জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার মাঠেরহাট গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মোঃ বিপুল মিয়া কুয়েত ও সৌদি আরব দূতাবাসসহ বাংলাদেশ এম্বাসির দ্বারা প্রতারণার ফাঁদে পরে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুর ১টায় রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিপুল মিয়া বলেন, বিগত ২০০৪ সালে বাংলাদেশ হইতে বৈধভাবে কুয়েতে গিয়ে আল ওতাইবি কোম্পানীতে লাইট জেনারেল ওয়ার্কার হিসেবে যোগদান করে সুনামের সহিত ৬০ ডিনারে প্রদেয় বেতন ৪৫ দিনানে ০৬ বছর চাকুরী/কাজ করিয়া আসিতেছিলাম। আমি পাসপোর্টে আকামা লাগিয়ে অন্যত্র কাজ করার জন্য আল ওতাইবি কোম্পানীকে বললে আল ওতাইবি কোম্পানী এ ব্যাপারে কোন সাহায্য না করিয়া আল ওতাইবি কোম্পানীতে বেআইনী ভাবে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করেন।
বাধ্য হয়ে আমি কুয়েত আদালতে আল ওতাইবি বিরুদ্ধে মামলা করি। আদালত আমার পক্ষে রায় দিলে আমার পাওনা টাকা পরিশোধসহ পাসপোর্ট ফেরত দিতে আদেশ দেয়। কোম্পানী আমার পাওনা টাকা আদালতে জমা দেয়। যা এম্বাসির মাধ্যমে আমাকে বুঝিয়ে দেবে বলে জানান। এর মধ্যে হঠাৎ কুয়েত পুলিশ অবৈধভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে আমাকে আটক করে ও আমার বৈধ কাজগপত্র না দেখে কুয়েতের আদালতে সোর্পদ না করে আমার পূর্বের আল ওতাইবি কোম্পানী, কুয়েত পুলিশ ও বাংলাদেশ এম্বাসি আমার পাসপোর্ট আমার জাল স্বাক্ষর করে আমার অর্থ বাংলাদেশে আমার নিজ ঠিকানায় না পাঠিয়ে বাংলাদেশের কবিরহাট হাজীগঞ্জে চাদপুরের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেন। যাহা সম্পূর্ণ বেআইনী ও আইন বহির্ভূত।
তিনি আরো বলেন, কুয়েতের আদালত আমাকে সে দেশে বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি দিলেও কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশী এম্বাসির কর্মকর্তাদের যোগ সাজোসে আমার টাকা আত্মসাত করে। এতে আমি আর্থিকভাবে প্রায় ১৮কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হই। কুয়েতে আমার বৈধ উপার্জিত ৭ লক্ষ ৪৫হাজার ৯৮৫ দিনার কোম্পানী এম্বাসির মাধ্যমে পরিশোধ করলেও এম্বাসির কর্মকর্তাগণ আমাকে আমার উপার্জিত টাকা না দিয়ে আমাকে জোর পূর্বক দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। কুয়েত ও সৌদি আরবের এম্বাসিতে তাদের সহযোগিতা নিতে গিয়ে তারা আমার কাগজপত্রাদি জমা দিতে বলে। পরবর্তীতে আমি কাগজপত্রাদি জমা প্রদান করি। কিন্তু আমার কাগজ পত্রাদি চাইতে গেল ৩ মাস অতিবাহিত করে এবং বলে তোমার ম্যাসেজ ওয়েতে পাঠানো হয়েছে যাহার উত্তর এখনো আসেনি।
এই প্রবাসী বলেন, কুয়েত থেকে দেশে ফেরার ৬ মাস পর সৌদি আরবে যাই। সেখানে কোম্পানীতে ৪ বছর চাকুরী করার ৪৮ মাসের মধ্যে ১৩ মাসের বেতন যাহা ১৯হাজার ৫০০ রিয়াল বকেয়া রাখে। আমি আমার উপার্জিত পাওনা টাকা আদায়ের আমি সেদেশের আদালতের মামলা করি। আদালত আমার উপার্জিত পাওনা টাকা কোম্পানীতে পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে আমার পক্ষে রায় দেয়। সেখানেও বাংলাদেশ এম্বাসির কর্মকর্তাগণ যোগসাজস করে আমার টাকা পরিশোধ না করে আদালতের মাধ্যমে ঝুলিয়ে রাখে এবং আমাকে দেশে ফিরিয়ে আসতে বাধ্য করে।
বিপুল মিয়া বলেন, আমি দুই দেশে প্রায় ১৭ বছর প্রবাস খাটি। আমি একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা। আমার অধিকার আদায়ে দুই দেশের মামলার রায় আমার পক্ষে পেলেও কুয়েত ও সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তার দূর্নীতি, অনিয়ম ও প্রতারণায় আমি এখন পর্যন্ত আমার উপার্জিত অর্থ বুঝিয়া পাই নাই। আমি সরকারের কাছে দাবী জানাই। আমার অধিকার আদায়ে দুই দেশের দুতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রতারণা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে আমার পাওনা টাকা বুঝিয়ে দিয়ে আমি ও আমার পরিবারকে বাচাঁতে সাহায্য করুন।
সংবাদ সম্মেলনে বিপুল মিয়ার মা হালিমা বেগম, ভাই আব্দুর রশিদ, বোন শিল্পিসহ এলাকার শুভাকাঙ্খিরা উপস্থিত ছিলেন।
















