জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম: রংপুরে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন জাতীয় পার্টির রংপুর জেলা ও মহানগর এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা । গতকাল শনিবার সকাল ১১টা থেকে নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, জাতীয় পার্টিকে নিয়ে গভীর স্বড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে রংপুরে এখন পর্যন্ত এমন কোনো আশঙ্কা নেই। ওদের যদি তেমন শক্তি সামর্থ্য থাকে তাহলে আসুক, দেখুক কী অবস্থা হয়। তারা যেন এটা মনে না করে যে, রংপুরে জাতীয় পার্টি দুর্বল। এখানে হামলা করতে আসলে সবগুলোর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। এসময় মোস্তাফিজার রহমান বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে গেলে ভালো ফলাফল করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই বারবার দলটিকে নিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতারা পলাতক কিংবা কারাগারে। তাদের সাধারণ কর্মী বা ভোটাররা জাতীয় পার্টিকে ভোট দিতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বারবার এমন স্বড়যন্ত্রে মেতেছে তারা। তাদের নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই। নির্বাচনে জামানত রক্ষা করতে পারবে না। দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জাপা নেতা মোস্তফা বলেন, আজ দেশে নেই কোনো আইনের শাসন, নেই কোনো মানুষের নিরাপত্তা, নেই কোনো সম্মান। যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অপদস্থ করা হচ্ছে ছোট ছোট ছেলেপেলে দ্বারা। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে লাল সবুজের পতাকা, স্বাধীন এই ভূখণ্ড বিপদের সম্মুখীন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সম্প্রতি রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সৃষ্ট ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান মানে বাংলাদেশকে অপমান করা। মুক্তিযোদ্ধাদের লাঞ্ছিত করা মানে বাংলাদেশের পতাকা কলঙ্কিত করা। আমার মনে হয় আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, ’৭১ এর পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ’৭১ এর চেতনায় যারা বিশ্বাসী তাদের কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে। আর্মি ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে মোস্তফা বলেন, সেনাবাহিনী চেষ্টা করছে মব ভায়োলেন্স বন্ধ করতে। মব যতদিন থাকবে ততদিন দেশ অস্থিতিশীল থাকবে কোনোদিন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে না। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসীর বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে জাতীয় পার্টির কোন সম্পর্ক নাই। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা জাতীয় পার্টিকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। রওশন এরশাদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু এবং রুহুল আমিন হাওলাদারকে দিয়ে জিএম কাদেরের পেছনে লাগিয়েছে। এইচ এম এরশাদের পেছনে লাগিয়েছে। আমরা এই সরকারের কাছেও সেই আচরণ দেখছি। রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, মিডিয়ার মাধ্যমে রাতেই জানতে পারি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশের জাতীয় পার্টির অফিসগুলো অভিমুখে লংমার্চ ঘোষণা করেছে। ওরা আমাদের অফিস এসে ভাঙচুর করতে চাইলে, সেটা প্রতিহত করবো। অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজমল হোসেন লেবু, জাপা নেতা হাসানুজ্জামান নাজিম, ইউসুফ আহম্মেদ, আমিনুল ইসলাম, মাসুদ রানা মিলন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।