সর্বশেষ
সর্বশেষ

রংপুর নগরীতে বেপরোয়া গতির চার্জার রিকশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

জালাল উদ্দিন, রংপুর প্রতিনিধি : দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর মিডিয়া :

রংপুর নগরীতে দ্রুতগতির তিন চাকার ব্যাটারিচালিত চার্জার রিকশার অবাধ চলাচলে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত গতি ও পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে পথচারীসহ সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি অটোরিকশার আধিক্য, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং ফুটপাত পুনর্দখলের কারণে নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সড়কে দেখা যায়, তিন চাকার ব্যাটারিচালিত চার্জার রিকশার চালকদের মধ্যে মধ্যবয়সী ও প্রবীণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। অনেক চালকের বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০ বছর কিংবা তারও বেশি। জীবিকার তাগিদে তাঁরা এসব যানবাহন চালাচ্ছেন। তবে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, শারীরিক সক্ষমতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নগরবাসীর অভিযোগ, অনেক চার্জার রিকশাচালক সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করেন। হঠাৎ মোড় নেওয়া, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনাপ্রবণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক ফাঁকা পেলেই কিছু চালক দ্রুতগতিতে রিকশা চালান, যা পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। অন্যদিকে নগরীর কাচারী বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, শাপলা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অটোরিকশার চাপ ও যানজটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর ধর্মসভা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রংপুর সেনানিবাস থেকে কাচারী বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড় ও শাপলা চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়। এতে সাময়িকভাবে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিনের ব্যবধানেই ফুটপাতগুলো আবারও ধীরে ধীরে দখলে চলে যাচ্ছে। ফলে যানজট ও জনদুর্ভোগ পুনরায় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে জীবিকার তাগিদে প্রবীণ বয়সেও চার্জার রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক অসহায় মানুষ। বদরগঞ্জ থেকে আসা চার্জার রিকশাচালক আনসার আলী বলেন, ‘ছেলে ঢাকায় থাকে। পেটের দায়ে এই বয়সেও গাড়ি চালাতে হচ্ছে। কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে?’পীরগাছার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘সংসারে অভাব। ছেলে-মেয়ে নেই। বয়সের কারণে ভারী কাজ করতে পারি না। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশা চালাই।’ তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রবীণ ও অসহায় চালকদের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্র। বয়সের ভার ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নামতে হচ্ছে অনেককে।

নগরীর এক বাসিন্দা বলেন, দ্রুতগতির চার্জার রিকশা চালানোর ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি চালকের শারীরিক সক্ষমতা, দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে প্রবীণ চালকদের স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা যাচাই করা প্রয়োজন। তবে শুধু বয়সের কারণে কাউকে অযোগ্য বিবেচনা না করে নিরাপদে গাড়ি চালানোর যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সচেতন মহলের মতে, নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ, গতিসীমা নির্ধারণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। তাঁরা আরও মনে করেন, যেসব প্রবীণ ব্যক্তি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রিকশা চালাচ্ছেন, তাঁদের জন্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আর্থিক সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এতে একদিকে অসহায় প্রবীণদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে। নগরবাসীর দাবি, রংপুর সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুতগতির চার্জার রিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি দখলমুক্ত ফুটপাত পুনর্দখল রোধ, যানজট নিরসন এবং ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমেই রংপুর নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকেরা।

Facebook
Twitter
Pinterest
Reddit
Skype
Email
LinkedIn

লিগ্যাল ভয়েস 24 নিউজ আর্কাইভ

[daily_salat_times]