জালাল উদ্দিন/দ্যা লিগ্যাল ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম:
রংপুরে নানা আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ৫৩ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে অর্জন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য আর্পন , জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শন, সংবর্ধনা , আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। গতকাল রবিবার সুর্যদয়ের সাথে সাথে অর্জন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভে পুস্পমাল্য আর্পন করে শ্রদ্ধা নিবদেন করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাবিরুল ইসলাম, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ¦
মোঃ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল আলীম মাহমুদ (বিপিএম), রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নুরেআলম মিনা (বিপিএম বার), রংপুর জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নজনীন, রংপুর জেলা পুলিশ সুুপার মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী, রংপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু সহ প্রশাসনের আন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ। এরপর রংপুর শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে প্রদর্শন ও রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিলো।
১৯৭১ এর ২৬ মার্চে প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক তারবার্তার মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যা তৎকালীন ইপিআর এর ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরে চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭ মার্চ বেশ কয়েকজন শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মূল্যবান দলিলটি লিপিবদ্ধ হয়েছে এভাবে ‘ইহাই হয়তো আমাদের শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন।
আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও। শেখ মুজিবুর রহমান। ২৬ মার্চ, ১৯৭১।’ এর পরপরই মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ স্বাধীন করার শপথ নেয় গোটা বাঙালি জাতি। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। —এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম– সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই বজ্রবাণীকে বুকে নিয়ে ২৫ মার্চ শেষ রাত থেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। হানাদার বাহিনী রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাকে হামলা করে। পুলিশ তার প্রতিরোধ করে। কামানের গোলায় অনেকে শহীদ হন।
কিন্তু প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যান। আসে নতুন ভোর। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শুরু হয়ে যায় স্বাধীনতা সংগ্রাম। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে যায় নরঘাতক পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া খান ও পাকিস্তানি পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। পরে তাকে অন্তরীণ করে রাখা হয় পাকিস্তানের জেলে। তার বিরুদ্ধে শুরু হয় রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার। বঙ্গবন্ধু জেলে আটক থাকাকালে তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস-স্বাধীনতার ইতিহাস।
দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলীয়ান হওয়ার দিন আজ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একের পর এক মাইলফলক অর্জন এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছে।
















