জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রংপুরে তিস্তা পাড়ের নিম্নাঞ্চল থেকে নামতে রু করেছে পানি। আজ সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নীচ ও কাউনিয়া পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। বুধবার সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বাড়লেও রাত দশটার পর থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলের মানুষজন মধ্যে বন্যার আতঙ্ক কমেছে।
এদিকে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে। রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে বাংলাদেশের তিস্ত বেষ্টিত উত্তরাঞ্চলেও বন্যার শঙ্কা করা হচ্ছে। সিকিম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে নিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্ত ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)।
অন্যদিকে সকাল ৯ টার তথ্যনুযায়ী রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে পানি সমতলে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ২৮ মিটার ৭৫ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যার পানিতে চরের কোথাও কোথাও শত শত হেক্টর জমির ধান ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কীকরণ বার্তায় আরো কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এবং ভারত থেকে আসা পানিতে যেকোনো সময় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে তিস্তা তীরবর্তী রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের কেল্লার পাড়ে আনা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধারকারী মিনি জাহাজ।
বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আতঙ্কিত তিস্তার দু পাড়ের মানুষদের অনেকেই গবাদিপশু, ধান-চালসহ ঘরবাড়ির গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন। সব থেকে বিপাকে পড়েন আগাম লাগানো পাকাধান নিযয়ে। এখন পানি কমতে শুরু করায় তাদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। অনেকেই ধান কেটে ঘরে তোলার প্রস্ততি নিচ্ছেন।
















