশ্বে প্রতিবেশী কূটনীতির এক রোল মডেল। স্পীকার বলেন, জি-২০ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণ বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে এক অকৃত্রিম বন্ধুপ্রতিম দেশের উদাহরণ স্থাপন করেছে। দুই দেশের মধ্যকার শান্তি ও সমৃদ্ধি সংরক্ষণের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও এশিয়ার দেশগুলোর জন্য অনুকরণীয়। স্পীকার এসময় ভারতীয় পার্লামেন্টে এক তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত নারী আসন বিল পাশের ঘটনাকে দু’দেশের সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক তুলে ধরে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নারী আইনপ্রণেতা গঠনের মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে আছে। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক অংশীদার। অতি সম্প্রতি ভারতীয় রুপিতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে অধিকতর ত্বরান্বিত ও সমৃদ্ধ করেছে। স্পীকার বলেন, জ্বালানি খাতে ভারতের সহযোগিতার পাশাপাশি নেপাল থেকে জলবিদ্যুত আমদানিতে তৃতীয় সহযোগী দেশ হিসেবে ভারত সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের জ্বালানি ঘাটতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, জনগণ কেন্দ্রিক উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে দুই দেশের সরকার প্রধান বরাবরই অবিচল লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। এসময় স্পীকার প্রযুক্তির জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে জনগনের জীবনমানের উন্নয়ন, ট্রানজিট ও ট্রান্সশীপমেন্টের জন্য মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার এবং দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ঘাটতি কমাতে শুল্কমুক্ত পণ্যের অবাধ প্রবাহের উপর জোর আরোপ করেন। এর পূর্বে স্পীকারকে বিমানবন্দরে ফুলেল অভ্যর্থনা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় স্পীকার হযরত শাহজালাল (রহ:) ও শাহ পরান (রহ:)এর মাজার শরীফ জিয়ারত করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থনে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডিজ এবং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মৈত্রী সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য “একটি সমন্বিত এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব “। এ অনুষ্ঠানে হুইপ ইকবালুর রহিম ও অন্যান্য সংসদ সদস্যবৃন্দ, কূটনৈতিকবর্গ, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর রিজিওনাল স্টাডিজ ও ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের আমন্ত্রিত নেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য সাংবাদিকবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Read More »

রংপুরে তিস্তার প্রবল স্রোতে গেছে স্বেচ্ছাশ্রমের গ্রামরক্ষা বাঁধ

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: ভারতের উজান থেকে ভাটির দিকে ধেয়ে আসা তিস্তার প্রবল স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকার স্বেচ্ছাশমে তৈরি করা গ্রামরক্ষা বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে বেশ কয়েকটি ঘর-বাড়ী ও গাছ-পালা ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গঙ্গাচড়া লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের ইছলি চর এলাকায় এই চিত্র দেখা যায়।স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত ভোররাত চারটার দিকে বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি ঘর-বাড়ী, গবাদিপশু, গাছ-পালা, পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়। তবে বাঁধ রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগও উঠেছে। আবার পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এদিকে পানি বাড়া-কমার পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকার নদী ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।ইছলি চর, শংকরদাহ ও বিনবিনার চরের মামুদ মিয়া, আজগর আলী, নজিবর হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয়। তারা জানান, বাঁধ নির্মাণ না হলে এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শুধু বিদ্যালয়ই নয়, এখানে বাঁধ না থাকায় চাষাবাদের জমিসহ আশাপাশের প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার মানুষ বসতভিটা নিয়ে ভাঙন ভীতিতে রয়েছে।শংকরদাহ গ্রামের রবিউল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বন্যার সময় সকলে আমাদের কষ্ট দেখতে আসে। বন্যার পর আর কেউ খোঁজ নেন না। খুব খারাপ লাগে যখন সব কিছু চোখের সামনে ভেসে যায়। অথচ একটা বাঁধ থাকলে আমরা বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতাম। আমাদের এলাকার মানুষদের বানভাসী হতে হয় না। আমরা গ্রামবাসী বাঁধের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান থেকে এমপিকে পর্যন্ত চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।পূর্ব ইছলি চরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বাঁধ হইলে খালি হামার মতো গরীব মাইনসের উপকার হবার নায়। যামরা মহিপুর-কাকিনা দিয়্যা সেতু ধরি যাওয়া আইসা করে ওমারো ভালো হইবে। শংকরদাহ থাকি বিনবিনা পর্যন্তবাঁধ দেয়া জরুরী হইছে। বাঁধ নাইলে এবার হামারগুল্যার সাথে সাথে নয়া সেতুত যাওয়ার আন্তাঘাটের মারাত্মক ক্ষতি হইবে।স্থানীয়রা মনে করছেন, শংকরদাহে বাঁধ নির্মাণ না করা হলে বিগত সময়ের মত আবারো নবনির্মিত গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর সংযোগ সড়ক হুমকিতে পড়বে। বিশেষ করে রংপুর ও লালমনিরহাটের সাথে মানুষের যাতায়াতের জন্য মহিপুর-কাকিনা সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হবে।এ ব্যাপারে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, আমরা জানি না কি কারণে শংকরদাহ থেকে বিনবিনিয়া পর্যন্ত একটা বাঁধ করা হয়নি। অথচ বাঁধের জন্য কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। ডিও লেটার নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দিয়েছে। গত বন্যায় রংপুরের জেলা প্রশাসক এসে নিজে দেখে গেছেন। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।বাঁধ নির্মাণ না হলে শংকরদাহ ও বিনবিনা চরের চল্লিশ হাজারের বেশি মানুষের বসত ভিটা ক্ষতিগ্রস্থ হবে দাবি করে চেয়ারম্যান বলেন, এই ইউনিয়নে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়. একটা কলেজ, দুইটা মাদ্রাসা আছে। স্থায়ী বাঁধ না হলে নদী ভাঙনে এগুলো হুমকির মুখে পড়বে। এখানকার ৬০ হেক্টর চাষাবাদের জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। একারণে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শংকরদাহ থেকে বিনবিনিয়া চর পর্যন্ত একটা বেরি বাঁধ নির্মাণ করা হোক। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড সেটি আজো করে দেয়নি। বরং আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রাম একটি অস্থায়ী গ্রামরক্ষা বেরি বাঁধ তৈরি করেছিলাম। স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করা সেই গ্রামরক্ষা বাঁধটি বৃহস্পতিবার ভোরে ভেঙে গিয়ে কয়েকটি বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষজনের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি।আব্দুল্লাহ আল হাদি আরও বলেন, ভারত থেকে আসা উজানের পানিতে এখানকার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেশির ভাগ আমন ধানের ক্ষেতসহ শীতকালীন শাক-সবজির আবাদি জমি পানিতে নিমজ্জ্বিত রয়েছে। প্রতিবছর এমনটা হয়ে আসছে। বন্যা হলেই আমার ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগস্ত হয়। কিন্তু বারবার বলার পরও পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাদেরকে একটি স্থায়ী বেরি বাঁধ নির্মাণ করে দেয়নি। অথচ নদীশাসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৭ সালে একবার বাঁধ ভেঙে গিয়ে এই এলাকার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। আবার সেই একই অবস্থা দেখা দিয়েছে। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা থাকেন, তিনি মন্দিরও রয়েছে। আমরা ভারতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি দেখে ভীষণ ভয়ে আছি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা নদী বেষ্টিত রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা। এই উপজেলার মানুষ প্রতি বছরই যুদ্ধ করে নদী ভাঙনের সাথে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও আর খরার সাথে যুদ্ধ করতে করতে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাই এখানকার নদীপাড়ের মানুষরা বন্যা শব্দটি শুনলেই আঁতকে উঠেন। ভয় পান নতুন করে আবার কিছু না হারায়।নদী ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের দাবি অনেক পুরনো। যে দাবিতে সাড়া দিয়ে বিগত সময়ে কিছু বাঁধ নির্মাণ হলেও বাদ পড়েছে বরাবরই অধিক ঝুঁকিতে থাকা শংকরদাহ গ্রাম। এ গ্রামে বাঁধ নির্মাণ হয়নি। একারণে বন্যা দেখা দিলেই নড়ে চড়ে বসেন লক্ষীটারী ইউনিয়নের মানুষ। প্রতি বছরই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় এখানে।বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি পূর্ব ইছলি চরের লোকজনদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণ করেন। তার সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না নাহিদ বলেন, স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত গ্রাামরক্ষা বাঁধটি ভেঙে তেমন ক্ষতি হয়নি। দুই-তিনটি ঘর পানিতে ভেঙে গেছে। এছাড়া বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।তিনি আরো বলেন, এই বন্যাটি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ জন্য আমরা জনগণকে সতর্ক করেছি। তাদের ধান-চাল, হাঁস-মুরগি, গবাদি পশুসহ প্রয়োজনীয় মালামাল বিভিন্ন স্কুল-কলেজ এবং আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও উঁচু জায়গায় নেওয়া হয়েছে। উঁচু স্কুলগুলোতে আমরা এরই মধ্যে থাকার জন্য ব্যবস্থা করে রেখেছি।এদিকে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকার বাঁধ ভাঙার খবর পেয়েছেন তারা। এটি স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত হওয়ায় মেরামতে কোন বরাদ্দ নেই তাদের।পাউবো সূত্র বলছেন, উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে বাংলাদেশ প্রান্তে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ২৮৫ সেন্টিমিটার এবং দোমুহুনী পয়েন্টে বুধবার সকাল থেকে ৮২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অন্য নদীর পানিও। এতে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সমতলে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ২৮ মিটার ৭৫ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

Read More »

রংপুরে শিক্ষার্থীদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন বীরগাথা শোনানোর অনুষ্ঠান

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে শিক্ষার্থীদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন বীরগাথা শোনানোর অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন প্রকল্প জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ” নতৃন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করেনের লক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন বীরগাথা শোনানোর অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব ও প্রকল্প পরিচালন ড. মোঃ নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, রীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আববর হোসেন, রীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবর রহামান, রীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম মোস্তফা, রংপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃমোব্বর হোসেন মনা, রংপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ এনায়েত হোসেন। আলোচনা শেষে রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুইজ প্রতিযোগিতায় ১০ জন বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

Read More »

রংপুর মহানগর অটোরিক্স ও চার্জার রিক্সা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুর মহানগর এলাকায় টাউন সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ ৯দফা দাবিতে অটোরিক্সা ও চার্জার রিক্সা মালিক শ্রমিকদের মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন রংপুর মহানগর ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোঃ তসলিম হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর চার্জার রিক্সা, ভ্যান জাতীয় শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আকবর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্যামল বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ এনামুল কবীর সমাজ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন হোসেন, রংপুর মহানগর চার্জার রিক্সা ভ্যান মালিক সমিতি সভাপতি আফজাল হোসেন, রংপুর মহানগর ব্যাটারী চালিত চার্জার রিক্সা ভ্যান জাতীয় শ্রমিক পার্টির সভাপতি মোঃ শাহেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজুসহ সকল শাখা কমিটির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকগণ। বক্তারা বলেন, অবিলম্বে ৯ দফা দাবি, মহানগর এলাকায় টাউন সার্ভিস চালু করার সিদ্ধান্ত বন্ধ, অটো রিক্সা ও চার্জার রিক্সা স্ট্যান্ড স্থাপন, চলাচল রত রাস্তাঘাট প্রসস্থ, রংপুর সদর হাসপাতালকে শ্রমিক হাসপাতাল ঘোষনা, মহানগর এলাকায় অটোরিক্সা ও চার্জার রিক্সা শ্রমিকদের ওপর পুলিশ হয়রানী বন্ধ, চলাচলরত অটোরিক্সা ও চার্জার রিক্সা চালকদের লাইসেন্স নিশ্চিত, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত, রংপুর মহানগর এলাকায় হাইওয়ে রাস্তা অবমুক্ত, বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির কারনে অটোরিক্সা ও চার্জর রিক্সা ভাড়া বৃদ্ধি করার দাবি উত্থাপন করেন। অটো শ্রমিকদের ন্যায় সংগত দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলণ গড়ে তোলা হবে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আটো শ্রমিক নেতা লিয়াকত হোসেন, আবুল বাশার, শাহীনুর রহমান, মোঃ হারেজ, অনিছুর রহমান, নুর মোহাম্মদ. খোকন মিয়া, জাকারিয়া টুনু, রিপন মিয়া, চার্জার রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের বাবুল চন্দ্র, ওমর আলী, গেলাজার হোসেন, মামুন মিয়া, চার্জার রিক্সা চালক ইউনিয়নের তোফাজ্জল হোসেন তোফা, শাহিন মিয়া, চার্জার রিক্সা মালিক সমিতির মোঃ মানিক মিয়া, মিজু আহমেদ, সফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ আটোবাইক সোসাইটির মোহাম্মাদ আলী, আলোমগীর হোসেন, আলম মিয়া, বাবু মিয়া, ঠেলা ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের গোলজার হোসেন, সাজেব আলী, চার্জার রিক্সা মালিক সমিতির মাইদুল ইসলাম, ইসমাইল হোনের বারী, আব্দুল মজিদ প্রমুখ।

Read More »

তিস্তা নদীতে বিপৎসীমার নীচে পানি তবুও বিপদ কাটেনি

জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রংপুরে তিস্তা পাড়ের নিম্নাঞ্চল থেকে নামতে রু করেছে পানি। আজ সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নীচ ও কাউনিয়া পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। বুধবার সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বাড়লেও রাত দশটার পর থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলের মানুষজন মধ্যে বন্যার আতঙ্ক কমেছে। এদিকে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে বাংলাদেশের তিস্ত বেষ্টিত উত্তরাঞ্চলেও বন্যার শঙ্কা করা হচ্ছে। সিকিম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে নিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্ত ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। অন্যদিকে সকাল ৯ টার তথ্যনুযায়ী রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সমতলে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ২৮ মিটার ৭৫ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যার পানিতে চরের কোথাও কোথাও শত শত হেক্টর জমির ধান ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কীকরণ বার্তায় আরো কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এবং ভারত থেকে আসা পানিতে যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে তিস্তা তীরবর্তী রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের কেল্লার পাড়ে আনা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধারকারী মিনি জাহাজ। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আতঙ্কিত তিস্তার দু পাড়ের মানুষদের অনেকেই গবাদিপশু, ধান-চালসহ ঘরবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। সব থেকে বিপাকে পড়েন আগাম লাগানো পাকাধান নিযয়ে। এখন পানি কমতে শুরু করায় তাদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। অনেকেই ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্ততি নিচ্ছেন।

Read More »

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিতে স্বপদে নিয়োগ

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেনকে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিতে স্বপদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন (পরিচিতি নম্বর ৪০৫৩)-কে তার অবসর-উত্তর ছুটি এবং তদসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিতের শর্তে আগামী ১৪ অক্টোবর অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অন্যান্য শর্ত অনুমোদিত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে। মো. মাহবুব হোসেন ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসাবে যোগদান করেন। এর আগে এক বছর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে দুই বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বিসিএস. (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৬ (৮ম) ব্যাচের সদস্য মাহবুব হোসেন ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। চাকরি জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারি/সিনিয়র সহকারি সচিব, উপসচিব, যুগ্মসচিব এবং অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সচিবের একান্ত সচিব, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির প্রশিক্ষক, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের উপ-প্রধান (জেন্ডার), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিব এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর পরিচালক (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মো. মাহবুব হোসেন বরিশাল রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ (বর্তমানে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ) থেকে ১৯৭৯ সালে এসএসসি, বরিশাল বি.এম. কলেজ থেকে ১৯৮১ সালে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ ব্যাচে সমাজ বিজ্ঞানে বিএসএস (সম্মান) এবং ১৯৮৫ ব্যাচে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

Read More »