সর্বশেষ
সর্বশেষ

রংপুর-মিঠাপুকুরে ওয়াহেদুলের জমি কেনায় আইনি ঝুঁকি

রংপুর-মিঠাপুকুরে ওয়াহেদুলের জমি কেনায় আইনি ঝুঁকি

Parveg Sumon রংপুর প্রতিনিধি :
পাবনায় চেক প্রতারণা মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত মো. ওয়াহেদুল ইসলামের রংপুর মহানগর ও মিঠাপুকুরে থাকা সম্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আদালতের অর্থদণ্ড পরিশোধ না করায় তার সম্পত্তি থেকে টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট জমি বিক্রি, বায়না ও নামজারির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আইনি অবস্থা যাচাই ছাড়া এসব জমি কেনাবেচা না করার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পাবনার বিজ্ঞ যুগ্ম দায়রা জজ ১ম আদালতের দায়রা মামলা নং-১২৮৪/২০২৫ (মূল সি.আর মামলা নং-১০১৪/২৪) মামলায় মো. ওয়াহেদুল ইসলাম, পিতা- মো. নুর ইসলাম, সাং- কাঁঠুর উত্তর, থানা- ফুলছড়ি, জেলা- গাইবান্ধার বিরুদ্ধে The Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। মামলার বাদী মো. ওমায়ের ইসলাম। পরবর্তী সময়ে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের ১১ নম্বর আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, দণ্ডিত ব্যক্তি এখন পর্যন্ত অর্থদণ্ডের কোনো টাকা পরিশোধ করেননি এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬(১)(খ) ধারা অনুযায়ী অর্থ আদায়ের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পাবনাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আদালতে তার বিরুদ্ধে আরও ১৪ লাখ টাকার এস.সি. ১২৮৫/২০২৫ মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার রায়ের তারিখ ২১ নভেম্বর।
রংপুরে একাধিক খতিয়ানে সম্পত্তি
সরকারি অনলাইন পর্চা অনুসন্ধানে ওয়াহেদুল ইসলামের নামে রংপুর মহানগরের মুলাটোল মৌজায় খতিয়ান নং-২৫-৬১৮ এবং মিঠাপুকুরের পবিত্রর পশ্চিমপাড়া মৌজায় খতিয়ান নং-২০২৬-১০০০১১ ও ২০২৬-১০০০২৩-এর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট খসড়া খতিয়ান ও অন্যান্য সহযোগী দাগের তথ্যও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায়ের কার্যক্রম এড়াতে এসব সম্পত্তি অন্যের কাছে হস্তান্তর, বায়না ও নামজারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চার সরকারি দপ্তরে আইনজীবীর আবেদন
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. সাইফুল ইসলাম সুরুজ ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রংপুরের চারটি সরকারি দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন।
রেজিস্ট্রি ডাকের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রার মিঠাপুকুর (DL943511479BD) ও রংপুর সদর (DL943511519BD) আবেদন গ্রহণ করেন ২৪ অক্টোবর। সহকারী কমিশনার (ভূমি), মিঠাপুকুর (DL943511451BD) ২৪ অক্টোবর এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি), রংপুর সদর (DL943511496BD) ২৬ অক্টোবর আবেদন গ্রহণ করেন।
আবেদনে আদালতের অর্থদণ্ডসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির রেজিস্ট্রি, বায়না ও নামজারির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী অর্থদণ্ড আদায়ে দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রোক ও আইনানুগভাবে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তাই রংপুর ও মিঠাপুকুরে তার নামে থাকা জমি কেনার আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস এবং আদালত থেকে মালিকানা, নামজারি ও ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞার অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Facebook
Twitter
Pinterest
Reddit
Skype
Email
LinkedIn

লিগ্যাল ভয়েস 24 নিউজ আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১২৩৪৫৬৭
৮৯১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
[daily_salat_times]