সর্বশেষ
সর্বশেষ

Author: Desk Reporter

প্রাথমিকের শিক্ষক প্রশিক্ষণ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা

ঢাকা, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়িয়ে আড়াই থেকে তিন বছর করার কথা ভাবছে সরকার। পাশাপাশি, প্রতিটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (পিটিআই) সক্ষমতা বর্তমানের চেয়ে ৬ গুণ বাড়িয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সাক্ষাৎকারে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি, ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহার, ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির রূপরেখা এবং বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য সরকারের তদারকি নীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। শিক্ষক প্রশিক্ষণের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক ও পিটিআই সক্ষমতা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় ক্লাসরুমে দায়িত্ব পালনের বর্তমান ধারাকে একটি নীতিগত পরিবর্তনের মধ্যে আনা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে পারদর্শী করতে প্রশিক্ষণের নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ক্লাসে ফিরে যাবেন। এরপর নির্ধারিত সিলেবাস বা মডিউল অনুযায়ী বাকি সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের ভেতরে (আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে) তাদের প্রশিক্ষণ মডিউল ও পরীক্ষাগুলো পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এক বছর নির্ধারণ করে একটি নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। সম্প্রতি নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ব্যাচগুলো এই মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ পাবে। প্রথমে শিক্ষকরা পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ শেষ করে ক্লাসরুমে পাঠদানে চলে যাবেন। আর বাকি বাকি ১০ মাস অনলাইন ও অফলাইন মিলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে। ববি হাজ্জাজ আরও জানান, বর্তমানে পিটিআইগুলোর বার্ষিক প্রশিক্ষণের সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজারের মতো রয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য শুধু পিটিআই নয়, প্রয়োজনে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে যুক্ত করে শিক্ষকদের আধুনিক শিখনপদ্ধতিতে পারদর্শী করে তোলা হবে। একই সাথে কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি — কোনো শিক্ষক উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ক্লাসরুমে স্থায়ীভাবে পাঠদানে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’ আগামী বছর থেকে সারাদেশে ‘মিড-ডে মিল’ শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি ধরে রাখা ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় মিড-ডে মিল চালু রয়েছে। বাকি উপজেলায় এই কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি— আগামী ২০২৭ সালের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও প্রযুক্তির ইকোসিস্টেম শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এবং ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এটি কেবল একটি ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার প্রকল্প নয়। তিনি বলেন, ‘গুগলসহ বৈশ্বিক বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আমরা ক্লাসরুমের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম তৈরি করছি। এর মূল কানেক্টর হিসেবে শিক্ষকদের হাতে ট্যাব পৌঁছানো হবে।’ এছাড়া যেসকল দুর্গম অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, সেগুলোতে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে যৌথ সমঝোতার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ব্যান্ডউইথ নিশ্চিতের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সারাদেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকা প্রসঙ্গে আদালতের রায়ের বিষয়টি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রমের আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার অপেক্ষা। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাথে এ বিষয়ে আগেই আলোচনা শুরু হয়েছে। রায়ের চূড়ান্ত কপি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। এটি সম্পন্ন হলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে। তখন বিপুল পরিমাণ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাবে।’ শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষা, গল্প বলার মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট নিরসনে প্রয়োজনে রেসিডেন্সিয়াল বা আবাসিক স্কুলের ব্যবস্থা করা যায় কি-না, তাও সরকারের নীতিগত ভাবনায় রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তথ্য সুত্রে.

Read More »

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার

ঢাকা, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ খৃ. – রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে অতীতে বিএনপি সরকারের আমলে সফলভাবে প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে অনুসৃত বিস্তৃত কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে কার্যকর করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারে থাকার সময় রোহিঙ্গাদের সফলভাবে প্রত্যাবাসনের ইতিহাস আমাদের রয়েছে।’ নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা আবারও অপরিহার্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গার বড় একটি ঢল প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নথি অনুযায়ী, তৎকালীন বার্মার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তির আওতায় ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে আসা প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবাসন করা হয়েছিল।’ এরপর ১৯৯২ সালে আরও প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে প্রায় দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের এসব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, মিয়ানমারের সঙ্গে ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক সম্পৃক্ততা থাকলে প্রত্যাবাসনে সাফল্য অর্জন সম্ভব। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সময়ও বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ভূমিকা পালন করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওই সময় চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া সীমান্তের কাছে আটকে পড়া রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং তাদের মানবিক আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানানো প্রথম সারির জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের একজন ছিলেন। শামা ওবায়েদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের আসতে দিন, দেশে প্রবেশ করতে দিন’। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট এখন বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ ও নিরাপত্তার ওপর এবং বিশেষ করে আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে এবং শিবিরগুলোতে তাদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। শিবিরগুলোতে প্রতিবছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশুর জন্ম হচ্ছে। ফলে সংকট ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে আসছে। এতে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে বলে তিনি জানান। এ পরিস্থিতিতে সংকটকে অনির্দিষ্টকাল ধরে মানবিক সহায়তার ব্যবস্থার মধ্যে আটকে না রেখে প্রত্যাবাসন শুরু করাই সরকারের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই।’ জাতিসংঘের আরও জোরালো ভূমিকা চায় বাংলাদেশ শামা বলেন, অতীতের সফল প্রত্যাবাসন উদ্যোগগুলোর সঙ্গে পরবর্তী উদ্যোগগুলোর অন্যতম প্রধান পার্থক্য ছিল আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মাত্রা। তার মতে, আগের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াগুলোতে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদার তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে নিয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়া কাজ করেনি। এটি ব্যর্থ হয়েছে।’ আগের সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত সমঝোতা করলেও শেষ পর্যন্ত বড় পরিসরে কোনো সংগঠিত প্রত্যাবাসন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। শামা ওবায়েদ বলেন, এ কারণে বর্তমান সরকার জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারকে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, জাতিসংঘ এখন এ বিষয়ে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত হবে।’ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ দেশটির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বলে তিনি জানান। শামা বলেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ এখনো কঠিন। তবে ঢাকা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—উভয় চ্যানেলেই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে সরকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের বহুপক্ষীয় আলোচনায়ও গুরুত্ব দিয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংকট সমাধানে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন; বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতা বন্ধ; পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা; ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি জোরদার করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো। এর একদিন পর, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও শেষ পর্যন্ত সেখানেই নিহিত। নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরও জোরালো ও সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। চীন, আসিয়ান ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শামা ওবায়েদ বলেন, মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব থাকায় রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দেশটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে বেইজিংয়ের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ জোরদার করছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইন। এসব দেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক রয়েছে এবং সংকট সমাধানে তারা নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে পারে বলে উল্লেখ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, তুরস্কসহ অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশও বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংঘাত এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কর্তৃপক্ষের উপস্থিতির কারণে সংকটটি আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে বলে সতর্ক করেন শামা। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সমস্যা। রাতারাতি এর সমাধান হবে না।’ প্রত্যাবাসনের যোগ্য রোহিঙ্গাদের যাচাই ও পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বাংলাদেশ বারবার মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে সফল প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষা এখনো প্রাসঙ্গিক বলে সরকার মনে করে। তিনি জানান, বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের পাশাপাশি জাতিসংঘের আরও জোরালো সম্পৃক্ততা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের চাপ অব্যাহত রাখবে। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘লক্ষ্য কেবল বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে তাদের ব্যবস্থাপনা চালিয়ে যাওয়া নয়। আমরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাই, যাতে বাস্তবেই প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়।’ সুত্র. বাসস

Read More »

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হেল্থ ডেস্ক / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সভাকক্ষে ‘ন্যাশনাল হেলথ প্রোটেকশন অথরিটি ইন বাংলাদেশ: ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল অ্যাসপেক্টস’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য অধিদপ্তরের তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে পাইলট কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি বলেও মত দেন সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিমার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক দুর্ভোগে পড়েন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। গর্ভকালীন সময়ে মা ও নারীদের যেন কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি বা হেনস্তার শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে স্তন ক্যানসার ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তকরণে স্ক্রিনিং ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে কম খরচে পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়ে এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কর্মশালায় স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চ্যালেঞ্জ দূর করতে সবাইকে সততা, নিষ্ঠা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দেশের প্রতিটি স্তরে পর্যায়ক্রমে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট আয়োজিত এ কর্মশালায় ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য সুত্রে.

Read More »

যুদ্ধে পাঠাতে রাশিয়ায় পাচার ২০ বাংলাদেশির প্রাণহানি: এসআরবি

ঢাকা, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করে একটি মানবপাচার চক্র, যার মধ্যে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান। অধিনায়ক বলেন, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের রুশ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করা, বিশেষ করে ড্রোন হামলার লক্ষ্যস্থল ও দূরত্ব নির্ধারণে ভুক্তভোগীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও জানান তিনি। এ ঘটনায় মানবপাচার চক্রের দুই সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তারা হলেন চক্রের হোতা জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (৫৫) ও মো. আবু তাহের লেন্টু (৫০)। গত রাতে ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার আটাইল এলাকা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তাররা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাজন হোসেন (২১) নামের এক তরুণকে আট লাখ ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে রাশিয়ায় পাঠান। গত ৭ মে রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাকে রুশ সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়। একটানা ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে তিনিসহ প্রায় ৩০ বাংলাদেশিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। পরে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন। তার পেলভিসের হাড় ভেঙে যায় এবং দুই পায়ে শক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চার দিন ধরে কষ্ট ভোগ করার পর চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে পৌঁছাতে সক্ষম হন রাজন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় গত ২৩ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি। আসাদুজ্জামান বলেন, রাজনের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে মিজানুর গালিগালাজ ও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। রাজনের বাবার অভিযোগের পর মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায় মামলা হয়। তদন্তের তথ্য তুলে ধরে এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, পাচার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন এবং দুজন পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি আটজনের মধ্যে দুজন রাশিয়ার স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অন্য ছয়জন এখনও যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় পাঠানোর ঘটনায় তদন্তকারীরা মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী নামের আরও দুজনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন বলেও জানান আসাদুজ্জামান। এছাড়া তদন্তে মানবপাচার চক্রটির সঙ্গে হেয়ার্স ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসআরবি কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্ট তৈরি থেকে শুরু করে ভুক্তভোগীদের রাশিয়াগামী বিমানে তুলে দেওয়া পর্যন্ত ৩০ জনের সব ব্যবস্থা করেন মিজানুর। রাশিয়ায় পৌঁছে কাজের প্রকৃত ধরন জানতে পেরে ভুক্তভোগীরা মিজানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি তাদের আবেদন উপেক্ষা করেন। তদন্তকারীরা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত এই মানবপাচার চক্রে দুই রুশ নাগরিকের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পেয়েছেন বলেও জানিয়েছে এসআরবি। তথ্য সুত্রে.//

Read More »

ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সিনিয়র রিপোর্টার / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা ও রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করার উপায় নিয়ে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। (৮ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বৈঠকটি শুরু হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহিদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নগরীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সুত্র. পিএমও / ইউএনবি//

Read More »

রংপুর মহানগর কৃষক দলের সাথে জেলা প্রশাসকের মত বিনিময়

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল রংপুর মহানগরের আওতাধীন থানা কৃষক দল ও মহানগর কৃষক দলের নেতৃবৃন্দদের সাথে রংপুর জেলা রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ১৪ অক্টোবর দুপুরে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময়ে আগে জেলা প্রশাসককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মহানগর কৃষক দলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর মহানগর কৃষক দলের আহবায়ক শাহ্ নেওয়াজ লাবু,রংপুর মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচীব ফিরোজ রহমান পিন্টু, সিঃ সহ-সভাপতি সেলিম চৌধুরী, হারাগাছ থানা কৃষকদলের সভাপতি তারেক উস সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান, যুগ্ম সাধারন সম্পাদত লিওন মিয়া পরশুরাম থানার সভাপতি কাজল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান,তাজাহাট থানার সভাপতি মনতাজ মিয়া, সিঃ সহ সভাপতি এনামুল হক, রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার সভাপতি আখেরুজ্জামান মানু, সাধারন সম্পাদক মোঃ রোস্তম আলী, মাহিগঞ্জ থানার ভুট্টু, হাজীর হাট থানার সভাপতি সহ ২১ নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক রতন।সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Read More »

রংপুর মহানগরীর ১৬৪ পূজামণ্ডপে সদর উপজেলার চালের ডিও বিতরণ

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর সদর উপজেলায় রংপুর মহানগরীর ১৬৪টি পূজামণ্ডপে সরকারি অনুদানের চালের ডিও বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে চালের ডিও তুলে দেন রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রংপুর মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চালের ডিও প্রদান করা হয়েছে। ডিও বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি, রংপুর জেলার আহ্বায়ক ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ রায় ও সুনীল রায়, সদস্য সচিব বিপ্লব রায়, সদস্য অরূপ দত্ত, খোকন সরকার, সিতু মহন্ত ও সোমানী; বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর মহানগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পিপাস রায়, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষসহ রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।###

Read More »

রংপুরে ১৬৪ পূজামণ্ডপে ৯৮৪ টন চালের ডিও বিতরণ

জালাল উদ্দীন, রংপুর প্রতিনিধি / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : রংপুর, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর সদর উপজেলায় রংপুর মহানগরীর ১৬৪টি পূজামণ্ডপে সরকারি অনুদানের চালের ডিও বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে চালের ডিও তুলে দেন রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রংপুর মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ৬ টন করে চালের ডিও প্রদান করা হয়েছে। ১৬৪টি পূজামণ্ডপের বিপরীতে সর্বমোট ৯৮৪ টন চালের ডিও বিতরণ করা হয়। ডিও বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটি, রংপুর জেলার আহ্বায়ক ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ রায়, যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ রায় ও সুনীল রায়, সদস্য সচিব বিপ্লব রায়, সদস্য অরূপ দত্ত, খোকন সরকার, সিতু মহন্ত ও সোমানী; বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রংপুর মহানগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পিপাস রায়, সহ-সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষসহ রংপুর মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

Read More »

পীরগঞ্জে ভবন ধসের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অনুদানের অর্থ বিতরণ

নিহতদের পরিবারের পাশে জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম সাইফুল স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর / দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া : রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভায় নির্মাণাধীনস্থ ভবন ধসে নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল ইসলাম সাইফুল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে অনুদান প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান তিনি এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসক ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।###

Read More »

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা করেছে সরকার – আইনমন্ত্রী

ঢাকা, প্রবাসীদের বিভিন্ন আইনি সমস্যা দ্রুত সমাধানে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান এমপি। মন্ত্রী আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শরণার্থী ও অভিবাসন আন্দোলন বিষয়ক গবেষণা ইউনিটের (RMMRU) ৩০ বছরপূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান। আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর পর অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের সাথে অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে জড়ান। এসব বিরোধের মামলা বছরের পর বছর চলতে থাকে। এতে প্রবাসীদের অর্থ ও সময় ব্যয় হয় এবং তাঁরা ভোগান্তির শিকার হন। এ সমস্যা সমাধানে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এসব আদালতে প্রবাসীদের বিভিন্ন ধরনের মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি খসড়া প্রণয়নের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে RMMRU-কে সরকারের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রবাসীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দেশে কোনো আইনি সহায়তার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের ( লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এজন্য একটি হটলাইনও রয়েছে। প্রবাসীদের প্রাথমিক আইনি দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় প্রতিকার পেতে RMMRU-কে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করার আহ্বান জানান তিনি। অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স। তৈরি পোশাক, কৃষি, পাট ও পাটজাত পণ্য কিংবা চা রপ্তানির পাশাপাশি বিদেশে শ্রম রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশিদের মেধা ও দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানও বাড়ছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও মজুরি বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি দুবাই সফরে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম ও দুর্ভোগের চিত্র তাঁর নজরে এসেছে। অনেক শ্রমিককে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয় এবং কর্মস্থলে যাতায়াতেও উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হয়। অথচ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের শ্রমের মূল্য অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় কম। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। অভিবাসন খাতে অসাধু নিয়োগ ও রিক্রুটিং ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করছে। এসব নথির সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বাতিল কিংবা ভিসা নবায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। RMMRU-এর তিন দশকের ভূমিকার প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার দূরদর্শিতা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার শুরুতেই দেখিয়েছে। গত ৩০ বছরে অভিবাসন ও শ্রমিককল্যাণ সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে। মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় RMMRU যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করবে, সেগুলোর সাথে সরকার থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা, নীতিগত অবস্থান এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধতার কারণে সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও প্রতিষ্ঠানটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোর সাথে সরকার কাজ করতে আগ্রহী। RMMRU-এর উপদেষ্টা ড. সি. আর. আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত Reto Renggli।

Read More »