সর্বশেষ
সর্বশেষ

Day: November 4, 2026

একনেকে ৫৮,০৮৯ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি নতুন ও দুটি সংশোধিত প্রকল্প। বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ থেকে সাত হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি সাত লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজের প্রথম পর্ব। মন্ত্রণালয়টির অন্য তিনটি প্রকল্প হলো ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (এসআইডিপি) ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (তৃতীয় সংশোধিত)। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ও অপারেশনাল যানবাহন ক্রয় করা হবে। ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। জিগাতলায় গাবতলা কলোনীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের অধীনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিও (পিইডিপি-৫) অনুমোদন পেয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় তিতাস গ্যাস ফিল্ডে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে। ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের আরও পাঁচটি প্রকল্পের বিষয়ে একনেককে সভায় অবহিত করা হয়, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, দেশের শিশু-কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সড়ক নিরাপত্তার প্রথম সংশোধিত প্রকল্প। ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্পও পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু অংশ নেন। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। Ref. UNB //

Read More »

রংপুরে ডিবির অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার

রংপুরে ডিবির অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ সাকিল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুবুর রশীদ, পিপিএম-সেবা-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবি পুলিশ কোতোয়ালি থানাধীন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানের গলিতে অবস্থিত আলিফ ছাত্রাবাসের সামনে অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ সাকিল ইসলামকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার সাকিল ইসলাম রংপুর মহানগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুম্মাপাড়া এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Read More »

রংপুরে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

জলাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি : আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম মহাদয়ের উদ্যোগ এবং রংপুর রেঞ্জ হেডকোয়াটার্স ও রংপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২৬, রংপুর রেঞ্জ ফাইনাল প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল (০৪ নভেম্বর) বুধবার বিকাল ৩ টায় রংপুর জেলা পুলিশ লাইন মাঠে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বিপিএম। খেলায় বালকদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় দিনাজপুর জেলা দল ও রানারআপ হয় রংপুর জেলা দল এবং খেলায় নারীদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় লালমনিরহাট জেলা দল ও রানার আপ হয় রংপুর জেলা দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, রংপুরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুবর রশিদ পিপিএম সেবা, রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. যেদান আল মুসা সহ রংপুর বিভাগের ৮ জেলার পুলিশ সুপারগন।

Read More »

রংপুর-মিঠাপুকুরে ওয়াহেদুলের জমি কেনায় আইনি ঝুঁকি

রংপুর-মিঠাপুকুরে ওয়াহেদুলের জমি কেনায় আইনি ঝুঁকি Parveg Sumon রংপুর প্রতিনিধি : পাবনায় চেক প্রতারণা মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত মো. ওয়াহেদুল ইসলামের রংপুর মহানগর ও মিঠাপুকুরে থাকা সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালতের অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় তার সম্পত্তি থেকে টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রি, বায়না ও নামজারির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আইনি অবস্থা যাচাই ছাড়া এসব জমি কেনাবেচা না করার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা। আদালতের নথি অনুযায়ী, পাবনার বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতের দায়রা মামলা নং-১২৮৪/২০২৫ (মূল সি.আর মামলা নং-১০১৪/২৪) মামলায় মো. ওয়াহেদুল ইসলাম, পিতা- মো. নুর ইসলাম, সাং- কাঁঠুর উত্তর, থানা- ফুলছড়ি, জেলা- গাইবান্ধার বিরুদ্ধে The Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। মামলার বাদী মো. ওমায়ের ইসলাম। পরবর্তী সময়ে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ১১ নম্বর আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডিত ব্যক্তি এখন পর্যন্ত অর্থদণ্ডের কোনো টাকা পরিশোধ করেননি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অর্থ আদায়ের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পাবনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও ১৪ লাখ টাকার এস.সি. ১২৮৫/২০২৫ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার রায়ের তারিখ ২১ নভেম্বর। রংপুরে একাধিক খতিয়ানে সম্পত্তি সরকারি অনলাইন পর্চা অনুসন্ধানে ওয়াহেদুল ইসলামের নামে রংপুর মহানগরের মুলাটোল মৌজায় খতিয়ান নং-২৫-৬১৮ এবং মিঠাপুকুরের পবিত্রর পশ্চিমপাড়া মৌজায় খতিয়ান নং-২০২৬-১০০০১১ ও ২০২৬-১০০০২৩-এর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট খসড়া খতিয়ান ও অন্যান্য সহযোগী দাগের তথ্যও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায়ের কার্যক্রম এড়াতে এসব সম্পত্তি অন্যের কাছে হস্তান্তর, বায়না ও নামজারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চার সরকারি দপ্তরে আইনজীবীর আবেদন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম সুরুজ ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রংপুরের চারটি সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। রেজিস্ট্রি ডাকের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রার মিঠাপুকুর (DL943511479BD) ও রংপুর সদর (DL943511519BD) আবেদন গ্রহণ করেন ২৪ অক্টোবর। সহকারী কমিশনার (ভূমি), মিঠাপুকুর (DL943511451BD) ২৪ অক্টোবর এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), রংপুর সদর (DL943511496BD) ২৬ অক্টোবর আবেদন গ্রহণ করেন। আবেদনে আদালতের অর্থদণ্ডসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির রেজিস্ট্রি, বায়না ও নামজারির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আইনজীবীদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক ও আইনানুগভাবে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তাই রংপুর ও মিঠাপুকুরে তার নামে থাকা জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস এবং আদালত থেকে মালিকানা, নামজারি ও ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Read More »

ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কারপ্রাপ্ত রুনা খানের সাক্ষাৎ, আলোচনায় নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন

ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার-২০২৬ প্রাপ্ত বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। আজ (বুধবার) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার রুনা খানকে তাঁর এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এ ধরনের অর্জন সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। মানবকল্যাণ, সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে নিবেদিত ব্যক্তিদের কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের অন্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত করবে। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। ডেপুটি স্পীকার রুনা খানকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি আমাদের দেশের সম্পদ, আমাদের ভবিষ্যৎ।” মতবিনিময়কালে ডেপুটি স্পীকার তাঁর নিজ জেলা নেত্রকোণার মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহন, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, জীবিকার তাগিদে হাওরাঞ্চলের অনেক মানুষ নিজ এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে রিকশা চালানোসহ নানা পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ একসময় এ হাওরাঞ্চল খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে বর্তমানে এ অঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। হাওরের জলমহাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তশালী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। অথচ প্রকৃত জেলেদের জীবিকা ও অধিকার সুরক্ষায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সাধারণ জেলে ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে তাঁদের জীবিকার সুযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ডেপুটি স্পীকার আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনমানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য হাওরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর মতে, হাওরকে শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা না করে জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে দেখতে হবে। ডেপুটি স্পীকার নেত্রকোণার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে রুনা খান হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ডেপুটি স্পীকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও ভাবনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। রুনা খান নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডেপুটি স্পীকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। সাক্ষাৎটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ফ্রেন্ডশিপ এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

Read More »