জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকমঃ
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ১ নং কল্যাণী ইউনিয়নের বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কতৃক প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙগুলি দেখিয়ে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনিয়মের মাধ্যেম দেয়া পূর্বের নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ নিয়োগ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ।
এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ন্যায় বিচারের জন্য রংপুর জেলা প্রশাসক ও উপ-পরিচালক মাধ্যমিক শিক্ষা রংপুর অঞ্চল সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন এলাকাবাসী । ইতোপূর্বে স্বচ্ছ নিয়োগের দাবীতে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করলেও প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির চাপের মুখে কোন দপ্তর সাহায্য করেনি। নিয়োগের বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মোছাঃ ছাবিনা বেগম জানান, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ১ নং কল্যাণী ইউনিয়নের বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাছরিন আক্তার ও সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সোহেল সরকারী বিধির তোয়াক্কা না নিয়ম না মেনে গোপনে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী পদে নিজেদের পছন্দের প্রর্থীদের নিয়োগ দেন ।
এই নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির উদ্দেশ্যে পদাধিকার বলে বিদ্যালয়ের সভাপতি হবার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাসরিন আক্তার সু-কৌশলে তার ভাসুরের ছেলে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কর্মচারী সাজ্জাদুর রহমান সোহেলকে দাতা সদস্য বানিয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বানিয়েছেন মর্মে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে মোছাঃ ছাবিনা বেগম আরও জানান, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়। এরমধ্যে ল্যাব সহকারী পদে স্বয়ং প্রধান শিক্ষকের মেঝো মেয়ে মোছাঃ শায়খা আক্তার জাহান, অফিস সহকারি কাম হিসাব সহকারী (দপ্তরী) পদে প্রধান শিক্ষকের ভাতিজা মোঃ সামিউর রহমান শাওন ও অন্য ২ জনকে অন্যান্য পদে চুড়ান্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটি, ম্যানেজিং কমিটি ও প্রধান শিক্ষক একত্রিত হয়ে সু-কৌশলে নিজেদের সিলেক্টেড প্রার্থিদের গোপন নিয়োগ পরিক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত করেন। এছাড়া রেজুলেশন খাতায় নিয়োগ পরীক্ষায় এমন ২জন প্রর্থির নাম আবেদনকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে যারা এই নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানে না।
পরবর্তীতে সেই ২জন প্রার্থী এফিডেভিটমূলে জানান, তারা উক্ত নিয়োগ পরিক্ষায় কোন আবেদন করে নাই ও নিয়োগ বিষয়ে তারা কিছুই জানেনা। নিয়োগ পরীক্ষায় একদিকে যেমন স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক দুর্নীতি করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, ঠিক তেমনই মেধাবী চাকরী প্রার্থীদের হতাশার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। নিজেদের স্কুল দাবী করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি যেন এই বিদ্যালয়ের হর্তাকর্তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসী বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ে পূর্বের নিয়োগ বাতিল করে দ্রুত পুনরায় স্বচ্ছ নিয়োগ দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ পূর্বক সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাছরিন আক্তার জানান , আমি সরকারী বিধি মোতাবেক কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। কোথাও কোন কাগজপত্রের গ্যাপ রাখি নাই।
















