
রংপুরে নানা আয়োজনে রোকেয়া দিবস পালিত
জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুরে নানা আয়োজনে রংপুরে রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। রোকেয়ার বাস্তভিটায় নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে রোকেয়া দিবসের তিন দিন ব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দে রোকেয়ার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু করেন রংপুর জলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রংপুর জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবু নিরঞ্জন মহন্ত, উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহারীয়ার রহমানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এরপর মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ হতে রোকেয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে রোকেয়া মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে পায়রাবন্দে সকাল সাড়ে ১১টায় ছিল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। বাদ জোহর রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র সংলগ্ন মসজিদে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত করা হয়। এবং বেলা ১২টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব। বিকেল ৪টায় আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা। উল্লেখ্য ঃ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় মুসলিম সমাজে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর কোনো প্রচলন ছিল না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও পরিবারের সবার অগোচরে বড় ভাইয়ের কাছে উর্দু, বাংলা, আরবি ও ফারসি পড়তে এবং লিখতে শেখেন। তার জীবনে শিক্ষা লাভ ও মূল্যবোধ গঠনে তার ভাই ও বড় বোন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তীতে বিহারের ভাগলপুরে সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর উৎসাহে ও নিজের আগ্রহে তিনি লেখাপড়ার প্রসার ঘটান। বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মারা যান।














